ভুঁড়ি ভূরি নিমোনিক

ভুঁড়ি ভূরি 

বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত দেশি ‘ভুঁড়ি’ শব্দের অর্থ মোটা পেট, বড়ো পেট, স্থূল উদর প্রভৃতি। অন্যদিকে বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত তৎসম ‘ভূরি (√ভূ+রি)’ শব্দের অর্থ অনেক, প্রচুর, অতিশয় প্রভৃতি। উচ্চারণ প্রায় অভিন্ন বলে অনেকে শব্দ দুটি লিখতে গিয়ে বানানে ভুল করে ফেলেন। তন্মধ্যে আমি অন্যতম। অনেক সময় ‘ভূরিভোজন(অতিশয় ভোজন)’ লিখতে গিয়ে লিখে ফেলি ‘ভুঁড়িভোজন(পেটভোজন)’। এমন হাস্যকর সংশয় দূর করার জন্য একটি স্মৃতি-জাগানিয়া কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে :

অতৎসম শব্দে ‘দীর্ঘ ঊ-কার’ ব্যবহৃত হয় না আবার তৎসম শব্দে ‘চন্দ্রবিন্দু’ ব্যবহৃত হয় না। মোটা পেট, স্থূল উদর প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত ‘ভুঁড়ি’ অতৎসম শব্দ। তাই ‘ভুঁড়ি’ শব্দের বানানে দেশীয় পণ্ডিতগণ বুদ্ধি করে হ্রস্ব উ-কার এবং চন্দ্রবিন্দু দিয়েছেন।
কিন্তু ‘ড়’ কেন?
ভুঁড়ি শব্দের অর্থ বড়ো পেট। তাই বড়ো পেটের প্রমাণস্বরূপ ‘ভুঁড়ি’ বানান ‘ভুঁড়ি’। কয় বার ‘ভুঁড়ি’ শব্দটি লেখা হয়েছে গুণে দেখুন। এত বার ‘ভুঁড়ি’ দেখলে ‘ভুঁড়ি’ বানানে ভুল হবার শঙ্কা অনেকটা কমে যাবে।
‘ভুরি’ সংস্কৃত শব্দ তাই শব্দটির বানানে তৎসমের প্রতীক দীর্ঘ ঊ-কার।
তো ‘র’ কেন?
‘ভূরিভোজন’ যাতে ‘ভুঁড়িভোজন’ না-হয়ে যায় সেজন্য পাণিনি বাবু বুদ্ধি করে ‘প্রচুর’ অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত ‘ভূঁরি’ শব্দের বানানে ‘র’ বসিয়ে দিয়েছেন।
দেখুন তো কোথাও ‘ভুঁড়ি’ আবার ‘ভূরি’ হয়ে গিয়েছে কি না।

error: Content is protected !!