ভূগোল সাধারণ জ্ঞান : মানচিত্র

মানচিত্রবিষয়ক সাধারণ জ্ঞান

ড. মোহাম্মদ আমীন

মানচিত্র
কোনো স্থানে অবস্থিত বস্তুসমূহের অবস্থান এবং সম্পর্কের দৃষ্টিগ্রাহ্য সাধারণ প্রকাশই হচ্ছে মানচিত্র। মানচিত্র বলতে সাধারণত ভৌগোলিক মানচিত্রকেই বোঝানো হয়, তবে মানচিত্র কোনো স্থানের – বাস্তব বা কাল্পনিক হতে পারে। এতে স্কেল বা অন্যান্য অনুষঙ্গের আবশ্যখতা নাও থাকতে পারে। যেমন, ব্রেন, ডিএনএ এবং মহাকাশের মানচিত্রকরণ।

মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা
মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা বা মানচিত্রনির্মানবিদ্যা (cartography) হচ্ছে মানচিত্র তৈরী সংক্রান্ত শিক্ষণ-গবেষণা এবং তার অনুশীলন পদ্ধতি।

পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র
সর্বপ্রথম মানচিত্র কে এঁকেছিলেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অনুমান করা হয় ব্যাবিলনের একটা ম্যাপ বিশ্বের প্রথম মানচিত্র। এর নাম “ইন্ডিগো মুন্ডি”। খ্রিষ্টপূর্ব ছয়শ অব্দে মানচিত্রটি পোড়ামাটির ফলকে অঙ্কন করা হয়। এটি ছিল শুধু ব্যাবিলনের মানচিত্র। অ্যানাক্সিম্যান্ডার প্রথম সারা পৃথিবীর মানচিত্র আঁকার চেষ্টা করেন। তবে তা ছিল ভূমধ্যসাগর আর কৃষ্ণসাগরের চারপাশের এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকার অল্প কয়েকটি অঞ্চলের মানচিত্র। তাঁর এই মানচিত্রটিকে উন্নত করেন হেক্টিয়াস অফ মিলেটাস। তিনি মিশর এবং এশিয়ার শেষ প্রান্তের ভারতের অবস্থানও তাঁর মানচিত্রে দেখিয়েছিলেন। মহাবীর আলেকজান্ডারের আমলে তার পুরো সাম্রাজ্যের একটি মানচিত্র আঁকেন এরাতোসথিনেস। মানচিত্রে প্রথম বিশাল চীনের অবস্থান নির্ণয় করেন মেরিনাস অফ তায়ার। মানচিত্র অঙ্কনের ইতিহাসের আদিযুগের সবশেষ মানচিত্র আঁকেন গ্রিক গণিতবিদ-জ্যোতির্বিদ-ভূগোলবিদ টলেমি। প্রথম বাংলার মানচিত্র কে আঁকেন ব্রিটিশ সার্ভেয়ার, মেজর জেমস রেনেল।

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ও তার মাত্রা
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা বা Geographic Co-ordinate System সংক্ষেপে GCS, GCS হলো তিনটি স্থানাঙ্ক মানের সাহায্য পৃথিবীর কোনো স্থানের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করার একটি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার ফলে পৃথিবীর যে-কোনো স্থানের একটি অদ্বিতীয় স্থানাঙ্ক থাকে। স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার তিনটি মাত্রা হচ্ছে অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বা গভীরতা।


ভূগোল সাধারণ জ্ঞান লিংক

ভূগোল সাধারণ জ্ঞান : ভূগোলবিষয়ক কিছু সংজ্ঞার্থ

ভূগোল : বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) মহাশূন্য বাতাসের সীমানা ও ভর

error: Content is protected !!