ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়নসমূহের নামকরণ

ড. মোহাম্মদ আমীন

আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় ভেদরগঞ্জ শরীয়তপুর জেলার বৃহত্তম উপজেলা। ১৩ টি ইউনিয়ন, ১ টি পৌরসভা ও ২টি প্রশাসনিক থানা সমন্বয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক অবয়ব রচিত। শরীয়তপুর জেলা সদর হতে ১২ কিলোমিটার পুর্বে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদর অবস্থিত। ভৌগলিক বিবেচনায় ২৩.৩৮ ডিগ্রি হতে ২৩.২৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ১০.২৩ ডিগ্রি হতে ১০.৩৬ ডিগ্রি পুর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যšত ভেদরগঞ্জ জেলা বি¯তৃত। ২৬৭.২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তরে নড়িয়া উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা ও পদ্মা নদী, দক্ষিণে ডামুড্যা ও গোসাইর হাট উপজেলা, পুর্বে চাঁদপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়া উপজেলা অবস্থিত। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের আদম শুমারি অনুযায়ী ভেদরগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৩৭,৭৮০, তৎমধ্যে পুরুষ ও মহিলা যথাক্রমে ১২০৯৬০ ও ১১৬৮২০। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৩৬৮ টি গ্রামে মোট খানার সংখ্যা ৪৬৮২০। শিক্ষিতের হার ৪০.৪৭ ভাগ। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর ভেদরগঞ্জ উপজেলায় উন্নীত হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ মানোন্নীত উপজেলা উদ্বোধন করেন। মোহাম্মদ খালিদ আনোয়ার ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যšত ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২১ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ মোট ১৮ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। উত্তর তারাবুনিয়ার আনোয়ার হোসেন মাঝি ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রথম ও একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ্ধাতি বাতিল হওয়ার পুর্ব পর্যšত তিনি ভেদরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ভেদরগঞ্জ থানায় এবং ৯টি সখিপুর থানায় অবস্থিত। রামভদ্রপুর, মহিষার, ছয়গাঁও, নারায়নপুর ভেদরগঞ্জ থানায় এবং ডিএমখালী, চরকুমারিয়া, সখিপুর, চরসেনসাস, আরশিনগর, চরভাগা, কাঁচিকাটা, উত্তর তারাবুনিয়া, দক্ষিণ তারাবুনিয়া সখিপুর থানায় অবস্থিত।

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিক্রমপুর পরগনার জমিদার সৈয়দ ভেদার উদ্দিন শাহের প্রয়াসে ভেদরগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ভেদরগঞ্জ এলাকা ছিল ভেদার উদ্দিনের জমিদারির অংশবিশেষ। তখন এর কিয়দংশ নারায়নপুর, কিয়দংশ কার্তিকপুর নামে পরিচিত ছিল। ভেদার উদ্দিন ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে এখানে সফরে আসেন। এলাকার প্রজাসাধারণ আইন-শৃঙখলা ও জন নিরাপত্তার স্বার্থে একটি থানা স্থাপনের দাবি জানান। এলাকাটি তখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার হিসেবে খ্যাত ছিল। ছয়গাঁওসহ ভেদরগঞ্জের প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রবল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রচন্ড ঢেউ। ব্রিটিশ সরকার বিপ্লবীদের দমনের জন্য এখানে একটি থানা স্থাপনের জন্য উদগ্রীব ছিল। অনুকূল পরিবেশ না থাকায় তা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। ভেদার উদ্দিন শাহ প্রজাদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকারের নিকট এখানে একটি থানা স্থাপনের আবেদন পেশ করেন। ভেদার উদ্দিনের মত একজন বিত্তবান জমিদারের আবেদন ব্রিটিশ সরকারের উৎসাহে অনুকূল প্রবাহ সৃষ্টি করে। একটি অত্যাবশ্যক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার সুযোগ পায় সরকার। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে বৃটিশ সরকার এলাকাটিকে থানা ঘোষণা করে। জমিদার সৈয়দ ভেদার উদ্দিন শাহের নামানুসারে থানাটি ভেদরগঞ্জ নামে পরিচিত লাভ করে। ভেদরগঞ্জের নামকরণের পেছনে আরও একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে। এর একটি ‘কাদা প্রাবদ’ নামে পরিচিত। ভেদার শব্দের অর্থ কাদা। এক সময় এ এলাকায় প্রচুর কাদা ছিল, কাদার জন্য মানুষের হাটা-চলা ছিল দুষ্কর। লোকজনকে বহুকষ্টে কাদা (ভেদার) মাড়িয়ে গঞ্জে আসতে হত। তাই এলাকাটি ভেদরগঞ্জ নামে পরিচিতি লাভ করে। অনেকের মতে এখানে প্রচুর বেদে ছিল। নদীর পাড়ে সবসময় অসংখ্য বেদে বহর থাকত। তাই এলাকাটির নাম ভেদরগঞ্জ হয়েছে। আধুনিক গবেষণায় প্রবাদ দুটি নিছক প্রবাদ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। মুলত ভেদার শাহের নাম হতে ভেদরগঞ্জ নামের উৎপত্তি।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামসমুহের নামের বৈশিষ্ট্য যেমন আকর্ষণীয় তেমনি ব্যতিক্রমী। প্রত্যেকটি নামকরণ স্বকীয় ঐতিহ্যে মন্ডিত ঐতিহাসিক প্রবারণার একটি গুরুত্বপুর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিটি নামের পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের রেনু রেনু স্বর্ণ আর ঋদ্ধ মানুষের কর্মময় জীবনের গুচছ গুচছ চিত্র। প্রতিটি নাম যেন এক একটি জীবন্ত ইতিহাস। এ উপজেলার অধিকাংশ স্থানের নামের পরে উপসর্গের ন্যায় কিছু সাধারণ স্বর যুক্ত। কাটি, কান্দি, পুর, চর, কুড়ি, নগর, গাঁও, হাটি, পট্টি, সার, খালি, কুয়া, ভোগ, খোলা, কর ইত্যাদি স্বরগুচছ উপসর্গের মত অধিকাংশ স্থানের নামের আগে-পাছে জুড়ে। কোন কোন গ্রামে আবার মুল নামের পুর্বেও এ ধরণের স্বরগুচছ বসানো হয়েছে। আবার কিছু কিছু নাম রয়েছে স¤পুর্ণ ব্যতিক্রম। উদাহরণ স্বরূপ পুর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ‘ভয়রাগ জারিয়া’ গ্রামের কথা উল্লেখ করা যায়। জনৈক ব্যক্তির নেতৃত্বে কিছু যুবক ভয়-রাগ জারিয়া (জেরে) বহিরাগত সন্ত্রাসীদের কবল হতে এলাকাটি পুনরায় দখল করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে এলাকাটির নাম হয় ‘ভয়রাগ জারিয়া’। শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর সদর, জাজিরা ও নড়িয়াসহ মাদারীপুর জেলার কিয়দংশ মিলে একটি প্রশাসনিক এলাকা ছিল। তখন এ অংশটি নারায়নপুর নামে পরিচিত ছিল। এখনও শরীয়তপুর জেলার প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলায় কোন না কোনভাবে নারায়নপুর নামের গ্রাম রয়েছে। পুর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চর নারায়নপুর, রুদ্রকর ইউনিয়নের চর লক্ষিনারায়ন, জপসার লক্ষিপুর, ভেদরগঞ্জের নারায়নপুর ইত্যাদি এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।

চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। হিন্দুপাড়ার বিপরীতে মুসলমানেরা গ্রামের নাম রেখেছে কাশিপুর মুসলিম পাড়া। মাহমুদপুর ইউনিয়নের নাম ছিল হরিপুর। পঞ্চদশ শতকের শেষদিকে মোগল শাসনামলের স্বর্ণযুগে কিছু মুসলমান মাহমুদপুর নাম দিয়ে একটি নতুন গ্রামের গোড়া পত্তন করে। মুসলমানদের কর্মকান্ডের বিপরীতে সেখানকার নায়েব রামা আনন্দ সহকারে তার ছেলে বিনোদের নামে বিনোদপুর গড়ে তোলে। গ্রামের কিছু অংশ দেবতার নামে হাওলা করে দেয়া হয়। রাম আনন্দ করে হাওলা করেছে বলে প্রজাগণ এলাকাটির নাম রাখেন রামানন্দ হাওলা। দারুল আমান নায়েব রাম রায়ের অধিনে ছিল। তিনি ওখানে একটি গ্রাম করেছিলেন। গ্রামটির নাম রামরায়ের কান্দি। নড়িয়া পৌরসভার মুলপাড়া, নিকড়ি পাড়া, গোয়ালপাড়া ও পাইকপাড়ার বিপরীতে মুসলমানেরা গড়ে তোলে মুসলিম পাড়া, মল্লিকপাড়া, ভুইয়া পাড়া, খলিফা পাড়া ইত্যাদি গ্রাম।

এখন ভেদরগঞ্জ মহিষ চোখেই পড়ে না। এক সময় ভেদরগঞ্জ মহিষের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখানকার মহিষের দধি সারাদেশে খ্যাত ছিল। শুধু ভেদরগঞ্জ উপজেলা নয়, শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মহিষ শব্দ দিয়ে  নামায়িত একাধিক গ্রাম রয়েছে। যা এখানে এক সময়কার মহিষের প্রাচুর্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মোক্তারের চরের মহিষখোলা গ্রামের অধিবাসীদের প্রদান জীবিকা ছিল মহিষ পালন। নশাসনের মহিষকান্দি, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়ন ও ডিএম খালী তথা দিগর মহিষখালী প্রভৃতি নাম মহিষকে কেন্দ্র করে নামায়িত। ভেনপা একটি বিখ্যাত গ্রাম। ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া ও পালং থানার নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে ভেনপা গ্রামটি নামায়িত। ভেনপা গ্রামটি ভেদরগঞ্জ-নড়িয়া-পালং থানার সীমান্তে অবস্থিত। তাই এলাকার লোকজন সম্মিলিতভাবে ভেনপা নাম দিয়ে তিন থানার সমন্বয় ঘটান।

বর্তমান ডামুড্যা  উপজেলা পুর্বে ভেদরগঞ্জের অংশ ছিল। ডামুড্যার ইসলামপুর ও কনেশ্বর ইউনিয়ন একসাথে কনেশ্বর নামে পরিচিত ছিল। এখানে প্রচুর রবিশস্য ও ফুল হত। সারা বছরই এখানে ফুল-ফল এবং শস্যে ভরপুর থাকত। দেখে মনে হত যেন ইশ্বর রূপেরসে তার কন্যাকে সাজিয়েছে। তাই এলাকটিকে লোকজন ইশ্বরের কনে নামে ডাকত। ঈশ্বরের কনে হতে এলাকাটি কনেশ্বর নাম ধারণ করে। এখনও কনেশ্বর ও ইসলামপুর বেশ পরিপাটি ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে খ্যাত। কনেশ্বর এলাকার জনৈক মুসলামান নায়েব সৈয়দ বশরত আলীর নামানুসারে এলাকটির কিয়দংশ সৈয়দ ব¯তা নাম ধারণ করে। মাদারি পির কনেশ্বরে কিছুদিন হুজরা করে অবস্থান করেছিলেন। তিনি এলাকায় কুতুব নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নামানুসারে এলাকাটি কুতুবপুর নাম ধারণ করে। কনেশ্বর নামকে বিলোপ করার জন্য মুসলমানদের প্রসার যুগে এলাকার কিছু লোক ইসলামপুর নাম দেয়। যা এখন একটি নতুন ইউনিয়ন। 

ধানকাটি ডামুড্যা উপজেলার একটি বিখ্যাত ইউনিয়ন। ধানকাটি নাম ধান হতে সৃষ্ঠ। এখানে প্রচুর ধান হত বলে এলাকাটির নাম ধানকাটি হয়। ধানকাটি অর্থ ধানের গ্রাম। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম যথা ধানকাটি, চর ধানকাটি, ইত্যাদি ধান দিয়ে শুরু। অকাল বর্ষণে একবার এ এলাকার কিয়দংশের ফসলের মারাÍক ক্ষতি হয়। কিছু অংশের ফসল স¤পুর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যের জন্য লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যেতে থাকে। ফলে এলাকাটির কিয়দংশ অকাল বরিষ নামে পরিচিতি পায়। কুয়া অর্থ এলাকা বা সুনির্দিষ্ট বসতি। দারুল আমানের গোয়াল কুয়া গ্রামে প্রচুর গোয়াল বসবাস করত বলে নাম গোয়াল কুয়া। অনেকের মতে এখানে একটা কুয়া ছিল, এ কুয়া শুধু গোয়ালেরা ব্যবহার করত। প্রভাবশালীরা তাদের অন্য কোন কুয়ার জল ব্যবহার করতে দিত না। তাই এলাকাটির নাম হয় গোয়াল কুয়া, অর্থাৎ গোয়ালদের কুয়া। ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের পম গ্রাম একটি ব্যতিক্রমী নাম। পম স্থানীয় শব্দ। এর অর্থ স্যাঁতসেতে ভুমি। এলাকাটির ভূমি ছিল স্যাঁতসেতে। তাই নাম হয়েছে পম। ছয়গাঁও ইউনিয়নের প্রাক্তন নাম ছিল বাড়ইজঙ্গল। এক সময় পুরো এলাকাটি জঙ্গলে ভর্তি ছিল। বাড়ৈ সম্প্রদায় জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে পান উৎপাদন ও বসবাসের মাধ্যমে গ্রামটির পত্তন ঘটায়। তাই নাম হয় বাড়ইজঙ্গল। জনৈক রগুনাথ জমিদারের অধিনে চাকুরি করে বেশ অর্থ অর্জন করে। বাড়ইজঙ্গল নাম মুছে ফেলার জন্য রঘুনাথ এ গ্রামে একটি সুন্দর বাগান তৈরি করেছিলেন। ফলে রঘুনাথের নামানুসারে বাড়ই জঙ্গলের কিয়দংশ রগুরবাগান নামে পরিচিত লাভ করে। এখানকার অধিবাসীরা প্রাচীনকাল হতে সমৃদ্ধ ছিল। রঘুর বাগান শরীয়তপুর এলাকার একটি প্রাচীনতম বাগান। সমৃদ্ধির কারণে ছয়গাঁও এলাকায় জলদস্যুর উপদ্রব শুরু হয়। মঠখোলা, সিংগাচুড়া, লাকার্তা, গাংসার, পাপরাইল ও আটেরপাড়া এ ছয় গ্রামের লোকজন সম্মিলিতভাবে উপদ্রব ঠেকানোর জন্য নিজেদের একাত্ব ঘোষণা করে। এরপর হতে এলাকাটি ছয়গাঁও নামে পরিচিতি লাভ করে।

আটেরপাড়া গ্রামটি আটটি পাড়ার সম্মিলিত রূপ। মঠখোলা গ্রামে এক সময় একটি বিরাট মঠ ছিল। তাই নাম মঠখোলা। সিংগাচুড়া ছয়গাঁও এলাকার প্রাচীন নাম। এলকাটির জনগণ ছিল বিপ্লবী ও স্বাধীনচেতা। এখানে গুপ্ত এবং তৎপুর্বে যুগের শাসকদের একটি ক্যাম্প ছিল। প্রয়োজনে ক্যাম্পের চুড়ায় বসে সিংগা বাজিয়ে সৈন্যদের সতর্ক করা হত বলে এলাকাটি সিংগাচুড়া নাম ধারণ করে। ছয়গাঁও এর লাকার্তা একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। লাকার্তা মানে নাই কর্তা। এ গ্রাম একসময় এতই প্রভাবশালী ছিল য়ে বাইরের কেউ ওখানে কর্তত্ব ফলাতে সাহস পেত না। গ্রামটি অনেকটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হত। কোন কর্তা ছিল না বলে গ্রামটি লাকার্তা নাম ধারণ করে। অন্য একটি প্রবাদমতে এ গ্রামের লোকজন শিক্ষা-দীক্ষা ও ব্যবসায় বাণিজ্যে এতই উন্নত হয়ে উঠেছিল যে, দেশের বিভিন্নস্থানে এ গ্রামের লোকজন কর্তৃত্ব করত। লাকার্তা মানে লাখ কর্তা। এ গ্রামের লাখ লাখ লোক দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্তা ছিল বলে এলাকাটি লাখ কর্তার গ্রাম নামে প্রসিদ্ধি পায়। যার অপভ্রংশ লাকার্তা।

রামভদ্রপুর ইউনিয়নের প্রাচীন নাম ছিল ভাটিতা। ভাটি এলাকা হতে ভাটিতা নামের উৎপত্তি। পরবর্তীকালে এলাকাটি কার্তিকপুর নাম ধারণ করে। লক্ষণ সেনের পৌত্র কার্তিক সেনের নামানুসারে এটি কার্তিকপুর নামে নামায়িত হয়। ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর কার্তিক সেন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পশ্চম শতক পর্যšত এ এলাকার নাম ছিল ভাটিতা। প্রবাদ আছে রাম ও ভদ্র নামে কার্তিক সেনের দুই ছেলে ছিল। তাদের নামানুসারে এলাকাটির নাম  রামভদ্রপুর রাখা হয়। শাšিত সেন লক্ষণ সেনের বংশধর। টাটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতার পুর্ব পুরুষ বিক্র ভট্টাচার্য লক্ষণ সেনের রাজ সভার প্রধান পৌরহিত ছিলেন। অন্য একটি প্রবাদ মতে- রামভদ্রপুর এলাকা নামে পরিচিত এলাকাটিতে অভিজাত হিন্দু পরিবারবর্গ বসতবাটি গড়ে তুলে। অঞ্চলটির সুনামের কারণে বিভিন্ন এলাকা হতে বহু অভিজাত হিন্দু পরিবার এখানে নিবাস গড়ে তুলতে শুরু করে। তাদের আভিজাত্য ছিল হিন্দুদের পরম আরাধ্য দেবতা রামের মতই অভিজাত। এলাকার লোকজন রামের মত ভদ্র ছিল। রামের মত ভদ্র লোকের নিবাসের কারণে এলাকাটির নাম রামভদ্রপুর হয়। পাঁচ সিয়া রামভদ্রপুর ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত গ্রাম। পাঁচ সিকা দিয়ে জনৈক ভূস্বামী এ গ্রামটি কিনেছিলেন। এরপর হতে গ্রামটি পাঁচসিয়া নামধারণ করে। কোড়ালতলী ও চরকোড়ালতলী গ্রামের নামের সাথে কুড়াল জড়িত বলে কথিত। আবার অনেকে মনে করেন, কুড়াল নয়, কোড়াল মাছ হতে কোড়ালতলী ও চরকোড়ালতলী নামের উৎপত্তি। সত্যপুর গ্রামের লোকেরা কখনও মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই নাম সত্যপুর। আবু ইসহাকের সুর্যদীঘল গ্রাম সুর্যের সাথে দীঘল ছিল। তাই নাম সুর্যদীঘল। মহিষকান্দি গ্রামে এক সময় প্রচুর মহিষ ছিল। গ্রামের লোকেরা মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাই নাম হয়েছে মহিষকান্দি, অর্থাৎ মহিষের গ্রাম। রামভদ্রপুরের সিংজালা নামটির সাথেও মহিষের স্মৃতি জড়িত। শিংজালা কোড়ালতলী গ্রামের একটি অংশ ছিল। একবার মহিষের শিং নিয়ে বিক্রমপুরগামী একটি বজরা নদীর জলে ডুবে যায়। এ বজরা যেখানে ডুবেছিল সেখান হতে নদীর স্রোত ছিল কোড়ালতলী-সুর্যদিঘলমুখী। বজরাডুবির পর নদীতে মাছের জন্য বসানো জালে প্রচুর শিং আটকাতে থাকে। এজন্য এলাকাটির নাম শিংজালা হয়ে যায়। শিংজালা অর্থা শিং আটকে পড়া জাল। 

চরসেনসাস ইউনিয়নের প্রাচীন নাম ছিল নরসিংহপুর। নরসিংহ নামক জনৈক ব্যক্তি ত্রিপুরা রাজার পক্ষে এলাকাটি শাসন করতেন। ত্রিপুরা রাজার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নরসিংহ নামক জনৈক ভূ-স্বামীর নামানুসারে এলাকাটি নরসিংহপুর নামধারণ করে। ইংরেজ আমলে সেনসাস বা জরিপের মাধ্যমে এলাকাটি পৃথক করার পর নরসিংহপুর এলাকাটি চরসেনসাস নাম ধারণ করে। বিশাল একটি চরকে ভাগ করে চরভাগা এলাকা পৃথক করা হয়েছিল বলে নাম  চরভাগা। চরভাগা চরাঞ্চল হলেও এক সময় বেশ সমৃদ্ধ ছিল। পাল যুগের প্রারম্ভে এখানে সমৃদ্ধ নগর গড়ে উঠেছিল। নগরটি এতই সমৃদ্ধ ছিল যে, পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এলাকাটি সফর করেছিলেন। গোপালের নামানুসারে এলাকাটি গোপালপুর নাম ধারণ করে। এ ইউনিয়নের  গোপালপুর ও চরগোপালপুর এখনও তার সাক্ষ্য বহন করে।

তারাবুনিয়া নামের সাথে অনেকগুলো প্রবাদ জড়িত। তারার আলোয় ফসল বুনত বলে এলাকাটির নাম হয় তারাবুনিয়া। আবার অনেকে মনে করেন- তারাবুনিয়া নামের সাথে তারা নামক একটি উদ্ভিদ জড়িত। তারা এক ধরণের ডাটা জাতীয় ফসল। এলাকাবাসীর কাছে এটি জনপ্রিয় ছিল। একবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অধিকাংশ এলাকা জলে ডুবে যায়। ফসলাদি মারা যায় কিন্তু তারাগাছগুলো বেঁচে থাকে। পরবর্তী বছর বন্যার ভয়ে অনেকে ধান-ফসলের পরিবর্তে তারাগাছ বুনে। এ বছর বন্যা হয়, সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তারা গাছগুলো বেঁচে থাকে। যারা তারা বুনেছিল তারা তার বুনে বেশ লাভবান হয়। এরপর এলাকাটি তারাবুনিয়া নামে পরিচিতি পায়। অন্য একটি প্রবাদ মতে- এখানকার মাটি ছিল খুবই উর্বর। আকাশের তাঁরার মত এলোমেলো করে ফসল বুনলেও কোনরূপ পরিচর্যা ছাড়াই ফসলগুলো অল্পদিনের মধ্যে শস্যে তারার মত জ্বলজ্বল করত। তাই এলাকাটির নাম হয় তারাবুনিয়া। 

মহিষার এর নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে। নামকরণ নিয়ে যত প্রবাদই থাকুক না কেন, মহিষ হতে মহিষার নাম এসেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তৎকালে মাদারীপুর-শরীয়তপুর জেলায় প্রচুর মহিষ ছিল। সবচেয়ে ভাল জাতের মহিষ ছিল মহিষার এলাকায়। শুধু মহিষ নয়, এ এলকাটিতে প্রচুর ষাড়ও ছিল। মহিষ  ও ষাড় হতে মহিষার নামের উৎপত্তি হয়েছে। আরেকটি প্রবাদ মতে, দীগম্বরী মায়ের দীঘিতে ডুবে যাওয়া হতে বাঁচার নিমিত্ত উত্থিত করুণ আর্তি- ‘মা-ই ছাড়’ শব্দ হতে মহিষার নামের উৎপত্তি ঘটেছে। সাজনপুর এলাকার প্রাচীন নাম ছিল, চন্ডালকান্দি। প্রাচীনকালে এখানে চন্ডালরা বসবাস করত। তাই এলকাটি চন্ডালকান্দি নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠে। চন্ডালরা যতই নিচু বংশজাত হোক না কেন, তারা ছিল পরিশ্রমী এবং স্বীয় কর্মে প্রচন্ড আšরিক। ফলে অল্প সময়ে তারা আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে শুরু করে। পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার কারণে চন্ডালকান্দির লোকেরা যেখানে হাত দিত সেখানেই লক্ষী এসে বসত গড়ত। এভাবে অল্প সময়ে চন্ডালকান্দির কিছু ধনবান লোক এক জায়গায় বসত গড়ে তোলে। এলাকাটি ধনই নামে খ্যাত হয়। ধন ঐ শব্দ হতে ধনই শব্দের উৎপত্তি ঘটে। পুটিজুরি এলাকার বিখ্যাত পোদ্দার সাজন বাবু মহিষার ইউনিয়নের গোড়া পত্তন করেন বলে জানা যায়। তঁর নামানুসারে সাজনপুর নামের গ্রামটির উৎপত্তি ঘটে। অনেকের মতে সজনে গাছের প্রাচুর্য হতে সাজনপুর নামের উৎপত্তি হয়েছে। মহিষার ইউনিয়নের সাজনপুর এবং ডিএম খালীর চর সাজনপুরে এক সময় প্রচুর সজনে গাছ ছিল। তেমনিভাবে হোগলা নামক উদ্ভিদ হতে চরহোগলা গ্রামের উৎপত্তি হয়েছে।  

হিন্দু দেবতা নারায়নের নামানুসারে নারায়নপুর ইউনিয়নের নামকরণ হয়। এক সময় এ এলাকায় অনেকে ফিরিঙ্গি বসবাস করত। ফেরাঙ্গিকান্দি  আজও ফিরিঙ্গিদের স্মৃতি বহন করে চলেছে। ইকরকান্দির মধ্য দিয়ে নৌপথে সারা দেশের সাথে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। এখানে ফিরিঙ্গিরা বসবাস করত। স্থানীয় ভাষায় তাদের ফেরাঙ্গি বলা হত। একর শব্দের অপভ্রংশ হতে ইকরকান্দি নামকরণ হয়েছে। কারও কারও মতে একর নয়, ‘এই কর’ শব্দ হতে ইকরকান্দি নামের উৎপত্তি। গোসাইর হাটের গোসাই ঠাকুরের একজন ভক্ত ঠাকুর নারায়নপুরে একটি আ¯তানা গড়ে তুলেছিলেন। ঠাকুরের সম্মানার্থে ভক্তবৃন্দ এলাকার নাম রাখেন ঠাকুরতা কান্দি। সুর্যমনি নারাযনপুরের একটি চমৎকার গ্রাম। সুর্যের আলো পড়লে নীলজল বিধৌত এলাকটি মনির মত অনুপম সৌন্দয্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠত। এ জন্য লোকে এলাকাটিকে সুর্যমনি নাম দেয়।  গৈড্যা মহিষার ইউনিয়নের একটি বনেদী গ্রাম। এটি আরবি শব্দ, এর অর্থ ছোট ঝোপবেষ্ঠিত নিচু ভূমি।  এলাকাটিতে এক সময় প্রচুর ঝোপ ছিল। কিছু আরবীয় দেশীয় লোকদের সহায়তায় ঝোপ কেটে এলাকাটি বসবাসযোগ্য করেছিলেন। ছোট ঝোপের প্রাচুর্য্য হতে এলাকাটি গৈড্যা নাম ধারণ করে। ডামুড্যার সিড্যাও আরবি শব্দ। সমতল ভূমি হতে এ নামের উৎপত্তি। 

চরকুমারিয়া নাম দিয়ে বুঝা যায় এক সময় এলাকাটি চর ছিল। এর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বর্তমান শীর্ণকায় নদীতে একসময় প্রবল স্রোত ছিল। নদীতে অনেক নৌকা ডুবে যেত কিংবা স্রোতের তোড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে যেত। এ জন্য এলাকাটি নাওডুবা/ নাওভাঙ্গা নাম ধারণ করে। এখনও এলাকাটিতে নাওডুবা ও নাওভাঙ্গা নামের গ্রাম রয়েছে। চরকুমারিয়া ইউনিয়নের নামকরণ স¤পর্কে দুটি প্রবাদ প্রচলিত আছে। প্রথমটি হচেছ কুমার প্রবাদ। চরটি জেগে উঠার পর প্রথমে কুমার পেশার লোকজন এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছে। তাই এলাকাটির নাম চরকুমারিয়া। অন্য প্রবাদ মতে কুমার বিক্রমপুরের জমিদার ছোট সšতান। জনৈক জমিদারভক্ত নায়ের জমিদারের আদরের ছোট সšতানের নামে চরটির নাম চরকুমারিয়া রাখেন। সখিপুর বর্তমানে থানা হেডকোয়ার্টার। প্রবাদ আছে, চাঁদপুরের চাঁদ সুন্দরীর সাত সখির অন্যতম এক সখিকে এ এলাকার তৎকালীন জমিদার পুত্র নরসিংহ বিয়ে করেছিলেন। এ জন্য এলাকাটির নাম সখিপুর হয়। প্রাচীনকালে এলাকাটি ত্রিপুরা রাজার অধীনে ভূ-স্বামী নরসিংহ কর্তৃক শাসিত হত। মুলত সখিপুর ইউনিয়ন ছিল একটি বড় গ্রাম। যা ৪১ টি কান্দি নিয়ে গঠিত। 

কাচি দিয়ে কাটা হতে কাচিকাটা নামের উৎপত্তি। অনেকের মতে নদী এ এলাকার মাটিকে কাচির মত কুচি কুচি করে কাটে বলে নাম কাচকাটা। এখানে প্রচুর ধান, গম ও অন্যান্য শস্যাদি উৎপাদন হত। আবার কেউ কেউ বলেন, এলাকার লোকজন কাচি দিয়ে কেটে তাদের শস্যাদি ঘরে তুলত। কাঁচি ছিল শস্য আহরণের একমাত্র হাতিয়ার। তাই প্রত্যেকে তাদের সাথে অত্যাবশ্যকীয় যš কাঁচি নিয়ে চলাফেরা করত। কাঁচি ছিল তাদের সমৃদ্ধির চিহ্ন। কাঁচি দিয়ে কাটত বলে এলাকাটির নাম কাঁচিকাটা হয়। কাঁচিকাটার প্রাচীন নাম ছিল কৃষ্ণপুর। এখনও কাঁচিকাটা ইউনিয়নে কৃষ্ণপুর নামের একটি গ্রাম আছে। হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের সম্মানার্থে এ নাম রাখা হয়। কারও কারও মতে কৃষ্ণ নামক জনৈক ভূ-স্বামী চরটির প্রথম পত্তন করেছিলেন। তাই তার নামানুসারে এলাকাটি কৃষ্ণপুর হয়। কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রাম ফসলের ঐশ্বর্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই এলাকাটির দখল নিয়ে প্রায় সময় হাঙ্গামা লেগে থাকত। উর্বর মাটির দখল নিয়ে ঝগড়া বিবাদে প্রায় বছর একাধিক লোকের মাথা ভাঙত। একবার এখানে জায়গার দখল নিয়ে মারাÍক এক দাঙ্গা হয়। দাঙ্গায় অনেক লোকের মাথা ভাঙ্গে। এজন্য এলাকাটি মাথাভাঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে। মান্দার গাছ নয়, মাদার পির হতে মান্দারতলী নামের গ্রামটির উৎপত্তি। আবার অনেকের মতে মান্দার গাছ হতে মান্দারতলী গ্রামের নামকরণ হয়।

বাঘাইয়া, বড়কাটি, বড়চর, চর এলেন, চর আন্দার মানিক, চর চাপিলা, চরজেনকিস, চর নাককাটা, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা, দুলার চর, হাজিয়া বাদ, কাচিকাটা, কৃষ্ণপুর, মান্দারতলী, শিবসেন, উত্তর মাথাভাঙ্গা প্রভৃতি গ্রাম নিয়ে কাঁচিকাটা ইউনিয়ন গঠিত। ইংরেজ সার্ভেয়ার মিস্টার জেনকিস এর নামানুসারে চরজেনকিস এবং মিস্টার এলেন এর নামানুসারে চর এলেন নামকরণ হয়। চর নাক কাটা নামের সাথে একটি করুণ ঘটনা জড়িত। চরের আদিবাসীদের উপর পাশ্ববর্তী ইউনিটের কিছু লোক প্রচুর অত্যাচার করত। তারা একবার চরদখলের জন্য আক্রমণ করলে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে দখলবাজদের ধরে নাক কেটে দেয়। সে থেকে নাম হয় চর নাককাটা। জনৈক সাহসী ব্যক্তি এলাকায় বাঘাইয়া নামে পরিচিত ছিল। সে একবার রামভদ্রপুরের জঙ্গল হতে একটি জীবšত বাঘ ধিেছলেন। তাই তাঁর সম্মানার্থে এলাকাটি বাঘাইয়া নাম ধারণ করে। চরচাপিলা একসময় চাপিলা মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। চাপিলা মাছ হতে চর চাপিলার উৎপত্তি ঘটে। দুলার চর কাঁচিকাটার বিখ্যাত একটি গ্রাম। ঝড়ে এ চরে একবার বরযাত্রীসহ একজন বর বা দুলাহ্ ডুবে মরে গিয়েছিল। তখন হতে এলাকাটি দুলার চর নাম ধারণ করে। অন্য একটি প্রবাদ হল- দুলাল সর্দার নামক জনৈক প্রভাবশালী সর্দারের নামানুসারে এলাকাটি দুলার চর নামে পরিচিতি পায়। শিবসেন তারাবুনিয়া এলাকাটির একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। লক্ষণ সেনের নাতি শিব এখানে আÍগোপন করেছিলেন বলে জানা যায়। এখান হতে তিনি ছয়গাঁও আসেন। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের আদুরে কন্যা ফিলিজের নামানুসারে চরফিলিজ নামের উৎপত্তি ঘটে। চরচান্দা শব্দের অর্থ চান্দার চর। এক সময় এখানে প্রচুর চান্দা মাছ পাওয়া যেত। তাই নাম চরচান্দা। আবার অনেক মনে করেন, চান্দের (চাঁদ) আলো হতে চরচান্দা নামের উৎপত্তি।

সূত্র : ভেদরগঞ্জের ইতিহাস,  প্রথম অধ্যায়, নামকরণ বিচিত্রা, লেখক : ড. মোহাম্মদ আমীন।

 

গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, মাতৃভাষা জ্ঞান, প্রাত্যহিক প্রয়োজন, শুদ্ধ বানান চর্চা এবং বিসিএস-সহ যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক :

শুবাচ লিংক

শুবাচ লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

নাটোর জেলার নামকরণ

চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য

হাতিয়া উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পটুয়াখালী আগুনমুখা নদীর নামকরণ

error: Content is protected !!