ভোর বনাম সকাল

ড. মোহাম্মদ আমীন
ভোর বনাম সকাল
সংযোগ: https://draminbd.com/ভোর-বনাম-সকাল/
ভোর: অভিধানে ভোর শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি দেখা যায়। একটি হিন্দি উৎসের ভোর আরেকটি সংস্কৃত উৎসের ভোর। হিন্দি উৎসের ভোরটি বহুল প্রচলিত। যেমন:
বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হিন্দি উৎসের বাংলা শব্দ ভোর অর্থ (বিশেষ্যে) প্রাতঃকাল, উষা, প্রত্যুষ, প্রভাত; নিশাবসান।
ভোর হলো দোর খোলো খুকুমনি উঠরে– (নজরুল)
সংস্কৃত বিহ্বল থেকে উদ্ভূত ভোর অর্থ (বিশেষণে) বিভোর, অভিভূত, মুগ্ধ, তন্ময়।
প্রাণ পেয়েছে মন, বিভোর এ জীবন— (স্যমন্তক, ড. মোহাম্মদ আমীন)
সকাল: সংস্কৃত সকাল (স+কাল) অর্থ (বিশেষ্যে)
  •  প্রাতঃকাল, প্রভাত: উদাহরণ সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
  • ত্বরা, তাড়াতাড়ি: উদাহরণ দেরি করো না, সকলে সকাল সকাল চলে এসো।

ভোর-বনাম সকাল: ভোর আর সকাল সমার্থক। তবে সময় আর সূক্ষ্মতা বিবেচনায়, ভোর, সকালের আগে আসে।  অর্থাৎ ভোরের অব্যবহিত পরই আসে সকাল। ভোর ছয়টা হতে ভোর ছয়টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্ট। তাই নজরুল  ভোরে দরজা খোলার এবং মদনমোহন তর্কালঙ্কার ভোরের অব্যবহিত পর আগত সকালে প্রার্থনা/পণ করার  আহ্বান জানিয়েছে

“ভোর হলো দোর খোলো
খুকুমণি ওঠ রে!
ঐ ডাকে জুঁই-শাখে
ফুল-খুকি ছোটরে!” (প্রভাতি, নজরুল ইসলাম)
“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি

আমি যেন সারাদিন ভালো হয়ে চলি।”  (মদনমোহন তর্কাঙ্কার)

 

error: Content is protected !!