মজুন মানে কী; তত্ত্ব ও তথ্যের পার্থক্য

ড. মোহাম্মদ আমীন

মজুন মানে কী; তত্ত্ব ও তথ্যের পার্থক্য

লায়লী মজনু কহিনির নায়ক জনৈক আমিরপুত্র কায়েস। সে বাল্যকালে লায়লী নামের এক বণিক-কন্যার প্রেমে পড়ে। লায়লীও কায়েসের প্রেমে পড়ে যায়। তবে উভয়ের মিলনে আসে প্রচণ্ড বাধা। বিরহের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে কায়েস, মজনু বা বিরাগী হয়ে যায়। বিরাগী থেকে হয়ে যায় পাগল। পাগল অবস্থায় সে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। লায়লীর অন্যত্র বিয়ে যায়। তবু সে কায়েসের কথা ভুলতে পারেনি। মৃত্যুর মাধ্যমে উভয়ের দীর্ঘ বিরহজীবনের অবসান ঘটে। কায়েস ও লায়লীর এই কাহিনি অবলম্বনেই লায়লী মজনু কাব্য রচিত। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, আরবি উৎসের শব্দ মজনু অর্থ— প্রেমিক, বিরাগী। সংস্কৃত বিরাগী অর্থ— আসক্তিহীন, নিস্পৃহ; স্ত্রীবাচক- বিরাগিণী। নজরুল লিখেছেন—
“লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া
মজনু গো আঁখি খোলো- – -।”

তত্ত্ব ও তথ্য

১। তত্ত্ব— “বস্তুর অভ্যন্তরে যে বিকাশশীল সত্তা থাকে, তাকেই ‘তৎ’ বলে। আলোচনার সুবিধার জন্য আমরা তাকে বস্তুর ‘প্রাণ’ বা ‘আত্মা’ বলতে পারি। এই প্রাণ কেমন করে জন্মায়, বিকশিত হয়, পরবর্ত্তী রূপে উত্তীর্ণ হয়, সেই সমস্ত খবর থাকে [ ‘তত্ত্ব=(তৎ) তৎ-এর (ত) তারণ-কথা (ব) বহন করে যে ] সেই তত্ত্বে। তত্ত্বেই পাওয়া যায় বস্তুর অভ্যন্তরস্থ আত্মার চাল-চলনের খবরাখবর বা সংবাদ।
গ্রীক ভাষায় এই তত্ত্বকেই ‘থিওরেমা’ (theorema) বলার চেষ্টা করা হয়েছে। ইংরেজী থিওরী (theory) শব্দটি তার থেকেই এসে থাকলেও ‘বস্তুবিষয়ের প্রাণকথা’ থেকে তা অনেক দূরে চলে গেছে। কিন্তু বাংলাভাষীদের ভাষায় ‘তত্ত্ব’ শব্দের ব্যবহার তা থেকে দূরে সরে যায়নি। তত্ত্বতালাস, তত্ত্বন্যাস, তত্ত্বান্বেষণ, তত্ত্বাবধান প্রভৃতি শব্দ থেকে ‘তত্ত্ব’-পাঠানো পর্য্যন্ত সর্ব্ব ক্ষেত্রে ‘বস্তুবিষয়ের প্রাণকথা’ অর্থটি এখনও কমবেশী জীবন্ত রয়েছে। বাংলাভাষী হিন্দুদের বিয়ের তত্ত্বে কী কী দ্রব্য কীভাবে সাজানো ও পাঠানো হয়, তা একটু গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করলেই আপনি দেখতে পাবেন, বিবাহ নামক বিষয়ের প্রাণকথার মূল সংবাদ তত্ত্বের ভিতরেই দিয়ে রাখা রয়েছে”।
২। তথ্য— “তথ থাকে যাহাতে। একটু গভীরে গিয়ে দেখলে দেখা যায়, কার্য্যত ‘তৎ থাকে যাহাতে’ তাকেই তথ্য বলে। অর্থাৎ কিনা, পুরুষ বা ‘কন্‌টেণ্ট’ (content) থাকে যে অবয়বে বা আধারে, তাকেই তথ্য বলে। তাহলে তো তৎ-এর কথা বাদ পড়ে গেল, এসে গেল তৎ-এর আধারের কথা। পুরুষকে বাদ দিয়ে প্রকৃতির কথা, কন্‌টেণ্ট-কে বাদ দিয়ে ফর্‌ম (form)-এর কথা। এই কারণে তত্ত্ব ‘বস্তুবিষয়ের প্রাণের কথা’ বলে, এবং তথ্য ‘বস্তুবিষয়ের দেহের কথা’ বলে। ব্যাপারটিকে উল্টো দিক থেকেও দেখা যেতে পারে। তৎ তারিত হয়ে যেখানে পৌঁছল, সেখানকার দর্শক দেখল — কে-জানি কী-জানি কী-একটা দিল। তার কাছে এটি হয়ে গেল ‘দত্ত’। বাংলাভাষা এই ‘দত্ত’কে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়নি, পেয়েছে ল্যাটিন এবং ইংরেজী। তারা একেই data শব্দ রূপে বহন করে নিয়ে চলেছে”।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!