মদন, নয়ছয়, গুণ ও মান এবং জাদুকর ও যাদুকর

ড. মোহাম্মদ আমীন

মদন, নয়ছয়, গুণ ও মান এবং জাদুকর ও যাদুকর

নয়ছয়

 নয়ছয় কথাটির প্রায়োগিক ও আলংকারিক অর্থ  এলোমেলো, বিশৃঙ্খলা, অপব্যয় প্রভৃতি। কিন্তু নয়ছয় কেন? অন্য অঙ্কও তো হতে পারত! পারত, কিন্তু তা যৌক্তিক হতো না। মূলত ইংরেজি 9 এবং 6 থেকে বাগ্‌ধারাটির উদ্ভব। ইংরেজি নয়কে উল্টালে পাওয়া যায় ইংরেজি ছয়; আবার ইংরেজি ছয়কে উল্টালে পাওয়া যায় ইংরেজি নয়। অর্থাৎ যা 9  ব্যক্তি ও অবস্থানভেদে তাই 6 হয়ে যায়। নয় থেকে সহজে 6-এ চলে আসার জন্য কলম ধরার কিংবা তাদের আকার আকৃতি বা রূপ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। কেবল স্থান পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত দর্শনই যথেষ্ট।

তাই এই দুটি অঙ্ক নিয়ে যা খুশি তা করা যায়; যেমন ইচ্ছে তেমন ব্যাখ্যা করা যায়। উল্টিয়ে দিলে যাহা 9 তাহা  6 হয়ে প্রতিভাত করার সমূহ যুক্তি উপস্থাপন করা যায়। এটি একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা। প্রত্যেকের অবস্থান, দর্শন ও  নিজকীয়তা থেকে অঙ্ক দুটির লিখিত রূপকে কোনো রূপ পরিবর্তন ছাড়া ব্যাখ্যা করা যায়। তাই ব্যক্তিগত দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কোনো কিছুকে ইচ্ছেমতো প্রয়োগ বা ব্যাখা বা অপচয় করা অর্থেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাংলা নয়ছয় অর্থ (বিশেষণে) তছনছ, বিশৃঙ্খল;  (আলংকারিক অর্থে) অপব্যয়, আর্থিক অনিয়ম প্রভৃতি।

প্রয়োগ: নয়ছয় করলে অভাবে পড়তে হবে। সরকারি অর্থ নিয়ে নয়ছয় কোনো নতুন ঘটনা নয়।

মদন

‘মদন’ হিন্দু পুরাণে বর্ণিত প্রেমের দেবতা। কন্দর্প; কামদেব; অনঙ্গ; অতনু; মন্মথ; মনোভব; মনসিজ; পঞ্চশর; স্মর; পুষ্পধন্বা; মকরকেতন; রতিপতি প্রমূখ কামদেবতা বা মদন নামে পরিচিত। মদন যেহেতু পুরাণে বর্নাণিত একটি নাম বিশেষ। তাই এর কোনো ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। অনেকে Cupid-কে মদনের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। কারণ কিউপিড হচ্ছে The god of love. বংশীবাদক অর্ফিয়াস, প্রেমের দেবতা। যার বাঁশী শুনলে মানুষ তো বটেই, পশুপাখি, এমনকি গাছপালা পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেত।

গুণ ও মান

গুণ’ হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়-বস্তুতে বিদ্যমান শর্ত, যোগ্যতা, ক্ষমতা, সামর্থ্য প্রভৃতি। আর মান হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিষয়/বস্তুতে বিদ্যমান বা
ঘোষিত গুণ বজায় রাখা/থাকা।

জাদুকর না কি যাদুকর

বাংলা একাডেমির অভিধানে প্রথামে ‘যাদু’ বানান প্রমিত ছিল। পরবর্তীকালে সেটা সংস্কার করে ‘জাদু’ শব্দকে প্রমিত করা হয়েছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা বানানের নিয়মে বলা আছে অসংস্কৃত (তদ্‌ভব, দেশি ও বিদেশি) শব্দে ‘য’ না লিখিয়া ‘জ’ লেখা বিধেয়। অতএব ‘জাদুকর’ বানানই প্রমিত।

— √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √ — √

অবাক বানান কৌশল সহজ সূত্রে কঠিন বানান নিমোনিক বাংলা বানান অভিধান অভিধান

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

খানকি মাগি ফাজিল কাফের মালাউন চুদুরবুদুর বোদা ভোঁদা ভোদা: শব্দার্থ

চুত চুতমারানি চোদা চোত, চূত চ্যুত: বাংলা বানান শ্লীল অশ্লীল ব্যবহার অর্থ প্রয়োগ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!