মন্টিনেগ্রো (Montenegro) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

মন্টিনেগ্রো (Montenegro)

ইতালিয়ান ভাষার ভিনেশিয়ান উপভাষার মন্টে নেরো (Monte Nero)শব্দ হতে মন্টেনেগ্রো শব্দের উদ্ভব। এর অর্থ কালো পাহাড়। লভকেন (Mount Lovcen) পবর্তের অন্ধকার ও সরলবর্গীয় বনের কৃষ্ণ প্রকৃতি হতে এলাকাটির নাম করা হয় মন্টেনেগ্রো বা কালো পাহাড় বা কৃষ্ণ পর্বত। মন্টেনেগ্রোর ম্যাপের আকৃতি ডাইনোসরের মতো।

মন্টেনেগ্রোর মোট আয়তন ১৩,৮১২ বর্গকিলোমিটার বা ৫,৩৩২ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ১.৫%।২০১১ খ্রিষ্টাব্দের আদম শুমারি অনুযায়ী মন্টেনেগ্রোর মোট জনসংখ্যা ৬,২০,০২৯ জন এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৪৫। আয়তন বিবেচনায় মন্টেনেগ্রো পৃথিবীর ১৬১-তম বৃহত্তম দেশ এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় ১২১-তম জনবহুল দেশ। পোজোরিকা (চড়ফমড়ৎরপধ) দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। সরকারি ভাষা মন্টেনেগ্রিন এবং স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষা সার্বিয়ান, বসনিয়ান, আলবেনিয়ান ও ক্রোয়েশিয়ান। মন্টেনেগ্রোর অধিবাসীরা সরকারিভাবে মন্টেনেগ্রিন নামে পরিচিত। সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় প্রজাতন্ত্র।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, মন্টেনেগ্রোর জিডিপি (পিপিপি) ৯.৮২৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১৫,৭১৭ ইউএস ডলার। অন্যদিকে জিডিপি (নমিনাল) ৩.৯৮৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৬,৩৭৩ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম ইউরো।

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মে স্বাধীনতার জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেয়। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুন দেশটি সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো হতে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পূর্বে মন্টেনেগ্রো ছিল প্রাক্তন যুগোশ্লাভিয়ার একটি রাজ্য। যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, মেসেডোনিয়া, মন্টেনেগ্রো, স্লোভেনিয়া এবং সার্বিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হয়। ১৩ জুলাই মন্টেনেগ্রোর সরকারি ছুটি। এদিন  স্টেটহুড রাষ্ট্র দিবস। রাষ্ট্র দিবসরে সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। পালন করা হয়। ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই বার্লিন কংগ্রেসে মন্টেনেগ্রো বিশ্বের ২৭-তম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে হিসাবে ঘোষিত হয়েছিল। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই মন্টেনেগ্রোর পতাকা গৃহীত হয়।

মন্টেনেগ্রোর তটরেখার দৈর্ঘ্য ২৯৩ কিলোমিটার এবং তন্মধ্যে উপভোগ্য সুন্দর সৈকতের দৈঘ্য ৭৩ কিলোমিটার। মন্টেনেগ্রো ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের ভিসা লাগে না। তবে কাজ করতে ওয়ার্কভিসা নিতে হয়।

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে মন্টেনেগ্রোতে স্বাধীনতার পক্ষেবিপক্ষে জনগণের অভিমত জানার জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। অল্প ভোটের ব্যবধানে স্বাধীনতার পক্ষের লোকেরা জয়লাভ করে। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুন স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং ২৬ জুন এটি জাতিসংঘের ১৯২-তম সদস্য হয়।

হাতে-তৈরী কার্পেট, কাঠ-খোদাই, কাঠের ভাষ্কর্য, সিরামিক, টেপেস্ট্রাইস, তারের গয়ানা, মদ সর্বত্র পাওয়া যায়। পর্যটন জাতীয় আয়ের বৃহত্তম উৎস। ইস্পাত-তৈরি, অ্যালুমিনিয়া  ও খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ জিডিপিতে বিপুল অবদান রাখে। ইতালি, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানি এ দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।

কারও বাড়িতে আমন্ত্রিত হলে এক বোতল মদ ও এক বক্স কফি নিয়ে যাওয়া সৌজন্যের পরিচয়। প্রথম পরিচয়ে নারী হোক বা পুরুষ হোক হস্তমর্দনের মাধ্যমে সৌজন্য দেখান হয়। এর পর কোলাকোলি বা চুমোর মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।


লিচটেনস্টেইন (Liechtenstein) : ইতিহাস ও নামকরণ

লিথুয়ানিয়া (Lithuania) : ইতিহাস ও নামকরণ

লুক্সেমবার্গ (Luxemburg) : ইতিহাস ও নামকরণ

মাল্টা (Malta) : ইতিহাস ও নামকরণ

মোনাকো (Monaco) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

 

error: Content is protected !!