মরক্কো (Morocco) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (আফ্রিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

মরক্কো (Morocco)

মরক্কো উত্তর আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম রাবাত। দেশটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী এবং উত্তরে ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত। মরক্কোর পূর্বে আলজেরিয়া, উত্তরে ভূমধ্যসাগর ও স্পেন এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। দক্ষিণ দিকের সীমানাটি বিতর্কিত, মরক্কো পশ্চিম সাহারা এলাকার মালিকানা দাবি করে এবং ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ওই অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা দখলে রেখেছে।

স্প্যানিশ ম্যারুওকেস (Marruecos) বা পর্তুগিজ র্ম্রাাকোশ (Marrakesh) অঞ্চলের প্রাক্তর রাজধানী ছিল র্ম্রাাকেশ (Marrakesh)। কথিত হয়, এ র্ম্রাাকেশ শব্দ হতে মরক্কো নামের উদ্ভব। পরবর্তীকালে ফ্রান্স দখলকালীন এর নাম হয় মারকো (Maroc)। এ তিনটি নামই বার্বার নাম মার্‌রাকাস (Mərrakes) হতে এসেছে। সম্ভবত মুর (mur) এবং আকুশ (akush) শব্দ দুটির মিলনে র্ম্রাাকাশ নামের উদ্ভব। এর অর্থ ঈশ্বরের ভূমি বা ল্যান্ড অব গড। পৃথিবীর মাত্র ৩টি দেশের একই সঙ্গে আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে তটরেখা রয়েছে। দেশ তিনটি হচ্ছে স্পেন, ফ্রান্স এবং মরক্কো।

আল-মাগরিব (Al-Maghrib) ) আরবি শব্দ। এর অর্থ পশ্চিম। তবে এখানে এ শব্দটি দ্বারা মরোক্কর পশ্চিমকে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়নি। বরং এর দ্বারা পুরো উত্তরপশ্চিম আফ্রিকাকে প্রকাশ করা হতো। অনেকের মতে, আল মামলাকাহ্ আল-মাগরিবা শব্দ হতে মরক্কো নামের উদ্ভব। যার অর্থ পাশ্চাত্য রাজ্য (The Western Kingdom)।

মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এটি একমাত্র আফ্রিকান দেশ, যা আফ্রিকান ইউনিয়ন এর সদস্য নয়। তবে এটি আরব লীগ, আরব মাগরেব ইউনিয়ন, ওআইসি, গ্রুপ অব ৭৭ ইত্যাদি জোটের সদস্য এবং ন্যাটোর মিত্র দেশ।

মরক্কোর মোট আয়তন ৭,১০,৮৫০ বর্গকিলোমিটার বা ৪,৪৬,৫০০ বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ০.০৫৬ %। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, মরক্কোর জনসংখ্যা ৩,৩৮,৪৮,২৪২ জন এবং প্রতি বর্গকিলোমিটার লোকসংখ্যা ৭৩.১ জন। আয়তন বিবেচনায় মরক্কো পৃথিবীর ৫৮-তম বা ৪০-তম বৃহত্তম দেশ এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় ৩৯-তম। কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর ১২২-তম জনবহুল দেশ।

২০১৪ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, মরক্কোর জিডিপি (পিপিপি) ২৫২.৩৬৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৭,৬০৬ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১০৯.২০১ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৩,২৯১ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম মরোক্কান দিরহাম। রাজধানী রাবাত এবং ক্যাসাব্লাঙ্কা বৃহত্তম শহর। সরকারিভাবে মরক্কোর অধিবাসীদের মরোক্কান বলা হয়। সরকারি ভাষা আরবি ও বার্বার। তবে ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি জাতীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃত। দেশটির ৯৯.৯% অধিবাসী মুসলিম। তন্মধ্যে ৬৭% সুন্নি। এখানে ২৬০০ টি ইহুদি পরিবার রয়েছে।
মরক্কো হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে অধিক সার্ডিন রপ্তানিকারক দেশ। এর উত্তরাঞ্চলীয় রিপ (Rif) এলাকার অধিবাসীদের পারিবারিক আয়ের প্রধান উৎস মারিজুয়ানা চাষ। প্রকৃতপক্ষে রিপার (reefer) শব্দটির উদ্ভব রিপ (Rif) শব্দ হতে। আরবি ভাষায় মারিজুয়ানাকে বলা হয় কিপ (kif)। এ কিপ প্রক্রিয়াজাত করে ভাং (hashish) হিসাবে বিক্রি করা হতো।

ক্যাসাব্লাঙ্কার দ্বিতীয় হাসান মসজিদ পৃথিবীর ৭ম বৃহত্তম মসজিদ। এটি নির্মাণে ৩০ হাজার শ্রমিক ও কারিগরকে ৫ বছর নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছে। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ৬৮৯ ফুট লম্বা এ মসজিদের মিনার পৃথিবীর দীর্ঘতম মিনার। তবে এলাকার বিস্তৃতি বিবেচনায় এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মসজিদ। এখানে ৮০,০০০ লোক একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে।

মরক্কোর জাতীয় পতাকা সবুজ ক্ষেত্রের উপর পঞ্চভূজাকৃতির একটি তারকা খচিত। তারকার মাঝখানে একটি সিল মোহর রয়েছে। এটি সোলাইমান বাদশার (Solomon) সিল মোহর। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর পতাকাটি প্রথম গ্রহণ করা হয়। ৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কাইরাওয়ায়েন মসজিদে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। এক ধনাট্য কাইরাওয়ায়েন শরণার্থীর কন্যা ফাতিমা আল-ফিহির এটি প্রতিষ্ঠার অর্থ যোগান দেন।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী মরক্কোতে হার্টকে নয়, কলিজাকে ভালবাসার প্রতীক মনে করা হয়। একসময় খেজুর গাছ বিক্রি মরক্কোতে অবৈধ ছিল। কারণ এটি ছিল জীবন-জীবিকার উৎস। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ছবির সুটিং এখানে করা হয়েছে। তন্মধ্যে গ্ল্যাডিয়র অন্যতম। ফ্রান্সে প্রায় ১০ লাখ এবং স্পেনে প্রায় ৭ লাখ মরোক্কান অভিবাসী রয়েছে।

গিনি (Guinea) : ইতিহাস ও নামকরণ

গিনি-বিসাউ (Guinea-Bissau) : ইতিহাস ও নামকরণ

কেনিয়া (Kenya) : ইতিহাস ও নামকরণ

লেসোথো (Lesotho): ইতিহাস ও নামকরণ

লাইবেরিয়া (Liberia) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র: কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

 

error: Content is protected !!