মরিশাস(Mauritius) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (আফ্রিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

মরিশাস(Mauritius)

১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিয়ান মানচিত্রকর আলবার্টো ক্যান্টিনোর (Alberto Cantino) মানচিত্রে প্রথম দালিলিক প্রমাণ ও ঐতিহাসিকভিত্তি হিসাবে মরিশাস (Mauritius) নামটি পাওয়া যায়। এখান থেকে জানা যায়, মধ্যযুগের আরবীয় নাবিক দিনা আরোবি (Dina Arobi  ) প্রথম ভূখ-টিতে অবতরণ করেন এবং তিনিই দ্বীপটির নাম মরিশাস রাখেন।

১৫০৭ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ নাবিকরা জনমানবশূন্য ও বসতিহীন দ্বীপখ-টি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক পর্তুগিজ ম্যাপে দ্বীপটাকে কাইরন নামে দেখান হয়েছে। সম্ভবত নাবিকেরা যে জাহাজে করে সেখানে গিয়েছিল সে জাহাজের নামই ছিল কাইরন। কেউ কেউ বলেন, অন্য এক পর্তুগিজ নাবিক ডোম পেড্রো মাসকারেনহাস (Dom Pedro Mascarenhas) নিজের নামানুসারে দ্বীপটির নাম দেন মাসকারনেস (Mascarenes ) দ্বীপপুঞ্জ।

১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে এডমিরাল ওয়াইব্র্যান্ড ভন ওয়ারাইক (Wybrand Van Warwyck) এর নেতৃত্বে একটি ডাচ স্কোয়াড্রন দ্বীপটির বর্তমান গ্র্যান্ডপোর্ট নামক স্থানে অবতরণ করেন এবং হলান্ডের প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট stadholder।) প্রিন্স মরিস ভন নাসাউ (Prince Maurice van Nassau, Prince of Orange ) এর সম্মানে ভূূখ-টির নাম দেন দ্বীপ মরিশাস (Isle de France)। পরবর্তীকালে দ্বীপ ফ্রেঞ্চ উপনিবেশে পরিণত হয়। তখন নাম পরিবর্তন করে রাখাহয় ইসলে ডি ফ্রান্স । ১৮১০ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর নেপোলিয়নিক পরাজয় বরণ করলে দ্বীপটি ব্রিটিশের দখলে চলে আসে। তখন পুরানো নামটি আবার উজ্জীবিত করে নাম রাখা হয় মরিশাস।

আবার অনেকে মনে করেন, মরিশাস একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ মুরিশ। দ্বীপটি মুরিশ জনগোষ্ঠীর লোকজন-অধ্যুষিত এলাকা। তাই এর নাম হয় মরিশাস। মরিশাসের প্রথম নাম দেওয়া হয়েছিল রেভিস দ্বীপপুঞ্জ (Revis islands)।

মরিশাসের মোট আয়তন ২,০৪০ বর্গকিলোমিটার বা ৭৮৭ বর্গমাইল। জলীয়ভাগের পরিমাণ ০.০৭%। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে মরিশাসের মোট জনসংখ্যা ১২,৬১,২০৮ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৬১৮.২৪ জন। মুদ্রার নাম মরিসিয়ান রুপি এবং রাজধানীর নাম পোর্ট লুইস। আয়তন বিবেচনায় মরিশাস পৃথিবীর ১৭৯-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় ১৫৬-তম। তবে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ১৯-তম জনবহুল দেশ।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, মরিশাসের জিডিপি (পিপিপি) ২৩.৩২২ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১৭,৭১৬ ইউএস ডলার(৬৬-তম)। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১৩.৫৫১ বিলিয়ন ইউএস ডলার (৬৯-তম) এবং মাথাপিছু আয় ১০,২৯৪ ইউএস ডলার (৬৮-তম)। ক্রেয়োল, ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ বহুল প্রচলিত ভাষা। জনগণের ৪৮.৫% হিন্দু, ৩২.৭% খ্রিস্টান, ১৭.৩% মুসলিম এবং ০.৪% বু্িড্ডস্ট।

মরিশাস পৃথিবীর ১৭-তম কিন্তু আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। পৃথিবীর সকল উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে মরিশাসবাসীর গড় আয় সবচেয়ে বেশি এবং তা ৭৩ বছর। ডুবন্ত আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে মরিশাস দ্বীপের সৃষ্টি। এ দ্বীপে প্রথম মানুষ হিসাবে পর্তুগিজরাই পা রাখেন। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একমাত্র মরিশাসে ডুডু পাখি পাওয়া যেত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ডুডু মরিশাসের জাতীয় পাখি। মরিশাসে কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই। অন্যান্য দেশে দুই হাতে উপহার গ্রহণ সৌজন্য, কিন্তু মারিশাসে কেবল ডান হাতে উপহার গ্রহণ করা হয়।

ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস প্রতিষ্ঠা করে। পর্যটন, টেক্সটাইল, চিনি, আর্থিক সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, সামুদ্রিকখাদ্য, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য শক্তি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রভৃতি সেক্টরে মরিশাস বিশ্বের আকর্ষণীয় কয়েকটি দেশের অন্যতম। ইক্ষু এ দেশের প্রথম অর্থকর ফসল। ৯০% আবাাদি জমিতে ইক্ষু চাষ হয়।

সাত রঙা সৈকত মরিশাসের অন্যতম আকর্ষণ। এখানে লাল, বাদামি, বেগুনি, সবুজ, লোহিত, নীল ও হলুদ- সাত রঙের বালিয়াড়ি পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর সেরা দ্বীপ গন্তব্য। সহজ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কয়েকটি দেশের অন্যতম। আইন-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা প্রভৃতি বিবেচনাতেও মরিশাস পৃথিবীর নিরাপদ দেশের অন্যতম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সমুদ্র সৈকতসমূহের বেশ কয়েকটি মরিশাসে অবস্থিত।

পাতাকৃতির মরিশাস কত সুন্দর তা বর্ণনা করার জন্য মার্ক টোয়েনের একটি উক্তি বলার লোভ সম্ভবরণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেছেন : আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রথমে মরিশাস সৃষ্টি করা হয়। তারপর মরিশাসরে অনুকরণে অবিকলভাবে সৃষ্টি করা হয় স্বর্গ (You gather the idea that Mauritius was made first, and then heaven, and that heaven was copied after Mauritius)।

ইকুয়েটরিয়াল গিনি (Equatorial Guinea) : ইতিহাস ও নামকরণ

ইরিত্রিয়া (Eritrea) : ইতিহাস ও নামকরণ

ইথিওপিয়া (Ethiopia) : ইতিহাস ও নামকরণ

গ্যাবন (Gabon): ইতিহাস ও নামকরণ

ঘানা (Ghana) : ইতিহাস ও নামকরণ

রোয়ান্ডা (Rwanda) : ইতিহাস ও নামকর

সূত্র: কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

 

error: Content is protected !!