মহাজন: মহৎ যে জন: কীভাবে সুদেখোর আড়তদার হয়ে গেল: জামাই স্বামী

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
সংযোগ: https://draminbd.com/মহাজন-মহৎ-যে-জন-কীভাবে-সুদ/
 
মহাজন দেশি শব্দ। এর আদি অর্থ ছিল— বৈষ্ণব পদকর্তা।  পদকর্তৃবৃন্দ  উদার, সৎ ও মহৎ ব্যক্তি হিসেব খ্যাত এবং পরিচিত ছিল। তাঁদের মধ্যে কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল না। সবাইকে সমান চোখে দেখত। এজন্য সর্বজনে তাঁর উদার পরিচিতি পেয়ে যায়। সাধারণ জনগণের কাছে মহৎ ব্যক্তি হিসেবে বহুল পরিচিতির কারণে বৈষ্ণব পদকর্তা অর্থবাহী মহাজন শব্দটি মহৎ ব্যক্তি অর্থটিও বিরল উপহারের মতো পেয়ে যায়।  ফলে মহাজন কথাটির দাঁড়ায়— বৈষ্ণব পদকর্তা  এবং মহৎ ব্যক্তি। এবার মহাজন শব্দটি সত্যিকার অর্থে মাহাজনিক পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়।
 
পরবর্তীকালে শব্দটির সঙ্গে আড়তের মালিক, কুসীদজীবী, সুদখোর, উত্তমর্ণ প্রভৃতি অর্থও যুক্ত হয়। তবে এগুলো নেতিবাচক অর্থ হিসেবে যুক্ত হয়নি। বরং ইতিবাচক অর্থ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে— মহৎব্যক্তি অর্থ-প্রকাশক শব্দের সঙ্গে এসব অর্থ যুক্ত হওয়ার কারণ কী ছিল?
 
আড়তদার, মধ্যসত্বভোগী, বণিক, টাকা লগ্নীকারী, সুদখোর বা কুসীদজীবীরা সাধারণত ধনী এবং প্রভাবশালী হন।  সমাজের সাধারণ ও গরিবদের নিয়ে তাঁদের কাজকারবারের বিরাটি অংশ আবর্তিত হতো। তখন ব্যাংক ছিল না। কুসীদজীবীরাই ছিলেন ব্যাংক।  আড়তদারগণই ছিলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির  রক্ষক। গ্রামীণ অর্থনীতি বহুলাংশে তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করতেন।
 
আড়তদার বা কুসীদজীবীগণ আচরণগতভাবে যেমনই হোক,  পেশাগত কারণে তারাই ছিল সাধারণ গরিব জনগণের নির্ভরক। আকস্মিক প্রয়োজন কিংবা বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছেই ছুটে যেতেন। কুসীদজীবীরাও ছুটে আসতেন বিপদগ্রস্তের কাছে; কারণ যাই থাক না।  এখনও তেমন হয়।  সামান্য সহানুভূতি বা সাহায্য পেলে বিপদ বা অভাগ্রস্তরা সাহায্যকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধায় গদগদ হয়ে বলতেন, এমন মহৎজন> মহাজন আর হয় না। তিনি গরিবের বন্ধু, অসহায়ের সহায়।
 
সাহায্যাদি বা লগ্নী যে শর্তে কিংবা যে পরিমাণই করা হোক না, তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটত, বিপদ হতে উদ্ধার পেত। তাই সুবিধাপ্রার্থীরা ক্ষণিকের জন্য হলেও কুসীদজীবীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকত। বর্তমানে ব্যাংক থেকে ঋণ মঞ্জুর করাতে পারলে যেমন খুশি হন ব্যবসায়ীরা। কুসীদজীবীরাও এরূপ প্রশংসাকারীদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন। তাই মহৎ ব্যক্তির মতো আড়তদার আর কুসীদজীবীগণও মহাজন হিসেবে সাধারণ জনগণের মুখে মুখে প্রচার পেয়ে যায়। ফলে মহাজন শব্দটির শরীরে  আড়তদার ও কুসীদজীবী অর্থও ঢুকে যায়। অভিধানমতে, এখন দেশি মহাজন শব্দের অর্থ—  (বিশেষ্যে) বৈষ্ণব পদকর্তা, মহৎ ব্যক্তি,  আড়তদার, কুসীদজীবী প্রভৃতি। মহাজন বললে সবাই খুশি হন।
 
 

জামাই ও স্বামী

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত জামাতা থেকে উদ্ভূত জামাই অর্থ (বিশেষ্যে) কন্যার স্বামী। অনেকে নিজের স্বামীকেও জামাই (আঞ্চলিক) বলেন।  বিভিন্ন এলাকায় আঞ্চলিক ভাষায় নিজের স্বামীকে জামাই বলা হয়”এটি সঠিক কি না অনেক প্রশ্ন করেন। একই শব্দের একাধিক অর্থ থাকাটাই স্বাভাবিক। অধিকন্তু, অঞ্চলভেদে শব্দের অর্থ ও প্রায়োগিক অবস্থার ভিন্নতা দেখা যায়। অনেকে নিজের কন্যাকে মা ডাকে। তার মানে এ নয় যে, ওই মেয়ে তার পিতার স্ত্রী। আবার অনেকে নাতনিকে ডাকে বউ। নাতিকে ডাকে স্বামী। ওরা কিন্তু সত্যি বউ বা স্বামী নয়।
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
https://draminbd.com/english-pronunciation-and-spelling-rules-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
 
error: Content is protected !!