মহাভারত কাব্যের পরিসর অধ্যায় চরিত্র ও অনুবাদ

মহাভারত কাব্যের পরিসর

মহাভারত-এ এক লক্ষ শ্লোক ও দীর্ঘ গদ্যাংশ রয়েছে। এ মহাকাব্যের শব্দসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ। মহাভারত-এর আয়তন ইলিয়াড ও ওডিসি কাব্যদ্বয়ের সম্মিলিত আয়তনের দশগুণ এবং রামায়ণ-এর চারগুণ।

অধ্যায়সমূহ

মহাভারত কাব্যগ্রন্থে মোট ১৮টি অধ্যায় বা ‘পর্ব’ এবং ১০০টি ‘উপপর্ব’ রয়েছে। পর্ববগুলো হলো : ১.আদিপর্ব, ২.সভাপর্ব, ৩. বনপবর্, ৪, বিরাটপর্ব, ৫. উদ্যোগপবর্, ৬.ভীষ্মপর্ব,৭. দ্রোণপর্ব, ৮.কর্ণপর্ব,৯ .শল্যপর্ব, ১০.সৌপ্তিকপবর্, ১১ .স্ত্রীপর্ব, ১২ .শান্তিপর্ব, ১৩ .অনুশাসনপর্ব, ১৪ .অশ্বমেধপর্ব, ১৫ .আশ্রমবাসিকপর্ব, ১৬ .মৌষলপর্ব, ১৭ .মহাপ্রস্থানিকপর্ব, ১৮.স্বর্গারোহণপর্ব; পরিশিষ্ট হরিবংশপর্ব

চরিত্রসমূহ

অভিমন্যু, অর্জুন, অশ্বত্থামা, কর্ণ, কুন্তী, গান্ধারী, দুঃশাসন, দুর্যোধন, দ্রোণাচার্য,  দ্রৌপদী, ধৃতরাষ্ট্র, নকুল, পা-ব, বিদুর, ব্যাসদেব, ভীম, ভীষ্ম , যুধিষ্ঠির, শকুনি, শল্য , শ্রীকৃষ্ণ,  সত্যবতী, সহদেব, কৃপাচার্য, ঘটোৎকচ, দ্রুপদ, বলরাম, বিরাট, শান্তনু প্রভৃতি মহাভারতের প্রধান চরিত্র। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য প্রধান-অপ্রধান চরিত্র রয়েছে।রামায়ণের মতো এখানেও রয়েছে প্রচুর চরিত্র।

মহাভারতের বাংলা অনুবাদ

কবীন্দ্র পরমেশ্বর বাংলা মহাভারতের প্রথম রচয়িতা। কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত কবীন্দ্র মহাভারত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাভারত। সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খানের নির্দেশে তাঁর সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে এই অষ্টাদশপর্ব মহাভারত রচনা করেন। এজন্য এর আরেক নাম হয় পরাগলী মহাভারত। অন্য একটি মতে সঞ্জয় রচিত মহাভারত প্রথম বাংলা মহাভারত। পরাগল খানের পুত্র ছুটি খানের (প্রকৃত নাম নসরৎ খান, ১৫১৯-৩২) নির্দেশে তাঁর সভাকবি শ্রীকরনন্দীও বাংলায় জৈমিনি মহাভারতের অশ্বমেধপর্বের ভাবানুবাদ করেন। এর অপর নাম ছুটিখানী মহাভারত। ষোড়শ শতকের কবি নিত্যানন্দ ঘোষ বৃহদাকারে মহাভারত রচনা করেন যা পশ্চিমবঙ্গে সমধিক প্রচলিত ছিল। এ শতকে উড়িষ্যার রাজা মুকুন্দদেবের সভাকবি দ্বিজ রঘুনাথ রচিত ‘অশ্বমেধপর্ব’, উত্তর রাঢ়ের কবি রামচন্দ্র খানের ‘অশ্বমেধপর্ব’ এবং কোচবিহারের রাজসভার কবি রামসরস্বতীর ‘বনপর্ব’ এবং পীতাম্বর দাসের ‘নলদময়ন্তী উপাখ্যান’ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

error: Content is protected !!