মহামান্য আগত শুভেচ্ছা স্বাগত: কাতল মাছের পাতলা কান

ড. মোহাম্মদ আমীন

মহামান্য আগত শুভেচ্ছা স্বাগত

যুক্তরাজ্যের রানিকে বলা হয় Her Majesty এবং রাজাকে বলা হয় His Majesty। ল্যাটিন maiestas শব্দ থেকে Majesty শব্দের উদ্ভব। যার অর্থ greatness, যা, জানামতে — খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্বাধীন রাষ্ট্রের শাসকবৃন্দের সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রধান শাসকের সম্বোধনে Imperial Majesty কথাটিও ব্যবহৃত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব দশম অব্দ পর্যন্ত এই সম্বোধনটির ব্যবহার বেশ আকর্ষণীয় ছিল।
স্বাধীন ভূখণ্ডের শাসকদের সম্বোধন হিসেবে ইউরোপের অনেক দেশে Majesty ছাড়াও Imperial/Royal- Highness ব্যবহৃত হতো। এসব শব্দের ব্যবহার শুরু হয় রোমান সাম্রাজ্য থেকে।যা ক্রমশ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এসব রাজকীয় সম্বোধন কার জন্য এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার একটি নির্দিষ্ট বিধান ছিল। রোমান ও বাইজানটাইন সাম্রাজ্যে রাষ্ট্রদূত, সরকারের প্রতিনিধি, আদালতের বিচারক এবং উচ্চপদে নিয়োজিতদের Highness সম্বোধন করা হতো। রাজ পরিবারের সদস্যদেরও Highness (His/Her) বলা হয়। এখন পৃথিবীর সর্বত্র কুটনীতিকদের Highness সম্বোধন করা হয়।
হায়দ্রাবাদ (Hyderabad) এবং বেরার (Berar) নিজামকে ব্রিটিশরা Exalted Highness উপাধি দিয়েছিলেন। তাই তাঁদের Exalted Highness সম্বোধন করা হতো। মূলত এসব শব্দের অনুসরণে বাংলায় ‘মহামান্য’ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে বলা হয়, “মহামান্য রাষ্ট্রপতি”। ‘মহামান্য’ শব্দটি কেবল রাষ্ট্রপতির জন্য ব্যবহার করা যাবে – এমন কোনো বিধান নেই। তাই যে-কেউ যে-কাউকে ‘মহামান্য’ বলতে পারে। স্মর্তব্য, ‘মহামান্য’ কথাটি অন্য কোনো ভাষার বাংলা অনুবাদ নয়, বরং একটি পারিভাষিক শব্দ।
 

কাতলা না কি কাতল

কাতল মাছের পাতলা কান
আ-কার দিলেও যায় না মান।

কাতল একটি মাছবিশেষ। কাতলা বললেও অশুদ্ধ হবে না। দুটোই প্রমিত। কাতল ও কাতলা দেশি শব্দ। কাতানও (শাড়িবিশেষ) দেশি শব্দ। তবে কাতার আরবি। কাতারবন্দি শব্দটি আরবি ‘কাতার’ ও ফারসি ‘বন্দি’ শব্দের মিলন। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, কাতল ও কাতলা দুটোই প্রমিত। অতএব, কাতল মাছে  আ-কার দিলেও যা, না-দিলেও তা।

আকাশ ভাষা ও সমুদ্র ভাষা

ইংরেজি ভাষাকে বলা হয় আকাশ-ভাষা ( Sky Language) ও সমুদ্র ভাষা (Sea Language)। আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ এমনকি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও আকাশে
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
পাইলটগণ ইংরেজি ছাড়া অন্যকোনো ভাষা ব্যবহার করে না। সমুদ্রেও অনুরূপ। সমুদ্র এবং আকাশে চলমান জাহাজ,  উড়োজাহাজ প্রভৃতি-সহ সব যানের পাইলট বা চালকগণ জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে একমাত্র ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ করে থাকেন। তাই ইংরেজি ভাষাকে আকাশ ভাষা ও সমুদ্র ভাষা বলা হয়।
 
 বিনা ছাড়া (ব্যতীত অর্থে)
‘বিনা’ সংশ্লিষ্ট শব্দের পরে স্বতন্ত্রভাবে বসে।যেমন­―“দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে”। শব্দের আগেও স্বতন্ত্রভাবে এটি ব্যবহৃত হয়। যেম­―“বিনা মেঘে বজ্রপাত।” ‘ছাড়া’ সংশ্লিষ্ট শব্দের পরে প্রায়শই স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়।যেমন­―“কাজ ছাড়া আর কিছু যেন নেই তার জীবনে।” তবে শব্দের পরে যুক্তভাবেও এর ব্যবহার আছে। যেমন― লক্ষ্মীছাড়া, ছন্নছাড়া ইত্যাদি।
 
 বিশেষণ লেখার নিয়ম
বাংলা বিশেষণ ও বিশেষণবাচক শব্দ সাধারণত বিশেষ্যের আগে স্বতন্ত্র শব্দ রূপে বসে।যেমন―কালো কোকিল, লাল জামা, মন্দ লোক, এক টাকা, তিন দিন, মৃদ বাতাস, ধীরে চলো ইত্যাদি। এইসব ক্ষেত্রে বিশেষণ ব্যবহারের উদ্দেশ্য থাকে বিশেষ্যটিকে বিশেষিত করা, ফলে বিশেষণটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।তবে বিশেষ অর্থগত ব্যঞ্জনা থাকলে কখনও কখনও বিশেষণ বিশেষ্যের সঙ্গে যুক্তভাবে বসে। যেমন―একদিন আমিও বড়ো হব। মন্দলোকে নানাকথা বলবে। এইসব ক্ষেত্রে বিশেষ্য ও বিশেষণ একটি একক ধারণা বা অর্থকে বোঝায়। সাহিত্যিক ব্যবহারে অবশ্য কখনও কখনও বিশেষ্যের পরেও বিশেষণ বসতে পারে। যেমন― যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ।যে ফুল লাল, পিতা ভয়ংকর।
 
লিংক: https://draminbd.com/মহামান্য-আগত-শুভেচ্ছা-স্/

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

 
error: Content is protected !!