মাল্লা, মোল্লা ও মাঝিমাল্লা; “রইব না আর বেশিদিন তোদের মাঝারে” মাঝারে শব্দের অর্থ; “ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়” গৌড় শব্দের অর্থ: গ্রামীণ ও গ্রাম্য

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
সংযোগ: https://draminbd.com/মাল্লা-মোল্লা-ও-মাঝিমাল্/
 
গ্রামীণ বনাম গ্রাম্য
সংস্কৃত গ্রামীণ (গ্রাম+ঈন্) অর্থ— (বিশেষণে) গ্রামজাত, গ্রাম্য; গ্রামসম্বন্ধীয়; গ্রামস্থ। সংস্কৃত (গ্রাম+য) অর্থ—  (বিশেষণে) গ্রামসংক্রান্ত, গ্রামে উৎপন্ন; গ্রামস্থ, অর্ধশিক্ষিক, অমার্জিত। উভয়ে তৎসম, বিশেষণ এবং গ্রামবিষয়ক অর্থ দ্যোতিত করে। গ্রামীণ ও গ্রাম্য উভয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমার্থক। তবে গ্রাম্য শব্দটির সঙ্গে নেতিবাচক অশিক্ষিত ও মার্জিত অর্থ থাকায় তার ভেতরের ইতিবাচক গ্রামীণ অর্থ প্রায়োগিক ক্ষেত্রে উহ্য থেকে যায়। তাই গ্রাম্য শব্দটি প্রায়শ নেতিবাচক ও গালি অর্থে ব্যবহৃত হয় কিংবা অনুরূপ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে মনে করা হয়।  তাই গ্রাম্য কথাটির মধ্যে ইতিবাচক গ্রামীণ অর্থ থাকলেও ব্যবহারের কারণে গ্রাম্য শব্দটি নেতিবাচক গালি শব্দে পরিণত হয়েছে। এভাবে বিনাদোষে অনেক  শব্দ তার উৎকৃষ্টতা হারিয়ে নিকৃষ্টে পরিণত হয়। মানুষেও এমন হতভাগা দেখা যায়।
 
 
 মাল্লা: আরবি মল্লাহ্ থেকে উদ্ভূত মাল্লা অর্থ— (বিশেষ্যে) নৌকার মাঝি বা তার সহযোগী, মাঝির সহযোগী, নাবিক।
 
মোল্লা: মোল্লা আরবি উৎসের বাংলা  শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি, পদবিশেষ। অনেকের নামের আগে-পরে  পদবি হিসেবে মোল্লা দেখা যায়। যেমন: মোল্লা ওমর, আবদুল কাদের মোল্ল।  যেহেতু, মোল্লা শব্দটি পদবি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তাই আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্রে অভিজ্ঞ না হলেও  ঐতিহ্য হিসেবে বংশপরম্পরায় নামের আগে বা পরে  মোল্লা শব্দটি ব্যবহার করেন। মোল্লা গ্রুপের মোল্লা সল্ট বেশ পরিচিত।
 
মাঝি: মাঝি বাংলা শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) নৌকার চালক, সাঁওতালপল্লির মোড়ল, মৎস্যব্যবসায়ী, জেলে। পদবি হিসেবে মাঝি শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।  মাঝির কাজকে মাঝিগিরি বলে। বাংলা মাঝি ও ফারসি উৎসের –গিরি সমন্বয়ে মাঝিগিরি শব্দটি গঠিত।
মাঝি বাইয়া যাও রে…
অকূল দরিয়ার মাঝে
আমার ভাঙা নাও রে মাঝি
বাইয়া যাও রে
 
মাঝিমাল্লা: মাঝি ও মাল্লা শব্দের মিলনে মাঝিমাল্লা শব্দের উদ্ভব। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা মাঝিমাল্লা অর্থ— মাঝি ও তার সহকর্মী। নৌযানের মাঝি এবং মাঝিকে নৌ পরিচালনার কাজে সহায়তাকারীদের একত্রে মাঝিমাল্লা বলা হয়।
আবুবকর উসমান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণির, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারি এ তরির পাকা মাঝিমাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারি-গান –লা-শরিক আল্লাহ!
 
 
ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশিদিন তোদের মাঝারে- – –
সংস্কৃত মধ্য থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা শব্দ মাঝ থেকে মাঝারে শব্দের উদ্ভব। ‘মাঝ’ অর্থ— ভেতর (মনের মাঝে), মধ্যস্থল। অভিধানমতে, মাঝারে শব্দের অর্থ— মাঝে, মধ্যে, সঙ্গে, সাথে, অভ্যন্তরে প্রভৃতি। মনিরুজ্জামান মনির রচিত গানের কলিটিতে বর্ণিত মাঝারে শব্দের অর্থ— মাঝে, মধ্যে, সঙ্গে, সাথে প্রভৃতি। অতএব, কলিটির অর্থ— দয়াল (প্রভু/ঈশ্বর) আমাকে ডাক দিয়েছেন। আমি আর তোমাদের মাঝে বেশিদিন থাকব না। 
মাজারে:  আরবি উৎসের বাংলা শব্দ মাজার অর্থ— সাধুপুুরুষের সমাধিক্ষেত্র। মাজারে অর্থ— সাধুপুুরুষের সমাধিক্ষেত্রে।
 
“তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দেব না” গানে বর্ণিত গৌড় শব্দের অর্থ কী?
গানটির প্রথম কয়েকটি কলি দেখুন—
“ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আমরা আর পাব না না না, আর তো পাব না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দেব না।।”
এখানে গৌড় বানানে উপস্থাপিত  শব্দের অর্থ কী?  শব্দটি আসলে গৌড় নয়। যদিও  ইন্টারনেটের প্রায়  সবখানে গৌড় বানানই দেখা যায়। বানানটি ভুল।  এটি আসলে গৌর। উচ্চারণ— গোউ্‌রো।  গৌর শব্দটি গানে বিশেষ্য এবং ব্যক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অভিধানমতে,  তৎসম গৌর (√গু+র) অর্থ—  (বিশেষ্যে) শ্রীচৈতন্য, গৌরাঙ্গ। গানটি শুনলে অর্থটি স্পষ্ট হয় যে, শব্দটি গৌড় নয়, গৌর। গানের কথায় বিদ্যমান রাধা, ব্রজ, দ্বিজ ভূষণ প্রভৃতি শব্দ গৌর বানানকে প্রতিষ্ঠা করে।
 
 
প্রয়োজনীয় সংযোগ

প্রতিদিন খসড়া-১

প্রতিদিন খসড়া-২

প্রতিদিন খসড়া-১ : https://draminbd.com/2020/12/27/প্রতিদিন-খসড়া/

প্রতিদিন খসড়া-২ : https://draminbd.com/প্রতিদিন-খসড়া-২/

প্রতিদিন খসড়া: https://draminbd.com/প্রতিদিন-খসড়া-৩/

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
 
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
 
error: Content is protected !!