মা দিবস, বিশ্ব মা দিবস, বিশ্ব মাতৃদিবস: Mother’s Day

 
বিশ্ব মা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। কেউ কেউ মনে করেন,  গ্রিক দেবী সিবেল-এর আরাধনা হতে আবার কেউ কেউ মনে করেন, রোমান ম্যাত্রোনালিয়া দেবীর আরাধান হতে মা দিবসের উদ্ভব। প্রাচীন গ্রিসে দেবী সিবেলকে মা রূপে পূজা বা আরাধনা করার জন্য একটি দিন ধার্য ছিল।  অন্যদিকে,  প্রাচীন রোমে দেবী ম্যাত্রোনালিয়ার আরাধনার জন্যও একটি দিন ধার্য ছিল। ওই দিন মায়েদের  নানা উপহার প্রদান করা হতো। মনে করা হয়, গ্রিক-রোমানদের এসব ধর্মীয় প্রথা হতে  বিশ্ব মা দিবসের উদ্ভব। 
 
 অনেকের মতে, মাদারিং সানডে হতে মাতৃদিবসের উদ্ভব। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে-সহ পৃথিবীর আরও অনেকে দেশে মাদারিং সানডের মতো বহু আচারানুষ্ঠান প্রচলিত ছিল।  এসব অনুষ্ঠানে মায়েদের সম্মান জানানোর জন্য একটি রবিবারকে আলাদা করে রাখা হতো। প্রথানুযায়ী  প্রতিকী উপহার প্রদান এবং ঘরদোর ধোয়া-মোছা প্রভৃতির মাধ্যমে মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হতো।  
 
অনেকে মনে করেন, মার্কিন লেখিকা  জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত “মাদার্স ডে প্রক্লামেশন” গ্রন্থ হতে আধুনিক মাতৃদিবসের উদ্ভব।   আমেরিকান গৃহযুদ্ধ ও ফ্রাংকো-প্রুশীয় যুদ্ধের নৃশংসতার বিরুদ্ধে ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত “মাদার্স ডে প্রক্লামেশন” ঘোষণাপত্রটিতে বিশ্বের মানুষকে মাতৃত্বের মমতায় আবদ্ধ হওয়ার আকুল আবেদন ধ্বনিত হয়েছে।
 
আবার অনেকের মতে,  ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আনা জার্ভিস স্থাপিত ‘মাদারস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোশিয়েশন’ (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) আধুনিক বিশ্ব মা দিবস পালনের প্রকৃত ভিত্তি।   এই সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় ররিবারকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন। ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে দিনটি মা দিবস হিসবে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। 
 
তবে পৃথিবীর অনেক দেশে ভিন্ন তারিখে দিবস পালন করা হতো বা হয়ে। যেমন:  ক্যাথলিক-প্রধান দেশসমূহে যিশুখ্রিষ্টের মায়ের জন্মদিনকে মা দিবস গণ্য করে  ভার্জিন মেরি ডে পালন করা হয়। কিছু মুসলিম-প্রধান দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারের পরিবর্তে মুহাম্মদ (দ.) এর মায়ের জন্মদিনে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী মা দিবস পালন করা হতো। ক্যাথলিক ধর্মে, দিনটি বিশেষভাবে ভার্জিন মেরি বা কুমারী মাতার পূজায় সমর্পিত। হিন্দু ধর্মে দিনটি  “মাতা তীর্থ অনুসি ” বা “একপক্ষব্যাপী মাতৃ তীর্থ যাত্রা”  নামে  পরিচিত।  হিন্দু ধর্মালম্বী দেশগুলোতে, বিশেষ করে নেপালে এটি মহাসমারোহে পালিত হয়।
 
সন্তানের জন্য মায়ের সীমাহীন ত্যাগ এবং তাদের  গুরুত্ব-সহ মা ও মাতৃত্বের সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি প্রদানে আমাদের মনোভাবকে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসায় উজ্জীবিত করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। 
 
error: Content is protected !!