মীনাক্ষী  মীনরঙ্গ মানাণ্ড ও মীনাণ্ডী; অন্তিমকাল বনাম অন্তিমদশা

 
ড. মোহাম্মদ আমীন
এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/মীনাক্ষী-মীনরঙ্গ-মানাণ্/
 
 
মীন আর অক্ষী মিলে মীনাক্ষী। মীন অর্থ মাছ এবং অক্ষী অর্থ চোখ। এটি অক্ষ শব্দের রূপক স্ত্রীবাচকতা। যেমন: নদ আর নদী। সে হিসেবে মীনাক্ষী কথার শাব্দিক অর্থ— মাছের চোখ। তবে মীনাক্ষী শব্দের আভিধানিক বা প্রায়োগিক অর্থ মাছের চোখ নয়। সংস্কৃত মীনাক্ষী (মীন+অক্ষ+ঈ) অর্থ— (বিশেষণে) মাছের মতো সুন্দর চোখবিশিষ্ট; (বিশেষ্যে) দেবীমূর্তিবিশেষ। 
 
দক্ষিণ ভারতে মীনাক্ষী দেবীর মূর্তি বহুল পূজিত। মীনাক্ষী ভারতীয় পুরাণের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। মীনাক্ষী মন্দির বা মীনাক্ষী আম্মান মন্দির বা মীনাক্ষী সুন্দরেশ্বর মন্দির ঐতিহাসিক মন্দির। এটি দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে ভাইগাই নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।
 
মীনরঙ্গ:  মীন আর রঙ্গ মিলে মীনরঙ্গ (মীন+রঙ্গ)। তৎসম মীনরঙ্গ শব্দের অর্থ— (বিশেষ্যে) মাছরাঙা। এখানে রঙ্গ অর্থ— (বিশেষ্যে) যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব, আক্রমণ। মাছরাঙা নামের পাখিটি মীনকে আক্রমণ করে, মীনের সঙ্গে যুদ্ধ বা রঙ্গ করে তাকে খেয়ে ফেলে। তাই মাছরাঙার অপর নাম মীনরঙ্গ।
 
মীনাণ্ড : মীন আর অণ্ড মিলে মিনাণ্ড। অণ্ড অর্থ— ডিম, ডিম্ব। সুতরাং, মীনাণ্ড কথার শাব্দিক অর্থ—  মাছের ডিম। এর শাব্দিক ও প্রায়োগিক অর্থ অভিন্ন।
 
মীনাণ্ডী: মীন আর অণ্ডী মিলে মীনাণ্ডী। সংস্কৃত মীনাণ্ডী(মীন+অণ্ড+ঈ) শব্দটি বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  মীন অর্থ— মাছ এবং অণ্ডী অর্থ— ডিম্ব হলেও মীনাণ্ডী কথার প্রায়োগিক অর্থের সঙ্গে মাছ বা ডিম্ব— কারো সম্পর্ক নেই। মিনাণ্ডী শব্দের অর্থ— চিনি। চিনি দেখতে মাছের  অণ্ডের মতো। তাই এর নাম মিনাণ্ডী।
 
অন্তিমকাল বনাম অন্তিমদশা
 
অন্তিম: সংস্কৃত অন্তিম (অন্ত+ইম) অর্থ— (বিশেষণে) শেষ (অন্তিম যাত্রা); মৃত্যুকালীন (অন্তিম ইচ্ছা)। শব্দটির অর্থ— শেষ বা চূড়ান্ত প্রভৃতি হলেও বিশেষত মত্যুকালীন বা মুমূর্ষু প্রভৃতি সম্পর্কিত বিষয় প্রকাশে শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
 
অন্তিমকাল: সংস্কৃত অন্তিমকাল (অন্তিম+কাল) অর্থ— (বিশেষ্য) মৃত্যুকাল, শেষ সময়। অন্তিমকাল শব্দটি সময় বা কাল নির্দেশক। কোনো অবস্থার বা ঘটনার বা ঘটার শেষ সময় বা শেষ কাল নির্দেশ করার জন্য শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
 
অন্তিমদশা: সংস্কৃত অন্তিমদশা (অন্তিম+দশা) অর্থ— (বিশেষ্যে) মুমূর্ষু অবস্থা। এটি অবস্থা বা ঘটনা বা প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে।
 
অন্তিম অবস্থা: অন্তিম অবস্থা বাগ্‌ভঙ্গির অর্থ— (বিশেষ্যে) মুমূর্ষু অবস্থা, শেষ দশা, অন্তিম দশা। অর্থাৎ, অন্তিমদশা ও অন্তিম অবস্থা সমার্থক। কিন্তু অন্তিম শব্দটি অবস্থা থেকে ফাঁকে রেখে বসে।
 
মনে রাখুন: সম-মেরুতে বিকর্ষণ। তাই অ-বর্ণ সহ্য করতে পারে না অ-বর্ণকে। এজন্য অন্তিম ও অবস্থা ফাঁক রেখে লিখতে হয়।
অন্তিমকাল সময় সম্পর্কিত, কিন্তু অন্তিমদশা বা অন্তিম অবস্থা ঘটনা সম্পর্কিত।
অন্তিমকালে অন্তিমদশা— প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম।
error: Content is protected !!