মীর মশাররফ হোসেন প্রথম মুসলিম নাট্যকার

ড. মোহাম্মদ আমীন

মীর মশাররফ হোসেন (১৩ই নভেম্বর, ১৮৪৭ —১৯শে ডিসেম্বর, ১৯১১) রচিত এবং ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘বসন্তকুমারী’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা নাটক। তাই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নাট্যকার বলা হয়। কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত বিষাদ সিন্ধু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম।  
 
সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর  লাহিনিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তবে  জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির পদমদী এলাকায়। অধিকাংশের অভিমত তিনি ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তবে  কিছু গবেষকের তাঁর জন্ম তারিখ ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে অক্টোবর।  আঠারো বছরে বয়সে তাঁর পিতৃবন্ধুর কন্যা আজিজুন্নেসার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। 
 
তাঁর মোট নাটক চারটি। বাকি তিনটি হলো- ‘জমিদার দর্পণ’(১৮৭৩), ‘বেহুলা গীতাভিনয়’ এবং ‘টালা অভিনয়’।‘জমিদার দর্পণ’ বাংলা নাটকের
ড. মোহাম্মদ আমীন
ইতিহাসে মুসলিম চরিত্রাবলম্বনে লেখা প্রথম বাংলা নাটক হিসেবেও খ্যাত। ‘এর উপায় কি’, ‘ভাই ভাই এইতো চাই’, ‘ফাঁস কাগজ’ এবং ‘একি’ মীর মশাররফ হোসেন লিখিত চারটি প্রহসন।
 
আমাদের শিক্ষা নামক প্রবন্ধে মীর মশাররফ হোসেন লিখেছেন, ‘বঙ্গবাসী মুসলমানদের দেশভাষা বা মাতৃভাষা “বাঙ্গালা”। মাতৃভাষায় যাহার আস্থা নাই, সে মানুষ নহে। বিশেষ সাংসারিক কাজকর্ম্মে মাতৃভাষারই সম্পূর্ণ অধিকার। মাতৃভাষায় অবহেলা করিয়া অন্য দুই ভাষায় বিখ্যাত পণ্ডিত হইলেও তাহার প্রতিপত্তি নাই। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এমনকি প্রাণের প্রাণ যে স্ত্রী, তাহার নিকটেও আদর নাই। অসুবিধাও বিস্তর। ইস্তক ঘরকন্নার কার্য্য নাগাদে রাজসংশ্রবী যাবতীয় কার্য্যে বঙ্গবাসী মুসলমানদের বাঙ্গালা ভাষার প্রয়োজন।
 
 
গো-জীবন তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে এটি প্রকাশিত হয়। গো জীবন প্রবন্ধ লেখার পর মীর মোশারাফ হোসেন প্রবল নিন্দার সম্মুখীন হন। তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়। ধর্মসভা ডেকে তাঁকে কাফের এবং তাঁর স্ত্রীকে হারাম জারি করা হয়। তাঁকে বলা হয় ‘তওবা’ করতে। তিনি প্রথমে একটি মামলা দায়ের করলেও পরে ব্যাপারটি আপসে মিটিয়ে নেন। তবে গো-জীবন এর পর আর ছাপা হয়নি।
 
১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে ডিসেম্বর দেলদুয়ার এস্টেটে ম্যানেজার হিসেবে কর্মকালীন সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন মারা যান। তাঁকে পদমদিতে দাফন করা হয়।
 
মীর মশাররফ হোসেন রচিত এবং ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘বসন্তকুমারী’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা নাটক।তাই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নাট্যকার বলা হয়। কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত বিষাদ সিন্ধু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম। তাঁর মোট নাটক চারটি। বাকি তিনটি হলো- ‘জমিদার দর্পণ’(১৮৭৩), ‘বেহুলা গীতাভিনয়’ এবং ‘টালা অভিনয়’।‘জমিদার দর্পণ’ বাংলা নাটকের ইতিহাসে মুসলিম চরিত্রাবলম্বনে লেখা প্রথম বাংলা নাটক হিসেবেও খ্যাত। ‘এর উপায় কি’, ‘ভাই ভাই এইতো চাই’, ‘ফাঁস কাগজ’ এবং ‘একি’ মীর মশাররফ হোসেন লিখিত চারটি প্রহসন।
আমাদের শিক্ষা নামক প্রবন্ধে মীর মশাররফ হোসেন লিখেছেন, “মাতৃভাষায় যাহার আস্থা নাই, সে মানুষ নহে।”
 
১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে ডিসেম্বর দেলদুয়ার এস্টেটে ম্যানেজার থাকাকালেই সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন পরলোকগমন করেন। তাঁকে পদমদীতে দাফন করা হয়।

মীর মশাররফ হোসেন প্রথম মুসলিম নাট্যকার

লিংক: https://draminbd.com/মীর-মশাররফ-হোসেন-প্রথম-মু/


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
শুবাচ -ওয়েবসাইট: www.draminbd.com
 
error: Content is protected !!