মুজিবর্ষ শুদ্ধ কি না, কড়ি গোনা, কদগ্নি, কর্ণনাদ, জম্পতি ও দম্পতি

ড. মোহাম্মদ আমীন

মুজিবর্ষ শুদ্ধ কি না, কড়ি গোনা, কদগ্নি, কর্ণনাদ, জম্পতি ও দম্পতি

সংযোগ:  https://draminbd.com/মুজিবর্ষ-শুদ্ধ-কি-না-কড়ি-গ/ ‎

‘মুজিবর্ষ’ শুদ্ধ কি না: শুবাচের বক্তব্য

‘মুজিববর্ষ’ কথাটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পরিপালনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত একটি ঔৎসবিক নাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ পালনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি ‘মুজিববর্ষ’ নামটি গ্রহণ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত সন্ধি, সমাস কিংবা অন্য কোনোভাবে নামটি পরিবর্তন করা বিধেয় নয়; রীতিমতো অপরাধ, জালিয়াতি। জোর করে জোড়কলম এনে যারা ‘মুজিবর্ষ’ নামের শুদ্ধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা এই অপরাধে অপরাধী। তাছাড়া, জোড়কলম শব্দ গঠনের কোনো ব্যাকরণিক প্রক্রিয়া নয়। এটি অনেকটা কৌতুকোপহাস।
অতএব, ‘মুজিববর্ষ’ কথার পরিবর্তে ‘মুজিবর্ষ’ লেখা ভুল। এটি নির্ধারিত মূল নামের বিকৃতি। তাই অপরাধও।
এমন ভুল-বিকৃতি যে কারণে হোক না, সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। নির্ধারিত তথা নিবন্ধিত নামের পরিবর্তন ব্যাকরণ নির্ধারণ করে না, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করে। এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি ‘মুজিববর্ষ’ নাম পরিবর্তন করে ‘মুজিবর্ষ’ করেছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মুজিববর্ষ থেকে মুজিবর্ষ: ব্যাখ্যা বনাম সাফাই
মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শপথ বাক্য পাঠের মূল মঞ্চের ডায়াসে ‘‘‘মুজিব বর্ষের’ শপথ” কথার পরিবর্তে “‘মুজিবর্ষের’ শপথ” লেখা হয়েছে। আয়োজক কমিটির মিডিয়া কনসাল্টেন্ট আসিফ কবীরের সূত্রে এমন মারাত্মক ও অমার্জনীয় ভুলের ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। ব্যাখ্যাটি নিচে দেওয়া হলো:
ডিভাইস ট্রান্সফারের একপর্যায়ে ‘মুজিব বর্ষের’ একটি ‘ব’ অক্ষর অমিট হয়ে গেছে। ‘পোডিয়ামের বানান ভ্রান্তিটির প্রাথমিক খোঁজখবরে যা জানতে পেরেছি তা হলো আমরা একটি চিপ-এ পিসি থেকে ট্রান্সফার করে লেখাটি উৎকীর্ণ করেছি। ডিভাইস ট্রান্সফারের একপর্যায়ে একটি ‘ব’ অক্ষর অমিট হয়ে গেছে। আমরা পিসিতে চেক করে দেখেছি এটা ঠিকই আছে। এডভান্স টেকনোলজির বিষয়টি হয়তো স্যুট করেনি। এলইডিতে পরিস্ফুটন করে লেখাটি তোলা হয়েছে। পেডিয়ামের মনিটরেই আমরা ত্রুটিপূর্ণ বানান দেখতে পাই। এমন প্রাযুক্তিক গোলমালের বিষয়টি দৃষ্টিতে আসার পরপরই নামাজের বিরতিতে মাধ্যমটি পরিবর্তন করে ত্রুটি সংশোধন করা হয়। অর্থাৎ প্রথমে এলইডিতে পরে ম্যানুয়ালি উৎকীর্ণ করা প্লেট প্রতিস্থাপন করে।
ব্যাখ্যাটি আমার কাছে মনে হয়েছে বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানোর ভ্রান্তপ্রয়াস। বাঙাল এখন হাইকোর্ট চালায়। এককথায় বলে দিলে হতো, জানি না বলে ভুল হয়েছে। মাতৃভাষায় এত বড়ো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এত বড়ো ভুল মেনে নেওয়া যায় না।
“যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি
দেশী বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়।।
কড়ি গোনা
ক্রিয়াবিশেষণে ‘কড়ি গোনা’ কথার অর্থ— কোনো কাজ না থাকায় শুয়ে শুয়ে কড়িকাঠ গুনে সময় কাটানো। কথাটির আলংকারিক অর্থ— কর্মহীন অবসর যাপন করা। প্রসঙ্গত, “ঘরের ছাদ বা চলের নিচে স্থাপিত প্রস্থ বরাবর কাঠ যা ছাদকে ধরে রাখে” তাকে কড়িকাঠ বলা হয়।
কদগ্নি
নিভে আসছে এমন আগুনকে এককথায় ‘কদগ্নি’ বলা হয়।

কর্ণনাদ

“আঙুল দিয়ে দুকান বন্ধ করলে যে শব্দ শোনা যায়” তাকে এককথায় কর্ণনাদ বলা হয়।

জম্পতি ও দম্পতি

জম্পতি ও দম্পতি সমার্থক। জায়া অর্থ পত্নী এবং পতি অর্থ স্বামী। জায়া ও পতির মিলনে জন্মগ্রহণ করেছে তৎসম জম্পতি(জায়া+পতি)। জম্পতি শব্দের অর্থ (বিশেষ্যে) স্বামী ও স্ত্রী, যুগল। সমার্থক শব্দ দম্পতি (দম+পতি); দম ও পতির মিলনে এর জন্ম। জম্পতি ও দম্পতি দুটোই শুদ্ধ ও প্রমিত। তবে জম্পতির চেয়ে দম্পতি বহুল পরিচিত।
দম্পতি= দম্+পতি
২. জম্পতি= জায়া+পতি
৩. দম্পতি= জম্পতি= স্বামী+স্ত্রী।
৪. স্বামী+স্ত্রী= যুগল= জম্পতি= দম্পতি।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!