মুরগির দুধ ও গোরু ডিম

ড. মোহাম্মদ আমীন

“এখানে মুরগি ও গোরুর দুধ পাওয়া যায়।” অনেকে বলেন, বাক্যটি অশুদ্ধ, কারণ মুরগি দুধ দেয় না। মুরগির দুধের সঙ্গে বাক্যটির সম্পর্ক কী, তা আমার জানা নেই। বাক্যটিতে তো বলা হয়নি, “এখানে মুরগির দুধ ও গোরুর দুধ পাওয়া যায়।”
“এখানে মুরগি ও গোরুর দুধ পাওয়া যায়।”- বাক্যটির সাধারণ অংশগুলো বাক্যের পৃথক বিশেষ্য থেকে আলাদা করে নিলে বাক্যটি হয় :
এখানে [(মুরগি) ও (গোরুর দুধ)] পাওয়া যায়। বাক্যটির অর্থ :
(১) এখানে মুরগি পাওয়া যায়। (ও)
(২) এখানে গোরুর দুধ পাওয়া যায়। অর্থাৎ,
(৩) এখানে মুরগিগোরুর দুধ পাওয়া যায়।
মুরগি গোরুর দুধ– দুটি ভিন্ন বিশেষ্য। বাক্যের বাকি সাধারণ পদ বিবেচনায় এ দুটি বিশেষ্যকে ‘ও’ দ্বারা যুক্ত করে ৩ নম্বর বাক্য গঠন করা হয়েছে। অতএব, বাক্যটি অশুদ্ধ নয়। যেমন অশুদ্ধ নয়, ‘এখানে ছাগল ও ঘাস পাওয়া যায়’। অশুদ্ধ হতো যদি, বাক্যের গঠন বিবেচনায় বিশেষ্যের অনুগত অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট সাধারণ পদ না-থাকত। তবে, চতুষ্পদ কিংবা গো-দেবতা বিবেচনায় গোরুকে আগে লেখার কোনো গো-বিধান যদি থেকে থাকে, তাহলে অন্য কথা। নতুবা, মুরুগিগোরুর দুধ কিংবা ‘গোরুর দুধমুরগি’ আগে-পিছে লেখায় কোনো পার্থক্য নেই।
আর একটি বাক্য দেখুন : (৪) শ্রীকৃষ্ণ গোরু ও ছাগল চরাতেন। এ বাক্যটির সাধারণ অংশ কেবল ‘শ্রীকৃষ্ণ’। নামটিকে অনুগত পদ থেকে আলাদা করে নিলে পাওয়া যায় :
শ্রীকৃষ্ণ [( গোরু) ও (ছাগল চরাতেন)]। এক্ষেত্রে সাধারণ অংশের পরিপ্রেক্ষিতে বাক্যটির অর্থ হয়:
(৫) শ্রীকৃষ্ণ গোরু।
(৬) শ্রীকৃষ্ণ ছাগল চড়াতেন।
আসলে কি শ্রীকৃষ্ণ গোরু? না। তিনি আসলে, গোরু চরাতেন এবং ছাগল চরাতেন। মানে গোরু ও -ছাগল চড়াতেন।
অবশ্য, বাংলা বাক্য গঠনে এসব বিষয় বিবেচনা করা হয় না। নইলে শ্রীকৃষ্ণ গোরু ও ছাগল চরাতেন বাক্যের অর্থ অন্য রকম ধরা হতো। এ বাক্যের সঙ্গে ‘এখানে মুরগি ও গোরুর দুধ পাওয়া যায়’ বাক্য গুলিয়ে ফেলা সমীচীন হবে না। কিন্তু এখন যে যুগ পড়েছে, ‘এখানে মুরগির দুধ ও গোরুর ডিম পাওয়া যায়’ লিখলেও অবিশ্বাস্য মনে হয় না। বিজ্ঞান কী না-পারে?
গুরুত্বপূর্ণ লিংক
error: Content is protected !!