মোজাম্বিক (Mozambique): ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (আফ্রিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

মোজাম্বিক (Mozambique)

মোজাম্বিকের সরকারি নাম রিপাবলিক অব মোজাম্বিক। এটি দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ। এর পূর্বে ভারত মহাসাগর, উত্তরে তাঞ্জানিয়া, উত্তর-পশ্চিমে মালাউই ও জাম্বিয়া, পশ্চিমে জিম্বাবুয়ে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে সোয়াজিল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকা অবস্থিত। রাজধানী মপতু মোজাম্বিকের বৃহত্তম শহর। স্বাধীনতার পূর্বে মপতুর নাম ছিল লরেনকো মার্কুইস (Lourenço Marques)।

মোজাম্বিকের দ্বীপ হতে মোজাম্বিক নামের উদ্ভব। প্রাক্তন আরবীয় শাসক শেখ মুসা বিন এম্বিকি (Sheik Mussa Ben Mbiki) বা মুসা আল বিগ (Musa Al Big ) বা মুসা আল বিক (Mossa Al Bique) নামের এক আরবীয় বণিক এ এলাকায় প্রথম আসেন। পরে তিনি এখানে বসবাস শুরু করেন এবং ক্রমান্বয়ে এলাকাটির একচ্ছত্র অধিপতি হন। তার নামানুসারে পর্তুগিজরা দ্বীপটির নাম দেন মোকাম্বিক (Moçambique)। পরবর্তীকালে তা ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে মোজাম্বিক নাম ধারণ করে।

মোজাম্বিকের মোট আয়তন ৮,০১,৫৯০ বর্গকিলোমিটার বা ৩,০৯,৪৯৬ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ২.২%। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, মোজাম্বিকের জনসংখ্যা ২,৪৬,৯২,১৪৪ জন এবং প্রতি বর্গকিলোমিটার লোকসংখ্যা ২৮.৭ জন । আয়তন বিবেচনায় মোজাম্বিক পৃথিবীর ৩৫-তম বৃহত্তম দেশ এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় ৫০-তম। কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর ১৭৮-তম জনবহুল দেশ।

২০১২ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, মোজাম্বিকের জিডিপি (পিপিপি) ২৬.২৫৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,১৬৯ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১৪.৬০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৬৫০ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম মোজাম্বিকান মেটিকাল। মপতু দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। সরকারিভাবে মোজাম্বিকের অধিবাসীদের মোজাম্বিকান বলা হয়। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন দেশটি পর্তুগাল হতে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১ মে মোজাম্বিকের বর্তমান পতাকা গৃহীত হয়। সরকারি ভাষা পর্তুগিজ। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের আদম শুমারি অনুযায়ী মোজাম্বিকের ৫৬.১% অধিবাসী খ্রিস্টান, ১৭.৯% মুসলিম এবং ৭.৩% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী এবং ১৮.৭% কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী নন।

মোজাম্বিকের সরকারি ভাষা পর্তুগিজ হলেও অধিবাসীরা সাধারণত শেনা, সোয়াহিলি ও মাখওয়া ভাষায় কথা বলে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ইংরেজি পড়ান হয়। হিজলি, তুলা, চিনি, চিংড়ি ও অ্যালুমিনিয়াম প্রধান রপ্তানিপণ্য। এখানকার কৃষিজপণ্যের মধ্যে আখ, চা, হিজলি বাদাম, তুল, গরুর মাংস এবং শিল্পদ্রব্যের মধ্যে ক্যামিক্যালস, পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাণীয় ও অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মোজাম্বিকে অনেকগুলো প্রবাল দ্বীপ রয়েছে। এখানকার উপকূলীয় এলাকায় ১,২০০ প্রজাতির মৎস্য শনাক্ত করা হয়েছে।

এটি পৃথিবীর একমাত্র জাতীয় পতাকা, যেখানে বেয়োনেটসহ একে ৪৭ রাইফেলের (Kalashnikov AK47 ) ছবি রয়েছে। মোজাম্বিকের পতাকায় সবুজ তারকার উপর একটি বই, তার উপর রয়েছে নিড়ানি এবং নিড়ানির উপর রাইফেল। হলদে তারকা ও বই জ্ঞানের, নিড়ানি কৃষির এবং রাইফেল প্রতিরক্ষা ও সতর্কতার প্রতীক। মোজাম্বিক একমাত্র কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, যা কখনও যুক্তরাজ্যের অধীনে ছিল না বা যা কখনও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না। মোজাম্বিকের সিএফএম (CFM) রেলওয়ে স্টেশনকে পৃথিবীর সুন্দরতম রেলওয়ে স্টেশনের একটি বলা হয়।

কেনিয়া (Kenya) : ইতিহাস ও নামকরণ

লেসোথো (Lesotho): ইতিহাস ও নামকরণ

লাইবেরিয়া (Liberia) : ইতিহাস ও নামকরণ

লিবিয়িা (Libya) : ইতিহাস ও নামকরণ

মাদাগাস্কার (Madagascar) : ইতিহাস ও নামকরণ

মালাউই (Malawi) : ইতিহাস ও নামকরণ

মালি (Mali) : ইতিহাস ও নামকরণ

 মৌরিতানিয়া (Mauritania) : ইতিহাস ও নামকরণ

মরক্কো (Morocco) : ইতিহাস ও নামকরণ

মরিশাস(Mauritius) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র: কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

error: Content is protected !!