মোনাকো (Monaco) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

মোনাকো (Monaco)

মোনাকো ইউরোপ মহাদেশের একটি রাষ্ট্র। আয়তনে ভ্যাটিকান সিটির পর মোনাকো পৃথিবীর ২য় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় বিশ্বে প্রথম। মোনাকোর উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমে ফ্রান্স এবং পূর্বে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত। ১২৯৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে মোনাকো রাষ্ট্রটি জেনোয়া হতে স্বাধীনতা লাভ করে। এটি কখনও ফ্রান্সের অংশ ছিল না। স্বাধীনতার পর হতে মোনাকে গ্রিমাল্ডি পরিবার শাসন করে আসছে। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ফ্রান্সের সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে। সে চুক্তি অনুযায়ী গ্রিমাল্ডি রাজ পরিবারের যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে দেশটি ফ্রান্সের অধিকারে চলে যাবে।  মনাকোর ম্যাপ দেখলে মনে হবে একটি হাতির মাথা। যে মাথাটা অদ্ভুদ ভঙ্গীতে তার শুঁড় পরাবাস্তবতার মতো উঁচিয়ে ধরেছে।

ল্যাটিন মোনিকাস (monoikos) শব্দ হতে প্রাচীন গ্রিক শব্দ মোনোইকোস (monoikos) শব্দের উদ্ভব। এর অর্থ একাকি বসবাস। এ একাকি বসবাস শব্দ হতে মোনাকো নামের উদ্ভব। খ্রিষ্টপূর্ব  ৬০০ অব্দে ফোসিয়ান গ্রিকদের একটি কোলোনির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে উপদেবতা হারকিউলিস এর পূজা হতো। একজন প্রধান সন্ন্যাসীর (monk) নেতৃত্বে একদল সন্ন্যাসী পূজা-কার্য সম্পন্ন করতেন। প্রধান সন্ন্যাসী একাকি বসবাস করতেন। ইটালিয়ান ভাষায় সন্ন্যাসীদের বলা হতো মোনাকি (monaci)। কথিত হয়, এ মংক বা মোনাকি হতে মোনাকো নামের উদ্ভব। এককি বসবাসরত এ সন্ন্যাসীকে ঘিরে জনপদটি গড়ে উঠেছিল।

মোনাকোর আয়তন ২.০২ বর্গকিলোমিটার বা ০.৭৮ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ নেই বললেই চলে। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে মোনাকোর জনসংখ্যা ৩৭,৮০০ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৪৮,৪৬২। আয়তন বিবেচনায় মোনাকো পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ২১৭-তম। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় মোনাকো পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। স্বদেশী মোনাকোবাসীকে মোনোগ্যাসস্ক (Monegasque)  বলা হয়। বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কিন্তু মোনাকোতে বসবাসকারীদের মোনাকোইয়ান বলা হয়। দেশে মোনাগ্যাস্কদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশেরও কম। দেশের অধিকাংশ অধিবাসী মূলত বিত্তবান বিদেশি।

মোনাকো ও ইন্দোনেশিয়ার মানচিত্র অভিন্ন। তবে মোনাকোর জাতীয় পতাকা ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পতাকা হতে কিছুটা সুরু এবং রঙগুলো একট অপ্রশস্ত। তবে পার্থক্য এত কম যে, কোনটা কোন দেশের ম্যাপ তা ভেক্সোললজিস্টরা বুঝতে কষ্ট হয় অনেক সময়। ইন্দোনেশিয়ার পতাকা ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ আগস্ট সরকারিভাবে গৃহীত হয়। মোনাকোর পতাকা ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ এপ্রিল গৃহীত হয়

 মোনাকোর রাজধানীর মোনাকো সিটি এবং বৃহত্তম কোয়ার্টিয়ার মন্টে কার্লো। মোনাকো তার মন্টে কার্লো ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত। জুয়াখেলার অঙ্কে যে তত্ব প্রযোজ্য সে সম্ভাবনা তত্বের এক বিখ্যাত পদ্ধতির নাম মণ্টি কার্লো মেথড। সরকার ব্যবস্থা রাজতন্ত্রে পরিচালিত। দেশের প্রধান প্রিন্স আলবার্ট। ফরাসি সরকারি ভাষা হলেও ইংরেজি ও ইতালিয়ানসহ আরও কয়েকটি ভাষা প্রচলিত।

২০১০ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে মোনাকোর জিডিপি (পিপিপি) ৪.৬৯৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,৩২,৫৭১। অন্যদিকে জিডিপি (নমিনাল) ৫.৪২৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১,৫৩,১৭৭ ইউএস ডলার। উভয়প্রকার মাথাপিছু আয় বিবেচনায় মোনাকোর স্থান বিশ্বে প্রথম। মোনাকোর জনগণের মাথাপিছু আয়ের কাছাকাছিও কোনো দেশ নেই। দেশটির মুদ্রার নাম ইউরো।

মোনাকোর প্রধান আকর্ষণ কাসিনো বা জুয়ার আখড়া। তবে মোনাকোর অধিবাসীর জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। এমনকি তারা ক্যাসিনো দেখার জন্যও যেতে পারে না। একসময় ক্যাসিনো ছিল সরকারের প্রধান আয়। তবে এখন জুয়ার আখড়া হতে কেবল ৫% আদায় হয়। এখন পর্যটন দেশটির প্রধান চালিকা শক্তি হিসাবে পরিণত হয়েছে। এখানে কর দিতে হয় না বলে ইউরোপের বহু ধনী মোনাকোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। কোনো আয়কর দিতে হয় না।

 মোনাকোতে কোনো বিমান বন্দর নেই। তবে ফ্রান্সের কোট ডি আজুর বিমান বন্দর থেকে গাড়িতে করে ৩০ মিনিটের মধ্যে মোনাকো পৌঁছা যায়। এ দেশের মাত্র ১৯% লোক মোনাগ্যাস্ক, বাকিরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অধিবাসী। ছোট দেশ হলেও মোনাকোর নিজস্ব ফুটবল দল ও  একটি ফুটবল মাঠ আছে। এ মাঠে মোনাকোর অর্ধেক লোক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারে।


লিথুয়ানিয়া (Lithuania) : ইতিহাস ও নামকরণ

লুক্সেমবার্গ (Luxemburg) : ইতিহাস ও নামকরণ

মাল্টা (Malta) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!