যতিচিহ্নের ব্যবহার

 ড. মোহাম্মদ আমীন

যতিচিহ্নের ব্যবহার: যতিচিহ্ন সমূহের ব্যবহার

সংযোগ: https://draminbd.com/যতিচিহ্নের-ব্যবহার/

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিরাম বা যতি চিহ্নসমূহ হলো : ১.দাঁড়ি (।), ২.জোড়দাঁড়ি (॥), ৩.কমা (,), ৪.সেমিকোলন ( ; ). (৫).কোলন (:) ৬.হাইফেন (-), ৭.ড্যাশ (—), ৮.কোলন ড্যশ (:—), ৯.প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), ১০.বিস্ময়চিহ্ন (!), ১১.ঊর্ধ্বকমা ( ’ ), ১২.বিকল্পচিহ্ন (/), ১৩.বিন্দু (.), ১৪.ত্রিবিন্দু (…), ১৫.উদ্ধৃতিচিহ্ন (‘ ’) ১৬.জোড়উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”), ১৭.প্রথমবন্ধনী ( ), ১৮.তৃতীয়বন্ধনী ( [ ])। এ প্রসঙ্গে শুবাচি রব্বানী চৌধুরীর ছড়াটি একবার দেখে নেওয়া যায়:

কমা [ ,] বলে, “দম নে!” দাঁড়ি [।] বলে, “দাঁড়া!”
দুই দাঁড়ি [।।] দিলেও নেই কোন তাড়া।

জিজ্ঞাসা [?] চিহ্নে, প্রশ্ন কি বুঝি?
আশ্চর্য চিহ্নে [!], বিস্ময়ই খুঁজি।

ড্যাশ [—] দিলে থেমে যাই, হাইফেনে [-] থামি না
উদ্ধৃতি চিহ্নে [“/”], কদাচিৎ ঘামি না!

বন্ধনী [{( )}] বন্ধন, লোপ [‘] থাকে উহ্য,
কোলন ড্যাশ [:—] দিয়ে যথা:— ডাল-ভাত ভোজ্য।

কোলন [:], কোলন, আর সেমি-কোলন [;],
একে একে সবকটা থেমে যায় দোলন!

দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।) ও জোড়দাঁড়ি(।।)
প্রশ্নসূচক ও বিস্ময়সূচক বাক্য ব্যতিরকে অন্যান্য বাক্যের সমাপ্তিসূচক চিহ্নটি দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ। বিবৃতিমূলক, নির্দেশাত্মক ও

ড. মোহাম্মদ আমীন

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য দাঁড়ি দিয়ে শেষ করা হয়। ছোটো বাক্য কেবল দাঁড়ি দিয়ে সমাপ্ত করা যায়। তবে দীর্ঘ বাক্য, যেখানে পরিপূর্ণ উপলব্ধির জন্য অন্য কোনও চিহ্নের প্রয়োজন সেখানে উপযুক্ত স্থানে দাঁড়ি ছাড়াও অন্যান্য বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা আবশ্যক। বাংলা বাক্যে পরোক্ষ প্রশ্ন কিংবা পরোক্ষ বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রশ্নসূচক কিংবা বিস্ময়সূচক চিহ্নের পরিবর্তে দাঁড়ি ব্যবহার করা হয়। যেমন: তিনি কী করেছেন না করেছেন তা আমার জানা নেই। ব্যাপারটা কী তা বোঝা যাচ্ছে না। দাঁড়ির প্রাচুর্য বাক্যকে দীর্ঘ হতে দেয় না, নাতিদীর্ঘ বাক্য সর্বোত্তম বাক্য। তাই লেখায় যত বেশি দাঁড়ি ব্যবহার করা যায়, বাক্য তত চমৎকার হয়। তবে তা যেন বাক্যের আদর্শ, অর্থ এবং সৌন্দর্যকে ব্যাহত না করে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। আগে, বিশেষ করে কবিতায় জোড় দাঁড়ি ব্যবহৃত হতো। এর কাজ ছিল দাঁড়ির মতো। তবে এখন জোড়দাঁড়ির ব্যবহার বিরল।

যতিচিহ্নের প্রয়োগবিধি সম্পর্কে আরও জানার জন্য দেখতে পারেন: যতিচিহ্নের প্রয়োগবিধি

কমা
বাক্যে কমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত। স্বল্পকালের বিরতিপ্রকাশক এ চিহ্নটির ব্যবহার বাক্যকে সুন্দর এবং অর্থকে সহজবোধ্য করে তুলে। বাক্যের অন্তঃস্থ বিরামচিহ্ন হিসেবে কমার গুরুত্ব অন্য যে-কোনো বিরামচিহ্নের চেয়ে অধিক। বাক্যে কমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত।

১. একটি বাক্যের একাধিক অংশের মধ্যে সামান্য সময়ের জন্য থামার দরকার হলে কমা ব্যবহার করা হয়। একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করা হলে প্রতিটি বক্তব্যের সুস্পষ্ট প্রকাশের জন্য বাক্য থেমে থেমে পড়া প্রয়োজন হয়। কমা থামার স্থান নির্দেশ করে। যেমন: সফিক, কামাল এবং ছাত্তার শুধু নয়, সঙ্গে জাফরও ছিল। বাবা, আমি খােই? তিনি থামলেন, পুরোপুরি থামা নয়, গতি কমানো, বললেন, কল্পনাকে যারা বাস্তবতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তারাই নাস্তিক। সহমত, ভাই।

২. বাক্যের অভ্যন্তরে উদ্ধৃতির মধ্যে সংলাপ থাকলে প্রথম উদ্ধৃতি চিহ্নের পূর্বে কমা বসাতে হয়। যেমন : “হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, ‘দেখুন, ধর্মের আড়ালে মানুষ কীভাবে মানুষ মারছে।” বাক্যে পরোক্ষ উক্তির পর প্রত্যক্ষ উক্তি থাকলে পরোক্ষ উক্তির পর কমা বসাতে হয়। যেমন: আসামি বললেন, “আমি নির্দোষ, আমি খালাস প্রার্থনা করি।”

৩. নইলে, নচেৎ, না হলে, তা হলে, নতুবা, নয়তো, হয়তো ইত্যাদি ‘অন্যথাজ্ঞাপক’ অব্যয় ব্যবহৃত হলে বাক্যে অর্থের স্পষ্টতার জন্য অব্যয়ের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসাতে হয়। যেমন : খুব সাবধানে ধরো, নইলে ব্যথা পাবে। করো, নতুবা মরো।

৪. বাক্যে দুরান্বয় ব্যবহার করা হলে দুরান্বয়ঘটিত বাক্যাংশের পূর্বে ও শেষে কমা দিতে হয়। ব্যাকরণগত সংযোগহীন অংশকে (প্যারেনথিসিস) পৃথক করার জন্য কমা বসাতে হয়। যেমন : রহিম যেমন ফর্সা তেমন বলিষ্ঠ, দেখলে মায়া হয়, ইচ্ছে করে কাছে ডাকতে। (২) রাজ দাঁড়িয়ে, সামনে মানুষ আর মানুষ, আরও আসছে, থামার কোনও লক্ষণ নেই।

৫. বড়ো কোনও অঙ্কের পঠন ও অনুধাবনের সুবিধার জন্য কমা বসানো হয়। সাধারণত সহস্র, লক্ষ, কোটি প্রভৃতির পরে কমা বসে। যথা : ৮৩,৬৫০ (তিরাশি হাজার ছয়শত পঞ্চাশ)। অর্থাৎ, বড়ো রাশিতে হাজার, লক্ষ, কোটি প্রভৃতিকে স্পষ্টভাবে বোঝাতে কমা ব্যবহার করা যায়। 

৬. তারিখ লেখার সময় কমা বসানো একটি বহুল প্রচলিত রীতি।  অর্থাৎ মাসের তারিখের পরে ‘বার’ বা ‘সাল’ উল্লেখ থাকলে মাসের তারিখের পরে কমা বসে। বারের পরে সাল উল্লেখ থাকলে বারের পরেও কমা বসে। যেমন: উদাহরণ: ২০ মে, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে। 

৭. বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়। অর্থাৎ  পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ব্যতীত বাকি পদগুলোর পরে কমা ব্যবহার করতে হবে। যথা : জনি বুদ্ধিমান, সাহসী এবং জ্ঞানী। মীম, সানি, হারুন এবং রব কক্সবাজার গিয়েছে। 

৮. বাক্যের বা বাক্যাংশের প্রারম্ভে ‘অবশ্য, পক্ষান্তরে, নতুবা’ ইত্যাদি সাপেক্ষবোধক বা শর্তজ্ঞাপক শব্দ থাকলে সাপেক্ষবোধক শব্দের পরে কমা বসে। যেমন : যা করার ভেবে চিন্তে করো নতুবা, আমার কিছুই করার থাকবে না।

৯. সম্বোধন পদের পরে আগের বা  পরে  কমা বসে। যেমন: রব, এদিকে এসো।  সম্বোধন পদের পরে কিংবা আগে  কমা ব্যবহার না করলে অর্থের বিপর্যয় ঘটতে পারে। যেমন: ‘বাবা খাওয়ার পর কথা হবে।’— বাক্যটিতে ‘বান্ধবী’-র পরে কমা ব্যবহার না-করায় বাক্যটির অর্থ কেউ এমন বুঝতে পারে — বাক্যটি যিনি লিখেছেন, তিনি কাউকে বলছেন যে, তিনি ‘বাবা-নামক কোনো খাবার খাওয়ার পর কিংবা বাবাকে খাওয়ার পর কথাবার্তা বলবেন।  ‘শুভ জন্মদিন বোন।’ কমার যথাযথ প্রয়োগ না-ঘটার কারণে এই বাক্যটির অর্থও অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সম্বোধন পদ বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হলে পদটির পরে এবং শেষে ব্যবহৃত হলে পদটির আগে কমা ব্যবহার করা সমীচীন। যেমন: মা, খাওয়ার পর কথা হবে। শুভ জন্মদিন, বাবা। স্যার, কেমন আছেন? আপনাকে  অনেক অনেক ধন্যবাদ, জনাব। প্রসঙ্গত, বাক্যে অনেক ক্ষেত্রে সম্বোধন পদ হিসেবে ক্রিয়াবিশেষ্যও ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে ওই ক্রিয়াবিশেষ্যের পরে কমা বসাতে হবে। যেমন: চল, একটু ঘুরে আসি। পড়, আল্লাহ্‌র নামে। যাও, আমি একটু পরে আসছি।

১০. সম্মতি জ্ঞাপন করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লিখলে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পরে কমা ব্যবহার করা সমীচীন। তা না-হলে অর্থ বিভ্রাট ঘটতে পারে। যেমন:  ‘হ্যাঁ, বলুন।’— এই বাক্যটিতে পূর্বে কেউ কিছু বলবার অনুমতি চেয়েছেন এবং যাঁর কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে, তিনি সম্মতি দিয়ে বলতে বলেছেন, এমনটি বোঝানো হয়েছে। বাক্যটি কমা ব্যবহার না-করে ‘হ্যাঁ বলুন’ লিখলে অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তখন বাক্যটির মাধ্যমে কাউকে ‘হ্যাঁ’ বলতে বলা হয়েছে, এমনটি বোঝানো হবে।
১১. সাপেক্ষাধীন সর্বনাম বা অব্যয়যুক্ত (যিনি-তিনি, যা-তা, যখন-তখন, যেসব-সেসব প্রভৃতি) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রথম খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন:  যিনি কঠোর পরিশ্রম করেন, তিনি সফল হন। যা তোমার জানাকে সীমাবদ্ধ করে দিয়ে প্রতিনিয়ত আরো জানার জন্য উদ্‌বুদ্ধ করে, তাকে বলে জ্ঞান। 
১২. সংজ্ঞার্থ লেখার ক্ষেত্রে সংজ্ঞার্থ বর্ণনা সমাপ্তিজ্ঞাপক পদের শেষে সাধারণত কমা বসে।  যেমন: যে ভার বহন করে তাকে, ভারবাহী বলে। যার ওজন আছে এবং স্থান দখল করে, সেটি পদার্থ।
১৩. প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে শুরুর খণ্ডবাক্যের পরে; অর্থাৎ, উদ্ধৃতিচিহ্নের পূর্বের খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন: শিক্ষক বললেন, “তুমি কি বইটি  পড়েছ?” প্রসঙ্গত,  এরকম ক্ষেত্রে বক্তব্য আগে উল্লেখ করে বক্তাকে শেষে উল্লেখ করা হলে এবং বক্তব্যটি বিবৃতিমূলক বাক্য হলে উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে কমা বসে। যেমন:  “আমি  খেয়েছি,” মৌটুসকি বলল।
১৪ .বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন: ১৩৮,  নিউ সার্কুলার রোড, বড়ো মগবাজার, রমনা, ঢাকা।
১৫. কোনো কিছু/কারও সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি খণ্ডবাক্যের পূর্বে কমা বসাতে হয়। যেমন: ড. মোহাম্মদ আমীন, একজন বৈয়াকরণ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, শতাধিক বইয়ের লেখক, শুবাচের প্রতিষ্ঠাতা, ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার সৈয়দ মোহাম্মদ পাড়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রিকি পন্টিং, ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি মালিক, বিশ্বকাপে একটানা সর্বাধিক ম্যাচ জয়ী অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।
১৬. বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত অব্যয়ের পরে কমা ব্যবহার করা যায়। বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং বাক্যে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও কমা ব্যবহার করা যায়। যেমন: সে গতকাল আসেনি। অতএব, তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।  আমি ওসব গুজবের কান দিই না৷ আর, আমাকে ওসব শোনাতেও এসো না।  সে আসেনি। কারণ, সে অসুস্থ ছিল।
১৭. কোনো বাক্যের শেষে প্রশ্নসূচক পদ বা পদবন্ধ (phrase) জুড়ে দেওয়া হলে ওই পদ বা পদবন্ধের পূর্বে কমা বসাতে হয়। যেমন:  আপনি তো যেতে পারবেন, নাকি?  এই লোকটিই তো কাজটি করেছিল, তাই না, বাবা?

 

 

সেমিকোলন (;)
কমা ও সেমিকোলন ব্যবহারের উদ্দেশ্য প্রায় অভিন্ন। সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি, কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশে কমা ও সেমিকোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. পৃথক ও স্বাধীন দুটি বাক্যকে সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত করা হয়। সেমিকোলন সংযোজক অব্যয়ের পরিবর্তে বাক্যদ্বয়কে সংযোজন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যে একাধিক বক্তব্য থাকলে এবং বক্তব্যসমূহ শুধু কমা দিয়ে স্পষ্ট করা সম্ভব না হলে কিংবা কমার বহুল উপস্থিতি

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

‘কমা-বিভ্রাট’ সৃষ্টি করলে সেমিকোলন বসাতে হয়। যেমন : বললাম, থামুন, তিনি থামলেন না, থামতে চান না; আবার ডাকলাম, তিনি পেছনে না তাকিয়ে হনহন করে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

২. কোনও বাক্যের বাক্যাংশগুলো ‘যদিও, নয়তো, নতুবা, কিংবা, তা ছাড়া, পক্ষান্তরে, উপরন্তু’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় দিয়ে শুরু হলে মধ্যখানে সেমিকোলন বসে। যেমন : জাফর মোটেও অভদ্র নয়; বরং তুমিই তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছ।

৪. নাম, পদ, গুণ ইত্যাদির শ্রেণি বিন্যাসে সমপ্রকৃতির বিষয়গুলোকে সেমিকোলন দিয়ে একত্রে রাখা হয়। যেমন : আম, জাম, লিচ; গরু, ছাগল, ভেড়া; হাস, মুরগি, কোয়েল; বই, খাতা, কাগজ; সবকিছু কেনা হয়েছে।

৫. অভিধানে বিভিন্ন সমার্থক শব্দকে কিঞ্চিৎ ভিন্নার্থক শব্দ হতে কিংবা ভিন্নার্থের শব্দগুলোকে পরস্পর হতে পৃথক করার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

৬. বাক্যের এক অংশের বক্তব্য অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ থাকলে সেমিকোলন দিয়ে পরবর্তী বাক্যাংশে তা সম্পূর্ণ বা স্পষ্ট করা হয়। যেমন : আমি শেষ; একমাত্র বাড়িটা ছিল, তাও নিলাম হয়ে গেল,  এখন কী করি।

২. আইনের কোনও ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

৩. কোনও তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যথা: গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আজমল; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামদে আলী;..

হাইফেন

বাংলায় বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্নের মধ্যে হাইফেন (-) অন্যতম। বাক্যের সঙ্গে নয়, মূলত শব্দের সঙ্গে শব্দের সম্পর্ক সৃষ্টি করে একাধিক শব্দকে এক শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করাই হাইফেনের কাজ। এর আর একটি উদ্দেশ্য সহজবোধ্যতা প্রদান। হাইফেন দেখতে ড্যাশের(—) মতো হলেও দৈর্ঘ্যে হাইফেন(-), ড্যাশের চেয়ে বেঁটে। এর ব্যবহার প্রকৃত অর্থে বিরামচিহ্নের মতো নয়। সাধারণত উচ্চারণের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে শব্দকে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে সমাসবদ্ধ পদে বর্ণসমষ্টির সংযোগ প্রকাশের জন্য হাইফেন ব্যবহার করা হয়।যেমন: যে-কেহ। যে-কোনো। যে-কোনোটা। যে-কোনোরকম।যে-কোনোরকমে। যে-কে-সেই। আম-জাম-কাঁঠাল-কলা। এছড়াও হাইফেনের আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে। হাইফেন তার অব্যবহিত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উভয় শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসে। যেমন: হাত- ফেরতা বা হাত -ফেরতা বা হাত – ফেরতা নয়; হাত-ফেরতা। তেমনি: হাত-পা। সদর-অন্দর।  নিচে যতিচিহ্নের  চৌদ্দটি ব্যবহার দেওয়া হলো:
১. যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত হলেও হাইফেনের জন্য কোনো বিরাম দিতে হয় না, বরং অভিন্ন শব্দের মতো বিরামহীনভাবে উচ্চারণ করে যেতে হয়।  এই চিহ্ন দিয়ে সমাসবদ্ধ পদ চিহ্নিত করা হয়। যেমন: আম-জাম-কলা। একটা-দুটো। তুমি-আমি-সে। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম।
২. অনুগামী ও অনুকার শব্দে হাইফেন বসাতে হয়। যেমন: মাল-পত্র। জামা-কাপড়। ডর-ভয়।শীত-গ্রীষ্ম। বাপে-পুতে। রাজায়-রাজায় লড়াই। যেখানে-সেখানে। ইনিয়ে-বিনিয়ে।আলো-কচু।আলো-আঁধারি।
৩. দুই বা ততোধিক পদের সমাসে সাধারণত হাইফেন বসে। যেমন: বাপে-পুতে লড়াই, কেউ-কারে না-ডরাই। আমি-তুমি-সে। টাকা-পয়সা-ধন-দৌলত। আম-জাম-লিচু-কলা। গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি। উল্লেখ্য, দ্বন্দ্ব সমাস ছাড়াও অন্যান্য সমাসবদ্ধ পদে হাইফেন বসানো যায়। যেমন: আল্লাহ-সৃষ্ট।প্রকৃতি-পদত্ত। সরকার-নির্ধারিত নীতি। রবীন্দ্রনাথ-গীত-গীতি।
৪. দুইয়ের বেশি শব্দ মিলিত হয়ে একটি শব্দ গঠন করলে হাইফেন বসানো যায়। শব্দের দ্বিত্ব ঘটলেও হাইফেন ব্যবহার করা হয়। যেমন: ঝগড়া-রত- বুড়ো-লোক, কেঁদে-কেঁদে দেখায় শোক। 
 ৬. যেখানে সন্ধি সম্ভব নয় কিংবা সন্ধি করা উচিত নয় সেখানে হাইফেন বসে। যেমন: মহা-প্রলয়ে যেন শেষ হয়ে যাবে ধরা। খেয়ালি-লোকটাকে কোনোভাবে থামানো গেল না।
৭. যৌগিক ক্রিয়া, বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে শব্দে হাইফেন বসে। যেমন: দম-বন্ধ-হয়ে আসা রোগী।আগুনে-পোড়া বাড়ি।ঝড়ে-বিধ্বস্ত বাড়ি।
৮. ক্রিয়া বিশেষণে শব্দের দ্বিত্ব হলে হাইফেন বসে। যেমন: যেতে-যেতে পথে, পূর্ণিমা রাতে-..। দেখে দেখে শেষ।
 
৯.বহুবর্ণযুক্ত দুটি শব্দের মধ্যে সমাস হলে হাইফেন ব্যবহার করা হয়। যেমন: পুষ্পভারনত-বৃক্ষ। ক্ষত্রিয়সুলভ-আচরণ।ঘূর্ণায়মান-জলরাশি।ঘোড়ামুখো-মানুষ। সৌদিতে-নিপীড়িত বাংলাদেশি নারী।
 
১০.দপ্তর, অধিদপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও পদের মধ্যে হাইফেন বসানো যায়। যেমন: প্রধান-মন্ত্রী। কৃষি-মন্ত্রী। শিক্ষা-সচিব। উপ-সচিব। যুগ্ম-সচিব। তবে, এখন বাংলায় এগুলো হাইফেন ছাড়া অসংলগ্ন সমাস হিসেবে লেখার প্রবণতা দেখা যায়। যেমন: প্রধানমন্ত্রী,।কৃষিমন্ত্রী। উপসচিব। তবে শিক্ষা সচিব।
১১. সংখ্যা প্রকাশে অনেক সময় হাইফেন ব্যবহৃত হয়। জার্মানি ৮-০ গোলে সৌদি আরবকে হারিয়ে দিল। মহিলাটি ৬-ফুট লম্বা।
 
১২. স্থান, অনুষ্ঠান এবং দিক নির্দেশের ক্ষেত্রে শব্দে হাইফেন বসে। যেমন: সিমলা-চুক্তি, কাশ্মীর-সমস্যা, পূর্ব-পশ্চিম ইত্যাদি।
১৩.  দুটি পক্ষের দ্বন্দ্ব বা সম্পর্ক প্রকাশে  হাইফেন ব্যবহার করা যায়। যমন : ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট, বাংলাদেশ-মায়ানমার আলোচনা। ইংল্যান্ড-ফ্রান্স যুদ্ধ।
১৪। ক্রিয়াপদে ‘না’ অব্যয়: ক্রিয়া পদের পূর্বে ব্যবহৃত হলে ‘না’ অব্যয়ের পর হাইফেন বসবে। যেমন: না-দেখা, না-খাওয়া, না-যাওয়া। তবে ক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো শব্দের আদিতে ব্যবহৃত ‘না’ অব্যয়ের পর হাইফেন দেওয়া বিধেয় নয়। যেমন: নাবালক, নাহক, নাজায়েজ, নাপাক।
১৫. ‘না’ পদটি যখন ঋণাত্মক ভাব প্রদানের পরিবর্তে অনুরোধ-জ্ঞাপক ভাব প্রদানে ব্যবহৃত হয়, তখন না শব্দের আগে  হাইফেন বসানো যায়। যেমন: প্লিজ, যাবেন-না। ভাইজান, আর কয়টা ভাত খান-না।
অর্থ অনুধাবনে কিংবা যথাযথ উচ্চারণে সংশয় সৃষ্টির আশঙ্কা না-থাকলে অথবা দৃষ্টিকটু না-দেখালে কোনো শব্দে হাইফেন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়।

বাকীগুলো দেখার জন্য  দেখুন : হাইফেন/ যতিচিহ্নের ব্যবহার সংশ্লিষ্ট লিংক:   এই লেখায় ক্লিক করলে বাকিগুলো দেখা যাবে।

কোলন (:)
বাংলায় কোলন (:) চিহ্নের আগমন পঞ্চাশ-ষাট বছরের বেশি নয়। তাই অনেকের কাছে চিহ্নটির ব্যবহার পরিষ্কার নয়। তবে ইংরেজিতে চিহ্নটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। আগে যে সকল স্থান ও ক্ষেত্রে ড্যাশ (-) বা কোলন ড্যাশ (:-) চিহ্ন দেওয়া হতো, বর্তমানে সেসব স্থান বা ক্ষেত্রসমূহে কোলন (:) ব্যবহার করা হয়। সুতরাং কোলন চিহ্নটি ড্যাশ বা কোলন ড্যাশের বিকল্প চিহ্নমাত্র। কেউ ইচ্ছে করলে কোলন চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ বা কোলন দিতে পারেন।

কোলন পদের সঙ্গে সেঁটে বসবে না কি পৃথক বসবে?
কোলন (:) বাক্যস্থ পদের সঙ্গে সেঁটে লিখবেন না কি ফাঁক রেখে লিখেবেন? এ বিষয়ে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। অনেকে বলেন ফাঁক রেখে লেখা উত্তম। যেমন—  আমরা চার ভাই। যথা : করিম, রহিম, কামাল ও জামাল। তবে, কম্পিউটার কম্পোজের সময় বাক্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় লাইনে চলে যায়। সেখানে পদের সঙ্গে কোলনকে সেঁটে না লিখলে ওই কোলন দ্বিতীয় লাইনে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন চিহ্নের মতো অবস্থান করবে। যেমন:  

রহিম আমার বন্ধু। আমরা সেদিন দুজন  রাতে  এক পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম  আমরা চার ভাই। যথা : করিম, রহিম, কামাল ও জামাল যথা :  করিম, রহিম, কামাল ও জামাল।

এক্ষেত্রে কোলনচিহ্নটি প্রথম পদের সঙ্গে সেঁটে এবং দ্বিতীয় পদ থেকে ফাঁক রেখে লেখা উচিত। যেমন:  আমরা চার ভাই। যথা: করিম, রহিম, কামাল ও জামাল।

কোলনের ব্যবহার: বাক্যের অর্ন্তগত কোনও অংশকে বিশদ করাই কোলনের দায়িত্ব। বাক্যে কোলনের পূর্ববর্তী যেসব বিশেষ্য, সর্বনাম বা বিশেষণপদ সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে, কোলনের পরবর্তী অংশে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। যেমন সার্ক সম্মেলনে যে সাতটি রাষ্ট্র যোগ দিয়েছে, সেগুলো হলো : শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ।

১. বাক্যেও কোনও অংশে বক্তা উদাহরণস্বরূপ ব্যক্তি বা বস্তু ইত্যাদির কথা ব্যক্ত করতে চাইলে সে ব্যক্তি বা বস্তুর নাম বিধৃত করার সুবিধার্থে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন : বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে: আহমদ ছফা, ফররুখ আহমদ, আহমদ মুসা এবং আহমেদ হুমায়ুন, আহমদ কামাল, আহমদ শরীফ, আহমদ ইকবাল, আহমদ রেজা প্রমূখ আহমদ গোষ্ঠীর বুদ্ধিজীবী নামে পরিচিত।

২. উদ্ধৃতির আগে কোলন চিহ্নের ব্যবহার লক্ষণীয়। যেমন— সিরাজ বললেন: মূর্খ মানুষ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট।
৩. সময় প্রকাশে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন— ১০:০৬ মিনিটের সময় বজ্রপাত ঘটে। তাপাঙ্ক শূন্যের নিচে নেমে গেলে তা আমরা ড্যাশ দিয়ে প্রকাশ করি।

৪. একটি বাক্যে একাধিক অংশকে বিশদ করা প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানোর জন্য কোলন (:) ব্যবহার করা হয়। যেমন তিনি বলেলন: আমার ব্যাগে তিন রঙের কাগজ আছে। যথা: কালো, হলুদ ও লাল।
অনেকে কোলন (:) চিহ্নকে বিসর্গ (ঃ) অক্ষরের সঙ্গে অভিন্ন মনে করেন। এটি ঠিক নয়। বিসর্গ (ঃ) একটি অক্ষর কিন্তু কোলন (:) একটি চিহ্ন।

 

অনেকে কোলন (:) চিহ্নকে বিসর্গ (ঃ) অক্ষরের সঙ্গে অভিন্ন মনে করেন। এটি ঠিক নয়। বিসর্গ একটি অক্ষর কিন্তু কোলন একটি চিহ্ন।

ড্যশ (—)

বাক্যে বিধৃত কোনও বিবৃতি সম্পূর্ণ করতে কিংবা বিশদ করতে ড্যাশচিহ্নের ব্যবহার করা হয়। ড্যাশ এবং হাইফেন একই রকম হলেও ড্যাশ হাইফেনের চেয়ে একটু লম্বা। সাধারণত বাক্যে সংশ্লিষ্ট উদাহরণ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের জন্য ড্যাশ ব্যবহার করা হয়। যেমন: কাল তিন প্রকার, যথা— বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ। এখানে যথা শব্দের পরের চিহ্নটি (—)। নিচে ড্যাশ-এর বিস্তারিত ব্যবহার দেওয়া হলো—
১. বাক্যে বিধৃত কোন বিবৃতি সম্পূর্ণ কিংবা বিশদ করার লক্ষ্যে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। বাক্যে প্রদত্ত উদাহরণ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ড্যাশ চিহ্নের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। উদহারণ দেখুন। কাল তিন প্রকার। যথা—বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ।
২. প্যারেনথেসিসে কমা বা বন্ধনীর পরিবর্তে ড্যাশ ব্যাবহৃত হয়। যেমন— অফিসে— না, ক্লাবে যাবার পথে দেখলাম— লোকটি মরে আছে।
৩. বাক্য অসম্পূর্ণ রাখলে ড্যাশ ব্যবহার করা বিধেয়। যেমন— আমার সাথে তার দেখা — ।
৪. `ড্যাশ’ (—) মূল বাক্যের ভিতরে খন্ডবাক্য সংযোজনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। সেক্ষেত্রে খণ্ডবাক্যের দু-পাশে ড্যাশ বসানোর প্রয়োজন হয়। যেমন: সেদিন —কী কারণে বুঝতে পারলাম না — আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
৫. কথোপকথন বা সংলাপের শুরুতে ড্যাশ (—) বসতে পারে। যেমন: সেখানে — সে এসেই বলল — ওগো শুনছ, সর্বনাশ হয়ে গেছে।
৬. তবে আগে যেখানে ড্যাশ(—) ব্যবহার করা হতো ইদানীং সেখানে কোলোন দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং কোলোনের জায়গায় ড্যাশ আবার ড্যাশের জায়গায় কোলোন ব্যবহার করা যেতে পারে। কোলোনের দায়িত্ব হলো বাক্যের অন্তর্গত কোন অংশকে বিশদ করা।
৭. বাক্য অসম্পূর্ণ রাখলে ড্যাশ ব্যবহার করতে হয়। যেমন: মোদের গরব, মোদের আশা—।
ড্যাশ আর হাইফেন চেনার নিমোনিক
ড্যাশ (—) আর হাইফেন(-) পৃথক নির্দেশনা জ্ঞাপক দুটি যতি চিহ্ন।সরলরেখার অবয়বে চিত্রিত প্রায় অভিন্ন চেহারার অধিকারী চিহ্নদুটো যেন পরস্পর যমজ ভাই। তাই কোনটা ড্যাশ এবং কোনটা হাইফেন তা চিনতে সমস্যা হয়ে যায়।
সব সমস্যার সমাধানের মতো এই সমস্যারও সমাধান আছে। চেহারা প্রায় অভিন্ন হলেও দুই যমজ ভাইয়ের অবয়বে কিছুটা পার্থক্য আছে — একটি লম্বা, অন্যটি বেঁটে। কীভাবে মনে রাখবেন কোনটি লম্বা আর কোনটি বেঁটে? একটা নিমোনিক আছে আমার :
ড্যাশ(—) বানানে ছোটো, তাই তাকে লম্বা করে জন্ম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হাইফেন(-) বেঁটে বলে তাকে দেওয়া হয়েছে লম্বা নাম। অর্থাৎ, এ দুটো যতিচিহ্নের মধ্যে যার নাম লম্বা সে বেঁটে এবং যার নাম বেঁটে সে লম্বা।

 

ঊর্ধ্বকমা (’)
ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার ইদানীং নেই বললেই চলে। অসমাপিকা ক্রিয়ায় ঊর্ধ্বকমা দেওয়ার নজির থাকলেও বর্তমানে তা অনাব্যশক ও বাহুল্য বলে বিবেচিত। শতাব্দকে অঙ্কে প্রকাশের সময় সংক্ষেপণ চিহ্ন হিসেবে ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার করা হয়। যেমন : ২১ ফ্রেব্রুয়ারি ‘৫২ খ্রিস্টাব্দ প্রভৃতি।

বিস্ময়চিহ্ন (!)
বিস্ময়সূচক বাক্যের শেষে চিহ্নটি (!) ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া কোনও বাক্যের গভীর আবেদন, অবিশ্বাস, জোরালো অনুভূতি, সাংঘাতিক কষ্ট, আবেগ, অনুভূতি প্রভৃতি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। বিস্ময়চিহ্ন শুধু বাক্যের সমাপ্তি বুঝায় না, বরং বাক্যের উচ্চারণেও নির্দেশনা দেয়। যেমন: হায় আল্লাহ! এবং হায় আল্লাহ। এই দুটো বাক্যের উচ্চারণ একই রকম নয়। প্রথম বাক্যটি বিস্ময়তার সঙ্গে কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যটি সাধারণভাবে উচ্চারিত হবে।

প্রশ্নচিহ্ন (?)
প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্নচিহ্ন দিয়ে বাক্য শেষ করা হয়। প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্নচিহ্ন না দেওয়া হলে তা আর প্রশ্নবোধক বাক্য থাকে না। প্রশ্নচিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে। যথা: তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমি যাব> আমি যাব? তবে কোনও বক্তব্য কিংবা বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলে সংশ্লিষ্ট অংশের পর প্রথমবন্ধনী দিয়ে প্রশ্নচিহ্ন বসানো হয়। যথা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৯২(?) খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরোক্ষ প্রশ্নযুক্ত বাক্যে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করা উচিত নয়। যেমন: সারাদিন এত শ্রম কী করে যে সম্ভব তা বুঝি না।

উদ্ধৃতিচিহ্ন
১. প্রত্যক্ষ উক্তি প্রকাশে উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন: আকবর বললেন, ‘আমি দিল্লির সম্রাট’।
২.কোনও বাক্যে ব্যবহৃত গ্রন্থ, পত্রিকা ইত্যাদির উপর উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়া হয়। যেমন : রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ একটি উপন্যাস। ‘সমাচার দর্পন’ একটি পত্রিকা।
৩. বাক্যে কোনও শব্দ বা বিষয়কে গুরুত্ব দিতে কিংবা গুরুত্ব প্রকাশ করার প্রয়োজন হলে উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়া হয়। যেমন:  সাহিত্যিক ‘যাযাবরের’ ‘দৃষ্টিপাত’ গ্রন্থটি পড়লে তুমি বুঝতে পারবে ‘প্রেম’ কী।
৪. উদ্ধৃতির মধ্যে ‘উদ্ধৃতি’ বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনটি উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার করতে হয়। যেমন : “শিক্ষক বললেন,

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

‘তোমার নাম কী?’”

৫. অনেক সময় একাধিক অনুচ্ছেদকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে উদ্ধৃতি শুরুর স্থানে উদ্ধৃতিচিহ্ন বসানো হয়। পরবর্তী অনুচ্ছেদের প্রারম্ভে আবার উদ্ধৃতিচিহ্ন বসে। এভাবে ক্রমান্বয়ে যেতে থাকে এবং উদ্ধৃতিভুক্ত সর্বশেষ অনুচ্ছেদের যেখানে উদ্ধৃতি শেষ হয় সেখানে সমাপ্তি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়।
যেমন: “আমার পক্ষে এখানে থাকা সম্ভব নয়। মানুষের জন্য মানুষের যে বোধটুকু থাকা আবশ্যক তা কারো নেই।
“না থাক, কিন্তু তা আয়ত্বে আনার প্রয়াসকে যারা খারাপ চোখে দেখে, নিরুৎসাহ দিয়ে মানবতাকে পদদলিত করে, তারা মানুষ নয়।
‘তো কী?
“পশ্বাধম পশু, আমি তাদের ঘৃণা করি।”

 

প্রথম বন্ধনী ( )
কোন বক্তব্যকে বিশদ করা প্রয়োজন হলে প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করা হয়। যেমন:
১. জাফর ও রাজীব আমাকে কামালের সঙ্গে যেতে বলেছেন। সে (কামাল) আমার প্রতিবেশি।

২. প্রয়োজনে এক বা একাধিক শব্দ বা বাক্যকে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রেখে আরও বিশদ করা হয়। যেমন : ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বহুভাষাবিদ পণ্ডিত(ইংরেজি, ফারসি, হিন্দি; সম্ভবত জার্মানও জানতেন) ছিলেন।
৩. কোনও বক্তব্য কিংবা বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলে সংশ্লিষ্ট অংশের পর প্রথমবন্ধনী দিয়ে প্রশ্নচিহ্ন বসান হয়। যথা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪৩(?) খ্রিষ্টাব্দে মারা যান।

তৃতীয় বন্ধনী
বাংলা ভাষায় তৃতীয় বন্ধনীর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধৃতির ব্যাখ্যা বা জটিলতা এড়ানোর জন্য উদ্ধৃতিস্থ বাক্যেও কোনও শব্দ বা শব্দাবলীর শুদ্ধরূপ তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে দেওয়া হয়। উৎসমূলে যা লেখা আছে সেটি ভুলসহ উদ্ধৃত করে শুদ্ধটি তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে লিখে দিলে অনেক জটিলতা ও সংশয় এড়ানো যায়। তাহলে পাঠক মূল উদ্ধৃতি এবং শুদ্ধ দুটিই জানতে পারেন।

যেমন : কোনও গ্রন্থে লেখা আছে— ‘মাইকেল মুধুসুদন দত্ত যশোড় জেলার সাঘরদাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।’ এ বাক্যটিকে উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা হয়েছে- “মাইকেল মুধুসুদন [মধুসূদন] দত্ত যশোড় [যশোর] জেলার সাঘড়দাড়ি [সাগরদাড়ি] গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন”।

 

একবিন্দুচিহ্ন ( .)
একবিন্দু বা ফুটকিচিহ্ন ইংরেজি হতে আগত। বর্তমানে চিহ্নটি সংক্ষেপণ চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইংরেজি ভাষায় একবিন্দু যেভাবে ব্যবহৃত হয় বাংলাভাষাতেও সেভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন এম.এ, ড., ডি.লিট, মু. ইত্যাদি। ইংরেজি ভাষার মতো বাংলা ভাষাতেও শব্দকে সংক্ষেপ করার জন্য একবিন্দু চিহ্নের বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যেমন : পশ্চিম জার্মানিকে প. জার্মানি।

ত্রিবিন্দুচিহ্ন বা এলিপসিস (. . .)
১. বাক্যের বা উদ্ধৃতির কোনও অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বুঝাতে ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয়। কারও বক্তব্য বা কোনও রচনা সম্পূর্ণ উল্লেখ না করে কিয়দংশ বাদ দেওয়া হলে বর্জিত অংশগুলোর স্থানে ত্রিবিন্দুচিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যথা : তিনি লিখেছেন, “আমি আর এদেশে থাকব না।… যে দেশে বিচার … সে দেশে না থাকাই উত্তম।”

২. কথা/বাক্য অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হয়েছে বুঝাতে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়। যথা: ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন। পরের কারণে… আপনার কথা…।

৩. কেউ যখন আমতা-আমতা করে বলেন, কিংবা বাক্য শুরু করেও শেষ করেন না কিংবা শেষ করার সুযোগ পান না তখন, তা বুঝানোর জন্য ত্রিবিন্দুচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

 

 

 

বিকল্পচিহ্ন (/)
দুই বা ততোধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে যে কোনটি হতে পারে বুঝানোর জন্য বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ :
১. যন্ত্রটি ঢাকা/চট্টগ্রাম শহরে পাওয়া যাবে।
২. প্রশ্নে একাধিক বিকল্প উত্তর হতে ঠিক উত্তরটা বের করার কৌশলে বিকল্প চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন : আমাদের জাতীয় কবি কে? রবীন্দ্রনাথ/ মধুসূদন/নজরুল/ জীবনানন্দ।
৩. কবিতার লাইনকে প্রকাশ করতে বিকল্পচিহ্ন দেওয়া হয়।
যেমন: চিরসুখী জন/ভ্রমে কি কখন/ ব্যথিত বেদন…।

কোলন ড্যাশ (:)
কোলন (:) আর ড্যাশ (—) মিলে কোলন ড্যাম। বাংলায় আগের এর বহুল ব্যবহার ছিল। এখন অনেক কমে গেছে। নিচের কোলন ড্যাশের ব্যবহার দেওয়া হলো—

১. বাক্যের কোনও অংশকে বিশদ করার জন্য কোলন ড্যাশ (:—) ব্যবহার করা হয়। যেমন:

সত্যবাদী ছড়ায় লেখা আছে:— 
“মিথ্যা বলা মহাপাপ,
চরমতর অভিশাপ।
মিথ্যা কথা যারা কয়
তারা কোন মানুষ নয়।”

২. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত  দেওয়ার সময় উদাহরণ বা দৃষ্টান্তসমূহ বিশদ করার আগে কোলন ড্যাস ব্যবহার করা হয়। যেমন—  পদ ৫ প্রকার। যথা:—  বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম , ক্রিয়া ও অব্যয়।

৩. কোলন ড্যাসের পরিবর্তে শুধু কোলন দিয়ে লেখা যায়। যেমন— লিঙ্গ দুই প্রকার। যথা:— পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ।

৪.  কোলন ড্যাসের পরিবর্তে শুধু ড্যাস দিয়ে লেখা যায়। যেমন— লিঙ্গ দুই প্রকার। যথা:— পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ।

ইলেক বা লোপচিহ্ন বা উর্ধ্বকমা
ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার আগে প্রবলভাবে দেখা যেত। কোনও শব্দে, বিশেষ করে কবিতায় যদি কোনও অক্ষর ইচ্ছে করে বাদ দেওয়া হতো তখন ঊর্ধ্বকমা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হতো যে, এখানে একটি অক্ষর বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কবিতায় এ ধরনের প্রয়োগ

হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন

তেমন দেখা যায় না। দ্বিতীয়ত : ক্রিয়াপদের চলিত রূপ লেখার সময় ঊর্ধ্বকমা খুব বেশি ব্যবহার করা হতো। যেমন: হ’ল (হইল)। আবার সংখ্যা লেখার সময়ও এর ব্যবহার দেখা যেত। যেমন : দু‘(দুই), শ‘(শত) ইত্যাদি। ইদানীং ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার উভয় বাংলায় ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। প্রমিত বাংলায় ঊর্ধ্বকমার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়।

তবে ঊর্ধ্বকমা না দিলে যদি অর্থ বা উচ্চারণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত। যেমন :
১. হাইফেনের বিকল্প হিসেবে: পা’টা সরাও [এখানে ঊর্ধ্বকমা না-দিলে পা কিন্তু পাটা হয়ে যেতে পারে]।
তুমি কা’কে ভালবাস? (এখানে উর্ধ্বকমা না-দিলে কাহাকে শব্দটি ‘কাকে’ বুঝাতে পারে।)
আমার মা’র অসুখ। (এখানে ঊর্ধ্বকমা না-দিলে মা কিন্তু মার বুঝানোর আশঙ্কা হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।)
মুলা’র ক্ষেতে পানি দিতে হবে। (মুলা’র শব্দে ঊর্ধ্বকমা না-দিলে এটি মুলার নামের কোনও ব্যক্তিকে বুঝাতে পারে।)

চা’র কাপ (এখনে ঊর্ধ্বকমা না-দিয়ে বাকটি হয়ে যেতে পারে— “চার কাপ”।)

২. সাল বা খ্রিষ্টাব্দের বর্জিত সংখ্যা প্রকাশে: ২১ ফেব্রুয়ারি, ’৫২।

উপসংহারে বলা যায়, বাক্যে এক বা একাধিক বর্ণকে বর্জন করা হলে, তা প্রকাশের জন্য বর্জিতস্থানে ইংরেজি ভাষায় অ্যাপসট্রফি বলে পরিচিত (’) লোপচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়। বাংলায় একে ‘ঊর্ধ্বকমা’ বলা হয়। আধুনিক-প্রমিত বানানে ‘ঊর্ধ্বকমা’ বর্জনীয়। তাই ঊর্ধ্বকমা ব্যবহার না করা বাঞ্ছনীয়।

বিভিন্ন যতিচিহ্নের বিরতিকাল
কমায় (,) সাধারণভাবে ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন সে পরিমাণ সময় এবং সেমিকোলনে (;) কমার দ্বিগুণ সময় বিরতি দিতে হয়। দাঁড়ি (।), প্রশ্নচিহ্ন(?), বিস্ময়চিহ্ন (!), কোলন (:), কোলন-ড্যাশ (:-), ড্যাশ (—) প্রভৃতি যতিচিহ্নের প্রত্যেকটিতে এক সেকেণ্ড করে থামতে হয়। প্রথম বন্ধনী, দ্বিতীয় বন্ধনী, তৃতীয় বন্ধনী, হাইফেন (-) ও ইলেক বা লোপচিহ্নে (’) থামার প্রয়োজন নেই।


শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

আমি শুবাচ থেকে বলছি

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

All Link

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

error: Content is protected !!