য-ফলা (্য) ও য-ফলা আ-কার (্যা): ব্যবহারবিধি: তৎসম শব্দে কখন য-ফলা বসবে আর কখন য-ফলা আ-কার বসবে: য-ফলাবিধি

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/য-ফলা-্য-ও-য-ফলা-আ-কার-্যা-ব্/

শব্দের বানানের প্রথম বর্ণে য-ফলা (্য)  এবং য-ফলা আ-কার (্যা) যেটিই ব্যবহার করা হোক না, উচ্চারণ অভিন্ন থাকে। তাই বানানে ভুল হয়ে যায়। অতৎসম শব্দের বানানের

ড. মোহাম্মদ আমীন

প্রথম বর্ণে য-ফলা (্য) এবং য-ফলা-আকারের (্যা) ব্যবহার সহজে আয়ত্তে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু তৎসম শব্দের জন্য বিষয়টি কিছুটা জটিল। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক অতৎসম শব্দের বানানের প্রথমে কখন য-ফলা (্য) হবে এবং কখন য-ফলা-আকার (্যা) হবে।  মূলত নিচের একটি নিয়ম জানা থাকলে অতৎস শব্দের বানানের প্রথম বর্ণে য-ফলা ব্যবহারের কৌশল আয়ত্তে নিয়ে আসা যায়। কারণ অতৎসম শব্দের বানানের প্রথম বর্ণে কেবল য-ফলা (্য) ব্যবহৃত হয় না।

অতৎসম শব্দের বানানের প্রথম বর্ণের জন্য য-ফলাবিধি  
অতৎসম শব্দের বানানে আদ্যবর্ণের সঙ্গে এককভাবে য-ফলা (্য) ব্যবহৃত হয় না। এসব শব্দের বানানের প্রথম বর্ণে য-ফলা সর্বদা আকার-সহ বসে। অর্থাৎ কোনো অতৎসম শব্দের বানানের আদ্যবর্ণের সঙ্গে যখন য-ফলা আবশ্যক হয়, তখন  য-ফলা আ-কার (্যা)। যেমন:
অ্যাডমিন, অ্যাকাউন্ট, ক্যাঙারু; ক্যাবলাকান্ত, ক্যামেরা; ক্যাম্পাস; ক্যালানো; ক্যালেন্ডার; খ্যামটা; গ্যালারি; ঘ্যাঙরঘ্যাং; ঘ্যানঘ্যান; চ্যাঁচামেচি; চ্যাটাং চ্যাটাং; ছ্যাঁকা; ছ্যাবলাবি; চ্যালা, চ্যাপটা,  জ্যাঠা, জ্যাকেট; ট্যাংক, ট্যাটন; ট্যানারি; ট্যারা; ট্যাসেল; ঠ্যাঁটা; ঠ্যাকা; ঠ্যালা; ড্যাবড্যাব; ড্যাশ; ঢ্যাঁড়শ; ঢ্যালা; ত্যাড়া, ত্যাঁদড়ামি, ত্যাঁদড়, ধ্যাৎ, ন্যাকড়া, ন্যাড়া, ন্যাতানো, ন্যাকামি, প্যাঁচানো; প্যাক, প্যানপ্যান; প্যারাগ্রাফ; ফ্যালফ্যাল; ফ্যাশন; ফ্যাক্স, ফ্যাঁকড়া, ফ্যাকাশে, ফ্যাসিবাদ, ব্যাংক,  ব্যাট, ব্যাটা, ব্যানার, ব্যান্ডসংগীত; ব্যাবসা; ব্যারাম; ব্যালট; ভ্যানরভ্যানর; ভ্যাবাচ্যাকা; ভ্যান, ম্যাগাজিন; ম্যাজম্যাজ; ম্যাজেন্টা; ম্যাডাম; ম্যাচ, ম্যানেজার, ম্যালেরিয়া, ম্যাক্সি, র‌্যাক, র্যালি; ল্যাংড়; ল্যাপটপ; ল্যাংড়া, ল্যাজ, ল্যাপটপ, ল্যান্ড, ল্যাবরেটরি, শ্যালক, শ্যাম্পু, স্যানাটোরিয়াম, স্যান্ডউইচ, স্যাকরা,  হ্যাঁচকা; হ্যান্ডবিল, হ্যাজাক, হ্যাটট্রিক; হ্যাংলামি ।
তৎসম শব্দের বানানের প্রথম বর্ণের জন্য য-ফলাবিধি  
তৎসম শব্দে কখন য-ফলা বসবে আর কখন য-ফলা ও আ-কার বসবে তা অতৎসম শব্দের মতো সহজে আয়ত্তে আনা যায় না। তৎসম শব্দে এটি জানতে হলে শব্দের ব্যুৎপত্তি বা সন্ধিবিচ্ছে পর্যবেক্ষণ করে বা ওই শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়জাত  অনিশ্চিত ব্যাকরণিক বৃদ্ধি প্রভৃতি দেখে নির্ধারণ করতে হয়। এটি সংস্কৃত না-জানা কারও পক্ষে আসলেই কঠিন। এর চেয়ে সহজ নিমোনিক বা সহজ কৌশল পদ্ধতি। যা আমি আমার লেখা নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধানে উল্লেখ করেছি। যাই হোক, এখানে  তৎসম শব্দের বানানের প্রথম বর্ণে কখন য-ফলা (্য) এবং কখন (্যা) হাবে তা নির্ণয়ের কয়েকটি কৌশল দেওয়া হলো। তৎসম শব্দের বানানের আদ্যবর্ণে য-ফলা (্য) ব্যবহৃত হতে পারে; আবার, য-ফলা আ-কার (্যা)-ও ব্যবহৃত হতে পারে। কখন কোনটা বসবে তা  সংশ্লিষ্ট তৎসম শব্দের ব্যুৎপত্তির ও নির্ভর করে। যেমন: 
১. যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তির সংশ্লিষ্ট বর্ণে─বা সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী উপাদানের সংশ্লিষ্ট বর্ণে─আ নেই, বা, ্যা নেই; সেসব তৎসম শব্দের আদ্যবর্ণের সঙ্গে সাধারণত শুধু ্য-ফলা ব্যবহৃত হয়। যেমন:
চ্যবন=√চ্যু+অন;
ত্যক্ত=√ত্যজ্‌+ত;
দ্ব্যর্থ=দ্বি+অর্থ;
ন্যস্ত=নি+√অস্‌+ত;
ব্যক্ত=বি+√অন্‌জ্‌+ত;
ব্যক্তি=বি+√অন্‌জ্‌+তি;
ব্যগ্র=বি+অগ্র;
ব্যঙ্গ=বি+অঙ্গ;
ব্যঞ্জন=বি+√অন্‌জ্‌+অন;
ব্যতিক্রম=বি+অতি+√ক্রম্‌+অ;
ব্যতীত=বি+অতি+√ই+ত=বি+অতীত;
ব্যথা=√ব্যথি+অ+আ (টাপ্‌);
ব্যবচ্ছেদ=বি+অব+√ছিদ্+অ;
ব্যবসায়=বি+অব+√সো+অ;
ব্যবস্থা=বি+অব+√স্থা+অ;
ব্যবহার=বি+অব+√হৃ+অ;
ব্যয়=বি+√ই+অ;
ব্যর্থ=বি+√অর্থ;
ব্যষ্টি=বি+√অশ্‌+তি;
ব্যস্ত=বি+√অস্‌+ত;
স্যমন্তক=√স্যম্‌+অন্ত+ক।
২. যেসবস তৎসম শব্দের ব্যুৎপত্তির সংশ্লিষ্ট বর্ণে─বা সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী শব্দের সংশ্লিষ্ট বর্ণে─আ আছে, বা, ্যা আছে; সেসব তৎসম শব্দের আদ্যবর্ণের সঙ্গে ্যা বসে।  যেমন:
খ্যাতি=√খ্যা+তি;
জ্যা=√জ্যা+অ+আ (টাপ্‌);
ব্যাকরণ==বি+আ+√কৃ+অন;
ব্যাকুল=বি+আ+√কুল্‌+অ=বি+আকুল;
ব্যাখ্যা=বি+আ+√খ্যা+অ+আ (টাপ্‌);
ব্যাঘ্র=বি+আ+√ঘ্রা+অ;
ব্যাধি=বি+আ+√ধা+ই;
ব্যাপক=বি+√আপ্‌+অক;
ব্যাপার=বি+আ+√পৃ+অ;
-ব্যাপী=বি+√আপ্‌+ইন্‌;
ব্যাপ্ত=বি+√আপ্‌+ত;
ব্যায়াম=বি+আ+√যম্‌+অ;
ব্যাহত=বি+আহত;
শ্যাম=√শ্যাম্‌+অ।
৩.  যেসব তৎসম শব্দে সংস্কৃত ব্যাকরণের (তথা তা থেকে অনুসৃত বাংলা ব্যাকরণের) নিয়মানুসারে ধাতু বা শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কারণে ধাতু বা শব্দের ‘বৃদ্ধি’ বা স্বরগত পরিবর্তন (অ > আ) হয়; সেসব তৎসম শব্দে ব্যুৎপত্তির সংশ্লিষ্ট বর্ণে আ বা ্যা না-থাকলেও, তৎসম শব্দের আদ্যবর্ণের সঙ্গে ্যা বসে। যেমন:  
ত্যাগ=√ত্যজ্‌+অ;
ন্যায়=নি+√ই‌+অ;
ব্যাস=বি+√অস্‌+অ।
error: Content is protected !!