রবীন্দ্রঘৃণায় আমার উপলব্ধি

ড. মোহাম্মদ আমীন

আমার ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির প্রথম লেখক। আরও ভাবতাম— তাঁর চেয়ে অনেক বড়ো লেখক পৃথিবীতে আছেন এবং ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। ভারতের জাতীয় সংগীতও তিনি লিখেছেন। তাই তিনি বড়ো কবি, নজরুলও বড়ো কবি। বাংলায় এমন আরও অনেক কবি-সাহিত্যিক আছেন। যৌক্তিক রবীন্দ্র-সমালোচনা আমি আগ্রহ সহকারে পড়তাম। সম যে আলোচনা তা-ই সমালোচনা। সমালোচনা আলোচনার ভিত্তি। এটি একজনকে জানার সুযোগ করে দেয় বহুমাত্রিকতায়। কিন্তু গালাগালি? এটি সমালোচনা নয়, অজ্ঞের পাশব চিৎকার।

কিন্তু, আমার অনেক মুসলিম বন্ধুর রবীন্দ্র-ঘৃণা, তাঁর প্রতি বিষোদগার, গালাগালি, অশ্লীল বাক্যবাণ, অশোভন মন্তব্য, বিরূপ সমালোচনা প্রভৃতি শুনে-দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি— রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি এবং যারা তাঁকে গালি দিচ্ছেন তার সর্বনিকৃষ্ট। নইলে এরা তাঁকে গালি দিতেন না। গালি দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে ছোটো করতে গিয়ে গালিবর্ষণকারীরা বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথকে আমার কাছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবিতে পরিণত করে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে একটা শ্রেণির মানুষের ঘৃণা যত বাড়ছে, তাঁর প্রতি আর একটা শ্রেণির মানুষের শ্রদ্ধা তত বেড়ে যাচ্ছে। রবীনন্দ্রঘৃণকদের ঘৃণা রবীন্দ্রনাথকে  মানুষকবি থেকে দেবতায় পরিণত করে দিয়েছে। তিনি এখন অনেকের কাছে দেবতা।

সমালোচনার নামে গালাগালি কেবল নিকৃষ্টরাই করে থাকে।নিকৃষ্টরাই উৎকৃষ্টদের গালি দেয়। তাই আমার কাছে গালিবর্ষণকারীগণ সর্বদা নিকৃষ্ট এবং যার প্রতি গালি বর্ষণ করা হয় তিনি সর্বদা ‍উৎকৃষ্ট। মলের কীট গোলাপজল সহ্য করতে পারে না।নিকৃষ্টরা সর্বদা উৎকৃষ্টদের হীন ভাবে। উৎকৃষ্ট-নিকৃষ্টের স্তর-তফাত যত বেড়ে যায় নিকৃষ্টদের গালি বর্ষণের মাত্রাও তত জঘন্য হয়ে ওঠে। তুচ্ছ মানুষ বিশাল আকাশের বিশালত্বে হতভম্ব কুনোব্যাঙ হয়ে বলে— কত বিশাল আমার এই কোণ, প্রভু এত বড়ো বিশ্ব (কোণ) কীভাবে বানালে তুমি!

error: Content is protected !!