রহস্যময় শব্দসংসার (১৪)

রহস্যময় শব্দসংসার (১৪)

আবদুশ শাকুর

রহস্যময় শব্দসংসার (১৪)
লাবণ্য: লাবণ্য শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সৌন্দর্য, কান্তি, কোমলতা, চাকচিক্য ইত্যাদি। কারো দেহলাবণ্য আছে না তিরোহিত হয়েছে সেটা তার মুখ দেখে চট করে বলে ফেলা যায়। কিন্তু লাবণ্যটা কী পণ্য? অভিধানের অর্থ দিয়ে সহজে বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়। তবু চেষ্টা করা যায়। লাবণ্য শব্দটির মূলে আছে লবণ। কিন্তু কেন? কারণ লবণের মধ্যে আর্দ্রতা আছে। দেহলাবণ্যেও রয়েছে এক ধরনের আর্দ্রতা। এই আর্দ্রতাই আসল লাবণ্য – যা একালের আধুনিকারা নানা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে রক্ষার চেষ্টা পান। টিভি খুললেই শোনা যায় সবচেয়ে বেশি চিৎকৃত শব্দটি হল ময়েশ্চারাইজার। বিজ্ঞাপক বলতে থাকেন – বেস্ট কোয়ালিটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের আর্দ্রতা সংরক্ষণ করুন। কেন? লাবণ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য।
লবণের কথায় বেকনকে মনে পড়লো। সতেরো শতকেই তিনি বলেছিলেন যে এসে বা রচনা নামটা একালের হলেও বস্ত্তটি সেকালেরই। তাহলে ‘ফাদার অব এসে’ মিশেল মঁতেইন (১৫৩৩-১৫৯২) নতুন করলেন কী? প্রাচীন ভাষ্যটিকে তিনি, স্বল্প পরিসরে স্বচ্ছন্দ ও মনোহর ভঙ্গিতে, লেখকের স্ব-কে প্রকাশ করার একটি নতুন শিল্পসংরূপে পরিণত করলেন। রূপটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণটি, ‘ফাদার অব ইংলিশ এসে’ ফ্র্যান্সিস বেকনের (১৫৬১-১৬২৬) নিজের এসে সম্পর্কে-করা, একটি উক্তিতেই মূর্ত হয়ে ওঠে : রচনা হল লবণের দানা, যা ভোগে উদ্বুদ্ধ করবে; ভোগক্লান্তির সৃষ্টি করবে না। এই হল লাবণ্যের গোপন তত্ত্ব – যা উপভোগে উদ্বুদ্ধ করবে, কিন্তু উপভোগক্লান্তির সৃষ্টি করবে না।
প্রাচীনকালের এক সৌন্দর্যবিশারদ লাবণ্যের লক্ষণ সম্বন্ধে বলেছেন – মুক্তার অভ্যন্তরে যে সুন্দর তরল ছায়া দেখা যায় সেইরূপ ছায়া অঙ্গে বিদ্যমান থাকলে তাকেই লাবণ্য বলা যায়। লাবণ্যের এই লক্ষণবর্ণনা বেশ কাব্যময়। মোটকথা লাবণ্য হল অধরা মাধুরী।
 (চলবে)

শুবাচে দিয়েছেন: প্রদীপ ভাদুড়ি

রহস্যময় শব্দসংসার: ওয়েবসাইট লিংক
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক

রহস্যময় শব্দসংসার: শুবাচ লিংক

 

error: Content is protected !!