রাজকীয় জীবন শারমেয় মরণ: শেখড়ের সন্ধানে-০১

 মৌটুসকি

রাজকীয় জীবন শারমেয় মরণ: শেখড়ের সন্ধানে-০১

 https://draminbd.com/রাজকীয়-জীবন-শারমেয়-মরণ-শে/ ‎

ড.  মোহাম্মদ আমীনের লেখা প্রতিটি গ্রন্থে থাকে নিজের দর্শনকে বিকশিত করার এক দারুণ উপজীব্য। সক্রেটিসের একটি বিখ্যাত বাণী আছে— ‘নিজেকে জানো।’ ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা প্রতিটি গ্রন্থ নিজেকে জানার এক একটি সিঁড়িতুল্য। পাঠক তাঁর লেখা যতই পাঠ করবেন, নিজেকে জানার পথ ততোটা প্রশস্ত হয়ে উঠবে। তিনি নিজেকে জানার মধ্য দিয়ে সকলকে জানার যে দ্বার পাঠকের জন্যে উন্মোচন করেছেন, তা তাঁর লেখার প্রধান এবং সবচেয়ে তাৎপর্যময় দিক। তিনি চর্মচক্ষুর ভ্রান্তি ছাড়িয়ে বাস্তবতার মাপকাঠিতে সমাজের সংগতি-অসংগতি প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেছেন। তাতে তাঁর লেখায় এমন অনেক সত্য দিক উঠে এসেছে, যার তিক্ততা পাঠককে বিরক্ত করবে, কিন্তু সত্যতা অভিভূতও করবে। ‘রাজকীয় জীবন ও শারমেয় মরণ’ ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা এমনই একটি উপন্যাস, যেটির পরতে পরতে সামাজিক জীব বলে খ্যাত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যে জঠিলতা ও সৌন্দর্যবোধ, তা দারুণসব বৌদ্ধিক মন্তব্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমাজের যে কঠিন বাস্তবতা তিনি এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন, তা এককথায় অনবদ্য এবং উচ্চ দার্শনিক মনোভাবের পরিচায়ক। এখানে তিনি প্রতিটি ঘটনা এমনভাবে চিত্রায়িত করেছেন, যার পাঠে পাঠক নিজেকে ঘটনার মহলে আবিষ্কার করবেন, এবং ভাববেন— আমি কেবল একটি উপন্যাসই পড়ছি না, পাশাপাশি এ উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকে মনের খেয়ালে আঁকছি, গড়ছি, অনুভব করছি, এবং তাদের সঙ্গে কথা বলছি। নিরপেক্ষ পাঠক হিসেবে আমি নিজেও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। তাতে কিছু মন্তব্য একান্ত নিজের করে নিতে ইচ্ছে হয়েছে। সেসব ভালোলাগা মন্তব্য নিয়েই আজকের এ আয়োজন—
‘মধ্যপন্থিরা সাধারণত মেরুদণ্ডহীন হয়। বাধ্যতামূলক মধ্যপন্থিরা আরও হীন। যোগ্যহীনেরা বিপদমুক্ত থাকার জন্য মধ্যপন্থি হয়; কিন্তু বিপদ এড়াতে পারে না; আরও বেশি জেঁকে ধরে।
‘কেউ সুখ পায় খেটে, কেউ সুখ পায় ছেঁটে, কেউ সুখ পায় বেটে, কেউ সুখ পায় লেটে।’
‘মানুষ কেবল বউকে একই সাথে ভয় করে ও ভালোবাসে।’
‘সবাই নকল করে। কেউ কাগজ হতে, কেউ মগজ হতে। দুটোই নকল শুধু রূপটা ভিন্ন। হাতে খাওয়া আর চামচ দিয়ে খাওয়া, যায় তো পেটে।
‘শূন্যতার বর্ষণ মানুষকে আর্দ্র করে দেয়।’
‘অভ্যস্ততা যে-কোন প্রতিকূল অবস্থাকেও স্বাভাবিক করে তোলে।’
‘এত কষ্টময় জীবন, তবু তা টিকিয়ে রাখার কী আনন্দ! এক গ্রাস ভাত জীবনের নিভে যাওয়া সলতেতে কেরোসিন যেন।’
‘পাপ বলে কথিত কাজের প্রতি এত আগ্রহ যে, কিশোর বয়সে পাপ শব্দটিকে অর্থহীন করে তুলেছিল। পাপ করার জন্য কিশোর বয়সের পুণ্য মন আগুনের ভাটার মত দাউ দাউ করে জ্বলত।’
‘প্ল্যাটোনিক প্রেম ইচ্ছামূলক নয় বাধ্যতামূলক। দূর হতে প্রেমিকার কায়া দেখে মায়া নিতাম। উদাস সুখে শিউরে উঠতাম কাঁপুনে ভালোবাসার বায়বীয় রোমাঞ্চে।’
’স্বামী-স্ত্রী টুলের দুই তক্তার মতো। পেরেক গেঁথে জোর করে একসাথে রাখা হয়। তবু রাখা যায় না। আস্তে আস্তে ফাঁক হয়ে যায়।’
‘ওয়েস্টার্ন কান্ট্রির ছেলেরা যে বয়সে মঙ্গলগ্রহ নিয়ে চিন্তা করে, তোমারা সে বয়সে মেয়ে নিয়ে ব্যস্ত, দেশের উন্নতি হবে কীভাবে?’
‘নারী-পুরুষ মানুষের যেন দুটি হাত। একহাত পরিষ্কার করতে অন্য হাতের দরকার। এক হস্ত-বিশিষ্ট মানুষ অসম্পূর্ণ। তাকে দিয়ে কোনো মহৎ কাজ হয় না।’
‘বিয়ে করা জীবন ত্যাগের চেয়েও কষ্টকর। তার চেয়ে আমরণ পাগল হয়ে থাকা অনেক ভালো।’
‘সন্তান-সন্ততির পরিষেবা ছাড়া পিতা-মাতার ঋণ শোধের উপায় নেই। জীবননাশ করে নয়, বরং সৃষ্টি করে ঋণ শোধ করতে হয়।’
‘যুক্তি দিয়ে কোনো মানুষের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করা যায় কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে দিয়ে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুখী করা যায় না।’
‘বয়স ভালোবাসার মতো ডানপিটে। একে লুকিয়ে রাখা যায় না। না মরা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চিৎকার দিয়ে বলে যেতে থাকে, বলেই যেতে থাকে। তাই কেউ মেয়েদের বয়স জানতে চায় না।’
‘মেয়েদের বয়স জানতে চাওয়া বোকামি। কপালে, চোখে, মুখে, শরীরের ভাঁজে, দাঁতের ফাঁকে, নাকের ডগায় ঠাকুরের চাদরের হরিনামের মত বয়স লেখা।’
‘বিয়ে মানুষের পূর্ণতার পল্লব। বিয়ে জীবনকে উন্নত করে, জীবন মানে উন্নতি, জড়তা মানে দুর্গতি।’
‘বিবাহিতদের কাছে নিজের বউ ছাড়া সব মেয়ে অপরূপ।’
‘ভালোবেসে কেউ বউয়ের ভক্ত হয় না। যদি হয় তো সেটি বউ নয়। অন্য কিছু– প্রেমিকা কিংবা রক্ষিতা। বউ ভক্ত মানে— বউয়ের ভয়ে ভক্ত।’
‘বিয়ে করতে আর যুদ্ধে যেতে বলতে নেই। যুদ্ধ ধ্বংস করে সুখ, বিয়ে স্বাধীনতা। যার স্বাধীনতা নেই তার কিছু নেই।’
‘Calamities are of two kinds: misfortune to ourselves and good fortune to others.’
‘বিয়ে করো দেখবে জীবন কত মধুর, কত অর্থবহ। জীবনের পর মৃত্যু; এর মাঝে বিয়ে ছাড়া আর কিছু নেই।’
‘বিয়ে ওয়ান-কাস্টমার প্রস্টিটিউশন। বেশ্যাবৃত্তির সামাজিক স্বীকৃতি নেই, বিয়ের আছে। অথর্বরাই এ আকামটি করে।’
‘বিয়ে যদি কৃতিত্বের কিছু হতো তাহলে যার বউ যত বেশি সে তত বড়ো বীরের স্বীকৃতি পেত। যে যত বিয়ে করে সে তত জঘন্য হিসেবে চিহ্নিত। বিয়ে না করা ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রমীরা সবসময় ক্রিয়েটিভ।’
‘পৃথিবীতে যারা একবার বিয়ে করেছে তারা যদি বউয়ের প্রতিদিনের কণ্ঠগুলোকে ধরে রেখে এক সাথে ছাড়ত তাহলে ইস্রাফিলের শিঙার আওয়াজ লজ্জা পেয়ে যেত।’
‘মহিলার অপর নাম শব্দ, আর পুরুষ হচ্ছে কর্ম। শব্দ কর্মকে নিস্তেজ করে দেয়।’
‘ঝগড়া আছে তাই বিয়ে ব্যাশাবৃত্তি নয়। শব্দ কর্মকে বিশ্রামের আবরণে শাণিত করে তুলে। বিশ্রাম কাজের জন্য অপরিহার্য, তেমনি জীবনের জন্য বিয়ে। খাদ্যের মত প্রেমও শরীর, স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি রক্ষায় অনিবার্য। মহিলা যদি শব্দ হয় তো সে শব্দ হচ্ছে গান, সুর, লয়, ও তান।’
‘বিয়ে মানুষকে স্বস্তি দেয় কিন্তু শান্তি কেড়ে নেয়। শান্তিহীন স্বস্তি বিধবা রমণীর মত ফ্যাকাশ হতাশা।’
‘বিবাহিতদের যন্ত্রণা ও আচরণ দেখে মনে হয় তারা সবাই ক্রীতদাস।’
‘যারা রাজার মতো বাঁচতে চায় তাদের বিয়ে করা উচিত নয়। যখন যেখানে ইচ্ছে যেভাবে, বন্ধনহীন মুক্ত। বিবাহিতরা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট– গলায় বাঁধা রশি, এগুতেই টান, জোরে দিলে ফাঁস।’
‘কুকুরের মতো মরার জন্যই মানুষ রাজা হয়। কুকুরের মতো মরাই হচ্ছে রাজকীয় মরণ। পৃথিবীর প্রতিটি রাজা কুকুরের মতো মরেছে।’
‘রমণীরা ধরিত্রীর মতো উর্বর, তাকে সুড়সুড়ি দাও, ভালোবাসা দাও, দেখবে কেমন হাস্যলাস্য আর সবুজ শ্যামলিমায় ভরে ওঠে।’
‘সন্তানের বাবা ডাকের চেয়ে শান্তি আর কিছু নাই। সন্তানের এক চিলতে হাসির বিনিময়ে একশ বছর আগুনে জ্বলতে রাজি। চিরকুমার নিষ্ফলা বৃক্ষের মতো, অমন বৃক্ষে পেঁচাও বসে না।’
‘বউ ঘরে আনা মানে একটা স্যালো মেশিনকে কানের গোড়ায় হাই ভল্যুম দিয়ে বসিয়ে রাখা। এর চেয়ে দুই কানে দুটি জেট বিমানের ইঞ্জিন গুঁজে দেয়া অনেক নিরাপদ।’
‘এক হাজার বছর পর কী হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্‌বাণী করা যায় কিন্তু এক মিনিট পর বউয়ের মতিগতি কী হবে সে বিষয়ে স্বয়ং বিধাতাও কিছু বলতে পারে না।’
‘দাম্পত্য জীবন এত মধুর এত আকর্ষণীয়। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত, প্রতি স্পর্শ নতুন মনে হয়। রহস্যই আকর্ষণের উৎস, আগ্রহের সিন্ধু।’
‘আনন্দবিহীন প্রয়াস কর্তব্য নয়, বোঝা।’
‘যাতনার মাঝে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো নয় কি? সাহসীরাই কিন্তু অঘটন ঘটায়। অঘটনই সমাজে বিপ্লব আনে।’
‘যে কাজ যত কঠিন সে কাজ করাই সবচেয়ে বড়ো আনন্দ। ছোট্ট একটা জীবন, এত বড়ো আনন্দ ও প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হওয়ার চেয়ে লজ্জার, কষ্টের এবং পরাজয়ের কিছু নেই। কর্তব্যই ভাগ্য নির্ধারণ করে।’

শেকড়ের সন্ধানে-০২: রাজকীয় জীবন শারমেয় মরণ

নাগসেন নামক একজন বৌদ্ধ আচার্য নির্বাণের অবস্থাকে ‘অনন্ত আনন্দের’ অবস্থা বলেছিলেন। আরও বলেছিলেন, অন্ধকে যেমন বর্ণ কী, তা সম্যক বোঝানো যায় না, তেমনি যারা নির্বাণ লাভ করেনি তাদেরও নির্বাণ কী, তা সম্যক বোঝানো যায় না। আমার অনুভূতি বলে, ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা প্রতিটি গ্রন্থ পাঠে পাঠক নির্বাণের আনন্দ খুঁজে পাবে। ড. মোহাম্মাদ আমীনের প্রতিটি পাঠে জাগতিক মোহ অতিক্রম করে মনে এক অভাবনীয় সুখের সঞ্চার ঘটে, মনে গভীর আনন্দের সৃষ্টি হয়— এমন সুখের অনুভূতি বোঝানোর মতো শব্দ আমার ঝুলিতে দুষ্প্রাপ্য। যে তাঁর গ্রন্থ পাঠ করবে, কেবল সেই এমন অনুভূতির শামিল হবে। ঠিক যেন নির্বাণ লাভের মতো।

বিচিত্র মানবজীবনের চারপাশে যে রঙের মেলা, সেই রঙের সবটা যেন ফিকে। সব রং মননে-মগজে মাখামাখি করলেও শেষটায় গিয়ে ভালোবাসার রং দিয়েই পূর্ণতা পায় সেই জড়ানো রঙের মাখামাখির ভালোবাসা। ব্যক্তি দূর-দূরান্ত পেরিয়ে সে রং খুঁজতে ফিরে আসে আপনার স্বর্গ ‘পরিবারে’। আমাদের একটাই প্রচলিত বিধান, পরিবার হওয়ার পূর্বশর্ত

ড. মোহাম্মদ আমীন

বিবাহ। বিবাহ মনে অন্যরকম এক অনুভূতির উদ্রেক করে, নিজ মনের সকল বাসনাকে বিসর্জন দিয়ে পরিবার নামক বটবৃক্ষের শাখা-প্রশাখায় পাতায় পাতায় ভরিয়ে দিতে পারলেই দুঃখের পরিত্রাণ ও সুখের স্বর্গ, এবং নির্বাণের পথ খুঁজে পায়। এ বিবাহ এক পানশালাতুল্য, যে পানশালায় আছে বিচিত্র স্বাদ মেশানো ভালোবাসা-দুঃখের আলো-আঁধারি খেলা। আপনজনের কাছে পদদলিত হওয়ার পরও মানুষ এক স্বর্গীয় প্রশান্তির আশায় পরিবার পরিজন নামে যে শেকড় গড়ে তোলে, সে অতুলনীয় সুখ আমার, আপনার, আমাদের সবার কাম্য— ‘রাজকীয় মরণ’। বলতেই পারি রাজকীয় মরণ কেন প্রয়োজন, যেখানে কিনা যেভাবেই হোক, যার একটাই নাম— মৃত্যু? উত্তরে বলতে হয়— মৃত্যুই যে পবিত্র, সুন্দর, এবং অনিবার্য। এটি যদি রাজকীয় না-হয়, জীবনের পূর্ণতা কোথায়? এ-কথাই শেষ কথা নয়। এর পক্ষে আরও সমর্থন মিলতে পারে, বিপরীতে গিয়ে বিপক্ষে মিলতে পারে দারুণসব যুক্তি, যা ড. মোহাম্মদ আমীন রচিত রাজকীয় জীবন শারমেয় মরণ উপন্যাসের পাতায় পাতায় বিবৃত হয়েছে। সেসবের কিছু নির্বাচিত মন্তব্য নিয়েই এ ধারার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব।

‘মৃত্যুবরণ করার চেয়ে কষ্ট ভোগ করে বেঁচে থাকার জন্য অধিক সাহসের প্রয়োজন হয়, সাহসীরা তাই করে।‘
‘আস্থাহীনেরাই বিয়ে করে না, নিজের প্রতি, নিজের সামর্থ্যের প্রতি, ক্ষমতার প্রতি যাদের আস্থা আছে তারা কখনও পরাজিত হয় না।’
‘শয়তান ক্ষমতাকে ভালোভাবে চিনতে পারে কিন্তু ফুলের সুবাস, প্রকৃতির মৌনতা, জীবনের সৌন্দর্য, নান্দনিক স্বতঃস্ফূর্ততা, মানবিক কালচার সম্পর্কে কিছু জানে না। এসব সুকুমার গুণাবলী ব্যতিরেকে ব্যতীরেক অর্জিত শক্তি পাশবিকতা, যা শুধু পশু আর অমানুষে শোভা পায়।’
‘মশার ভালোবাসা রক্তচোষা। স্বামী স্ত্রীর চুমো মশা-মানুষের চুমোর মতো বিপজ্জনক। বিয়ে প্রেমের মৃত্যু ঘটায়। যেখানে প্রেম মৃত, সেখানে একজন মেয়েকে নিয়ে এক ছাদে বাস মানে চর্বিত আখের রসহীন চোবাকে বারবার চর্বন করে ফুটফুটে দাঁতগুলো নষ্ট করা।’
‘বউ আপন লোক, ভালোবাসার শিরা, তাকে ভালোবেসে পেতে হয়। বিয়ে প্রেমকে বন্ধুত্বের নিগড়ে নিবিড় ও চিরস্থায়ী করে দেয়। ব্যতিক্রম যদি থেকে থাকে তো দুর্ঘটনা কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কের দুর্বলতা মাত্র।’
‘নিজের সুখ, আনন্দ আর প্রত্যাশা সংসারের সৌন্দর্যে বিলীন করে দিতে পারলে সুখ ও শান্তি আরও পরিব্যপ্ত হয়ে ওঠে।’
‘বন্ধু যত পুরাতন হয় বন্ধন তত গভীর হয়। দাম্পত্য জীবনও এমন। একই ব্যক্তির সঙ্গে বারবার প্রেমে পড়াই সবচেয়ে বড়ো প্রেম, বড়ো মানবিকতা, বড়ো আকর্ষণ।’
‘প্রেমের অভাবে নয়, বন্ধুত্বের অভাবে দাম্পত্য জীবন অশান্তির হয়। প্রেম দিয়ে সংসার চলে না, সংসার চালাতে হলে চাই বন্ধুত্ব। এ প্রেমের চেয়ে অনেক বিশাল, নিত্য নতুন রূপে আবির্ভূত এক অসাধারণ সম্পর্ক। এক ফোঁটা প্রেম না হলেও সংসার চলে কিন্তু বন্ধুত্বহীন দাম্পত্যজীবন জলহীন পিপাসার অনন্ত হাহাকার।’
‘ভালোবাসা পণ্য নয় যে, তাকে জোর করে নেওয়া যায়।’
‘বউয়ের সাথে ভালোবাসা হয় না, ভালো বাসা হয়। বউয়ের ভালোবাসা কাবিনময়, বিধির বাধ্যবাধকতা।’
‘ভালোবাসা যখন দুই রানের মাঝখান হতে হৃদয়ে উঠে আসে তখনই তা স্বর্গীয় হয়ে ওঠে। বিয়ে ছাড়া এমন শান্তির পরশ আস্বাদন অসম্ভব।’
‘কামনা উত্তাল স্রোতময় নদী আর প্রেম মজা নদী। এটি মশা, ফেনা আর দূষিত জলে ভরপুর। প্রেম স্থির, কামনা স্রোতস্বিনী।’
‘মানুষ বাঁচার জন্য খায় কিন্তু পশুরা খাওয়ার জন্য বাঁচে। যারা বাঁচার জন্য খায় তাদের খাদ্যটা মুখ্য, জীবন নয়।’
‘নারীর বয়স দেহে পুরুষের বয়স মনে। মনকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সজীব রাখা যায়। দেহ বয়সের সাথে ভেঙে পড়ে, কোনোভাবে সতেজ রাখা যায় না।’
’দাঁত যতই সুন্দর হোক হাসি আনন্দের না হলে শ্বেতভল্লুকের আঁচড়ের মতো নৃশংস দেখায়।’
‘আমরা সুখী বলে হাসি না বরং হাসি বলে সুখী।’
‘মেয়েদের হাসি হবে হীরের মত দুর্লভ, প্রয়োজনের বাইরে যে মেয়ে হাসে সে মেয়ে কারও বউ হতে পারে না।’
‘বিয়ে এমন একটি বিষয় যা জীবনে শুধু একবারই মানায় পুনরাবৃত্তি করতে গেলে পুরোটা ছেঁড়া জামার মতো অর্থহীন হয়ে যায়।’
’মেয়েদের মতো বেশরম কোনো জীব সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেনি। যেমন গলা তেমন তলা। একটা বজ্র আর একটা সমুদ্র।’
‘যুক্তি দিয়ে তর্ক চলে প্রেম ভালোবাসা নয়। যুক্তি প্রেমকে অর্থহীন এবং দাম্পত্য জীবনকে মরুভূমির মত শুষ্ক করে দেয়।’
’মেয়েরা বিয়ে করে না, বিয়ে বসে; অন্যদিকে ছেলেরা বিয়ে বসে না, বিয়ে করে। একজন বসে থাকে আরেকজন করে যায়; এত বৈপরীত্য আর কোথাও নেই।’
‘একজন পিতা একশজন শিক্ষকের চেয়েও উত্তম। একজন বাবা একটি রাষ্ট্রের চেয়েও বিশাল। তোমার একজন সন্তানই হয়ে উঠতে পারে একটা কালজয়ী ইতিহাস।’
’ভয়ংকরকে সুন্দরে পরিণত করার যে আনন্দ, যে প্রাপ্তি, যে সুখ তাই জীবনের সুন্দরতম প্রকাশ। এটাই জীবনকে প্রশান্তিময় নিরাপত্তায় উৎফুল্ল করে তোলে।’
‘সংসার একটি নরক, তবে নন্দিত নরক।’
‘যোগ্য ব্যক্তিমাত্রই যোগ্য নির্ধারণে পটু।’
‘হালের বলদ আর ঘরের বউ সহজে মেলানো যায় না, খুঁত থেকেই যায়।’
‘প্রত্যেক কিছুর একটা সময় আছে। সময় পার হয়ে গেলে আবেদন উলটো হয়ে যায়।’

< মৌটুসকি

বই :রাজকীয় জীবন শারমেয় মরণ;
লেখক: ড. মোহাম্মদ আমীন
প্রকাশনী: হাওলাদার প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য: ১৫০ টাকা
শুবাচ ওয়েবসাইট সংযোগ:
স্যমন্তকবাণী এবং কিছু বই: https://www.facebook.com/…/permalink/3273507836003968/

১. স্যমন্তক: এক মলাটে স্যমন্তক সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

২. অর্হণা: অর্হণা : এক মলাটে সম্পূর্ণ উপন্যাস অর্হণা

৩. সন্মিত্রা: সন্মিত্রা সম্পূর্ণ উপন্যাস : প্রথম থেকে শেষ পর্ব

৪. তিনে দুয়ে দশ: তিনে দুয়ে দশ সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

৫. তিনে দুয়ে দশ: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী সমগ্র পর্ব

৬.  অলৌকিক শিশু:  অলৌকিক শিশু: এক মলাটে অলৌকিক শিশু

error: Content is protected !!