রাশিয়া (Russia) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

রাশিয়া (Russia)

রাশ (Rus) শব্দ হতে রাশিয়া নামের উদ্ভব। এটি ছিল একটি মধ্যযুগীয় দেশ, যার অধিকাংশ অধিবাসী ছিল ইস্ট স্ল্যাভ (East Slavs)। জনবাহুল্য ও অন্যান্য কারণে ক্রমান্বয়ে নামটি বিশ্ব ইতিহাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠে। অধিবাসীদের দ্বারা দেশটি

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

রুশকাইয়া জেমলাইয়া (russkaya zemlya) নামে অভিহিত হতে থাকে। এর অর্থ রাশিয়ান ভূমি বা রাশদের ভূমি। সম্ভবত সুইডিশ ভাইকিংস এর নেতৃত্বে ভারানগিয়ানস (Varangians) নামের এক দল লোক রাশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের রাশ নাগরিক হিসেবে পরিচিত করে। আবার অনেকের মতে বাইজানটাইন গ্রিক (Byzantine Greek)  রোশিয়া শব্দ হতে  ইংরেজি ও রাশিয়ান রোশিয়া বা রোশাইয়া Rosia or Rossiya) শব্দের উদ্ভব হয়। যার অর্থ  রোশদের (Rus)ভূমি ল্যান্ড অব রশ। তবে এ বিষয়ে সব ঐতিহাসিকগণ একমত যে, ভারানগিয়ান জনগোষ্ঠী হতে রশ বা রাশিয়ান জনগোষ্ঠীর উদ্ভব। রাশিয়া ম্যাপ দেখতে দেওয়ালে লটকিয়ে রাখা ভল্লুক-চামড়ার মতো।

রাশিয়া প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি প্রজাতন্ত্র। প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যে ১৫ টি প্রজাতন্ত্র হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে : রাশিয়া, ইউক্রেন, জর্জিয়া, বেলরুশিয়া, উজবেকিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইযান, কাজাখাস্তান, কিরগিজস্তান, মলদোবা, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়া। রাশিয়া নামটি রাশ নামক মধ্যযুগীয় একটি রাষ্ট্র থেকে এসেছে যেখানকার অধিকাংশ জনগণই ছিল ইস্ট স্লাভ গোত্রের। পরবর্তীকালে ঘটনা পরম্পরায় নামটি আরও বিশিষ্ট হয়ে ওঠে দেশটিকে এর জনগন russkaya zemlya বলে ডাকতে শুরু করে। যার অর্থ রুশ ভূমি বা রাশ এর ভূমি। রাশিয়া ও এই রাষ্ট্র হতে উদ্ভূত রাষ্ট্রের নামের পার্থক্য করারা জন্য আধুনিক ইতিহাসে একে

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

কিয়েভান রাশ বলে ডাকা হয়। রাশ নামটি রাশ নামের একটি গোত্র থেকে এসেছে যারা ছিল মূলত ভারাঞ্জিয়ানদের একটি দল। কথিত হয় এর ছিল সুইডিশ ভাইকিং এবং এরাই প্রথম রাশ নামে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

রাশ শব্দটির পুরনো ল্যাটিন ভাষার একটি সংস্করণ ছিল রুথেনিয়া যেটি দক্ষিণ ও পশ্চিম রাশে বেশি ব্যবহার করা হতো। অঞ্চলটা ক্যাথলিক ইউরোপ সংলগ্ন ছিল। দেশটির বর্তমান নাম (Rossiya) কিয়েভান রাশ এর বাইজান্টাইন ড়্রকি শব্দ Rossía (Rosía উচ্চারিত হবে [roˈsia]) থেকে এসেছে। রাশিয়ার অধিবাসীদের রুশ (Rossiyane) বলা হয়।

রাশিয়ার দাপ্তরিক নাম রাশিয়ান ফেডারেশন। রাজধানী মস্কো, সরকারি ভাষা রাশিয়ান, তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ২৭টি ভাষা উপ-দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এটি উত্তর ইউরেশিয়াতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। দেশটি অর্ধ প্রেসিডেনসিয়াল ফেডারেল প্রজাতন্ত্র যার সংবিধান ৮৩ টি ফেডারেল বিষয় দ্বারা গঠিত। রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব পর্যন্ত নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ড, বেলারুশ, ইউক্রেন, জর্জিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, চীন, মঙ্গোলিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সাথে সীমান্ত আছে। দেশটির অখতস্ক সাগরের মাধ্যমে জাপানের সাথে ও বেরিং প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সাথে সামুদ্রিক সীমানা রয়েছে। রাশিয়ায় পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির এক অষ্টমাংশ রয়েছে। এটি  ৯টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

রাশিয়ার মোট আয়তন ১,৭০,৯৮,২৪২  বর্গ কিলোমিটার বা  ৬৫,৯২,৮০০ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় অংশ ১৩%। ২০১৫

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, রাশিয়ার অনুমিত জনসংখ্যা ১৪,৩৯,৭৫,৯২৩। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮.৪। আয়তনের দিক হতে রাশিয়া পৃথিবীর  বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার দিক হতে ৯ম। অন্যদিকে জনসংখ্যার ঘনত্ব¡ বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ২১৭-তম জনঘনত্বের দেশ। রাশিয়ান জনসংখ্যার মধ্যে ৮১% রাশিয়ান, ৩.৭% তাতার, ১.৪% উইক্রাইন, ১.১% বশকির, ১.০% চুভাশ, ০.৮% চেচেন এবং ১১.০% অন্যান্য। রাশিয়ায় পুরুষের চেয়ে মহিলার সংখ্যা অনুমান ১০ মিলিয়ন বেশি।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রচুর সংখ্যক রাশিয়ান সৈনিক মারা যাওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে অনুমান করা হয়। রাশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ। এটি পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের নয় ভাগব্যাপি বিস্তৃত। রাশিয়ার ভূ-ভাগের আয়তন আমেরিকার  মোট আয়তনের ১.৮ গুণ। রাশিয়ার মস্কোতে পৃথিবীর অধিক সংখ্যক বিলোনিয়ার বাস করে। ফর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবমতে, মস্কোতে বিলোনিয়ারের সংখ্যা ৭৯। নিউ ইয়র্কে বাস করেন ৭১ জন। রুশ ভাষা রাশিয় বা রুশ প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা। এ ভাষায় দেশের প্রায় ৮০% লোক কথা বলে। এছাড় এখানে প্রায় ৮০টিরও অধিক ভাষা প্রচলিত।

রাশিয়ার অর্থনীতির জিডিপি ও সমক্রয় ক্ষমতা বিশ্বের মধ্যে অষ্টম বৃহত্তম। রাশিয়ার ব্যাপক খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ একে বিশ্বের বৃহত্তম মজুদদার হিসাবে তৈরি করেছে। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন পাঁচটি স্বীকৃত দেশের মধ্যে অন্যতম এবং এর বিশ্বের বৃহত্তম ধ্বংসাত্মক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, রাশিয়ার জিডিপি (পিপিপি) ৩.৪৫৮ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার (৬ষ্ট), সে

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

হিসাবে মাথাপিছু আয় ২৩,৭৪৪ ইউএস ডলার(৫৩-তম)। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১.১৭৬ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার (১৫-তম) এবং মাথাপিছু আয় ৮,৪৪৭ ইউএস ডলার(৭৪-তম)। রাশিয়ার মুদ্রার নাম রুবেল। কানাডা, মেক্সিকো, ভারত ও ইসরায়েলের মতো রাশিয়ার রুবেলেও ব্রেইল মার্ক আছে। যাতে অন্ধরা চিনতে পারে।

রুশ বিপ্লবের পর রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটিভ সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক সোভিয়েত ইউনিয়ন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭২১ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর রাশিয়ান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।  ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ নভেম্বর রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটিভ সোসাইলিস্ট রিপাবলিক (Russian Soviet Federative Socialist Republic ) গঠন করা হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ান ফেডারেশন গঠিত হয়।১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর বতমান সংবিধান গৃহীত হয়। ১৯৯১ সালে সোভিতে ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওযার পর এস এফ এস আর রুশ ফেডারেশন হিসাবে গঠিত হয় এবং একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত হয়।

রাশিয়া ইউরেশিয়া ভূখণ্ডের উত্তর অংশের বেশির ভাগ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ার বেশির ভাগ অংশ

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

রাশিয়াতে পড়েছে। এটি আয়তন বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। বিশাল রাশিয়ার প্রকৃতি একই সাথে বৈচিত্র্যময় ও বৈচিত্র্যহীন। রাশিয়া বিশ্বের শীতলতম দেশ। এ দেশে সারাবছর হিমশীতল এবং শৈত্যপূর্ণ থাকে। এ দেশে বছরে ১০ মাস শৈত্যপ্রবাহ (সেপ্টেম্বর-মে) এবং ৮ মাস বরফাচ্ছন্ন (অক্টোবর-এপ্রিল) হয়ে থাকে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া এলাকায় সারাদিন ঠান্ডা ও শৈত্যপ্রবাহ থাকে এবং পশ্চিম-দক্ষিণাংশে গরম থাকে।

রাশিয়ার ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ পৃথিবীর দীর্ঘতম রেলপথ। ৯,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ একক রেলপথটি প্রায় পুরো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে মস্কো থেকে ইউরোপ পর্যন্ত চলে গিয়েছে। ভ্লাদিভোস্টক এ রেলপথের শেষ স্টেশন। বিরতিহীনভাবে এ রেলপথ পুরো অতিক্রম করতে হলে ১৫২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট সময় প্রয়োজন। ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ ৮টি সময়-অঞ্চল (time zones) ৮৭টি শহর এবং ভল্গাসহ ১৬টি নদীর অতিক্রম করে শেষ গন্তব্যে ছুটে যায়।

রাশিয়ার আয়তন প্লুটোর চেয়ে বড়। নিকটতম সীমান্ত হতে রাশিয়া আর আমেরিকার দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটারের কম। ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে  মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে রাশিয়া আমেরিকার নিকট হতে আলাস্কা ক্রয় করে নিয়েছিল। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এত বছর পরও রাশিয়া ও জাপান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি। বিশ্বের মোট সুপেয় তরল পানির

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

২০% রাশিয়ার বৈকাল হ্রদে জমা হয়ে আছে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, রাশিয়া হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি প্রতিদিন ৯৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। সৌদি আরব তেল উৎপাদনে প্রথম। প্রতিদিন ১ কোটি ৯ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। যেভাবে তারা তেল উত্তোলন করছে, বলা হয়- ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে।

রাশিয়া প্রায় সময় পৃথিবীর বন্ধুত্বপূর্ণ দেশসমুহের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। তবে রাশিয়ানদের স্কুলে হাসতে নিষেধ করা হয়। তবে তারা অন্য সময় খুব হাসে এবং যে কোনো বিষয় সহায়তা করার জন্য আন্তরিকভাবেএগিয়ে আসে। রাশিয়ায় প্রিয়জনদের কখনও জোড়াসংখ্য ফুল উপহার দেওয়া হয় না। এটাকে অপয়া ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে ভাবা হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, রাশিয়ান মেয়েরা ৬ ইঞ্চি লম্বা হিল পরেও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। এক তৃতীয়াংশ রাশিয়ান বিশ্বাস করেন, সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে। ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে রাশিয়ান বিজ্ঞানীর শিয়ালকে কুকুরের মতো পোষ মানিয়ে লালন পালন করে আসছে। রাশিয়ার সম্রাট পিটার দ্যা গ্রেট এর আমলে দাড়ির জন্য টেক্স দিতে হতো।

হার্মিটেজ( Hermitage) ছয়টা ভবন নিয়ে নির্মিত একটি বিশালাকারের জাদুঘর। এখনে ৩ মিলিয়নের অধিক প্রদর্শন-বস্তু রয়েছে। কেউ যদি প্রতিটি প্রদর্শনী দেখার জন্য ২মিনিট করে সময় ব্যয় করে, তাহলে সবগুলো দেখতে ৬ বছর সময় লাগবে। এটি

ড. মোহাম্মদ আমীন

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর। ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে  ক্যাথরিন দ্যা গ্রেট (Catherine the Great) এটি প্রতিষ্ঠা করেন। হার্মিটেজ সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত। এ জাদুঘরে ১৪ মাইল মার্বেল করিডোর রয়েছে। ৭০টি বিড়াল ইঁদুর হতে মূল্যবান সম্পদ রক্ষার পাহারায় নিয়োজিত থাকে সর্বক্ষণ।

ভোদকা বা অ্যালকোহলিক পানীয় রাশিয়ায় খুব প্রিয়। প্রত্যেক রাশিয়ান গড়ে প্রতিবছর ১৮ লিটার অ্যালকোহল পান করেন। এর চেয়ে বেশি পান করাকে ক্ষতিকর বলা হয়। প্রতিবছর রাশিয়ায় ৫ লক্ষ মানুষ অ্যালকোহলজনিত রোগে মারা যায়। রাশিয়ান শব্দ ভোদা হতে ভোদকা শব্দের উৎপত্তি। ভোদা অর্থ পানি। আমেরিকার ১% এর তুলনায় রাশিয়ায় ২৫% লোক কেবল ভোদকা পানের কারণে ৫৫ বছর বয়স পূর্তি হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করে। আর্থিক দুরবস্থা ও চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় শিক্ষকদের টাকার বদলে ভোদকা দিয়ে মাইনে পরিশোধ করা যেত। ২০১৩ পর্যন্ত বিয়ারকে রাশিয়া অ্যালকোহলিক পানীয় বলা হতো না।

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে  লন্ডনে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে রাজকীয় রাশিয়ন দল খেলা শুরু হওয়ার ১২ দন পর উপস্থিত হয়েছিল। কারণ তখনও তারা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত না। এ মস্কোর ট্রাফিক বা যানজট পার হয়ে দ্রুত গন্তব্যস্থলের যাওয়ার কৌশল হিসাবে মস্কোর ধনীরা  ভুয়া রোগী সেজে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে। রাশিয়ায় ময়লাযুক্ত গাড়ি চালানো অপরাধ। রাশিয়ার একটি গ্রাম সুজডাল। এটির আয়তন মাত্র ১৫ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু এ অল্প আয়তনের এ গ্রামে ৫৩ চার্চ রয়েছে। এর জনসংখ্যা ১০,০০০। ভেনিস শহরে যত সেতু আছে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে তার চেয়ে তিনগুণ সেতু রয়েছে। এখানে ১০০০ সেতু রয়েছে। যা বিভিন্ন নদীর উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যাকডোনাল্ড দোকান রাশিয়ায় অবস্থিত। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের অলিম্পিক গেমসের জন্য এটি করা হয়েছিল। এখানে ৭০০ আসনে একসঙ্গে ১,৫০০ লোক বসার ব্যবস্থা ছিল। তবে উদ্বোধনের ছয় সপ্তাহ পর অলিম্পিক গেমস শেষ হওয়ায় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্টালিন ৮ বছর বয়সের পূর্বে রাশিয়ান বলতে পারতেন না। কারণ তার পিতামাতা ছিলেন জর্জিয়ান। হিটলারের পরিকল্পনা ছিল, রাশিয়া জয় করার পর সেন্ট পিটার্সবার্গের অস্টিন হোটেলে অসংখ্য ফুলের তোড়া বিজয় উদ্‌যাপন করবেন। রাশিয়ায় ৮৪০০ নিউক্লিয়ার বোমা রয়েছে। যা সংখ্যায় অন্য যে কোন দেশের চেয়ে বেশি। কথিত হয়, রাশিয়ায় কমপক্ষে ১৫টি গোপন শহর আছে। যাদের নাম ও অবস্থান অজানা। রাশিয়ার নৃশংস খুনি ভ্লাদিমির নিকোলায়েভ যাদের হত্যা করত, তাদের কারও কারও মাংশ নিজেই খেয়ে ফেলত। বাকিদের মাংস তার এক বন্ধুকে দিত। বন্ধুর স্ত্রী মাংসগুলো ক্যাঙ্গারুর মাংশ মনে করে পরিবারের সদস্যদের খেতে দিত।


মন্টিনেগ্রো (Montenegro) : ইতিহাস ও নামকরণ

নেদারল্যান্ডস (Netherlands) : ইতিহাস ও নামকরণ

নরওয়ে (Norway) : ইতিহাস ও নামকরণ

পোলান্ড (Poland) : ইতিহাস ও নামকরণ

পর্তুগাল (Portugal) : ইতিহাস ও নামকরণ

রোমানিয়া (Romania) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

error: Content is protected !!