রোমানিয়া (Romania) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

রোমানিয়া (Romania)

রোমানিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। কৃষ্ণ সাগরের পাশে মধ্য ইউরোপ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের মাঝে রুমানিয়া

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

অবস্থিত। এর উত্তর-পূর্বে ইউক্রেন ও মোলদোভা, পশ্চিমে হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়া, দক্ষিণে বুলগেরিয়া ও দানিউব নদী। রোমানিয়ার পূর্বদিকে কৃষ্ণ সাগর, আর কার্পেথিয়ান পর্বতমালার পূর্ব ও দক্ষিণাংশ রোমানিয়ার মধ্যভাগে অবস্থিত।

ল্যাটিন রোমানাস (romanus) শব্দ থেকে রোমানিয়া (Romania) শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ রোমের নাগরিক (citizen of Rome)।রোমান সাম্রাজ্য এক সময় পৃথিবীর একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশব্যাপী বিস্তৃত ছিল। বিশ্ব সভ্যতায় রোমান সাম্রাজ্যের অনেক অবদান, কাহিনী রয়েছে। রোমান সাম্রাজ্য থেকে রুমানিয়া নামের উৎপত্তি। রুমানিয়া নামে পরিচিত বর্তমান ভূখণ্ডটিতে এক সময় প্রচুর রোমান ও রোমান অনুগত জনগোষ্ঠী প্রভাবশালী হয়ে উঠে। তাই ভূখণ্ডটির নাম হয় রোমানিয়া। মূলত রোমান শব্দটি রোমানিয়ানদের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নাম ছিল। ল্যাটিন রোমানাস শব্দ হতে রোমান শব্দের উৎপত্তি। ষোড়শ শতক হতে নামটি ইটালিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ডিসেম্বর দাপ্তরিকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে  প্রথম ক্যারোল (Carol I) এর শাসনামলে সাংবিধানিকভাবে দেশটির নাম রোমানিয়া রাখা হয়।

রোমানিয়ার আয়তন ২,৩৮,৩৯১ বর্গ কিলোমিটার ও জনসংখ্যা  ২,০১,২১,৬৪১। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর ৮৩-তম ও জনসংখ্যার দিক থেকে ৫৬-তম বৃহৎ রাষ্ট্র। জনগণের মাথাপিছু আয় ৮,৬৩১ মার্কিন ডলার। এর রাজধানী বুখারেস্ট। দাপ্তরিক ভাষা রোমানিয়ান। মুদ্রা হচ্ছে রোমানিয়ান লিউ। ১,৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মে দেশটি অটোমান সাম্রাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

বুখারেস্ট রোমানিয়ার রাজধানীর ও বৃহত্তম শহর। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নবম বৃহত্তম দেশ। এর আয়তন  ২৩৮.৪০০ বর্গ কিলোমিটার (৯২,০০০ বর্গ মাইল)। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সপ্তম বৃহত্তম দেশ। রুমানিয়ার

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

জনসংখ্যার ১৯ মিলিয়নের অধিক। রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের দশম বৃহত্তম শহর। এ শহরের লোকসংখ্যা ২০ লাখ।

১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন রোমানিয়ার পতাকা প্রথম গ্রহণ করা হয়। ১৮৬৭ খ্রিস্টাবে কিছুটা পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর শেষবারের মতো গ্রহণ করা হয়। এটিই বর্তমানে ব্যবহৃত রোমানিয়ার জাতীয় পতাকা।

মদ্য উৎপাদনে রোমানিয়ার স্থান পৃথিবীতে ৯ম। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে  রোমানিয়া ১০ বানির নোট প্রচলন করে। ১.০৮ x ১.৪৯ ইঞ্চি আয়তনের এ কাগুজে মুদ্রা ছিল পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম কাগুজে মুদ্রা। বুখারেস্টে জন্মগ্রহণকারী হেনরি কোন্ডা ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে  আধুনি জেট ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন। বুখারেস্টে অবস্থিত রোমানিয়ার সংসদ ভবন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভবন। ৩,৩০,০০০ বর্গমিটার আয়তনের এ প্রসাদকে পিপলস প্যালেসও বলা হয়। সুয়েজ ও পানামা খালের পর দানিয়ুব হতে  রোমানিয়ার দক্ষিণপূর্ব কৃষ্ণ সাগর খাল পর্যন্ত  বিস্তৃত খালটি মনুষ-নির্মিতি ও নৌচলাচলের উপযোগীয় পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম খাল।

ইউরোপ মহাদেশে প্রথম ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে  রোমানিয়ার ত্রিমিসোরা (Timisoara) শহরের সড়কে বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানো হয়। পেলেস ক্যাসল প্রথম ইউরোপীয়ান ক্যাসট যার পুরোটাই বৈদ্যুতিক আলোকে আলোকিত করা হয়েছিল। এ বৈদ্যুতিক ক্যাসলের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হতো। ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে  এটি নির্মাণ করা হয়। যা আজও বিদ্যমান রয়েছে। স্কারিসোআসার গ্লেসিয়ার ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ গ্লেসিয়ার। ৩,৫০০ বছর পূর্ব হতে বিদ্যমান এ গ্লেসিয়ারের আয়তন

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

৭৫,০০০ কিউবিক মিটার। দানিয়ুব নদীর তীরে কঠিন শিলাপাহাড়ে উৎকীর্ণ ডাকিয়ান রাজ ডেসেবাল এর ১৩৫ ফুট লম্বা ভাস্কর্য ইউরোপের দীর্ঘতম শিলাভাস্কর্য (rock sculpture)।

ইউরোপের সবচেয়ে বেশি জিপস গোষ্ঠীর বাস রোমানিয়ায়। রোমানিয়ার সিবু অঞ্চলে অবস্থিত আস্ত্রা মিউজিয়াম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আউট-ডোর মিউজিয়াম। স্বর্ণসম্পদে রোমানিয়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ এখানে রয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম স্বর্ণ মিউজিয়াম। বুখারেস্ট পৃথিবীর প্রথম শহর, যেখানে ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে  তেলের বাতি জ্বালিয়ে আলোকিত করা হয়। জলরাশির পতন বৈচিত্র্য বিবেচনায় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত রোমানিয়ার ক্যারাস সেভেরিনে অবস্থিত বিগার ক্যাসক্যাড জলপ্রপাত (Bigar Cascade Falls)।

রোমানিয়ানরা যেখানে সেখানে এবং প্রচুর সিগারেট পান করে। তাই সিগারেট কালোবাজারি রোমানিয়ার জন্য খুব লাভজনক ব্যবসা। বাসায় ঢোকার পূর্বে রোমানিয়নেরা সবসময় তাদের জুতো বাইরে রেখেই ঢুকে। হয়তো তারা তাদের ফুসফুসের চেয়ে নিজেদের বাড়ির মেঝেকে অধিক পরিষ্কার রাখার পক্ষে।  রোমানিয়ানরা বাঙালির মতো সবসময় তাদের প্রশাসন, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি প্রভৃতি নিয়ে অভিযোগ করে থাকেন। আসলে তা ঠিক নয়। আঠারো বছরের অধিক বয়ষ্ক রোমানিয়ানদের প্রথম স্বপ্ন যুক্তরাজ্য গমন অথবা এমন একটি দেশে যাওয়া, যেটি রোমানিয়া নয়।

রোমানিয়ার  মারামুরেজ উপত্যাকায় অবস্থিত সাপান্তা একটি ছোট গ্রাম। এখানে রয়েছে একটি সমাধিক্ষেত্র বা কবরস্থান। যার সারা বিশ্বে কলহাস্যময় সমাধিক্ষেত্র বা প্রফুল্লময় কবরস্থান (Merry Cemetery) হিসাবে খ্যাত। এখানকার সমাধিগুলো বেশ রঙচঙে এবং ফুর্তিময় জাকজমকে সজ্জিত। সমাধির গাত্রে অঙ্কিত চিত্র যেমন আনন্দময় তেমনি মজাদার। লিখিত কবিতার লাইনও রসময় বোধে উৎফুল্ল। রোমানিয়ান জ্যামনিস্ট নাদিয়া এলেনা কোমানিচি ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে  কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৩টি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর।


নেদারল্যান্ডস (Netherlands) : ইতিহাস ও নামকরণ

নরওয়ে (Norway) : ইতিহাস ও নামকরণ

পোলান্ড (Poland) : ইতিহাস ও নামকরণ

পর্তুগাল (Portugal) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!