লাতিন ভাষা ও তার উচ্চারণবিধি

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/লাতিন-ভাষা-ও-তার-উচ্চারণব/
লাতিন স্বরধ্বনি
a:  লাতিন ভাষায়  ‘a’ বর্ণটি হ্রস্ব ও দীর্ঘ উভয় ধ্বনিতে উচ্চারিত হয়। হ্রস্ব এর উচ্চারণ হয় অনেক বাংলা ধ্বনি অ্যা-এর কাছাকাছি। দীর্ঘ হলে তার উচ্চারণ হয় আ। হ্রস্ব-স্বরটি কেমন হবে তা বাংলায় দেখানোর কোনো বর্ণ বা চিহ্ন নেই। তাই সাধারণভাবে লাতিন a বর্ণের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ আ বর্ণ দিয়ে নির্দেশ করা হয়।
e: লাতিনে e বর্ণের তিনটি পৃথক রূপ দেখা যায়। প্রথম: হ্রস্ব ধ্বনি এ(e); এটি অনেক pen শব্দের e বর্ণের মতো। দ্বিতীয়: প্রথম হ্রস্বের চেয়ে আরও হ্রস্ব। এর উচ্চারণ অনেকটা বাংলা ই (i) বর্ণের মতো। তৃতীয়টি হচ্ছে দীর্ঘ e ধ্বনি। এটি হচ্ছে বাংলা এ ধ্বনির দীর্ঘায়িত রূপ। এই দীর্ঘ ধ্বনিকে বাংলায় সাধারণত এ বর্ণ দিয়ে নির্দেশ করা হয়।

i:  i ধ্বনির হ্রস্ব ও দীর্ঘ রূপ যথাক্রমে ই ও ঈ ধ্বনির মতো। সাধারণভাবে এই দুই ধ্বনির উচ্চারণ স্পষ্ট। তবে নামের ক্ষেত্রে এই দুই ধ্বনির প্রভেদ স্পষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন মনে হয়। বাংলায় লাতিন  এই স্বরধ্বনিকে ই ও ই-কার চিহ্নিত করা হয়। 

o: o  লাতিন  o  বর্ণে দুটি ধ্বনির উচ্চারণ দেখা যা। একটি সংবৃত অন্যটি বিবৃত, দুটোর স্পষ্ট এবং ব্যাপকভাবে অর্থবহ। উচ্চারণ দুটির একটি অ। যা not, lot শব্দের o- ধ্বনির উচ্চারণের মতো। অন্যটি ও। এর উচ্চারণ note  ও boat শব্দের o ধ্বনির মতো।
u:  লাতিন ভাষায় u ধ্বনির দুটি উচ্চারণ দেখা যায়। দুটোই অনেকটা বাংলা উ ধ্বনির মতো। তবে অবিকল নয়। একটি কিছুটা হ্রস্ব এবং একটি কিছুটা দীর্ঘ, তেবে ঊ-এর মতো নয়। হ্রস্বটির উচ্চারণ অনেকটা ফরাসি u ধবনির মতো। যাকে বাংলায় য়্যু চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করা যায়। দীর্ঘ ধ্বনির উচ্চারণ ইংরেজি fool শব্দের oo ধ্বনির মতো। প্রসঙ্গত, লাতিন ভাষায় u বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি u ধ্বনির মতো হয় না।
লাতিন যুগ্মস্বর বা যুক্তস্বর (diphthong)
ae:  ae এর উচ্চারণ ‘এই’, eia, প্রসঙ্গত, eia শব্দের উচ্চারণ এইয়া।
eu:eu-এর উচ্চারণ এউ বা এয়ু। এটি অনেকটা Eutropius নামের Eu এর মতো। পুরো শব্দটির উচ্চারণ:  এউত্রোপিয়ুস।
oe: লাতিন যুগ্মস্বর oe ধ্বনির উচ্চারণ অয়। এটি boy শব্দের oy উচ্চারণের মতো।
ui: লাতিন ui শব্দের উচ্চারণ উই। উদাহরণ: Louis নামের oui ধ্বনির মতো।
ব্যঞ্জনধ্বনি
b: লাতিন b বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি b ধ্বনির মতো ওষ্ঠ্য। বাংলায় লাতিন b ধ্বনির উচ্চারণ ব বর্ণের মতো।
c:লাতিন c বর্ণের বর্তমান প্রচলিত উচ্চারণ ইংরেজি k বর্ণের মতো। বাংলায় যার উচ্চারণ ক বর্ণের মতো। তবে প্রাচীন লাতিন ভাষায় এই বর্ণটি ছিল গ্রিক গামা বর্ণের একটি লাতিন রূপ। চতুর্দশ  শতকের দিকে বর্ণটি গ্রিক বর্ণ কাপ্পার অনুরূপ উচ্চারণ পেয়ে যায়। তাই প্রাচীন লাতিনে c বর্ণের পরিবর্তে g  এবং g বর্ণের পরিবর্তে c ব্যবহৃত হতো। এখন লাতিন c  কেবল ক (k) উচ্চারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
d:লাতিন d সর্বদা বাংলা দ বর্ণের মতো ‍উচ্চারিত হয়। ইংরেজি d বর্ণের মতো উচ্চারিত হয় না।
f: লাতিন f বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি f বর্ণের মতো।
g:লাতিন g আধুনিক বর্ণ। প্রাচীন লাতিন ভাষায় g বর্ণটি ছিল না। g বর্ণের কণ্ঠমুলীয় ধ্বনি c দিয়ে g বর্ণের প্রয়োজন মেটানো হতো। দ্বিতীয় পিউনিক যুগের পর বর্ণটি লাতিন ভাষায় পৃথক বর্ণ হিসেবে স্থান পেয়ে যায়। উচ্চারণ কিছুটা কণ্ঠমূলীয় হলেও উচ্চারণ বাংলা ‘গ’ বর্ণের কাছাকাছি।
h: লাতিন h বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ বাংলা হ। তবে, দুই স্বরধ্বনির মধ্যবর্তী h সাধারণ অতি মৃদু স্বরে উচ্চারিত হয়। আসলে এই উচ্চারণ এত মৃদু যে, তা প্রায়শ উচ্চারিত হয়েছে কি না তা টের পাওয়া যায় না। শব্দের শুরুতে  h বর্ণের পর স্বরধ্বনি থাকলে ওই h ধ্বনির উচ্চারণ খুব মৃদু হয়।
j: লাতিন ভাষায় j বর্ণের উচ্চারণ ইয়। এই ভাষায়  i এবং j বর্ণের ধ্বনিগত নিবিড়তা এত ঘনিষ্ঠ যে, প্রায়শ একটির পরিবর্তে অন্য বর্ণটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। অর্থাৎ j বর্ণের পরিবর্তে i ব্যবহৃত হয়। যেমন:  Julius নামের উচ্চারণ ইয়ুলিয়ুস।
k: প্রাচীন লাতিনে k বর্ণটির অস্তিত্ব ছিল। তবে c বর্ণ দিয়ে k বর্ণের কাজ করা হতো। তাই ক্রমান্বয়ে বর্ণটির ব্যবহার লুপ্ত হয়ে যায়।
l:  লাতিন l বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি বর্ণ l এবং গ্রিক বর্ণ ল্যামডার মতো। বাংলা এর উচ্চারণ অবিকল ল।
m: লাতিন m বর্ণের উচ্চারণ বাংলা ম বর্ণের অনুরূপ।
n: লাতিন n বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি  n বর্ণের মতো। বাংলায় যেটি দন্ত্য-ন বর্ণের উচ্চারণকে দ্যোতিত করে।
p: লাতিন  p বর্ণের উচ্চারণ সাধারণভাবে বাংলা প বর্ণের মতো বলা হলেও অবিকল প নয়। এর উচ্চারণ কিছুটা মহাপ্রাণিত (aspirated)। অর্থাৎ অনেকটা ইংরেজি p বর্ণের মতো।
q: লাতিন q শব্দের উচ্চারণ বাংলা ক অর্থাৎ ইংরেজি k বর্ণের মতো। king শব্দের k এর মতো।
r: লাতিন r শব্দের উচ্চারণ ইংরেজি r  এবং বাংলা র বর্ণের অনুরূপ।
s: লাতিন ভাষা s বর্ণের উচ্চারণ সাধারণ ইংরেজি s বর্ণের মতো। উদাহরণ: ইংরেজি coast, post, boast শব্দের s ধ্বনির মতো। তবে nose শব্দের ধ্বনির মতো নয়।
t: লাতিন t বর্ণের উচ্চারণ বাংলা ত ধ্বনির মতো। এটি অঘোষ দন্ত্য ধ্বনি।
v:  প্রাচীন লাতিন ভাষায় v  ধ্বনির জন্য u ধ্বনি ব্যবহার করা হতো। এর উচ্চারণ ও্‌য়। ইংরেজি w ধ্বনির অনুরূপ। তবে শব্দের মধ্যে দুই স্বরধ্বনির মধ্যবর্তী v অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুচ্চারিত থেকে যায়। লাতিন v ধ্বনির জন্য বাংলা হ্ব বা ভ. লিখলে লাতিন v ধ্বনির প্রায় অনুরূপ উচ্চারণ পাওয়া যায়।
w: লাতিন ভাষায় w বর্ণ নেই।
 x: লাতিন ভাষা x বর্ণের উচ্চারণ ক্স বা ক্‌স। ইংরেজিতে বলা যায়: ks।
y: লাতিন ভাষায় y বর্ণ নেই। তবে কিছু কিছু গ্রিক শব্দে  y বর্ণের ব্যবহার দেখা যায়
z: লাতিন z বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি z বর্ণের অনুরূপ।
Spelling and Pronunciation
HTTPS://DRAMINBD.COM/ENGLISH-PRONUNCIATION-AND-SPELLING-RULES-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
error: Content is protected !!