লাশ বা মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসঙ্গম

ড. মোহাম্মদ আমীন

 
মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসংগম করার বাতিককে বলা হয় নেকরোম্যানিয়া বা নেকরোফিলিয়া। যারা এমন এমন বাতিকগ্রস্ত তাদের বলা হয় নেকরোম্যানিয়াক।
 
নেকরোম্যানিয়া: নেকরোম্যানিয়া (necromania ) অর্থ মৃতদেহের প্রতি অপ্রতিরোধ্য যৌন আকর্ষণ, মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করার প্রচণ্ড ইচ্ছা বা বাতিক । necromania নামের একটি চলচ্চিত্র আছে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত ৫৪ মিনিটের এই পর্নো ছবিটির পরিচালক ছিলেন Ed Wood. নেকরোম্যানিয়ার সমার্থক শব্দ নেকরোফিলিয়া (necrophilia)। এর অর্থ মৃতদেহের প্রতি যৌন আকর্ষণ বা মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করার প্রবল ইচ্ছা।
 
এটা একটি মারাত্মক যৌনবিকৃতি এবং অপ্রতিরোধ্য নেশা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সাংঘাতিক একটি মানসিক রোগ। এই রোগে আক্রান্তরা লাশ ঘরে গিয়ে এমনকি কবর থেকে লাশ তুলে কিংবা কবরের মধ্যে নেমে মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসংগম করে। এরূপ ভূরিভূরি নজির রয়েছে। প্রচুর লোক এ কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে।
যেসব মৃতদেহ এরূপ যৌন বিকৃতির শিকার হয়, তাদের মরণোত্তর ধর্ষিতা বলা যায়।
 
লাশ ঘরে যুবতি মহিলাদের বেশির ভাগই এরূপ মরণো্ত্তর ধর্ষণের শিকার হয়। মৃতদেহের প্রতি এ বিষয়ে অভিভাবকগণের তেমন নজর থাকে না। আবার অধিকাংশ লাশের কোনো অভিভাবক থাকে না। থাকলেও লাশ ঘরে নেওয়া মৃতদেহের প্রতি সবার  উপেক্ষা বা অবহেলার ভাব থাকে। অন্যদিকে, হাসাপাতাল কতৃপক্ষও লাশ নিয়ে  পর্যাপ্ত সতর্কতা আবশ্যক বলে মনে করে না। সবার ধারণা, মরে যখন গেছে তার প্রতি আর এত সময়-শ্রম নষ্ট করার কী প্রয়োজন। এই সুযোগে নেকরোম্যানিয়াকরা মৃতদেহের সঙ্গে সহজে যৌনসংগম করার সুযোগ পায়। এবং তা নিরাপত্তার সঙ্গে কাজে লাগায়। একবার লাশের সঙ্গে যে ব্যক্তি যৌনসংগম করেছে, সে তা বারবার করার জন্য প্রচণ্ড উন্মাদ হয়ে যায়। অনেকের যৌনবিকৃতি এত ভয়ানক হয়ে যায় যে, হত্যা করে যৌনসংগম করে। এমনকি মৃতদেহ পচে গেলেও অনেকের আকর্ষণের কমতি হয় না।
 
 লাশ ঘরে কাজ করে এমন ডোমদের অনেকে এমন যৌনবিকৃতিতে ভোগে। তবে তা খুব কমই আমাদের দৃষ্টিতে আসে। কে বলবে, লাশ তো আর অভিযোগ করতে পারে ন! অভিযোগ করতে পারে না বলে তাকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, নিরাপত্তা দেয় না। িঅন্যদিকে,  মূল্যহীন বলে  নারীপুরুষ সবার মৃতদেহ সাধারণত ডোমদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এই সুযোগে তাদের অনেকের মাঝে মৃতদেহের সঙ্গে যৌনসংগম করার ইচ্ছা জাগ্রত হতে থাকে। এবং তা ক্রমশ অপ্রতিরোধ্য বাতিকে পরিণত হয়। ফলে লাশের সঙ্গে যৌনসংগম করে। একবার লাশের সঙ্গে যৌনসংগম করার পর আমৃত্যু তা নিরাপদে চালিয়ে যায়। কেউ টের পায় না।  লাশের দায়িত্বে থাকে বলে ইচ্ছাপূরণে তাদের বিঘ্ন ঘটে না। উন্নত দেশে এসব নিয়ে ভাবা হয়, কিন্তু অনুন্নত দেশে মোটেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হয় মৃতদেহ। এ বিষয়ে কড়া দৃষ্টি নিবন্ধ করা প্রয়োজন। যে-কেউ শিকার হতে পারে এমন বিকৃত কাজের।
 
লাশের সঙ্গে যৌনসংগম করার অপরাধে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে নভেম্বর রাতে  মুন্না ভগত নামের এক যুবককে গ্রেফতা করা হয়। সে   সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে এক নারীর আত্মহত্যাজনিত ঘটনায় হাইকোর্ট অপমৃত্যুর রায় দেয় যে, মৃত্যুর ঘটনায় নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব।  এই কাজ করতে গিয়ে মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানা এলাকায় অপমৃত্যু হওয়া ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ তরুণীর মৃতদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাঁচটি লাশেই একই ব্যক্তির শুক্রাণু। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে, মৃতদেহের যৌনাঙ্গে পাওয়া শুক্রাণুর সঙ্গে মুন্নার ডিএনএ মিলে যায়। গত তিন বছর যাবত সে একাজ কর আসছিল।
 
লিংক: https://draminbd.com/লাশ-বা-মৃতদেহের-সঙ্গে-যৌ/
error: Content is protected !!