লিচটেনস্টেইন (Liechtenstein) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

লিচটেনস্টেইন (Liechtenstein)

 লিচটেনস্টেইন রাজবংশের আমলে সিসেলেনবার্গ (Schellenberg) ও ভদুজ (vadzu) হতে ভুখণ্ডটি কিনে একত্রিত করা হয়েছিল। এর  পশ্চিম ও দক্ষিণে সুইজারল্যান্ড এবং পূর্ব ও উত্তরে অস্ট্রিয়া। লিচটেনস্টেইন ও লুক্সেমবার্গ একমাত্র জার্মান-ভাষী প্রাক্তন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যভুক্ত দেশ, যা জার্মাানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। লিচটেনস্টেইন, লু´েমবার্গ ও বার্বোডাস-এর মানচিত্র দেখতে প্রায় অভিন্ন। কসোভো আর মন্টেনেগ্রোর মানচিত্রও দেখটা প্রায় একরকম। ইরান ও প্রাক্তন যুগোশ্লাভিয়ার ম্যপও দেখতে অভিন্ন ছিল। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে লিচটেনস্টেইনের পতাকা প্রথম গ্রহণ করা হয়। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জুন কিছুটা সংস্কার করে পুনরায় গ্রহণ করা হয়। সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিচালিত লিচটেনস্টেইন ১১টি মিউনিসিপালিতে বিভক্ত। এর বর্তমান রাজা প্রিন্স দ্বিতীয় হ্যান্স-এডাম।

লিচটেনস্টেইন একটি প্রাচীন নাম। লিচটেনস্টাইন রাজবংশের প্রারম্ভ হতে এ নামের উল্লেখ দেখা যায়। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ আলোর পথর (Light stone) বা উজ্জ্বল পাথর (bright stone)। পাথর বলতে এখানে শক্ত, দৃঢ়, সমুন্নত এবং সমৃদ্ধতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। এটি এমন একটি প্রত্যয় যা যেমন শক্তিশালী তেমনি সমৃদ্ধ এবং যার আলোয় বিকশিত হতো জাতিগোষ্ঠী। লিচটেনস্টেইন রাজবংশের মধ্যে এমন গুণাবলীর সমন্বয় ঘটেছিল। 

লিচটেনস্টেইনের আয়তন ১৬০ বর্গকিলোমিটার বা ৬১ বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে জলীয়ভাগের পরিমাণ ২.৭ %। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে জনসংখ্যা ৩৭,৩৪০ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে ঘনত্ব ২২৭। আয়তন বিবেচনায় লিচটেনস্টেইন পৃথিবীর ২১৯-তম এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় ২১৫-তম বৃহত্তম দেশ। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় ৫৭-তম জনবহুল দেশ। লিচটেনস্টেইনের  রাজধানী ভাদুজ ও বৃহত্তম শহর চান। সরকারি ভাষা জার্মান। ধর্ম রোমান ক্যাথলিচিজম। লিচটেনস্টেইনের অধিবাসীদেও  সরকারিভাবে লিচটেনস্টেইনার ও লিচটেনস্টেইনেরিয়ান বলা হয়। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে  লিচটেনস্টেইন জার্মান কনফেডারেশন হতে পৃথক হয়।

২০১০ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে লিচটেনস্টেইনের জিডিপি (পিপিপি) ৩.৫৪৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৯৮,৪৩২ ইউএস ডলার। অন্যদিকে জিডিপি (নমিনাল) ৫.১৫৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,৪৩,১৫১ ইউএস ডলার। মাথাপিছু আয় বিবেচনায় লিচটেনস্টেইন পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনী দেশ। মুদ্রার নাম সুইস ফ্রাঙ্ক। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও লিচটেনস্টেইনে রেজিস্টার্ড কোম্পানির সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত আয়করের মুল হার ১.২%।

একবার লিচটেনস্টেইনের জাতীয় দিবসে প্রিন্স দ্বিতীয় হ্যান্স অ্যাডাম দেশের সমস্ত নাগরিককে ভাদুজ ক্যাসেলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। লিচটেনস্টেইনের রাজধানী ভাদুজের জনসংখ্যা প্রায় ৫,৫০০ কিন্তু বড় শহর চান এর জনসংখ্যা রাজধানীর চেয়ে মাত্র ৫৮৩ জন বেশি।

নকল দাঁত (FALSE TEETH) উৎপাদনে লিচটেনস্টেইন বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ। এ দেশের চান শহরে অবস্থিত ইভোক্লার ভিভাডেন্ট (Ivoclar Vivadent)নামের একটি কোম্পানি প্রতিবছর ১০,০০০ মডেলের ৬০ মিলিয়ন সেট নকল দাঁত উৎপাদন করে। পৃথিবীর নকল দাঁতের মোট চাহিদার ২০% সরবরাহ করে লিচটেনস্টেইন। সিরামিক্স রপ্তানিতেও দেশটির খ্যাতি রয়েছে। ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে  এখানে একটা সিরামিক্স কারখানা খোলা হয়।লিচটেনস্টেইন শুধু স্থলবেষ্ঠিত দেশ নয়, দিত্ব স্থলবেষ্ঠিত দেশও বটে। দেশটির উত্তর ও পূর্বে অবস্থিত অস্ট্রিয়া এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড—দুটোই স্থলবেষ্ঠিত দেশ। পৃথিবীতে এমন দিত্ব স্থলবেষ্ঠিত দেশ আর একটি দেখা যায়। সেটি হচ্ছে উজবেকিস্তান।

আয়তন বিবেচনায় লিচটেনস্টেইন পৃথিবীর ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম দেশ। এ দেশের  কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই। পৃথিবীর কয়েকটি প্রায় অপরাধমুক্ত দেশের মধ্যে এটি অন্যতম। এখানকার অধিকাংশ লোক দরজা বন্ধ করে না। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে  একজন খুন হয়েছিল। এরপর খুনের আর কোনো ঘটনা নেই। পুলিশ বাহিনী অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ বাহিনী ৯০ অফিসার ও ৪০জন সহায়ক নিয়ে গঠিত। অপরাধের পরিমাণ এত কম যে, দেশের কোনো কারাগারে একজন বন্দিও এখন নেই। যদি কাউকে দুই বছর বা ততোধিক সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তো তাকে অস্ট্রিয়ার কারাগারে প্রেরণ করা হয়।


কসোভো (Kosovo) : ইতিহাস ও নামকরণ

লাতভিয়া (Latvia) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!