লিথোগ্রাফি (Lithography) লিথোপ্রেস পাষাণ যন্ত্র লিথোগ্রাফি শব্দের বাংলা, পিঁদরুস, ইদ্রুস-পিঁদরুস

ড. মোহাম্মদ আমীন
ড. মোহাম্মদ আমীন
লিথোগ্রাফি প্রেস: পাথর, দস্তা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত ব্যবহার করে ছাপানোর পদ্ধতিকে লিথোগ্রাফি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে যে প্রেস বা ছাপাখানায়  ছাপার কাজ হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় লিথোগ্রাফি প্রেস বা লিথোপ্রেস। লিথোগ্রাফিক পদ্ধতিতে ছাপার কাজে অক্ষরের পরিবর্তে কাগজের উপর কালি দিয়ে লিখে কাগজটিকে এক ধরনের চুনাপাথরের উপর চাপ দিলে পাথরের উপর ছাপ পড়ে। লিথোগ্রাফি কৌশলে লিথোপ্রেস কাজ করে। লিথোগ্রাফি প্রেস বা লিথোপ্রেস কথার বাংলা হলো: পাষাণযন্ত্র। পাথরের  উপর লেখা হতো। তাই নাম পাষাণযন্ত্র।
১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর মোতাবেক ১২৩৬ বঙ্গাব্দের ১৩ই পৌষ প্রকাশিত সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকায় লেখা হয়েছে—  “এই পাষাণযন্ত্রের অধ্যক্ষ তাহাতে নানাবিধ গ্রন্থ ও নানাপ্রকার প্রতিমূর্ত্তি অর্থাৎ ছবি ছাপা করিবেন সংপ্রতি তিনি কর্ম্মারম্ভ হইয়াছেন।”
পাষাণযন্ত্রাধ্যক্ষ: পাষাণযন্ত্র বা লিথোগ্রাফিক প্রেসের অধ্যক্ষ বা কর্ণধারকে বলা হতো পাষাণযন্ত্রাধ্যক্ষ। তিনি পাষাণযন্ত্রের যাবতীয় দেখভাল করতেন। একসময় পাষাণযন্ত্রাধ্যক্ষ খুব তাজিমের পদ ছিল। পাষাণযন্ত্রের সংখ্যাও ছিল খুব কম।
“এজন্য শুড়া পাষাণযন্ত্রাধ্যক্ষ অতি সুন্দর বড় অক্ষরে স্বর ও ব্যঞ্জন এবং যুক্তাক্ষর এবং বর্ণসকলের উচ্চারণের স্থান বিশেষ করিয়া অক্ষর লেখা শিক্ষাকরণোপযোগী এক প্রস্থ পাষাণযন্ত্রে মুদ্রিত করিতে মনস্থ করিয়াছেন . . .।”— সমাচার চন্দ্রিকা, ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর মোতাবেক ১২৩৬ বঙ্গাব্দের ১৩ই পৌষ
পিঁদরুস, ইদ্রুস-পিঁদরুস: উনিশ শতকে ফিরিঙ্গি, মিশ্র বা দো-আঁশলা (ইউরেশিয়ান) জাতির সমার্থক হিসেবে পিঁদরুস বা ইদ্রুস-পিঁদরুস শব্দ ব্যবহার হতো। সাহিত্যকর্মেও শব্দটির ব্যবহার ছিল। শব্দটি উপহাস ও নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হতো। এখন এর ব্যবহার দেখা যায় না।
“দুদিকে বাঁকান সিঁতে আলবার্ট কেতায়।
চুরুট মুখেতে প্রায় সদা দেখা যায়।।
ভিতর হইলে ভোয়া চলিলে এচেলে।
অকস্মাৎ মনে হয় পিঁদরুসের ছেলে।। ইয়ং বেঙ্গল ক্ষুদ্র নবাব, অজ্ঞাতনামা।
error: Content is protected !!