লিপিপ্রমাদ বনাম টেপাভুল

 এবি ছিদ্দিক

লিপিপ্রমাদ বনাম টেপাভুল

লিপিপ্রমাদ: লিপি হচ্ছে ‘বর্ণ’। ‘লিপ্’ ধাতুর সঙ্গে ‘ই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘লিপি’ শব্দের উৎপত্তি। ‘√লিপ্’ অর্থ ‘লেপন করা’, ‘ই’ প্রত্যয় ‘অস্তিত্ব’ নির্দেশ করে। অর্থাৎ, লেপনের মাধ্যমে অঙ্কিত যে-চিহ্ন কোনোকিছুর অস্তিত্ব ধারণ করে, তাই (তা-ই) হচ্ছে লিপি। শুরুর দিকে বিভিন্ন কালি কিংবা রং দিয়ে পাখির পালক, বাঁশের কঞ্চি প্রভৃতির সাহায্যে কোনোকিছুর ওপর লেপনের মাধ্যমে বর্ণ লেখা হতো বলে বর্ণের আরেক নাম লিপি। সময়ের পরিক্রমায় পালক, কঞ্চি প্রভৃতির স্থলে কলম, পেনসিল প্রভৃতি চলে এসেছে। এই কলম, পেনসিল প্রভৃতির সাহায্যে তাড়াহুড়ো করে লিখতে গিয়ে অনেকসময় জানা বানানও ভুল হয়ে যায়। অনবধানতায় ‘বলদ’ লিখতে গিয়ে ‘বদল’; ‘আমরা’ লিখতে গিয়ে ‘আমার’; ‘প্রমথ চৌধুরী’-র স্থলে ‘প্রথম চৌধুরী’ প্রভৃতি লিখে ফেলা মোটেও বিচিত্র ব্যাপার নয়। অসাবধানতার ফলে জানা বানানে এরূপ ভুল হয়ে যাওয়াই হচ্ছে ‘লিপিপ্রমাদ’। ভাষাবিজ্ঞানে এরূপ ত্রুটিকে ‘slip of pen’ সংজ্ঞায় বিবৃত করা হয়।
 
টেপাভুল: ‘টেপাভুল’ শব্দটি সম্প্রতি ড. মোহাম্মদ আমীন, তাঁর লেখায় ইংরেজি ‘typing mistake’-এর পারিভাষিক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছেন। মোবাইলফোন, কম্পিউটার প্রভৃতি যন্ত্রের সাহায্যে কোনোকিছু টাইপ করতে গিয়ে বারবার কী-বোর্ডের বোতামগুলো টিপতে হয়। এভাবে বোতাম টিপে টিপে বা চেপে চেপে কোনোকিছু টাইপ করতে গিয়ে অসতর্কতার ফলে ভুল বোতাম টেপার কারণে অনেক জানা শব্দের বানানও ভুল হয়ে যায়। এরূপ কোনোকিছু টাইপ করতে গিয়ে ভুল টিপজনিত কারণে যে ভুল বা অসংগতি হয়ে যায়, তাই (তা-ই) হচ্ছে ‘টেপাভুল’।
 
মোদ্দা কথায়— লিপিপ্রমাদে লেপনক্রিয়া উপস্থিত থাকে। খাতা, বোর্ড, ব্যানার প্রভৃতিতে কোনোকিছু লেপনের মাধ্যমে লিখতে গিয়ে লিপিপ্রমাদ হয়। অপরদিকে, টেপাভুলে টিপ বা চাপক্রিয়া বর্তমান থাকে। কেবল কোনোকিছু টিপে টিপে বা চেপে চেপে টাইপ করার সময়ই টেপাভুল হয়ে থাকে।
 
 
error: Content is protected !!