লুক্সেমবার্গ (Luxemburg) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

লুক্সেমবার্গ (Luxemburg)

লু্ক্সেমবার্গ পশ্চিম ইউরোপের একটি ছোটো স্থলবন্দি দেশ। এর সরকারি নাম গ্র্যান্ড ডাচি লুক্মেমবার্গ। লুক্মেমবার্গের পশ্চিম ও উত্তরে বেলজিয়াম, পূর্বে জার্মানি এবং দক্ষিণে ফ্রান্স। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, এটি পৃথিবীর অষ্টম কম-জনসংখ্যার দেশ।

সেলটিক শব্দ লুসিলেম (Lucilem) ও জার্মান শব্দ বার্গ (burg) নিয়ে লুক্মেমবার্গ নামটি গঠিত হয়েছে। সেলটিক ভাষায় লুসিলেম শব্দের অর্থ ছোট এবং জার্মানিক বার্গ শব্দের অর্থ দুর্গ। সুতরাং লুক্সেমবার্গ শব্দের অর্থ ছোটদুর্গ। আলোচ্য স্থানে একটি ছোট কিন্তু বেশ শক্তিশালী ও কার্যকর দুর্গ ছিল। ছোটো দুর্গ বলতে বুঝাত শুধু রাজা বা শাসকের নিরাপত্তার জন্য নির্মিতি দুর্গ। রাষ্ট্র বা সরকারের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত দুর্গকে ছোটো দুর্গ বলা হতো না। রাজপ্রাসাদ ও রাজার নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ছোটো দুর্গকে কেন্দ্র করে যে জনপদ গড়ে ওঠেছিল তা ছোটদুর্গ বা লুক্সেমবার্গ নামে পরিচিতি পায়। লিচটেনস্টেইন, লুক্সেমবার্গ ও বার্বোডাস-এর মানচিত্র দেখতে প্রায় অভিন্ন।

লুক্মেবার্গের মোট আয়তন ২,৫৮৬ বর্গকিলোমিটার বা ৯৯৮ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয়ভাগের পরিমাণ ০.৬০%।২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, জনসংখ্যা ৫,৬২,৯৫৮ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৯৪.১। আয়তন বিবেচনায় লু´েবার্গ পৃথিবীর  ১৭৯-তম কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ১৭০-তম বৃহত্তম দেশ। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় ৬০-তম জনবহুল দেশ। লুক্সেমবার্গের জনগণকে লুক্সেমবার্গার বলা হয়।  রাজধানীর নাম লুক্সেমবার্গসিটি। এর দাপ্তরিক ভাষা লুক্সেমবার্গিস, জার্মান ও ফরাসি এবং জাতীয় ভাষা লু´েবার্গিস। জাতীয় পাখি গোল্ডক্রাস্ট এবং জাতীয় পশু সিংহ।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, লুক্সেমবার্গের জিডিপি (পিপিপি) ৫৬.৫৭৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১,০০,৭৭৯ ইউএস ডলার। অন্যদিকে জিডিপি (নমিনাল)৫৭.৯ বিলিয়ন ইএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,০৩,১৮৭ ইউএস ডলার। মাথাপিছু আয় বিবেচনায় লুক্সেমবার্গ পৃথিবীর তৃতীয় ধনী দেশ। মুদ্রার নাম ইউরো।

নেপলিয়নের পরাজয়ের পর ১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুন প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি সাম্রাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে। পরবর্তীকালে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল প্রথম লন্ডন চুক্তি এবং ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মে দ্বিতীয় লন্ডন চুক্তির সম্পাদিত হয়। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন লুক্সেমবার্গের বর্তমান পতাকা গ্রহণ করা হয়। এরপূর্বে এটি ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এটি জাতীয় পতাকা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অক্টোবর সংবিধান গ্রহণ করা হয়।

লুক্সেমবার্গের বর্তমান গ্র্যান্ড ডিউক হেনরি। এটি পৃথিবীর একমাত্র গ্র্যান্ড ডাচি। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের জিডিপি আয়ের অ্যাকোহল অংশের সবচেয়ে বেশি অবদান লুক্সেমবার্গের। এখানে রয়েছে ৩৪টি টেলিভিশন কেন্দ্র ও ৩৩টি রেডিও কেন্দ্র। জনপ্রতি টেলিফোন লাইনের সংখ্যা বিবেচনায় লুক্সেমবার্গ পৃথিবীতে প্রথম। এ দেশে প্রতি ১০০ জন লোকের জন্য রয়েছে ৭৯.৬৮ টি টেলিফোন। এটি পৃথিবীর কম অপরাধপ্রবণ দেশের একটি। এখানে ১,৩০৭ পুলিশসদস্য ও দুটি কারাগার রয়েছে।

বিখ্যাত ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগো জার্মান সীমান্তের নিকটবর্তী লুক্মেমবার্গের একটি শহরে বাস করতেন। পরবর্তীকালে তার বাড়িটি জাদুঘরে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি ছিলেন লুক্সেমবার্গে ডাচ ও ফরাসি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত।  ‍লুক্সেমবার্গের নীতিবাক্যটি চমৎকার : ‘ÔMir wëlle bleiwe wat mir sinn’ অর্থাৎ ‘আমরা যা তা-ই আমরা থাকতে চাই (We want to remain what we are)। লুক্সেমবার্গ ইউনিভার্সিটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাংকের কঠিন গোপনীয়তা আইনের জন্য লুক্মেমবার্গকে ট্যাক্স হেভেন বলা হয়। প্রতিবছর ২৩ জুন জাতীয় দিবস পালন করা হয়। ওইদিন গ্র্যান্ড ডাচেস ক্যারলোট এর দাপ্তরিক জন্মদিবস। যদিও ওইদিন প্রকৃতপক্ষে লুক্মেমবার্গের কোনো গ্র্যান্ড ডিউক জন্মগ্রহণ করেননি। ব্যবসায়িক দক্ষতা বিবেচনায় লুক্মেমবার্গ পৃথিবীর তৃতীয় ব্যবসাবান্ধব দেশ। হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন-এর জরিপ অনুযায়ী লুক্মেমবার্গ আর্থিক স্বাধীনতা বিবেচনায় ইউরোপের প্রথম এবং বিশ্বের চতুর্থ।

লুক্সেমবার্গের ৮৭% অধিবাসী রোমান ক্যাথলিক্ এবং ১৩% ইহুদি, অ্যাংলিসানিজম, গ্রিক অর্থডক্স, রাশিয়ান অর্থডক্স,  মেনোনিটিজম, প্রটেস্ট্যান্ড খ্রিস্টান, অর্থডক্স খ্রিস্টান, ইসলাম ও লুথেরানিজম। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, লুক্সেমবার্গের মোট জনসংখ্যার ৩৯.৬% অভিবাসী। মোট অভিবাসীর ১৫% পর্তুগিজ। ১৯৮২-২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে লুক্সেমবার্গের গড় বেকারত্বের হার মাত্র ৩.৩%, যা ইউরোপের সর্বনিম্ন।


আয়ারল্যান্ড (Irelan) : ইতিহাস ও নামকরণ

ইতালি (Italy) : ইতিহাস ও নামকরণ

কাজাখস্তান (Kazakhstan) : ইতিহাস ও নামকরণ

কসোভো (Kosovo) : ইতিহাস ও নামকরণ

লাতভিয়া (Latvia) : ইতিহাস ও নামকরণ

লিচটেনস্টেইন (Liechtenstein) : ইতিহাস ও নামকরণ

লিথুয়ানিয়া (Lithuania) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

error: Content is protected !!