লেখা দেখে লেখা শেখা/৬

লেখা দেখে লেখা শেখা/৬
Md Muhaimin Arif

হাতের লেখা এবং গতি

লেখার গতি নিয়ে কমবেশি সবাই চিন্তিত। পরিবেশভেদে লেখার গতি বাড়ে, কমে। ব্যাপারটি আপেক্ষিক। তারপরও লেখার গতি দ্রুততর হোক এবং লেখা সুন্দর থাক এটা আমরা সবাই চাই।
লেখার গতি বিষয়টি হচ্ছে লেখক (আপনি, সাহিত্যিক নন) কত তাড়াতাড়ি বর্ণ/অক্ষর দিয়ে শব্দগুলি লিখতে পেরেছেন তার গতি। গ্রাফোলজিস্টরা লেখার গতিকে সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন :
১. ধীর গতির লেখা : এই গতির লেখকরা সাধারণত মিনিটে ১০০টি বা এর কাছাকাছি বর্ণ/অক্ষর বা শব্দ লিখতে পারেন। এদের লেখায় বর্ণ বা অক্ষরগুলো ছড়ানো বা ছাড়াছাড়া থাকে। এবং বড়ো আকারের হয়ে থাকে।
২. মাঝারি গতির লেখা : মিনিটে ১০০-২০০টি লেখার গতিই হলো মাঝারি গতি। এদের লেখা সাধারণত সোজা থাকে। বাম বা ডান দিকে হেলানো থাকে না। লেখার কাঠামোও চমৎকার থাকে।
৩. দ্রুত গতির লেখা : মিনিটে ২০০টিরও বেশি বর্ণ বা বর্ণ দিয়ে শব্দগুলো লেখা সম্ভব হলে ঐ লেখকের হাতের লেখাকে দ্রুত গতির লেখা বলা হবে। সাধারণত এদের লেখার ঢাল (Slant) ডান দিকে হেলানো থাকে। এরা লেখার সময় কলম না তুলে টানা লিখে থাকে।
৪. অতি দ্রুত লেখা : এ ধরনের লেখার গতি মিনিটে ২৫০টিরও বেশি হবে। যা সাধারণত খুব কম লেখককে লিখতে দেখা যায়। এই লেখকরা এত দ্রুত কলম চালায়, যে কারণে লেখায় বর্ণকাঠামো বলে কিছুই থাকে না। টানা হাতে লিখতে গিয়ে বর্ণ বা শব্দ বাদও পড়ে যায়। বর্ণের সাইজ ছোটো থাকে। লেখা হয় অস্পষ্ট। পড়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত এদের লেখা ডান দিকে হেলানো থাকে।

লেখার গতি বাড়ানোর কৌশল

কৌশল-১: পর্ব-০৪ দেখুন।
কৌশল-২: অডিয়োতে গান, কবিতা বাজতে থাকবে। আপনি শোনে শোনে তা লিখতে থাকবেন। প্রথম দিকে লেখার গতি কম থাকলেও পরে একসময় সম্পূর্ণ গান বা কবিতাটি ঠিকই লিখতে পারবেন।টিভি, রেডিয়োতে প্রচারিত আজান, গীতাপাঠ, ত্রিপিটক যা সাধারণত ধীর গতিতে পড়া হয়ে থাকে, এগুলো শোনে শোনে লিখতে থাকবেন। এতে করেও লেখার গতি বাড়বে। একপর্যায়ে খবর শোনে তা লিখতে থাকবেন। এতে হাতের লেখা দ্রুত হবেই।
লক্ষ রাখবেন, কলম যত দ্রতই চালান না কেন, বর্ণগুলো যেন তার কাঠামো না হারায়।
কৌশল-২-এর অংশ হিসেবে বিগত চার পর্বে দেওয়া স্ট্রোকসগুলো আজ একসঙ্গে আঁকব। এবং দ্রুততার সঙ্গেই আঁকব। স্ক্রিনশট দেখুন।

error: Content is protected !!