লেসোথো (Lesotho): ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (আফ্রিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন 

লেসোথো (Lesotho)

লেসোথো সম্পূর্ণরূপে সাউথ আফ্রিকার সীমান্ত দ্বারা বেষ্ঠিত একটি স্থলবন্দি  দেশ। এর সরকারি নাম কিংডম অব লেসোথো। সরকারি ভাষা সোথো ও ইংরেজি। লেসোথোর অধিবাসীরা মোসোথো ও বাসোথো নামে পরিচিত। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ নভেম্বর দেশটি যুক্তরাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

লেসোথোর প্রাচীন নাম বাসোথো । লেসোথো শব্দের অর্থ বাসোথোদের দেশ বা সেসোথো-ভাষীর দেশ । উপসর্গ বা (ba-) ও সোথো (Sotho) শব্দের সমন্বয়ে বাসোথো (Basotho) শব্দের সৃষ্টি। বা একটি বহুবচনবাচক উপসর্গ এবং সোথো শব্দের অর্থ মনুষ (human being)। সুতরাং বাসোথো অর্থ মানুষগণ বা মনুষ্যজাতি। বাসোথো গোষ্ঠীর লোকেরা সেসোথো ভাষায় কথা বলতেন। তাই তারা সোথো নামেও পরিচিত ছিল। এরা বানতু (Bantu) নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর একটি উপগোষ্ঠী।

লেসোথোর মোট আয়তন ৩০,৩৫৫ বর্গকিলোমিটার বা ১১,৭২০ বর্গমাইল। জলীয়ভাগের পরিমাণ ০.০০৩২%। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে লেসোথোর মোট জনসংখ্যা ২০,৬৭,০০০ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৬৮.১ জন। আয়তন বিবেচনায় লেসোথো পৃথিবীর ১৪০-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় ১৪৪-তম। তবে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ১৩৮-তম জনবহুল দেশ। মুদ্রার নাম লেসোথো লোটি (Lesotho loti) এবং রাজধানীর নাম মাসেরু।

২০১৩ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, লেসোথোর জিডিপি (পিপিপি) ৪.২৭৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার (৭০-তম) এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ২,২৪৪ ইউএস ডলার (১২৬-তম)। অন্যদিকে, জিডিপি(নমিনাল) ২.৬১৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার (৬৯-তম) এবং মাথাপিছু আয় ১,৩৭২ ইউএস ডলার (১২৬-তম)। জনসংখ্যার ৯৯.৭% বাসোথো ও ০.৩% অন্যান্য আফ্রিকান। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ অক্টোবর লেসোথো যুক্তরাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ অক্টোবর লেসোথোর পতাকা গৃহীত হয়।

লেসোথোকে পার্বত্যরাজ্য বলা হয়। এটাকে আফ্রিকার ছাদও বলা হয়। পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন দেশ, যার পুরো ভূমি গড়ে ৪,৫৯৩ ফুট বা ১,৪০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এর ৮০% ভূমি ৫,৯০৬ ফুট বা ১,৮০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সর্বদক্ষিণস্থ স্থলবেষ্ঠিত রাষ্ট্র। যার সবদিক সাউথ আফ্রিকা দ্বারা বেষ্ঠিত। এ দেশের সর্বনি¤œ বিন্দু সমুদ্র সমতল হতে ১৫০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। যা দেশটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ নিম্নে (highest low point) বিন্দুর দেশে পরিণত করেছে।

লেসেথো আফ্রিকার তিনটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের অন্যতম। বাকি দুটো হচ্ছে মরোক্কো ও সোয়াজিল্যান্ড। লেসেথোর বর্তমান রাজা কিং তৃতয়ি লেটসি (King Letsi III) ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ হতে শাসন করে আসছেন। লেসেথোর ৪০% লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। যাদের প্রতিদিনের ১.২ ডলারেরও কম। লেসোথোর মুদ্রা লেসোথো লুটি, সাউথ আফ্রিকান র‌্যন্ডের সম-বিনিময় মূল্য ধারণ করে। লেসোথোর সর্বত্র আফ্রিকান র‌্যান্ড নেওয়া হয় কিন্তু আফ্রিকায় লেসোথো লুটি নেওয়া হয় না। ক্যাটস বাঁধ (Katse Dam) আফ্রিকার সর্বোচ্চ বাঁধ। ১০০ ভাগ জলপূর্ণ অবস্থায় সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা হয় ২০৫০ মিটার। লেসেথো, মেলেটসুনাইন (Maletsunyane Falls) জলপ্রপাত সাউদার্ন আফ্রিকার সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। ১৯২ মিটার উচু হতে একক ধারায় জল পতিত হয়।

লেসেথোর জনগণ খুব বন্ধুত্বপরায়ন এবং অমায়িক। তারা সহজে মিশতে পারে এবং খুব খোলা মনে এগিয়ে এসে আলাপ করেন। বিদেশিদের তারা আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানান। বাঁশ দিয়ে তৈরি মোচাকৃতির হ্যট লেসেথোর একটি ব্যতিক্রমী কারুময় শিল্প। প্রায় সব বাজারে এটি পাওয়া যায়। নানা আকৃতির এ হ্যাটে লেসোথোর বিভিন্ন পাহাড়ের অবয়বও ফুটিয়ে তোলা হয়। এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। এটি তাদের জাতীয় চিহ্ন। পুরুষ গৃহস্থলীর কাছে কিন্তু মহিলারা সন্তান উৎপাদন ও চাষাবাসের কাজে নিয়োজিত থাকেন।

ঘানা (Ghana) : ইতিহাস ও নামকরণ

রোয়ান্ডা (Rwanda) : ইতিহাস ও নামকরণ

গিনি (Guinea) : ইতিহাস ও নামকরণ

গিনি-বিসাউ (Guinea-Bissau) : ইতিহাস ও নামকরণ

কেনিয়া (Kenya) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (আফ্রিকা), ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

error: Content is protected !!