শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ, ধরণি দ্বিধা হও

ড. মোহাম্মদ আমীন

শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ, ধরণি দ্বিধা হও

শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ
 
আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান প্রবচন-সংগ্রহ (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯) থেকে পাই: “শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ … শঠের সহিত শঠতাই বিধেয়! যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। Tit for tat.
 
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ”
 
অর্থ: স্বর্ণখণ্ড হয়েছে তাম্র, বণিকপুত্র মর্কট(বানর) কাজেই সরলের সাথে সারল্য করবে, শঠের সাথে শঠের সমান আচরণ করবে”। এটা একটা উপদেশমূলক প্রাচীন গল্পের সারকথা। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের হিতোপদেশমূলক একটি গল্পের কাহিনি থেকে শ্লোকটি গৃহীত ও প্রচলিত।  এক পণ্ডিত তীর্থযাত্রাকালে প্রতিবেশি বণিকের কাছে কিছু স্বর্ণমূদ্রা গচ্ছিত রাখতে গেলে বণিক তাঁকে নিজহাতে বণিকের সিন্দুকে রেখে যেতে বলল। পণ্ডিত ফিরে আসার পর বণিক সিন্দুক খুলে দিয়ে তাঁকে বলে, কর্তা আপনি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন সেভাবেই আপনার থলেটে আছে, নিজহাতে নিয়ে যান। থলে বাড়িতে নিয়ে পণ্ডিত দেখলেন ভেতরে সব তাম্রমূদ্রা। পরে বণিক বাণিজ্যযাত্রাকালে তার পুত্রকে পণ্ডিতের বাড়িতে রেখে গেল। ফিরে এলে পণ্ডিত বললেন, যে ঘরে রেখে গিয়েছিলে ওখানেই তোমার পুত্র আছে নিয়ে যাও। বণিক দেখল: ওই ঘরে একটি বানর(মর্কট) বাঁধা আছে।
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ।।
 
ধরণি দ্বিধা হও— এর অর্থ কী?
“ধরণি দ্বিধা হও” কথাটির শাব্দিক অর্থ— পৃথিবী দ্বিখণ্ডিত হও, পৃথিবী দুই খণ্ড হয়ে যাও। আলংকারিক অর্থে কথাটি লজ্জা, ক্ষোভ, দুঃখ, শোক, অনুতাপ, আক্ষেপ প্রভৃতি প্রকাশে ব্যবহৃহ হয়। ভীষণভাবে অপ্রত্যাশিত এমন লজ্জাকর বা দুঃখজনক কিছু ঘটার বা ঘটার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এমন আক্ষেপোক্তির অবতারণা হয়। মধ্যযুগের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এই কাব্যগ্রন্থে একটি বাক্য আছে— “মেদিনি বিদার হও পশিঁ আ লুকাই”। বলা হয় এ কথা থেকে ‘ধরণি দ্বিধা হও’ বাগ্‌ভঙ্গিটির উদ্ভব। “মেদিনি বিদার হও পশিঁ আ লুকাই” কথার অর্থ, পৃথিবী তুমি দ্বিখণ্ডিত বা ফাঁক হয়ে যাও তাতে আমি লুকাই। পৃথিবী তুমি দুইভাগ হয়ে যাও। আমি তোমার গহ্বরে ঢুকে পড়ি। কথাটি লজ্জা-ক্ষোভ; কিংবা দুঃখ বা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জীবন থেকে পালানোর আক্ষেপ। অনেকের মতে, “ধরণি দ্বিধা হও” কথাটি রামায়ণ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম চরিত্র সীতার সংলাপ। নিজের সতীত্বের পরীক্ষা দেওয়াটা তাঁর কাছে লজ্জার ছিল। রামচন্দ্রের কাছ থেকে এমন কিছু সে আশা করেনি। তারপরও পেতে হচ্ছে। এমন অপমানকর ঘটনার পরে রসাতলে যাওয়ার জন্য সীতা আক্ষেপবশত পৃথিবীকে বিভক্ত হতে বলেছিল।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
শুবাচ -ওয়েবসাইট: www.draminbd.com
 

 

error: Content is protected !!