শব্দার্থ: শব্দার্থের পরিবর্তন: অর্থবিস্তার, অর্থসংকোচ, অর্থের উন্নতি, অর্থের অবনতি

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/শব্দার্থ-শব্দার্থের-পরি/   

খসড়া

শব্দার্থ: শব্দার্থের পরিবর্তন: অর্থবিস্তার, অর্থসংকোচ, অর্থের উন্নতি, অর্থের অবনতি, অর্থসংশ্লেষ

১. অর্থবিস্তার

কোনো শব্দ সরাসরি তার মূল অর্থ থেকে প্রাপ্ত  সংকীর্ণ, ক্ষুদ্র বা সীমিত প্রকাশ থেকে বেরিয়ে  অপেক্ষাকৃত ব্যাপকতর অর্থ ধারণ বা প্রকাশ করলে, তাকে অর্থবিস্তার বলে। স্মর্তব্য, শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বা প্রকৃতি-প্রত্যয়াদি থেকে প্রাপ্ত অর্থ। নিচে এরূপ অর্থবিস্তারের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো— 
 
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
তন্‌ ধাতুর সঙ্গে ক্ত প্রত্যয় যুক্ত করলে পাওয়া যায় তাত। সুতরাং, তাত শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— ‘যিনি নিজেকে (পুত্ররূপে) বিস্তার করেন অর্থাৎ পিতা। কিন্তু  বর্তমানে পিতৃতুল্য যে-কোনো গুরুজনই ‘তাত’। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যে  মেঘনাদ, বিভীষণকে ভর্ৎসনা করে বলছেন— ‘হায় তাত! উচিত কি তব এ কাজ?’
 
“তেল” শব্দের মূল অর্থ ছিল— কেবল তিল থেকে উৎপন্ন স্নেহজাতীয় তরল। তখন তিল ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে উৎপাদিত স্নেহজাতীয় তরলকে তেল বলা হতো না। এখন তেল শব্দের অর্থ যে-কোনো বস্তু থেকে উৎপন্ন স্নেহ জাতীয় তরল।
 
“কালি” শব্দের আদি অর্থ ছিল— কালো রঙের তরল। পরে রংনির্বিশেষে লেখালিখির কাজে ব্যবহৃত যেকোনো রঙের তরলকেই কালি বলা শুরু হয়। তা নীল, সবুজ, হলদে কিংবা লাল যে রঙেরই হোক না।
 
‘মিরজাফর’ আদিতে ছিল একজন ব্যক্তির নাম, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব। পলাশির যুদ্ধের পর যে-কোনো বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি প্রকাশে শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। 
 
সংস্কৃতে কু মানে কুৎসিত, এবং অর্য মানে স্বামী। এ দুটি শব্দের মিলনে গঠিত কুৎসিত শব্দের মূল অর্থ— কুৎসিত স্বামী,  স্ত্রীপুত্রকন্যা নিপীড়নকারী, দায়িত্বজ্ঞানহীন স্বামী।  এখন শব্দটির সঙ্গে স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই। যে-কোনো কদর্য ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয় প্রকাশে কুৎসিত শব্দ ব্যবহার করা হয়। 
 
পূর্‌ (পূরণ করা)-এর সঙ্গে ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে পূর্ত। যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— পূরিত বা পূর্ণ।  পরে শব্দটির অর্থ হয়— জনহিতার্থে জলশয়াদি খনন। এরপর শব্দটির অর্থের আরও বিস্তার ঘটে। এখন  পূর্ত অর্থ— রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, সেতু ইত্যাদি নির্মাণ। 
 
 
২. অর্থসংকোচন
কোনো শব্দ তার মূল বা ব্যুৎপত্তিগতভাবে পাওয়া ব্যাপকতর অর্থ হারিয়ে সংকীর্ণ বা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হলে, কিংবা আগের তুলনায় ক্ষুদ্র বা সীমিত অর্থ ধারণ করলে তাকে অর্থসংকোচ বলে। মূল বা আদি ব্যাপক অর্থ হারিয়ে অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অর্থ গ্রহণ করেছে বা  অর্থ সংকুচিত হয়েছে এমন কিছু  উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো—
 
 সংস্কৃত অদ্‌ (খাওয়া) ধাতুর সঙ্গে ক্ত প্রত্যয় যোগ করে অন্ন শব্দটি গঠিত। সুতরাং এর মূল বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— ‘যা খাদিত হয়’, যে-কোনো খাদ্যবস্তু। কিন্তু অর্থসংকোচের ফলে অন্ন শব্দের অর্থ এসে দাঁড়িয়েছে বিশেষ খাদ্যবস্তু ভাতে। এখন অন্ন বলতে কেবল ভাতই বোঝায়।
 
তন্‌ (বিস্তার করা) ধাতুর সঙ্গে অয়্‌ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে তনয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে (বংশ) বিস্তার করে’,  পুত্র পৌত্রাদি-সহ সকল উত্তরপুরুষ। কিন্তু এখন শব্দটির অর্থ একটি এবং তা হলো— পুত্র। 
 
“প্রদীপ” শব্দের আদি অর্থ— সব রকমের আলো। এটি ছিল আলোর সমার্থক। এখন কেবল কয়েকটি বিশেষ আধারে প্রজ্বলিত আলোকে প্রদীপ বলে।
 
“মৃগ” শব্দের আদি অর্থ যে-কোনো ধরনের পশু। শব্দটি ছিল পশুর প্রতিশব্দ। এখন মৃগ বলতে শুধু হরিণকেই বোঝায়।
 
আহার শব্দটি এসেছে আ-পূর্বক হৃ ধাতুতে ঘঞ্‌ প্রত্যয় যুক্ত করার ফল থেকে।  এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— আহরণ, সংগ্রহ, সঞ্চয়; মন, বুদ্ধি আর ইন্দ্রিয়ের দ্বারা যা-কিছু ভিতরে আসে বা সংগৃহীত হয় তার সবগুলো আহার। অর্থসংকোচের কারণে আহারের অর্থ দাঁড়িয়েছে শুধু খাদ্যগ্রহণ বা ভোজন। পঙ্কে যা জন্মায় তেই পঙ্কজ হওয়া উচিত। তবে এর বর্তমান অর্থ কেবল পঙ্কে যা জন্মে তা নয়; বরং  পঙ্কজ হল পদ্মফুল। যোগরূঢ় শব্দ বলা হলেও এটি অর্থসংকোচন। 
 
৩. অর্থের উন্নতি বা অর্থোন্নতি
কোনো শব্দ তার মূল বা উৎস থেকে প্রাপ্ত সাধারণ বা হীন অর্থ থেকে উন্নততর, অসাধারণ, আকর্ষণীয়,  ইতিবাচক বা তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট অর্থ ধারণ করলে, তাকে অর্থের উন্নতি বা অর্থের উৎকর্ষ বা অর্থোৎকর্ষ বলে । নিচে এরূপ শব্দার্থ পরিবর্তনের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
 
গবেষণা (গো+এষণা) শব্দের মূল অর্থ গোরু খোঁজা।   এখন শব্দটির অর্থ গোরু খোঁজা নয়; জ্ঞানখোঁজা। গবেষণার তার মূল অর্থ হারিয়ে  জ্ঞানান্বেষণ, নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য অন্বেষণ প্রভৃতি উৎকৃষ্ট অর্থ  ধারণ করেছে। অপরূপ (অপ+রূপ)  শব্দের মূল অর্থ— অপকৃষ্ট রূপ, খারাপ রূপ, বিশ্রী, কুৎসিত, কুরূপ, কদর্য চেহারা। অথর্ববেদে অপরূপ শব্দটি কুৎসিত ও কদাকার চেহার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন শব্দটির অর্থ সুন্দর, সুশ্রী, অপূর্ব।  ‘কিশোর’ শব্দের আদি  অর্থ— অশ্বশাবক। অথর্ববেদ গ্রন্থে কিশোর শব্দটিকে অশ্বশাবক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।  এখন শব্দটির অর্থ নবযুবা। “মন্দির” শব্দের আদি অর্থ ছিল ঘর, গৃহভবন। ‘এ ভরা বাদর/মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর’ (বিদ্যাপতি)। পরে শব্দটি উৎকর্ষতা পেয়ে  অর্থ ধারণ করেছে দেবগৃহ বা দেবালয়। “বাতুল” শব্দের উৎসার্থ ছিল উন্মাদ, বায়ুগ্রস্ত বা পাগল। এখন এর অর্থ: বাতুল>বাউল; বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায়। ইতিকথা’ শব্দের মূল অর্থ নিরর্থক কথন, অর্থশূন্য বাক্য। পরে অর্থ পায় কাল্পনিক কথা। তাও পরিবর্তন হয়ে যায় পরে। এখন শব্দটির অর্থ পূর্বকথা, ইতিহাস। অর্থের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
 
৪. অর্থের অবনতি বা অর্থাবনতি
কোনো শব্দ তার ব্যুৎপত্তিগত বা আদি উন্নত অর্থ থেকে সরে এসে অপেক্ষাকৃত হীন বা নিকৃষ্ট বা মূল অর্থের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নেতিবাচক অর্থ ধারণ করলে তাকে অর্থের অবনতি বা অর্থাবনতি বা অর্থের অপকর্ষ বলে । নিচে অর্থাবনতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
 
গণ্ড শব্দের মূল অর্থ বৃহৎ বা প্রধান। সে হিসেবে গণ্ডগ্রাম শব্দের মূল অর্থ  হওয়া উচিত বৃহৎ গ্রাম, সমৃদ্ধ গ্রাম। কিন্তু গণ্ডগ্রাম অর্থ শহরাঞ্চল থেকে দূরে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম, অজ পাড়াগাঁ। এখানে গণ্ড শব্দের অর্থের অবনয়ন ঘটেছে।  ‘আত্মসাৎ শব্দের মূল অর্থ আত্মবশ। এটি ইতিবাচক অর্থ। চৈতন্যভাগবতে আছে: ‘ভক্তি দিয়া জীবে প্রভু কর আত্মসাৎ’। বর্তমানে আত্মসাৎ শব্দের অর্থ অন্যায়ভাবে অপরের ধনসম্পত্তি অধিকার। এটি নেতিবাচক। ভিস্তি — ফারসি ‘বিহিশ্‌তী’ থেকে, যার অর্থ স্বর্গীয় বা পরম পবিত্র কাজ। বাংলায় আসার পরে শব্দটির অর্থ দাঁড়িয়েছে জলবাহক। ‘মশক কাঁখে একুশ লাখ ভিস্তি’ (জুতা আবিষ্কার – রবীন্দ্রনাথ)। চর্মনির্মিত জলাধারটিকে (মশক) ভিস্তি বলা হয়। ফাজিল — আরবি ‘ফাজ্বিল’ শব্দের অর্থ বিদ্বান, পণ্ডিত। তার থেকে উদ্ভূত বাংলায় ফাজিল বলতে বোঝায় বাচাল বা বখাটে। ক্যাবলা — বাংলায় বোকা বা হাবাগোবা অর্থে ব্যবহৃত শব্দটির উৎস আরবির ‘ক্কাবিল’ শব্দ – যার অর্থ সমর্থ, নিপুণ, পণ্ডিত।
 
“মহাজন” শব্দের আদি অর্থ মহৎব্যক্তি। বৈষ্ণব পদকর্তারা মহাজন বলে স্বীকৃত। এখন এর অর্থ সুদখোর। ‘জনগণে যারা জোঁকসম শোষে তারে মহাজন কয়’ (নজরুল)। “বস্তি” শব্দটির আদি অর্থ বসতি। কিন্তু পরিবর্তিত অর্থাবনতিগত অর্থ দরিদ্র পল্লি। এখানে শব্দ তার মূল উন্নত অর্থ থেকে সরে এসে অপেক্ষাকৃত হীন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এদের অর্থের অপকর্ষ বলে। ‘মুনিস’ কথাটা এসেছে মানুষ থেকে, অথচ তার উদ্দিষ্ট খেটে-খাওয়া নিচুতলার মানুষ। এটি অর্থাবনতি। সংস্কৃতে ভণ্ড হলো যে লঘু পরিহাস করে, বাংলায় ভাঁড়। তবে বাংলায় যখন কপট অর্থে ভণ্ড ব্যবহৃত হয় তখন তা’ অর্থাবনতি। পচন অর্থ গলন, বীজদূষণ। অথচ সংস্কৃত পচ্‌ ধাতু থেকে উদ্ভূত পচন শব্দের  মূল অর্থ রন্ধন, পাক। পচন অর্থ গলন, বীজদূষণ।  সংস্কৃতে পচা শব্দের অর্থ ছিল রাঁধুনি বা রন্ধনকর্ত্রী। বাংলায় এই শব্দগুলির অর্থবিকৃতি বা অর্থবিপর্যয় ঘটে।
 
 
৫. অর্থের রূপান্তর বা সংশ্লেষ:  কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দ তার মূল অর্থ থেকে সরে এসে এমন অর্থ ধারণা করে যা  অর্থবিস্তার না কি অর্থসংকোচ কিংবা অর্থের উন্নতি না কি অর্থের অবনতি  সহজে চিহ্নিত করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে অর্থের পরিবর্তনকে অর্থান্তর বলা যায়। যেমন:  উষ্ট্র’ শব্দের মূল অর্থ ছিল বুনো মোষ। বেদ-সহ প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর উষ্ট্র শব্দের অর্থ হয় বুনো ষাঁড়। বর্তমানে শব্দটির অর্থ  উট।  অন্য ভাষা থেকে আগত বহু শব্দ, তা’ সে সংস্কৃত থেকে হোক বা আরবি-ফারসি থেকে হোক, বাংলায় ভিন্ন অর্থবাহী হয়ে পড়েছে। উত্যক্তের বুৎপত্তিগত অর্থ পরিত্যক্ত বা পরিবর্জিত, সমকালীন ব্যবহারে বিরক্ত বা জ্বালাতন। কবিরাজ শব্দের আদি অর্থ ছিল খ্যাতিমান কবি। চৈতন্য চরিতামৃতের কবি কৃষ্ণদাস মেধাবী কবি হিসেবে ‘কবিরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন কবিরাজ শব্দের অর্থ: আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসক।একটি শব্দ কাপুরুষ, যার মূল অর্থ কুদর্শন পুরুষ, অথচ ব্যবহৃত হয় সাহসহীন দুর্বল ব্যক্তি বোঝাতে। সম্‌-পূর্বক দিশ্‌ ধাতুতে ঘঞ্‌ প্রত্যয়ে সন্দেশের উৎপত্তি। যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ সম্যকরূপে দিক্‌নির্দেশ বা সঠিক বিষয় জ্ঞাপন। একসময় আত্মীয়স্বজনের খবরাখবর দেওয়ানেওয়ার জন্যে লোক পাঠানো হতো। খালি হাতে পাঠানো অভদ্রতা বলে সঙ্গে মিষ্টি খাবার। কালক্রমে সেই যে-কোনো মিষ্টি খাবার, পরবর্তীকালে এক বিশেষ মিষ্টি খাবারই সন্দেশ হয়ে দাঁড়াল।
 
অনুধাবন শব্দের মূল অর্থ পশ্চাৎধাবনকে পশ্চাতে ফেলে। এখন অনুধাবন বোঝায় নির্ধারণ বা মনোনিবেশ। অর্থসংশ্লেষের এ-এক উদাহরণ। ‘অনর্থ কী বকছ?’ বললে অনর্থের অর্থহীনতা প্রকাশ পায়, কিন্তু ‘সে এক অনর্থ বাধিয়ে বসেছে’ বললে অনর্থের অর্থ হয়ে যায় আপদ বা বিপত্তি।  কবিকুলের রাজা ইত্যর্থে চৈতন্য চরিতামৃতের কবি কৃষ্ণদাস বিভূষিত হয়েছিলেন ‘কবিরাজ’ উপাধিতে, কিন্তু তাবৎ কবিরাজ নেহাতই আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসককুল। ‘উৎকণ্ঠ আমার লাগি যদি কেহ প্রতীক্ষিয়া থাকে/সেই ধন্য করিবে আমাকে’ লেখার সময় ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য শোভনলালের উন্নত বা ঊর্ধ্বগত গ্রীবার কথা ভাবে নি, ভেবেছিল উদ্বিগ্ন দয়িতের কথা। উদ্‌গ্রীব বললে তার ব্যঞ্জনা এই একই হতো। চক্রান্ত শব্দের মূল অর্থ চক্রের শেষভাগ, তটস্থ শব্দের মূল অর্থ নদীকূলবর্তী, সতর্ক শব্দের মূল অর্থ তর্কযুক্ত এবং সোচ্চার শব্দের মূল অর্থ সশব্দ বমন। কিন্তু তাদের অর্থ মূল অর্থ হতে ভিন্ন। এগুলো অর্থ সংশ্লেষের উদাহরণ। বিষম শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো — অসম, সমত্বহীন।  কিন্তু বিষম শব্দের প্রচলিত অর্থ দারুণ, অতিশয়।  বাদা — মূলে আরবি শব্দ ‘বাদিয়হ’ যার অর্থ মরুভূমি। বাংলায় বাদা হয়ে গেছে জলাভূমি।
 
আজগুবি — ফারসি ‘আজ’-এর সঙ্গে আরবি ‘ঘঈ বী’ যুক্ত হয়ে আজগুবি শব্দ গঠিত। ঘঈবী অর্থ স্বর্গীয়। স্বর্গীয় মানেই অভিনব, অপূর্ব। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত ফারসি উৎসের শব্দ আজগুবি  অর্থ— অবিশ্বাস্য; অদ্ভূত, অপূর্ব, অসম্ভব, মনগড়া, ভিত্তিহীন।
 
আদায়— আরবি ‘অদা’ থেকে, যার অর্থ সম্পাদন বা সাধন। ‘নমাজ আদা করা’। বাংলায় পরিবর্তিত অর্থে উসুল বা সংগ্রহ — চাঁদা আদায়, কর আদায়।
আমলা — আরবি ‘আমিল’ থেকে, (অর্থ রাজস্ব আদায়কারী)। বাংলায় বোঝায় যে-কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী।
আসবাব — আরবিতে ‘আসবাব’-এর অর্থ কারণ সমূহ। তা’ থেকে জিনিস সমূহ। তা’ থেকে গৃহসজ্জার সামগ্রী।
 
 
error: Content is protected !!