শব্দের সংক্ষেপণ : লিখন কৌশল এবং শব্দের মর্যাদা প্রাপ্তি

শব্দের সংক্ষেপণ : লিখন কৌশল এবং শব্দের মর্যাদা প্রাপ্তি

এবি ছিদ্দিক

প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী শব্দসংক্ষেপের ক্ষেত্রে বিন্দুচিহ্ন ( . ) ব্যবহৃত হয়। তাই, প্রমিত রীতি অনুযায়ী ‘ডাক্তার’, ‘ডক্টর’, ‘মিস্টার’, ‘খ্রিষ্টাব্দ’, ‘সংস্কৃত’ প্রভৃতি শব্দের বানান সংক্ষেপে যথাক্রমে ‘ডা.’, ‘ড.’, ‘মি.’, ‘খ্রি.’, ‘স.’ প্রভৃতি লেখা হয়। সাধারণত এরূপ একটি শব্দের সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা

এবি ছিদ্দিক

দেখা দেয় না। কিন্তু, যখন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত পাশাপাশি অবস্থিত একাধিক শব্দ সংক্ষেপকরণের প্রয়োজন পড়ে, তখন অনেকের মধ্যেই কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তাই অনেকে ‘বিএ’ লেখেন, অনেকে লেখেন ‘বি. এ.’। আর, এসবের কারণে সাধারণ বাংলাভাষী প্রায়শই বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক শব্দের সংক্ষেপণে বিন্দুচিহ্ন ব্যবহার করতে হবে কি না, তা স্পষ্ট করবার জন্য ভাষাবিজ্ঞানের শব্দগঠন প্রক্রিয়া(Word-formation processes)-র ‘Acronymy’ প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা দরকার। প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী দামুদার ঠাকুর ‘Acronymy’-এর একটি চমৎকার সংজ্ঞার্থ উল্লেখ করেছেন। তাঁর সংজ্ঞার্থটি নিম্নরূপ:
“In linguistics, acronymy is the process whereby a new word composed of the initial letters of a group of words.”

তাহলে আমরা বলতে পারি— ভাষাবিজ্ঞানে ‘Acronymy’ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একগুচ্ছ শব্দের আদ্যবর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ নিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠিত হয়। বিস্তৃত আলোচনা করতে চাইলে এই শব্দগঠন প্রক্রিয়াটিকে তিন ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। কিন্তু আমি সেদিকে না-গিয়ে মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসছি। মূলত ‘Acronymy’ হচ্ছে নতুন শব্দগঠনের একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত বর্ণগুচ্ছকে বা শব্দকে ‘Acronym’ বলে এবং ওই বর্ণগুচ্ছ কোনো ভাষায় নতুন শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, কোনো ভাষায় ‘Acronymy’-এর মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দসমূহ ওই ভাষার শব্দভাণ্ডারে নতুন শব্দ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ন্যাটো (NATO), ইউনেসকো (ইউনেস্কো UNESCO), ভিআইপি (VIP), বিবিসি (BBC), বেসিক (BESIC), রাডার (radar) প্রভৃতি হচ্ছে ‘Acronymy’ শব্দগঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট কয়েকটি শব্দের উদাহরণ। এই প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুসারে সংক্ষেপণের মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দগুলোর স্বতন্ত্র ব্যবহার থাকলে; অর্থাৎ, শব্দগুলো যে-কোনো বাক্যে ব্যবহৃত হলে পাঠক বা শ্রোতা কোনোরূপ সংশয় ছাড়া এদের মৌলিক অর্থ অনুধাবন করতে পারলে, সৃষ্ট শব্দের বর্ণসমূহের পরে ডট বা বিন্দুচিহ্ন ( . ) দিতে হবে না। বিসিবি (BCB), বাফুফে, চমেক, ঢাবি, চবি, জাবি, রাবি, বুয়েট (BUET), এসএসসি (SSC), বিএসসি (BSc), বিসিএস (BCS) প্রভৃতি হচ্ছে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিছু ‘Acronym’-এর উদাহরণ।
আবার, ‘মো.’, ‘হু.’, ‘আ. হ. ম.’, ‘এস. এম.’, ‘উ.’, ‘বা.’ প্রভৃতির মতো সংক্ষেপিত রূপ বাংলা ভাষায় অর্থবোধক শব্দ হিসেবে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। তাছাড়া ‘মো.’ ‘হু.’, ‘এস. এম.’ প্রভৃতি সংক্ষেপিত রূপ বাংলা ভাষায় কোনো স্বতন্ত্র অর্থও বহন করে না। অর্থাৎ, ‘মো.’ মানেই ‘মোহাম্মদ’ বা ‘হু.’ মানেই হুসাইন হবে, এমন কোনো বাধ্যকতা নেই। তাই, কারও নামের বানান সংক্ষেপে লেখার ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণটির পরে ডট বা বিন্দুচিহ্ন ব্যবহার করাটাই সমীচীন।

সূত্র:   এবি ছিদ্দিক, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।


ঝরনা ঝরণা ঝর্ণা কোনটি লিখব এবং কেন লিখব

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

কীভাবে হলো দেশের নাম

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবিলিকেশন্স লি.।

error: Content is protected !!