শালাকরণ: শালা জুড়ায় বুকের জ্বালা

ড. মোহাম্মদ আমীন

শালা কত প্রকার ও কি কি?

ব্যাকরণের একটি অন্যতম প্রশাখার নাম শালাকরণ বা শ্যালাকরণ। শালাকরণ অনুযায়ী শালা প্রধানত পাঁচ প্রকার। যথা: ১.আইনগত শালা; ২.গালিগত শালা, ৩.বন্ধুগত শালা,৪.স্থানগত শালা, ৫.অধ্যয়নগত শালা।  তবে কোনো কোনো শালাবিদ বলেন, শালা প্রধানত চার প্রকার। তাঁরা মনে করেন, অধ্যয়নগত শালা মূলত স্থানগত শালার অন্তর্ভুক্ত। এবার দেখুন শালাকাহন।

১. আইনগত শালা বা শ্যালক শালা: সংস্কৃতে এই শালা শ্যালক নামে পরিচিত। শ্যালক (শ্যাল+ক) অর্থ পত্নীর ভ্রাতা। এরা একজাতীয় মনুষ্য-সন্তান। ইংরেজিতে বলা হয় ব্রাদার-ইন-ল (Brother-in-law)। অর্থাৎ, বউয়ের ছোটো ভাই যেনতেন শালা নয়, রীতিমতো আইনগত শালা। বউয়ের মন পেতে হলে একে আদর না করে উপায় নেই। তাছাড়া যদি প্রেম করে বিয়ে করা হয় এবং শালা দিয়ে প্রেমপত্র আদানপ্রদান হয়ে থাকে তাহলে আইনগতশালার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তবে মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস ভাবীশালাদের গুরুত্ব অনেক কমিয়ে দিয়েছে। শিক্ষক বললেন, ব্রাদার ইন ল অর্থ কী? ছাত্র বললেন, ভাই এসব লও।

২. গালিগত শালা: গালি শালা বিশেষ ধরনের মানুষ। এ জাতীয় শালা গালি দিয়ে বানানো যায়। তাই যে-কেউ যে-কোনো সময় গালি শালা হয়ে যেতে পারে। এই বিধির মাধ্যমে যখন তখন যে-কাউকে, এমনকি নিজেকে নিজেও শালা বানিয়ে ফেলা যায়।কারণ মুখে কিছু বলতে হলে তো ট্যাক্স (কর) দিতে হয় না। মজার বিষয় হলো, কেউ স্বীকার করুক বা না করুক— পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি পুরুষ এই শালার শ্রেণিভুক্ত। এই বিধির মাধ্যমে বাপকেও শালা বানিয়ে ফেলা যায়। যেমন অনেকে বলে, “আমার বাপশালাটা আস্ত কিপটে, শালা টাকা দিতে চায় না।” আবার অনেক বাপও তারা ছেলেকে ডাকে শালা। মোহসীন নামের এক অতি উচ্চপদস্থ কর্মচারী স্ত্রীকে তাঁদের সন্তান সম্পর্কে বলছেন,“শালার পুত শালা একটা কথা শুনে না।” এই বাক্যে  মোহসীন সাহেব শুধু ছেলেকে নয়, নিজেকেও শালা বানিয়ে ফেলেছে। 

তিনি শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে বললেন, শালা কান ধর। শ্যামল কান্তি বললেন, আমি হিন্দু আর আপনি তো অহিন্দু, কীভাবে আপনার শালা হই। তিনি বললেন, ধ্যাৎ শালা, গালিতে সব হয়।

৩. বন্ধুগত শালা বা বন্ধু শালা: বউয়ের ভাই কিংবা গালি ছাড়াও আর একপ্রকার মনুষ্য শালা আছে। যাকে বলা হয় আদর শালা। এক বন্ধু আর বন্ধুকে নিজেদের মধ্যে শালা সম্বোধন করে থাকে। আদর করে ডাকে: ধ্যাৎ শালা। অশিক্ষিতের চেয়ে শিক্ষিতদের  মধ্যে এমন বন্ধুশালা বানানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

৪. স্থানগত শালা বা মওজুদ শালা: এই শালা মনুষ্য নয়, স্থান। এই শালায় নানা বস্তু মওজদু বা নানা পশুপাখি কিংবা মানুষ রাখা হয়। কোনো বস্তু বা ব্যক্তি মওজুদ বা সংরক্ষিত রাখার স্থানকে আদর করে শালা ডাকা হয়। কারণ, আইনগত শালার মতো স্থানগত শালাতেও মজা আছে। যেমন: ছাগলশালা, হস্তিশালা, গোশালা, কামারশালা, চাকরশালা ইত্যাদি।

৫. অধ্যয়ন শালা বা অধ্যয়নগত শালা: এই শালা খুব অভিজাত। তবে শালাটি মানুষ নয়, স্থান। এসব শালা নামক স্থানে অধ্যয়ন বা প্রশিক্ষণ করা বা করানো হয়। এসব শালা মনুষ্য-সন্তান না হলেও মনুষ্য সন্তানদের জন্য তৈরি করা হয়। তাই  অনেকে এই শালাদের বেশ সমীহের সঙ্গে দেখে। যেমন: পাঠাশালা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণশালা, পণ্ডিতশালা ইত্যাদি।

৬. বিবিধ:  এই শালা ওপরের বর্ণিত পাঁচ প্রকারের বাইরের শালা। যেমন: সাউথ অস্ট্রেলিয়ান লিভিং আর্টিস্ট (South Australian Living Artists.)

Happy Birthday to the best brother in law who has the best sister in law.

লিংক: https://draminbd.com/শালাকরণ-শালা-জুড়ায়-বুকের/

error: Content is protected !!