শালাশালা মানে শ্বশুরবাড়ি: অনামিকা

ড. মোহাম্মদ আমীন

শালাশালা মানে শ্বশুরবাড়ি: অনামিকা

অভিধানে শালা শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি রয়েছে। সংস্কৃত ‘-শালা [√শল্+অ+আ (টাপ্)] অর্থ (বিশেষ্যে) আলয়, বাড়ি, স্থান, ঘর, কক্ষ, কারখানা, ভান্ডার, সঞ্চয়স্থান। এসব বিষয়ের সামষ্টিক অর্থ প্রকাশপূর্বক বিশেষ্যকে বিশেষভাবে দ্যোতিত করার জন্য শব্দের শেষে ‘-শালা’ যুক্ত হয়। যেমন: পাঠশালা, গোশালা, কামারশালা, পণ্যশালা, কর্মশালা, শূকরশালা, চাকরশালা, হস্তিশালা, বন্দিশালা ইত্যাদি। নজরুল লিখেছেন:
“যত সব বন্দিশালা আগুন জ্বালা ফেল উপড়ি
কারার ওই লৌহ কপাট।”
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত শ্যালক থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা শালা অর্থ (বিশেষ্যে) স্ত্রীর ছোটোভাই, সম্বন্ধী; গালিবিশেষ।
বাংলা শালা আর সংস্কৃত -শালা মিলিয়ে দিলে হয় শালাশালা (শালার শালা)। অর্থ শালা-নিবাস, যেখানা শালারা থাকে; মানে শ্বশুরবাড়ি। সংস্কৃত ‘-শালা’ শ্বশুর-এর সঙ্গে যুক্ত হলে হয়: শ্বশুরশালা। শব্দটি শ্বশুরকে শ্যালক বলছে নাএটি প্রকাশ করছে শ্বশুরশালা মানে শ্বশুরের শালা বা শ্বশুরের বাড়ি অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ি।
পাঠাশালার কাজ শেষ করে তিনি কেলিকুঞ্চিকার সঙ্গে দেখা করার জন্য শালাশালায় গেলেন। তার শালাশালার পাশে বিশাল এক কামারশালা।
কেলিকুঞ্চিকা অর্থ: শ্যালিকা।

অনামিকা

কনিষ্ঠ বা কড়ে আঙুলের পাশের আঙুলটির নাম অনামিকা। অনামিকা মানে যার নাম নেই। এ আঙুলে প্রেম-ভালোবাসা ও স্নেহমমতার আংটি পরানো হয়। তাই অনামিকা বিশ্বব্যাপী হার্দিক সম্পর্ক, গভীর প্রেমানুভূতি, প্রবল আবেগ ও মুগ্ধকর রোমাঞ্চের ধ্বজা হিসেবে বিবেচিত। তবে অনামিকা নামের উৎপত্তি প্রেমময় নয়, বরং নৃশংস।
কথিত হয়, মহাভারতের অন্যতম চরিত্র মহাদেব শিব একদিন ভীষণ রাগান্বিত হয়ে চুর্তুমুণ্ডু ব্রহ্মার একটি মুণ্ডু ঘাড় থেকে খসিয়ে ফেলেন। ভয়ানক এ কাজটি করতে তিনি কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেননি। শুধু নিজের অনামিকা দিয়ে মুণ্ডটি ভূপাতিত করেছিলেন।
ক্রোধ তিরোহিত হওয়ার পর মহাদেব অনুতপ্ত হলেন। তিনি অনুশোচনায় অস্থির হয়ে নিজের আঙুলকে অভিশাপ দিয়ে বললেন: “আজ থেকে তুই নাম গ্রহণের যোগ্যতা হারালি।” এরপর থেকে আঙুলটির নাম হয়ে গেল অনামিকা।
এই ঘটনার আগে অনামিকার কী নাম ছিল?
———————

error: Content is protected !!