শাহাদত না কি শাহাদৎ: আস্ত-ত ও খণ্ড-ত

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘শাহাদত’ শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি রয়েছে। দুটোরই উৎস-ভাষা আরবি।
  • প্রথম ভুক্তি মতে, শাহাদত শব্দের অর্থ (বিশেষ্যে) সাক্ষ্য; সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ এক এবং মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর রসুল।
  • দ্বিতীয় ভূক্তি মতে, শাহাদত অর্থ (বিশেষ্যে) সত্য ও ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের জন্য প্রাণ উৎসর্গ। যেমন: শাহাদত বরণ।
  • অভিধানে ‘শাহাদত’ শব্দ দিয়ে একটি বাগ্ভঙ্গি আছে। সেটি হচ্ছে ‘শাহাদত আঙুল’। তর্জনীকে বলা হয় ‘শাহাদত আঙুল’। নামাজে ‘শাহাদত’ উচ্চারণের সময় তর্জনীকে উঁচু করতে হয়।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘শাহাদৎ’ বানানের কোনো ভুক্তি পাওয়া যায় না।
বিদেশি শব্দের বানানে এককালে আস্ত-ত/ ও /খণ্ড-ৎ/ বর্ণকে সমভাবে প্রয়োগ করা হতো। প্রমিত বানানে বিদেশি শব্দে কেবল ‘আস্ত-ত’ ব্যবহার করা হয়। যেমন: মতলব, হিম্মত, ইজ্জত, কেয়ামত, তফাত, জিয়ারত, হযরত, দস্তখত, বহুত, শরবত, রহমত প্রভৃতি।

আস্ত-ত আর খণ্ড-ত

বাংলা বর্ণমালায় ‘খণ্ড-ৎ’ ও ‘আস্ত-ত’ ভিন্ন বর্ণ হিসেবে দেখানো হলেও ‘খণ্ড-ৎ’ প্রকৃতপক্ষে ‘ত’-এর খণ্ডিত রূপ। খণ্ড-ৎ সাধারণত শব্দের আগে বসে না, মধ্যে বা শেষে বসে। তবে কিছু বিদেশি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে শব্দের শুরুতে ‘খণ্ডৎ’-এর ব্যবহার দেখা যায়। যেমন : ৎসাহাস (একজন জার্মান লেখক)।
‘খণ্ড-ৎ’ বর্ণের সঙ্গে স্বরচিহ্ন অর্থাৎ /অ আ ই ঈ উ ঊ এ ঐ ও ঔ/ যুক্ত হয় না। তাই খণ্ডৎ এর উচ্চারণ হলন্ত। তবে খণ্ড-ৎ এর সাথে রেফ্ যুক্ত হতে দেখা যায়। যেমন: ভর্ৎসনা।
কোনো শব্দে ‘খণ্ড-ৎ’ না কি ‘আস্ত-ত’ বসবে সে বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হলে এবং কোনো অভিধান দেখারও সুযোগ না থাকলে খণ্ড-ৎ না বসিয়ে ‘আস্ত-ত’ বসালে ভুলের আশঙ্কা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
error: Content is protected !!