শিবরাম চক্রবর্তী : বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা

ড. মোহাম্মদ আমীন

শিবরাম চক্রবর্তী : বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা

প্রখ্যাত রম্যলেখক ও বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা হিসেবে খ্যাত শিবরাম চক্রবর্তী ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই ডিসেম্বর কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে আগস্ট কলকাতায় স্বজনহীন পরিবেশে নিঃস্ব অবস্থায় মারা যান। কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য-জীবনের শুরু।প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘মানুষ’ ও ‘চুম্বন’। দুটোই প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত উপন্যাস বাড়ি থেকে পালিয়ে। এরপর লিখেছেন বাড়ি থেকে পালিয়ের পর, কলকাতার হালচাল, র্মার মামা, নের মত বৌমস্কো বনাম পন্ডিচেরী-সহ আরও অনেক অনেক বই। তাঁর অমর সৃষ্টি হর্ষবর্ধন গোবর্ধনের গল্প এখনো অতীতের মতো সমভাবে আদৃত। প্রবন্ধ, গল্পের পাশাপাশি তিনি কিছু রম্য গোয়েন্দাকাহিনিও লিখেছিলেন। তার গোয়েন্দার নাম কল্কেকাশি।  অবহেলার কারণে তাঁর বহু লেখা  সংরক্ষণ করেননি।  জীবনটাও ছিল চরম অবহেলায় ভরপুর। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি গুরুতর আর্থিক সমস্যায় পড়েন। অর্থকষ্টে তার জীবনটা ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে যেতে  থাকে।  পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে মাসিক ভাতা প্রদান করে।  বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা হয়ে তিনি অনেককে হাসিয়েছেন, এখনও হাজার হাজার লোক তার লেখা পড়ে হাসেন, ভবিষ্যতেও হাসবেন; কিন্তু তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ, হাসিবিহীন। যাদের জীবনে হাসি নেই, তারা অন্যকে হাসিয়ে সুখী হওয়ার চেষ্টা করেন। শিবরাম চক্রবর্তীর  জীবনের  একটি করুণ কথোপকথন  শোনা যাক:

আপনি নাকি সব কাজ করেছেন। বলুন তো কী কী করেছেন?
সৈয়দ মুজতবা আলীর এমন প্রশ্নের উত্তরে শিবরাম চক্রবর্তী বললেন, আমি খেলাধুলা করেছি, দুষ্টোমি করেছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি, রাজনীতি করেছি, জেল খেটেছি, রাস্তায় কাগজ ফেরি করেছি, চাকরি করেছি, ফুটপাতে রাত্রিবাস করেছি, সাংবাদিকতা করেছি, উপোস করেছি, কর্জ করেছি, লেখাপড়া করেছি, আজীবন মেসে জীবন-যাপন করেছি।
সৈয়দ মুজতবা আলী বললেন, আপনি তো দেখি সব করেছেন।
হ্যাঁ। তবে একটা কাজ করিনি।
সেটি কী?
শিবরাম চক্রবর্তী বললেন, বিয়ে।বিয়ে থা কখনো করিনি।
—————————————–
error: Content is protected !!