শুদ্ধ বনাম বিশুদ্ধ এবং ঠিক বনাম সঠিক

ড. মোহাম্মদ আমীন
শুদ্ধ:   বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত তৎসম/সংস্কৃত শুদ্ধ (√শুধ্‌+ত) অর্থ—
  • নির্ভুল:শুদ্ধ উচ্চারণ ভাষিক সৌন্দর্য আর সহজ বোধগম্যতার  পূর্বশর্ত।
  • নির্মল, পবিত্র: শুদ্ধচিত্তে এগিয়ে গেলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়ে যায়।
  • শোধিত: শুদ্ধ রচনাটি এখন প্রকাশ করা যায়।
  • নির্ভেজাল: শুদ্ধ খাদ্যদ্রব্য পেতে হলে গ্রামে চলে যাও।
  • প্রমিত:  প্রত্যেক ভাষার একটি শুদ্ধ রূপ রয়েছে। 
শুদ্ধ শব্দের সঙ্গে -তা প্রত্যয় যুক্ত করলে পাওয়া যায় শুদ্ধতা। এটি বিশেষ্য। শুদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।
বিশুদ্ধ: সংস্কৃত/তৎসম বিশুদ্ধ (বি+√শুধ্+ত)অর্থ (বিশেষণে)—
  • খাঁটি: বিশুদ্ধ জল, জীবন করে সুস্থ-সবল। বাজারে এখন বিশুদ্ধ ঘি পাওয়া মুশকিল।
  • নির্মল: বিশুদ্ধ মানুষ বিশুদ্ধ মনের ধারক।
  • পবিত্র:  ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে কুরআন বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য।  
  • নির্দোষ: বিশুদ্ধ মানুষটিকে রাজনীতিক কারণে অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বিশুদ্ধ শব্দের সঙ্গে -তা প্রত্যয় যুক্ত করলে পাওয়া যায়  বিশুদ্ধতা। এটি বিশেষ্য। বিশুদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই।
  • উপরের আলোচনায় দেখা যায়, শুদ্ধ ও বিশুদ্ধ এবং ঠিক  ও সঠিক সমার্থক।

সঠিক ও ঠিক:  বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা সঠিক অর্থ নির্ভুল, প্রকৃত প্রভৃতি। সংস্কৃত স্থিত থেকে উদ্ভূত তৎসম ঠিক অর্থ সত্য, নির্ভুল, স্থিরকৃত, সম্পূর্ণ, হুবহু, প্রস্তুত, পরিপাটি প্রভৃতি। সুতরাং উভয় শব্দ সমার্থক। অনেকে মনে করেন (একসময় আমিও মনে করতাম), ‘সঠিক’ শব্দটি শুদ্ধ নয়; বাহুল্য এবং অপপ্রয়োগ। তাঁদের মতে, ‘সঠিক’ শব্দের ‘স’ একটি উপসর্গ। আসলে এ ধারণা সঠিক নয়। ‘ঠিক’ ও ‘সঠিক’ দুটি ভিন্ন শব্দ এবং সমার্থক। তাই শব্দ হিসেবে ‘সঠিক’ অবশ্যই ঠিক। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘সঠিক’ শব্দটি প্রমিত হিসেবে পৃথক ভুক্তিতে স্থান পেয়েছে।

উপসংহার:  অভিধানমতে, “শুদ্ধ মানে যা, বিশুদ্ধ মানেও তা; যার বিশেষ্য যথাক্রমে শুদ্ধতা ও বিশুদ্ধতা। অন্যদিকে, ঠিক মানে যা, সঠিক মানেও তা। কেউ যদি এই

ড. মোহাম্মদ আমীন

শব্দদুটির আগে উপসর্গ লাগানো ভুল” মনে করে থাকে তো সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এই ব্যক্তিগত বিষয়টি  অভিধান, ব্যাকরণ, প্রচলন ও শ্রুতিমাধুর্যের প্রতিকূল।  বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ‘বিশুদ্ধ’ ও ‘সঠিক’  উভয় শব্দকে আলাদা ভুক্তির মাধ্যমে  অন্তর্ভুক্ত  করে শুদ্ধতার মর্যাদা দিয়েছে।  শুবাচি খুরশেদ আহমেদের ভাষায়,  “আমরা বলি ‘বিশুদ্ধ অক্সিজেন’, ‘বিশুদ্ধ ঘি’, ‘উত্তর সঠিক হয়েছে’ ইত্যাদি। ‘শুদ্ধ অক্সিজেন’, ‘শুদ্ধ ঘি’ আমার কানে বাঙালির বুলি বলে মনে হয় না; ও রকম শুনলে আমার মনে হবে আমি যেন কোন বিদেশির মুখে pure oxygen, pure ghee-এর বাংলা অনুবাদ শুনছি। আর আমার কানে ‘সঠিক উত্তর’=ঠিক জবাব (যদি ‘ঠিক’ বিশেষণটি প্রয়োগ করে কথাটি বলতে চান); ‘ঠিক উত্তর’-এর চেয়ে ‘সঠিক উত্তর’ অনেক বেশি যুতসই।”

— √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √  — √ 
error: Content is protected !!