শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

ষষ্ঠ অধ্যায়

ধাতু ও ধাতুরূপ

লিখা লেখা শিখা শেখা

কখন হবে শিখা, কখন হবে শেখা আবার কখন হবে লেখা কখন হবে লিখি ইত্যাদি নিয়ে আমার মতো সাধারণ বাঙালিদের ভুল হয়ে যায়। এ ভুল যাতে না-হয় বা কম হয় সেজন্য নিচের নিমোনিকগুলো মনে রাখুন।

(ক) সাধু রীতিতে ‘ই-কার’ আদ্যবর্ণের শিখ্, র্ঘ্,ি জিত্, র্ফ্,ি ভিড়্, চিন্, কিন্ র্ঘ্,ি ইত্যাদি ‘লিখ্’-আদিগণ ধাতুর যে-কোনো রূপের বানানে আদ্যবর্ণ হবে ‘ই-কার’-যুক্ত। যেমন : শিখ, শিখিয়াছি, শিখিব, শিখিলাম, লিখে, লিখিয়াছি, লিখিতেছি, চিনা, চিনিয়া, জিতিয়াছে, লিখিবে, ফিরিয়াছে লিখিয়াছিল ইত্যাদি।

(খ) চলিত রীতিতে, লিখ্, শিখ্, চিন্, র্ফি, কিন্্, র্ঘ্ ইিত্যাদি ধাতুগুলোর বানান শুদ্ধভাবে লেখার জন্য নিচের নিমোনিকগুলো মনে রাখা যায়।

এরূপ ধাতু দিয়ে গঠিত কোনো শব্দের বানানে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে  ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ যুক্ত থাকলে, আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হবে। যেমন : লিখি, লিখুন, লিখিনি, লিখিস, চিনি, চিনিস, শিখি, শিখব, লিখে, ফিরে ইত্যাদি।

(গ) যদি দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ ছাড়া অন্য কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত থাকে বা কার-চিহ্নহীন  হয়, তাহলে বাক্যে প্রয়োগ অনুযায়ী শব্দটির সাধুরূপ করতে হবে। সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ বা ‘উ’-কার’ যুক্ত হলে বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ দিয়ে এবং অন্য যে-কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত হলে বা কার-চিহ্নহীনতায় ‘এ-কার’ দিয়ে লিখতে হবে।  যেমন :

১. ‘শেখাবে’ শব্দটির সাধুরূপ, ‘শিখাইবে’। এই শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ’-কার যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘এ’-কার দিয়ে লিখতে হবে Ñ ‘শেখাবে’।

২. ‘লিখব’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘লিখিব’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হয়েছে, তাই চলিতরূপে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার দিয়ে লিখতে হবে Ñ ‘লিখব’।

৩. ‘কেনা’ শব্দের সাধুরূপ, ‘কিনা’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ-কার’ যুক্ত হয়েছে, তাই চলিত রীতিতে শব্দটির আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘এ-কার’ যুক্ত করে লিখতে হবে Ñ ‘ কেনা’। একইভাবে,  ‘ফেরা’ শব্দটির সাধুরূপ, ‘ফিরা’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ-কার’ যুক্ত হয়েছে, তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘এ-কার দিয়ে লিখতে হবেÑ ‘ ফেরা’।

৪)  ‘চিনেছি’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘চিনিয়াছি’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে হ্রস্ব-‘ই-কার’ রয়েছে।অতএব, চলিত রীতিতে শব্দটির বানানে আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ দিয়ে লিখতে হবেÑ ‘চিনেছি’।

৫)  ‘জেতো’ শব্দটির সাধুরূপ,  ‘জিতো’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ও-কার’ রয়েছে। অতএব, চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘এ’-কার দিয়ে লিখতে হবে Ñ জেতো।

একইভাবে, ফিরাও > ফেরাও, শিখিয়াছে > শিখেছে, লিখিবে > লিখবে, ঘিরো > ঘেরো, ভিড়াইতেছে > ভেড়াচ্ছে, চিনাইস > চেনাস ইত্যাদি।

বাক্যের ধরণ ও বক্তব্য অনুযায়ী একই ক্রিয়াপদের ভিন্ন রূপ হতে পারে। তাই, নির্ধারিত ক্রিয়াগুলোর সাধুরূপ আবশ্যিকভাবে বাক্যে প্রয়োগ অনুযায়ী করতে হবে। নিচের উদাহরণদুটি লক্ষ করলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন :

১. মিনহা সাঁতার শেখে। (সাধুরূপ : মিনহা সাঁতার শিখে)।

২.  মিনহা সাঁতার শিখে নিয়েছে।  (সাধুরূপ : মিনহা সাঁতার শিখিয়া নিয়াছে।)

প্রথম বাক্যে ‘শেখে’ বানানের আদ্যবর্ণ ‘এ-কার’যুক্ত। কারণ, ভাব অনুযায়ী  ‘শেখে’ শব্দটির সাধুরূপ,  ‘শিখে’। দ্বিতীয় বাক্যে ‘শিখে’ শব্দের  বানানের আদ্যবর্ণে ‘ই-কার’ রয়েছে। কেননা,  বাক্যের দ্যোতনা নুযায়ী ‘শিখে’ শব্দের সাধুরূপ, ‘শিখিয়া’।

উঠ ওঠ, উড় ওড়, বুঝ বোঝ নিমোনিক

আদ্যবর্ণ ‘উ’ বা ‘উ-কার’যুক্ত উড়্, উঠ্, শুন্, ছুট্, খুঁজ্, ডুব্, তুল্, বুঝ্, ভুল্্ ইত্যাদি ‘উঠ্-আদিগণ’ ধাতুর বিভিন্নরূপের বানানের প্রথম বর্ণ কখন ‘উ’ বা ‘উ-কার’ এবং কখন ‘ও’ বা ‘ও-কার’ হবে, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। সংশয় এড়ানোর জন্য নিচের নিমোনিকগুলো খেয়াল রাখা যায়। এ নিয়ে সমাপিকা বা অসমাপিকা ক্রিয়ার মতো সংশয়াবৃত বিষয়ে না-যাওয়ায় উত্তম।

 

(ক) সাধু রীতিতে ধাতুগুলোর যে-কোনো রূপের বানানে প্রথম অক্ষর হবে ‘উ’ বা ‘উ-কার’যুক্ত।  যেমন: উড়,  উড়িল, উড়িতেছিল, উঠ, উঠিয়াছেন, শুনা, শুনিব, খুঁজি, ডুবি, তুলি, তুলিব, ডুবিতেছে, বুঝিয়াছি, তুলিতেছিলাম, উড়ে, উড়িয়াছিলাম, শুনিয়াছি প্রভৃতি।

(খ) চলিত রীতিতে এসব ধাতুর দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ থাকলে আদ্যবর্ণ ‘উ’ হবে বা ‘উ-কার’-যুক্ত হবে। যেমন : উড়ি, উড়িনি, উঠি, উঠিনি, বুঝি, শুনি, ডুবি, উঠুন, খুঁজিস, তুলি, খুলিনি, বুঝি, বুঝিলি, ঢুলি, ঢুলিনি ইত্যাদি।

(খ) দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ ছাড়া অন্য-কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত হলে অথবা দ্বিতীয় বর্ণ কার-চিহ্নহীন হলে, চলিত রীতিতে শব্দটির বানান কী হবে তা নির্ণয় করার জন্য শব্দটির সাধুরূপ কী, আগে তা জানা আবশ্যক। যদি সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ যুক্ত হয়, তাহলে আদ্যবর্ণ ‘উ’ বা ‘উ-কার’-যুক্ত হবে। অন্য কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত হলে বা কার-চিহ্নহীন হলে আদ্যবর্ণ ‘ও’ বা ‘ও-কার’-যুক্ত হবে।  যেমন : 

১. চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘ওড়’ শব্দের সাধুরূপ ‘উড়’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত হয়নি। তাই শব্দটির চলিতরূপ আদ্যবর্ণ ‘ও’ দিয়ে ‘ওড়’ লিখতে হবে। তেমনি, ‘ওঠ’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘উঠ’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে কোনো কার-চিহ্ন যুক্ত হয়নি। তাই চলিতরূপে শব্দটির বানান হবে ‘ওঠ’।

ক.  পাখি আকাশে ওড়ে।

খ.  পাখি আকাশে উড়ে বেড়ায়।

দ্যোতনা অনুযায়ী  প্রথম বাক্যের ‘ওড়ে’ শব্দটির সাধুরূপ, ‘উড়ে’। এজন্য এক নম্বর বাক্যে ‘ওড়ে’ শব্দটির বানান ‘ও’ দিয়ে লেখা হয়েছে। দ্বিতীয় বাক্যে ‘ওড়ে’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘উড়িয়া’(পাখি আকাশে উড়িয়া বেড়ায়।), তাই দুই নম্বর বাক্যে ‘উড়ে’ শব্দটির বানান উ-কা দিয়ে লেখা হয়েছে।

২. চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘তোলে’ শব্দের সাধুরূপ ‘তুলে’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘এ-কার’ যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান হয়েছে ‘তোলে’। তেমনি, চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘শোনে’ শব্দের সাধুরূপ ‘শুনে’। এর সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘এ-কার’ আছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ও-কার’  দিয়ে লিখতে হবে Ñ শোনে।

৩. চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘ভুলেছি’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘ভুলিয়াছি’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হয়েছে। তাই শব্দটির চলিত রীতির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘উ-কার দিয়ে ‘শুনেছি’ লিখতে হবে। তেমনি, চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘শুনেছি’ শব্দের সাধুরূপ হচ্ছে ‘শুনিয়াছি’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হয়েছে, সেহেতু চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘উ-কার দিয়ে ‘শুনেছি’ লিখতে হবে।

৪) চলিত রীতির ‘ডোবাবে’ শব্দের সাধুরূপ ‘ডুবাইবে’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ-কার যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘ও-কার দিয়ে ‘বোঝাবে’ লিখতে হবে। তেমনি, চলিত রীতির ‘বোঝাবে’ শব্দের সাধুরূপ Ñ ‘বুঝাইবে’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ-কার যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান হবে ‘বোঝাবে’।

৫) চলিত রীতিতে ব্যবহৃত ‘গুনবে’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘গুনিবে’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘উ-কার দিয়ে লিখতে হবে ‘গুনবে’। তেমনি, চলিত রীতির ‘খুঁজবে’ শব্দের সাধুরূপ হচ্ছে ‘খুঁজিবে’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘ই-কার’ যুক্ত হয়েছে। তাই চলিত রীতিতে শব্দটির বানান হবেÑ ‘খুঁজবে’।

৬)  চলিত রীতির ‘শুনাচ্ছিল’ শব্দটির সাধুরূপ, ‘শুনাইতেছিল’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ’-কার যুক্ত হয়েছে। তাই, শব্দটির চলিতরূপ আদ্যবর্ণ ‘ও’ দিয়ে লিখতে শোনাচ্ছিল। তেমনি, ‘ওড়াচ্ছিল’ শব্দটির সাধুরূপ, ‘উড়াইতেছিল’। শব্দটির সাধুরূপে দ্বিতীয় বর্ণের সঙ্গে ‘আ-কার যুক্ত হয়েছে। তাই শব্দটির চলিতরূপ আদ্যবর্ণ ‘ও’ দিয়ে লিখতে হবে ‘ওড়াচ্ছিল’।

এবার দেখুন, উড়িতেছে > উড়ছে, উড়াইতেছে > ওড়াচ্ছে,  শুনিতেছে > শুনছে, শুনাইতেছে > শোনাচ্ছে,  উঠাইবে > ওঠাবে, বুঝিয়াছি > বুঝেছি, শুনিতেন > শুনতেন, খুঁজিতেছিলেন > খুঁজছিলেন, বুঝিয়াছেন > বুঝেছেন, বুঝিয়াশুনিয়া > বুঝেশুনে, বুঝানো > বোঝানো ইত্যাদি  বুঝেছেন কি না।

বাক্যে প্রয়োগ অনুযায়ী অনেক শব্দের সাধুরূপ বদলে যায়। তাই, শব্দগুলোর সাধুরূপ বাক্যে প্রয়োগ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।   যেমন :

ক.  বাবুল আম গোনে।

খ. বাবুল আমগুলো গুনে ঝুড়িতে রাখল।

অন্তর্নিহিত অর্থ অনুযায়ী প্রথম বাক্যের ‘গোনে’  শব্দের সাধুরূপ হচ্ছে ‘গুনে’, তাই প্রথম বাক্যে ‘গোনে’ শব্দটির বানান চলিত রূপে ‘ও’ দিয়ে লেখা হয়েছে। প্রকাশ বিবেচনায় দ্বিতীয় বাক্যের ভাব অনুযায়ী ‘ওড়ে’ শব্দটির সাধুরূপ হচ্ছে ‘গুনিয়া’(বাবুল আমগুলি গুনিয়া ঝুড়িতে রাখিল)। এজন্য দ্বিতীয় বাক্যে  দুই নম্বর বাক্যে ‘গুনে’ শব্দটির বানান ‘উ’ দিয়ে লেখা হয়েছে।

বুঝা ও বোঝা

কোথায় বুঝা হবে এবং কোথায় বোঝা হবেÑ  এ নিয়ে আমাদের সংশয়ের অন্ত নেই। বাংলা ক্রিয়াবিশেষণ বুঝা শব্দের অর্থ বোধ করা, বিচার করে জানা ইত্যাদি। ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা ‘ বোঝা’ শব্দের অর্থ উপলব্ধি করা, জানা, বিচার করে জানা, বিচার বিবেচনা করা প্রভৃতি। তবে, এটি ‘বুঝা’ শব্দের কথ্যরূপ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্যে ‘ বোঝা’ শব্দের অর্থÑ ভার, মোট, দায়িত্ব প্রভৃতি।

অর্থ বিশ্লেষণ করলে অনুধাবন করা যায় যে, উভয় শব্দ সমার্থক হলেও পার্থক্যও রয়েছে। এজন্য বাক্যে কোথায় কখন ‘বুঝা’ হবে এবং  কোথায় ‘বোঝা’ হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকট হয়ে ওঠে। ক্রিয়া অর্থে বুঝা এবং বিশেষ্য অর্থে বোঝা লিখলে সংশয় থেকে বহুলাংশে দূরে থাকা যায়। যেমন:  বুঝতে না পারলে হালকা বিষয়ও বোঝা হয়ে যায়।

‘ বুঝা’ শব্দটি অসমাপিকা ক্রিয়া। ক্রিয়ার এ রূপটি দ্বারা বাক্য শেষ করলে তা শুদ্ধ বলে পরিগনিণত হবে না। যেমন- কী করে তুমি বিপদ হতে পাড় পাবে বুঝে দেখ। কারণ অসমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা কোনো বাক্য শেষ হয় না। অন্যদিকে ‘বোঝা’ সমাপিকা ক্রিয়া। ক্রিয়ার এ রূপ দিয়ে বাক্য শেষ করা যায়। যেমন- ঠিকমতো সময়কে ব্যবহার না- করার মজা এবার বোঝ।

‘বুঝ’ ও ‘বোঝ’ বানানে হ্রস্ব-‘উ’-কার এবং ‘ও’-কার ব্যবহারের ঝামেলা এড়ানো সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ‘ঝ’ বর্ণটির সঙ্গে কোন ‘কার’-চিহ্ন যুক্ত হয়েছে তা দেখা। যদি ‘ঝ’-র সঙ্গে ‘ই’ বা ‘উ’-কার যুক্ত হয়, তবে ‘বুঝ’ বানান ‘ব’-র সঙ্গে হ্রস্ব-‘উ’-কার দিয়ে লিখতে হবে, অন্য যে-কোনো ‘কার’-চিহ্ন থাকলে ‘ও’-কার দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : বুঝি, বোঝা, বোঝো, বোঝে, বোঝায়, বুঝিনি। যদি ‘বুঝ’ বা ‘বোঝ’ শব্দের সঙ্গে কোনো ‘কার’-চিহ্ন না থাকে, তবে শব্দটিকে ভেঙে দেখে একই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। যেমন-

‘বুঝতে’ শব্দটিকে ভাঙলে ‘বুঝ’ এবং ‘ইতে'(বুঝ+ইতে = বুঝিতে < বুঝতে) পাওয়া যায়। উদাহরণটিতে লক্ষ করা যায় যে, ‘বুঝতে’ শব্দে ‘ঝ’-র সঙ্গে কোনো ‘কার’-চিহ্ন না থকলেও প্রকৃত পক্ষে ‘ঝ’-র সঙ্গে ‘ই’-কার যুক্ত হয়েছে। একই ভাবে-

বুঝ+ইব = বুঝিব<বুঝব, বুঝ+ইলে = বুঝিলে<বুঝলে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, সাধু রীতিতে ‘বুঝ’-র সঙ্গে যে ‘কার’-চিহ্নই যুক্ত হোক না কেন, বানান অবশ্যই হ্রস্ব-‘উ’-কার দিয়েই লিখতে হবে।

error: Content is protected !!