শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

দ্বতীয় অধ্যায়

বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান-বিধি

তৎসম শব্দ

১.০১. তৎসম অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অবিকৃত সংস্কৃত শব্দের বানান, ব্যাকরণগত প্রকরণ ও পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ এ সকল শব্দের সুনির্দিষ্ট বানান-পদ্ধতি ও ব্যাকরণ বিধি রয়েছে।

১.০২. তবে যে সকল তৎসম শব্দে ‘ই  ঈ বা উ  ঊ’ উভয় শুদ্ধ সে সকল শব্দে কেবল যথাক্রমে ‘ই / উ’ অথবা সংশ্লিষ্ট-কারচিহ্ন (হ্রস্ব ই-কার কিংবা হ্রস্ব উ-কার) ব্যবহৃত হবে। যেমন : কিংবদন্তি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জিকা, পদবি, ভঙ্গি, মঞ্জরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচিপত্র, উর্ণা, উষা, বিদেশি ইত্যাদি। এ সকল শব্দে ঈ-কার কিংবা ঊ-কার বসানো অনুচিত। আধুনিক প্রমিত বানানে তা ভুল হিসেবে গণ্য।

১.০৩. রেফ এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন- অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম, কর্তন, কর্ম, কার্য, গর্জন, মূর্ছা, কার্তিক, বার্ধক্য, বার্তা ইত্যাদি।

১.০৪. ‘ক  খ  গ  ঘ’ পরে থাকলে পদের অন্তঃস্থিত ‘ম্’ স্থানে অনুস্বার ( ং) হবে। যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন ইত্যাদি। তবে বিকল্পে ‘ঙ (উঁয়ো)’ লেখা যাবে। ক্ষ=(ক+ষ) এর পূর্বে সর্বত্র ‘ঙ’ হবে। যথা: আকাক্সক্ষা।

error: Content is protected !!