শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) থেকে শুবাচির প্রশ্ন শুবাচির উত্তর: (১৬-৩০)

ড. মোহাম্মদ আমীন

১৫. ‘যুগ্ম’ এই শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কী: হবে যুগ-ন নাকি যুগ-ম?
 
শব্দটির প্রমিত উচ্চারণ: যুগ্‌মো। গ-যে ম যুক্ত হলে ম-এর উচ্চারণ সাধারণত অক্ষুণ্ন থাকে। যেমন: বাগ্মী।
 
১৬. চর্যা অর্থ কী?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত চর্য (√চর্‌+য) অর্থ (বিশেষণে) পালনীয়, অনুষ্ঠেয়, আচরণ, কর্তব্যাদি প্রভৃতি। চর্য থেকে চর্যা। অর্থাৎ, ব্যক্তি হতে ক্রমান্বয়ে সমষ্টিতে এবং তদ্পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট, গৃহীত ও প্রতিষ্ঠিত সমকালীন সামাজিক আচার-আচরণ, কর্তব্য প্রভৃতি হচ্ছে চর্য বা চর্যা। চর্যা থেকে চর্যাপদ। চর্যাপদ শব্দের অর্থ বৌদ্ধ সহজিয়াদের বাংলা ভাষায় রচিত গীতিকবিতা। খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকে রচিত  এই গীতিকবিতাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন মনে করা হয়।
 
১৭. বেয়ারা ও বেয়াড়া
 বেয়ার শব্দের বহুল প্রচলিত অর্থ—  অফিসের ‘বেয়ারা’ । বেয়ারা ইংরেজি bearer ( বেয়ারার) শব্দের বিকৃত রূপ। এর বাংলা অর্থ— বাহক। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে,   ইংরেজি বেয়ারা অর্থ— (বিশেষ্যে) আজ্ঞাবাহী, পরিচারক। এরূপ আর একটি শব্দ আছে— বেয়াড়া। বাংলা বেয়াড়া শব্দের অর্থ—  (বিশেষণে)  সহজে বশে আনা যায় না এমন, একরোখা। অনেক বেয়ারা খুব বেয়াড়া হয়। বেয়াড়া বেয়ারাকে মনিব পছন্দ করেন না।
 
১৮. বিসর্গ ও কোলন
আমরা অনেকে বিসর্গ আর কোলন এক করে ফেলি। এটা দৃষ্টিকটু। মনে রাখতে হবে বিসর্গ একটা বর্ণ আর কোলন একটা চিহ্ন। তাই কাউকে ‘দু:খ’ না-দিয়ে ‘দুঃখ’ দিন আর ‘নি:শ্বাস’ না-নিয়ে ‘নিঃশ্বাস’ নিন।
অনেকে কবিতা লেখেন। শিরোনাম দেন এভাবে —
কবিতাঃ
কবিঃ
তারিখঃ
মনে রাখবেন, এটা ভুল। এই ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহার করুন।
কবিতা :
কবি :
তারিখ :
আরেকটা বিষয়, শব্দ-সংক্ষেপণের জন্য বিসর্গ নয়, বিন্দু ব্যবহার করুন। যেমন :
মোঃ নয়, মো.
খ্রিঃ নয়, খ্রি.
বিঃদ্রঃ নয়, বি.দ্র.
বিসর্গ ব্যবহার করলে উচ্চারণ হয়ে যাবে মোহ্, খ্রিহ্, বিহ্‌দ্রোহ্ ইত্যাদি।
আর হ্যাঁ, আমার কথায় কেউ দু:খ পাবেন না; তবে দুঃখ পান, সমস্যা নেই। দুঃখে বিসর্গ থাকলে তা-ও স্বর্গসুখ হয়ে উঠবে।
 
১৯. আর্য শব্দটির অর্থ কি?
ভারতীয় পুরাণ এবং শাস্ত্রগ্রন্থসমূহে কিছু উত্তম গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে আর্য বলা হয়েছে। কোনো কোনো গ্রন্থে: হিন্দুধর্মাবলম্বী অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের আর্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মাত্রই আর্য। আবার, কিছু গ্রন্থমতে, কেবল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরাই হচ্ছে আর্য। চতুর্থ বর্ণকে শূদ্র বলা হয়েছে। তাই অনেকে মনে করেন, শূদ্র আর্য নয়। আর্যরা ভারতবর্ষ দখল করে শূদ্রদের নিজেদের সমাজভূক্ত করে নেন। কিন্তু সেই অনার্য শূদ্র কারা, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
 
২০. বৃটিশ না ব্রিটিশ? ব্যাখ্যাসহ জানতে চাই।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৬] লিখেছে ‘ব্রিটিশ’ ও ‘ব্রিটেন’।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২ (মুদ্রণ-২০১৫)] অতৎসম শব্দে ঋ-কার ব্যবহার করা-না-করা সম্পর্কে কোনো বাধ্যবাধকতা বা পরামর্শ বা মতামত দেয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি গৃহীত বানানবিধি ‘[প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ১৯৯৭। পরে পরিমার্জিত] মত প্রকাশ করে বলেছে: “বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ঋ-কার ব্যবহার না-করে র-ফলা ই-কার ব্যবহার করাই উচিত হবে। যেমন, … বৃটিশ নয়, ব্রিটিশ।’
পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ ও সাহিত্য সংসদ প্রকাশন সংস্থার বাংলা বানানবিধি ৩. (ক) স্পষ্ট বলেছে: “বাংলায় গৃহীত সংস্কৃত শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে … ঋ-কার হবে না। … ব্রিটেন, খ্রিস্টাব্দ।”
বাংলার দিকপাল কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি─’যায় যায় দিন’ ছাড়া─’বৃটিশ’ বা ‘বৃটেন’ লেখা সমর্থন করে না। 
 
 
২০. ঋ কি স্বরধ্বনি?
বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৯৯)-এর নবম পুনর্মুদ্রণ (২০১৬)] লিখেছে:
“ঋ বাঙলা ভাষায় এ-বর্ণটির উচ্চারণ ‘রি’ (র্‌-এর সঙ্গে ই-স্বরধ্বনির সংযুক্তি)। সংস্কৃত ভাষায় ‘ঋ’ শুদ্ধ স্বরধ্বনির মর্যাদা পেলেও বাঙলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণে এটাকে আর স্বরধ্বনিরূপে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।” এবং “ঋ/ঋ-কারকে বাঙলা ভাষায় স্বরধ্বনির মর্যাদা দেওয়া ঠিক নয়; কারণ সংস্কৃত ভাষার শুদ্ধ স্বরধ্বনির মতো এর উচ্চারণ আর অবশিষ্ট নেই। বাঙলায় এর উচ্চারণ পরিষ্কার ‘রি’ (‘র’-এর সঙ্গে সংযুক্ত ‘ই’)। সংস্কৃত ভাষার অন্ধ অনুকরণে এটিকে এখনও বর্ণমালায় স্বরবর্ণের মধ্যে স্থান দেওয়া হয় এবং কতিপয় সংস্কৃত শব্দের বানানে এর লিখিত রূপ দেখা যায়।”
 
২১. ‘২১ এ ফেব্রুয়ারি’ না কি ‘২১ শে ফেব্রুয়ারি'(একুশ শে)? ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ লিখলে বা বললে কি ভুল হবে?
প্রথমে বলে রাখি: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (পরিশিষ্ট গ) অনুযায়ী (বাংলা তারিখ ও সময়) একমাত্র প্রমিত শব্দ ২১শে। ওখানে ২১এ বানানের কোনো শব্দ নেই। ওই অভিধানমতে ২১শে কথার উচ্চারণ একুশে। অতএব, শুদ্ধ ও প্রমিত হচ্ছে ২১শে। ২১এ কথার উচ্চারণ হয় একুশ-এ; এমন লিখবেন না। ২১শে লিখুন, ২১এ লিখবেন না।
বাংলায় তারিখ লেখার নিয়ম
বাংলা একাডেমি এ বিষয়ে কী বলে? ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সর্বশেষ অভিধান। যা ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। ওই অভিধানের পরিশিষ্টে (পরিশিষ্ট গ) বাংলা তারিখ ও সময় কীভাবে লেখা হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে—
১ তারিখ লেখা হয়েছে: ১লা, উচ্চারণ /পয়্‌লা/ [যেমন: ১লা জানুয়ারি।]
২ তারিখ লেখা হয়েছে: ২রা, উচ্চারণ /দোশ্‌রা/ [ যেমন: ২রা ফেব্রুয়ারি।]
৩ তারিখ লেখা হয়েছে: ৩রা, উচ্চারণ /তেশ্‌রা/;[ যেমন: ৩রা মার্চ।]
৪ তারিখ লেখা হয়েছে: ৪ঠা, উচ্চারণ /চোউ্‌ঠা/; [ যেমন: ৪ঠা এপ্রিল]
৫ তারিখ লেখা হয়েছে: ৫ই, উচ্চারণ /পাঁচোই/; [ যেমন: ৫ই মে]
৬ তারিখ লেখা হয়েছে: ৬ই, উচ্চারণ ছওই; [ যেমন: ৬ই জুন]।
১৯ তারিখ লেখা হয়েছে: ১৯শে, উচ্চারণ /উনিশে/; [ যেমন : ১৯শে জুলাই]।
২১ তারিখ লেখা হয়েছে: ২১শে, উচ্চারণ /একুশে/;[ যেমন: ২১শে ফেব্রুয়ারি]।
 
২২. ‘শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ’, এই বাগধারাটির উৎস, অর্থ, প্রয়োগ, ব্যবহার, ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন কেউ?
আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান প্রবচন-সংগ্রহ (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯) থেকে পাই: “শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ … শঠের সহিত শঠতাই বিধেয়! যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। Tit for tat.
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ”
অর্থ: স্বর্ণখণ্ড হয়েছে তাম্র, বণিকপুত্র মর্কট(বানর) কাজেই সরলের সাথে সারল্য করবে, শঠের সাথে শঠের সমান আচরণ করবে”। এটা একটা উপদেশমূলক প্রাচীন গল্পের সারকথা। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের হিতোপদেশমূলক একটি গল্পের কাহিনি থেকে শ্লোকটি গৃহীত ও প্রচলিত।  এক পণ্ডিত তীর্থযাত্রাকালে প্রতিবেশি বণিকের কাছে কিছু স্বর্ণমূদ্রা গচ্ছিত রাখতে গেলে বণিক তাঁকে নিজহাতে বণিকের সিন্দুকে রেখে যেতে বলল। পণ্ডিত ফিরে আসার পর বণিক সিন্দুক খুলে দিয়ে তাঁকে বলে, কর্তা আপনি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন সেভাবেই আপনার থলেটে আছে, নিজহাতে নিয়ে যান। থলে বাড়িতে নিয়ে পণ্ডিত দেখলেন ভেতরে সব তাম্রমূদ্রা। পরে বণিক বাণিজ্যযাত্রাকালে তার পুত্রকে পণ্ডিতের বাড়িতে রেখে গেল। ফিরে এলে পণ্ডিত বললেন, যে ঘরে রেখে গিয়েছিলে ওখানেই তোমার পুত্র আছে নিয়ে যাও। বণিক দেখল: ওই ঘরে একটি বানর(মর্কট) বাঁধা আছে।
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ।।
 
২৩. ধরণি দ্বিধা হও— এর অর্থ কী?
“ধরণি দ্বিধা হও” কথাটির শাব্দিক অর্থ— পৃথিবী দ্বিখণ্ডিত হও, পৃথিবী দুই খণ্ড হয়ে যাও। আলংকারিক অর্থে কথাটি লজ্জা, ক্ষোভ, দুঃখ, শোক, অনুতাপ, আক্ষেপ প্রভৃতি প্রকাশে ব্যবহৃহ হয়। ভীষণভাবে অপ্রত্যাশিত এমন লজ্জাকর বা দুঃখজনক কিছু ঘটার বা ঘটার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এমন আক্ষেপোক্তির অবতারণা হয়। মধ্যযুগের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এই কাব্যগ্রন্থে একটি বাক্য আছে— “মেদিনি বিদার হও পশিঁ আ লুকাই”। বলা হয় এ কথা থেকে ‘ধরণি দ্বিধা হও’ বাগ্‌ভঙ্গিটির উদ্ভব। “মেদিনি বিদার হও পশিঁ আ লুকাই” কথার অর্থ, পৃথিবী তুমি দ্বিখণ্ডিত বা ফাঁক হয়ে যাও তাতে আমি লুকাই। পৃথিবী তুমি দুইভাগ হয়ে যাও। আমি তোমার গহ্বরে ঢুকে পড়ি। কথাটি লজ্জা-ক্ষোভ; কিংবা দুঃখ বা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জীবন থেকে পালানোর আক্ষেপ। অনেকের মতে, “ধরণি দ্বিধা হও” কথাটি রামায়ণ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম চরিত্র সীতার সংলাপ। নিজের সতীত্বের পরীক্ষা দেওয়াটা তাঁর কাছে লজ্জার ছিল। রামচন্দ্রের কাছ থেকে এমন কিছু সে আশা করেনি। তারপরও পেতে হচ্ছে। এমন অপমানকর ঘটনার পরে রসাতলে যাওয়ার জন্য সীতা আক্ষেপবশত পৃথিবীকে বিভক্ত হতে বলেছিল।
 
 
২৪. বিদেশি শব্দের বানান
 
বিদেশি শব্দের বানানে ‘ত’ বসবে; খণ্ড-ৎ নয়: তৎসম শব্দের বানানে ‘ত’ ও ‘খণ্ড-ৎ’ উভয়ের ব্যবহার আছে। তবে বিদেশি শব্দের বানানে কোথাও ‘খণ্ড-ৎ’ হবে না। সবসময় ‘ত’ ব্যবহৃত হবে। যেমন:
আখেরাত, আদালত, আমানত, আয়াত, কিসমত, কুদরত, কেয়ামত, কৈফিয়ত,
খেসারত, জালিয়াত, তফাত, তবিয়ত, দস্তখত, দৌলত, নসিহত, ফেরত,
বজ্জাত, বেহেশ্‌ত, মওত, মজবুত, মতলব, মেহনত, শরবত,
শরিয়ত, শাহাদত, সওগাত, সুন্নত,
হিম্মত, হেফাজত ইত্যাদি।
 
২৫. আরকি আর কি আর কী
 
আরকি: ‘আরকি’ বাক্যের মধ্যে অলংকার হিসেবে থাকে। বাক্য থেকে আরকি উঠিয়ে নিলে অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন:
ক. তুমি খাবার কখন খাবে?
— বাড়ির কাজ শেষ করে খাব আরকি।
খ. ভালোভাবে পড়েনি, তাই ফেল করেছে আরকি।
প্রসঙ্গত, ‘আরকি’ শব্দটি মুদ্রাদোষ হিসেবেও নির্দেশ করা যায়। আর, শব্দটি অতৎসম হওয়ায় ‘দীর্ঘ-ঈ-কার’ দিয়ে ‘আরকী’ লেখা সমীচীন নয়।
আর কী: বাক্যের মধ্যে ‘এছাড়া কী’ জানতে চেয়ে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ‘আর কী’ লিখতে হয়। কারণ, এক্ষেত্রে ‘আর’ ও ‘কী’ স্বতন্ত্র পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রশ্নের জবাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়। বাক্য থেকে ‘আর কী’ তুলে নিলে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় কিংবা অর্থ বদলে যায়। যেমন:
১. তুমি আর কী কিনবে?
২. আমার জন্যে আর কী করতে পারবে?
৩. ছাফিয়া আর কী নিতে বলেছে?
আর কি: ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর পাওয়ার জন্যে প্রশ্নবোধ বাক্যে ‘আর কি’ শব্দযুগল ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রেও ‘আর’ ও ‘কি’ স্বতন্ত্র পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু প্রশ্নের জবাব ‘হ্যাঁ কিংবা ‘না’-তে দিতে হয় বলে ‘আর কি’ লিখতে হয়। যেমন:
i. আর কি খেতে পারবে না?
ii. আর কি কোনো পথ খোলা নেই? (এবি ছিদ্দিক) 
 
২৬. প্রক্ষালন ও প্রক্ষালন কক্ষ
 
সংস্কৃত প্রক্ষালন (প্র+√ক্ষালি+অন) অর্থ— (বিশেষ্যে) ধৌতকরণ। প্রক্ষালক অর্থ— ধৌতকারী। যে কক্ষে ধৌত করা হয় তাকে বলা হয় প্রক্ষালন কক্ষধৌতককর্ম এবং মলমূত্র ত্যাগ ও মলমূত্র ত্যাগের কারণে অত্যাবশ্যক ধৌতকর্মাদি একই কক্ষে করা হয়। যে কক্ষে মলমূত্র ত্যাগ করা হয় সে কক্ষে ধৌত বা শৌচকরণ কার্য অনিবার্য। তাই মঞ্জুভাষ হিসেবে মলমূত্র ত্যাগ করা যায় এমন কক্ষকে সাধারণত প্রক্ষালন কক্ষ বলা হয়। তবে কিছু কিছু কক্ষ আছে যেখানে কেবল প্রক্ষালন কর্ম করা যায়, মলমূত্র ত্যাগ করা যায় না। এগুলোকেও প্রক্ষালন কক্ষ বলা হয়।

২৭. প্রকৃত বনাম প্রক্রীত

প্রকৃত: সংস্কৃত প্রকৃত (√প্র+কৃ+ত) অর্থ (বিশেষণে)— সত্য, আসল, যথার্থ, বিশুদ্ধ। প্রকৃতির মতো প্রকৃত আর কিছু নেই।
প্রয়োগ: প্রকৃত অর্থে কোনো মতবাদই চূড়ান্ত বিবেচনায় প্রকৃত নয়। মৃত্যুই জীবনের প্রকৃত বিষয়।
 
প্রক্রীত: সংস্কৃত প্রক্রীত (প্র+√ক্রী+ত) অর্থ— (বিমান জলযান প্রভৃতি) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে এমন। সাধারণত বিমান, জলযান প্রভৃতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া নেওয়াকে প্রক্রীত বলা হয়।  
প্রয়োগ: প্রক্রীত জাহাজটি তিন দিন পর ফেরত দিতে হবে। হুজুর প্রক্রীত হেলিকপ্টারে চড়ে ওয়াজ করতে এলেন।
 
 
২৮.রশনা কী?
রশনা মহিলাদের অলংকারবিশেষ। নারীর কটিদেশে পরিধেয় মেখলা, চন্দ্রহার প্রভৃতি রশনা নামে পরিচিত। রশনা (√রশ্‌+অন+আ) তৎসম শব্দ এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 
২৯.মাঝিমাল্লা শব্দের মাল্লা অর্থ কী?
মাঝি ও মাল্লা শব্দের মিলনে মাঝিমাল্লা শব্দের উদ্ভ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা মাঝিমাল্লা অর্থ: মাঝি ও তার সহকর্মী। নৌযানের মাঝি এবং মাঝিকে নৌ পরিচালনার কাজে সহায়তাকারীদের একত্রে মাঝিমাল্লা বলা হয়। আরবি মল্লাহ্ থেকে উদ্ভূত মাল্লা অর্থ: (বিশেষ্যে) নৌকার মাঝি বা তার সহযোগী, মাঝির সহযোগী, নাবিক।

৩০. রয়ানি

রয়ানি দেশি শব্দ। মনসামঙ্গলের গানকে রয়ানি বলা হয়। একসময় রয়ানি বাংলাদেশের সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় ছিল। মনসামঙ্গলের কবিগণ রয়ানির মূল রচয়িতা।
 
 
 
 
 
পড়া বনাম পরা
 
 
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
 
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 
 
লিংক: https://draminbd.com/শুদ্ধ-বানান-চর্চা-শুবাচ-থ-6/
 
 
লিংক:  https://draminbd.com/শুদ্ধ-বানান-চর্চা-শুবাচ-থ-5/
 
 
লিংক: https://draminbd.com/শুদ্ধ-বানান-চর্চা-শুবাচ-থ-4/
 
 
 
 
 
শুবাচ -ওয়েবসাইট: www.draminbd.com
 
 
কেশন্স লি.
 
error: Content is protected !!