শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) : শুদ্ধ বানান চর্চা না কি শুদ্ধ বানানচর্চা : শুবাচ বৈঠক

শুদ্ধ বানান চর্চা না কি ‘শুদ্ধ বানানচর্চা? শুবাচ বৈঠক
ড. মোহাম্মদ আমীন

শুবাচি জনাব Iqbal Hossain এর প্রস্তাবই আলোচনার মূল বিষয়। অ্যাডমিন, জনাব ইকবাল হোসাইনকে তার প্রস্তাব উত্থাপন করার আহ্বান জানালেন।

সবাইকে স্বাগত জানিয়ে ইকবাল হোসাইন বললেন, আলোচনার মূল-বিষয় বানানচর্চা নিয়ে৷ অর্থাৎ বানান চর্চা নাকি বানানচর্চা? আমি মনে করি, ‘বানানচর্চা’-ই হবে এবং যুক্তরূপেই লেখা হবে৷ কারণ, ব্যাকরণের কায়দা ও কানুন হচ্ছে, যে দুটি শব্দের মধ্যে মূলত ইযাফতের সম্পর্ক ছিলো, সে দুটি শব্দ লিখতে হয় যুক্তরূপে৷ যেমন : যুদ্ধক্ষেত্র ( যুদ্ধের ক্ষেত্র ), কলমসৈনিক ( কলমের সৈনিক) ইত্যাদি ৷তদ্রূপভাবে, বানানচর্চা নিয়েও একই কথা৷ সুতরাং বানানচর্চার অর্থ দাঁড়াবে বানানের চর্চা কিংবা বানান নিয়ে চর্চা করা৷ তো তাই যুক্তরূপেই লিখতে হবে৷ আর চর্চা শব্দটি এমন যা পূর্ববর্তী শব্দের সাথে যুক্তরূপে বসে৷ যেমন : কলমচর্চা, সাহিত্যচর্চা, বিদ্যাচর্চা, পরচর্চা, কাব্যচর্চা ইত্যাদি৷ যদিও-বা কখনো কখনো বিযুক্তরূপেরও ব্যবহার দেখা যায় ৷ যেমন : তুমি বাংলাসাহিত্য নিয়ে চর্চা করতে থাকো৷ দেখবে সফলতা একদিন তোমার পদচুম্বন করবে৷ এই শব্দটার উচ্চারণ নিয়ে ঘণ্টা দেড়-এক চর্চা করো৷ ইত্যাদি৷ অথবা, এ-কায়দার আওতায়ও পড়তে পারে যে, স্বতন্ত্র দুটি শব্দ যখন মিলে যখন নতুন অর্থ প্রকাশ করে, তখন তা একত্রে লিখতে হয়৷ যেমন : বহু ও বচন মিলে বহুবচন, যম ও দূত মিলে যমদূত, রাষ্ট্র ও দূত মিলে রাষ্ট্রদূত৷ তদ্রূপভাবে, বানান ও চর্চা মিলে বানানচর্চা৷ সো, ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’-এর এডমিনদেরকে বলতে চাই, আপনারা ‘গ্রুপের নাম’ ঠিক করার দিকটা বিবেচনায় আনলে মনে হয় ভালো হয়৷ সো, তাই শুদ্ধ বানানচর্চা লিখুন; শুদ্ধ বানান চর্চা নয়৷

অ্যাডমিন বললেন, বিষয়টা যেহেতু আমার একটা বিষয় নিয়ে, সেহেতু আমি আলোচনায় যথাসম্ভব কম অংশগ্রহণ করব। আপনারাই নির্ধারণ করে দেবেন, ইকবাল সাহেবের প্রস্তাব যথার্থ কি না। আমি মনে করি, ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ এবং ‘শুদ্ধ বানানচর্চা’র চেয়ে অধিক যৌক্তিক ও কার্যকর।

Aman Ullah Raihan বললেন, এই গ্রুপে প্রথম যখন এ্যাড করা হয়, সেদিনই কোনো এক এ্যাডমিনকে বিষয়টা বলেছিলাম। কোনো রিপ্লাই আসেনি। ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ঠিক হতে পারে। বাকি সাধারণ আম হালতে লেখালেখির সময় বানানচর্চা মিলিয়ে নিতে হবে।
Anamul Haque Humaid বললেন, শুদ্ধ বিশেষণ। বানান ও চর্চা মিলে সম্বন্ধের মাধ্যমে বানানচর্চা হবে সমাসের নিয়মে। ‘শুদ্ধ বানানচর্চা’-ই ঠিক। অর্থ হবে – বানানচর্চার শুদ্ধিতা।
Enamul Haque : ঠিকই বলেছেন
Nil Chandra বললেন, শু= শুদ্ধ, বা= বানান, চ= চর্চা। শুবাচ। এটা একটা গ্রুপ, সংগঠন, আন্দোলন,প্রতিষ্ঠান। শু= শুদ্ধ, বা= বানানচর্চা, অর্থাৎ শুবা নয়। পরিচিত নাম অশুদ্ধ হলেও পরিবর্তন কাম্য নয়।

Saeed Ahmad Arian বললেন, আমি ইকবাল হোসাইনের প্রস্তাবের সঙ্গে এক মত নই। বানান চর্চা ঠিক আছে। ‘বানানচর্চা’, ‘বানানকরা’, বিজ্ঞানচর্চা, ব্যাকরণচর্চা, বাংলাব্যকরণ, বাংলাব্যাকরণশিক্ষা, বাংলাব্যাকরণশিক্ষাকরা, আলোকবিদ্যাচর্চা, ইসলামধর্মশিক্ষা — এরূপে এক শব্দের ভিতরে সব ঢুকিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা উচিত না। বাংলায় এরূপ যুক্ত করে ফেলার প্রবণতা আছে। এমনকি preposition গুলোও সংশ্লিষ্ট শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়! এতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয় যার অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে। তবে, ক্ষেত্র বিশেষে করা যেতে পারে যদি দুটি শব্দ মিলে বিশেষ অর্থ সূচক কোন অবিচ্ছেদ্য শব্দ সৃষ্টি হয়। যেমন: বনমোরগ, মাথাব্যথা, মধুমাখা।

Liaquat Chowdhury বললেন, যত ব্যাকরণের কথাই বলেন ,আমরা কথা বলার সময় বলি: শুদ্ধ বানানচর্চা। বর্তমান phonology কিন্তু Speech কে মূল্য দেয়।

Saeed Ahmad Arian : কথা বলার সময় তো এও বলি, বাংলাবানান, চর্চাকরা। তাহলে তো “বাংলাবানানচর্চাকরা” — এভাবে পুরো বাক্যটিই এক শব্দে লিখতে হয়! এরূপ জটিলতা সৃষ্টির মানে হয় না।
Enamul Haque : আমরা মুখে যা বলি তাই হওয়া উচিত ।

Liaquat Chowdhury Saeed, Ahmed Arianকে উদ্দেশ করে বললেন, বক্তা -বক্তার টার্গেট বলে দেয় কোন ধ্বনি বা শব্দকে ফোকাস করবে। তবে বড় কথা, বক্তা prosodic দিক মেনে চলে । আর ভাষায় completion and linearityকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে । Alphabetic writting এ আমরা space ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। একটা natural phonology কিন্তু আলোচনায় এসেছে।ধন্যবাদ ।

Tareq Mahmud বললেন, ইকবাল হোসাইনের প্রস্তাবের সঙ্গে আমিও একমত নই। এমনিতে একটা প্র্যা়কটিস বা বিদ্যা হিসেবে বানানচর্চা এক শব্দ হবে। বানানের চর্চা>বানানচর্চা। কিন্তু শুদ্ধ বানানের চর্চা> ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ ঠিক আছে। শুদ্ধ শব্দটি এখানে বানানের বিশেষণ, চর্চার বিশেষণ নয়। কিন্তু ‘শুদ্ধ বানানচর্চা’ বললে শুদ্ধ শব্দটা শেষ পর্যন্ত চর্চার বিশেষণ হয়ে যায় যা ভুল।

Saeed Ahmad Arian : এক কথায়, শব্দ শব্দের জায়গায় এবং বর্ণ বর্ণের জায়গায় স্বতন্ত্রভাবে লিখা হবে। এক সাথে প্যাঁচিয়ে-গুলিয়ে দুর্বোধ্যতা সৃষ্টি করা যাবে না যদি নিতান্ত জরুরী না-হয়।

Tareq Mahmud : সমাসবদ্ধ শব্দ একসাথে পেঁচিয়েই বসে, আমরা চাইলেও আলাদা করা যাবে না। বুঝতে হবে কার সাথে কার সমাস।

Saeed Ahmad Arian, Tareq Mahmudকে লক্ষ করে বলেন, কার সাথে কার কী সম্পর্ক তাতে আমি না-বোঝার মত কিছু দেখি না। প্যাঁচমুক্ত সহজ বাংলা চাই। শুদ্ধবানান, বানানচর্চা, শুদ্ধবানানচর্চা — এরূপ লেখা কখনো উচিত না।
Tareq Mahmud : যখন বলি ‘বানানচর্চা আমার প্রিয় বিষয়’ এখানে এক শব্দে ভুল নেই। আপনার উচিৎ-বোধ সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

Saeed Ahmad Arian বললেন, মিস্টার Tareq Mahmud, আমি জটিলতাবাদী/দুর্বোধ্যতাবাদী দের থেকে আলাদা। নিতান্ত জরুরি না-হলে কোনো কিছুই জটিলা করা যাবে না। আমার সহোজবোধ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক উচিত-বোধই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে — এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

Tareq Mahmud : ভাই, আপনার ‘সব এক ছাচের’ ভুলটা দেখিয়ে দিলাম। এরপরও নিজ অনুসিদ্ধান্তে স্থির থাকা না থাকা আপনার ব্যাপার। শুভকামনা।
Saeed Ahmad Arian : ধন্যবাদ আমার এক ছাচের ভুল দেখানোর জন্য।

Khurshed Ahmed বললেন, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ (২০১৪) বইটির ১৯২ পৃষ্ঠায় কী লেখা হয়েছে শুনুন :
“সমাসবদ্ধ শব্দ-লিখনরীত
“সমাসবদ্ধ শব্দ সাধারণত নিম্নলিখিত রীতিতে লেখা হয়ে থাকে:
ক. নিরেটভাবে (কোনো ফাঁক না রেখে): বনভূমি, হাতঘড়ি, জনসমুদ্র।
খ. হাইফেন যোগে : নাগরা-জুতো, ক্রিয়া-বিশেষণ, ঘিয়ে-ভাজা, কলে-ছাঁটা, রবীন্দ্র-চর্চা।
গ. অসংলগ্নভাবে : ঘোড়ার ডিম, বাংলা ভাষা সম্মেলন, হাতে তৈরি, সমাজ সংস্কার আন্দোলন।”

অসংলগ্নভাবে লিখিত ‘বাংলা ভাষা সম্মেলন’, ‘সমাজ সংস্কার আন্দোলন’ ইত্যাদি সমাসবদ্ধ প্রকাশ শুদ্ধ; একইভাবে, আমি মনে করি, ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’-ও শুদ্ধ।

থুরশেদ আহমেদ উদ্ধৃতি [(জ্যোতিভূষণ চাকীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, পৃষ্ঠা-২৪৫ {প্রথম প্রকাশ ১৯৯৬, তৃতীয় মুদ্রণ ২০১৩}] দিয়ে আরও বলেন, “… কোনও সংস্থা বা সম্মেলনাদির নাম মূলত সমাসবদ্ধ হলেও সমস্যমান পদগুলি বিযুক্ত ভাবে লেখা হয়। যেমন : নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন, সারা ভারত পশু ক্লেশ নিবারণী পরিষদ ইত্যাদি।”

Saeed Ahmad Arian বলেন, Khurshed Ahmed স্যার, অসংলগ্নভাবে লিখিত শব্দগুলোকে শব্দ না-বলে phrase বলা উচিত নয় কি?

Khurshed Ahmed : ‘অসংলগ্নভাবে লিখিত শব্দগুলোকে শব্দ না-বলে phrase বলা উচিত নয় কি?’অসংলগ্নভাবে লিখিত সমাসবদ্ধ শব্দ-সমাহার নিশ্চয়ই phrase, যাকে বাংলায় বলা হয় ‘পদবন্ধ’। তবে এ-ধরনের পদবন্ধকে অন্যান্য পদবন্ধ থেকে আলাদাভাবে বুঝবার জন্য আমি বলব ‘সমাসবদ্ধ পদবন্ধ’। প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] ২৬৫ পৃষ্ঠায় বলেছে: “কোনো বাক্য তৈরি করতে হলে বিচ্ছিন্ন পদ নয়, বন্ধনময় পদের পরম্পরা তৈরি হওয়া দরকার। এগুলোকেই আমরা ‘বন্ধ’ (phrase) বলব। ‘বন্ধ’ মানে একাধিক পদের বন্ধন।” আবার, এই বইটি ২৬৭ পৃষ্ঠায় লিখেছে ‘পদবন্ধ (phrase)’। অসংলগ্নভাবে লিখিত সমাসবদ্ধ শব্দ-সমাহার বা ‘সমাসবদ্ধ পদবন্ধ’ এই প্রয়োজনটি স্পষ্ট করে যে বাংলা ব্যাকরণে ‘সমাস’-এর সংজ্ঞার্থ কেবল ‘একপদীকরণ’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখলে চলছে না।

Ashraful Alam খুরশেদ আহমেদের দৃষ্টি আকশর্ষণ করে বললেন, আমার বোধে বাক্যে ক্রিয়াপদের মতো ক্রিয়া-বিশেষণও আলাদা থাকা উচিত । ক্রিয়া-বিশেষণকে সংলগ্ন করার প্রয়োজন হলে শব্দজোড়ের মাঝখানে হাইফেন যুক্ত করা যেতে পারে । যেমন বানানের চর্চা বোঝাতে ক্ষেত্রবিশেষ বানান-চর্চা লেখা যেতে পারে । তবে বানানের শুদ্ধ রূপ চর্চা বোঝাতে ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ কথাটিই সঠিক আছে বলে আমি মনে করি। সংশয় দূর করতে ইংরেজির সহায়তা নিচ্ছি । কেউ মাইন্ড করবেন না আশা করি ।

‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ এই phrase টিকে যদি ‘শুদ্ধ বানান-চর্চা’ লেখি তবে শুদ্ধ শব্দটি ক্রিয়া -বিশেষণ(adverb) এর ভাব প্রদর্শন করে । এর ইংরেজি হতে পারে practice of spelling correctly or practicing spelling correctly. এখানে শুদ্ধ শব্দ দ্বারা শুদ্ধভাবে বানান চর্চার উপায় নির্দেশিত হয় যা আসলে phrase-টির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় । ফলে ‘শুদ্ধ বানান-চর্চা’ লেখা ঠিক হবে না ।

‘শুদ্ধ বানান চর্চা’র ইংরেজি যদি Correct-spelling practice হয় তবে বাংলা phrase টিতে ‘শুদ্ধ’ ও ‘বানান’ শব্দদুটির মাঝখানে হাইফেন বসানোর চিন্তা করা যেতে পারে । এক্ষেত্রে চর্চা বুঝাবে শুদ্ধ বানানের। বিশেষণ পদ সাধারণত আলাদা বসে । ‘শুদ্ধ’ পদটি বিশেষণ । সুতরাং শুদ্ধ-বানান না লিখে হাইফেন ছাড়া “শুদ্ধ বানান” লেখাই শ্রেয় । অতএব সামগ্রিক বিচারে ‘শুদ্ধ বানান-চর্চা’ বা ‘শুদ্ধ-বানান চর্চা’– দুটির কোনটিই সঠিক নয় । আবার, শুদ্ধ-বানান-চর্চা একটি জটিল রূপ। ফলে, ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ phrase-টি সঠিক ।

Saeed Ahmad Arian বললেন, ১০০% একমত। আমি ঠিক এই বিষয়টিই কাউকে বুঝাতে পারছি না। বাঙালিদের মধ্যে কেমন যেন একটা দুর্বোধ্যতা প্রীতি আছে! কারণ অজ্ঞাত।
• Adjective [যেমন: স্বল্প সময়, বই টি]
• Adverb [যেমন: করি না, যাই নি (ক্রিয়ার past tense করা হয়েছে ‘না’ শব্দটি বদলিয়ে!)]
• Preposition [স্কুল এ (to), ঢাকা তে (in), ঢাকা থেকে (from), শুবাচ এ (on), কলম এর (of)]
— এই পদগুলো আলাদা শব্দে দেখানো দরকার। তা না-হলে কী ধরনের মারাত্মক সমস্যা হয় তার অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে (এখানে স্বল্প সময়ে দেওয়া গেল না)। adjective/adverb/preposition, tense, person, article, তুই/আমি/আপনি রূপ — সব এক শব্দের ঘাড়ে চাপিয়ে দুর্বোধ্যতা ও জটিলতা বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করি।

Liaquat Chowdhury বললেন, SPACE WRITTING আমাদের Speechকে নষ্ট করেছে। তাই আমাদের speechধর্মী লেখা তৈরি করতে হবে। লেখক যেকোনোভাবে তার বলবার টার্গেটঅনুসারে “শুদ্ধ বানান চর্চা” বয়ানটি সাজাতে পারেন। হতেপারে চর্চা শব্দটিকে জোর দিতে চাইলে তিনি লিখবেন:শুদ্ধবানান চর্চা; আর শুদ্ধ শব্দটির ওপর জোর বা ফোকাস করতে চাইলে লিখবেন :শুদ্ধ বানানচর্চা আর বয়ানের তিনটি শব্দের ওপর ফোকাস করতে চাইলে, তিনি লিখবেন :শুদ্ধ বানান চর্চা । ভাষায় কোনো ফাইনাল খেলা চলতে পারে না।ভাষাকে মানবিক করতে হবে।
Rashida Akter Mishu বললেন, অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা।

Muhammad Jahangir : “শুদ্ধ বানানের চর্চা” কি শুদ্ধ? তা হলে “শুবাচ” অক্ষত থাকে।

Khurshed Ahmed : আমি মনে করি: ক) নিরেটভাবে-লেখা সমাসবদ্ধ পদ ‘বানানচর্চা’ শুদ্ধ, যেমন শুদ্ধ কাব্যচর্চা, জ্ঞানচর্চা, পরচর্চা, বিদ্যাচর্চা, সাহিত্যচর্চা; ঠিক তেমনই, অসংলগ্নভাবে-লেখা সমাসবদ্ধ প্রকাশ ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’-ও শুদ্ধ, যেমন শুদ্ধ ‘বাংলা ভাষা সম্মেলন’, ‘সমাজ সংস্কার আন্দোলন’, [বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম] ‘বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন’ ইত্যাদি। খ) এ-ছাড়া, এ-প্রসঙ্গে এটাও বিবেচ্য যে, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ৪ [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] বলেছে: “ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নাম এই নিয়মের আওতাভুক্ত নয়।

Ashraful Alam বললেন, আমার মতে, যে সমাসবদ্ধ পদে সমাস্যমান পদ দুটির অর্থের পরিবর্তন ঘটে শুধু সেই পদ দুটি সংলগ্ন হয়ে বসবে। তাছাড়া প্রয়োজন মনে হলে পদ দুটির মাঝখানে হাইফেন ব্যবহার করা যেতে পারে । আমি অন্য ক্ষেত্রে সমাস্যমান পদদুটিকে সংলগ্ন করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না । ফলে জ্ঞানচর্চা না লিখে জ্ঞান-চর্চা লিখা উচিত ।

Mohammed Amin সমাস মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের বিষয়। বাংলায় সমাস-এর ব্যবহারকে আমি যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।

Ashraful Alam সমাসের চেয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে আমাদের বরং নজর ফেরানো উচিত বাংলা শব্দবন্ধ (phrase) এর দিকে ।

প্রমিতা দাশ লাবণী বললেন, শুদ্ধ বানান চর্চা’, ‘শুদ্ধ বানানচর্চা’ নয় ।সাধারণত সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ ও উত্তরপদ একসঙ্গে জুড়ে লেখা হয়, যাতে তাদের একটি শব্দ বলে মনে হয়। অনেক সময় উভয় পদের মাঝখানে হাইফেন দিয়েও সমাসবদ্ধ পদ লেখা হয়ে থাকে।এটি সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম। বাংলায় কখনো কখনো সমাসবদ্ধ পদকেও পৃথকভাবে লেখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যেমন : হাতে তৈরি, গাছে পাকা, বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা বানান সংস্কার কমিটি, বিশ্ব কবি সম্মেলন, জেলা প্রশাসক, ঘোড়ার ডিম যোগাযোগ মন্ত্রী প্রভৃতি। এসব বাগ্ভঙ্গি প্রকৃতপক্ষে সমাসবদ্ধ। পৃথকভাবে লেখার জন্য তাদের সমাস হিসাবে চেনা যায় না। এরূপ সমাসকে বলা হয় অসংলগ্ন সমাস। এরূপ সমাস সাধিত পদকে অসংলগ্ন সমাস বলেছেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। যেহেতু পদ দুটিকে সংলগ্ন করা হয়নি, তাই এরা অসংলগ্ন। এমন সমাস বাংলা ব্যাকরণ প্রচুর দেখা যায়। এটি বাংলা সমাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সংস্কৃত ব্যাকরণে সমাসের লক্ষ্য ব্যাসবাক্যকে আবশ্যিকভাবে একপদে প্রকাশ, যেমন অশ্বডিম্ব; বাংলা ব্যাকরণে সমাসের লক্ষ্য ব্যাসবাক্যকে একপদে প্রকাশ, যেমন খেচর, অথবা একটি পদবন্ধ বা phrase-এ প্রকাশ, যেমন ঘোড়ার ডিম, পুলিশ সুপার, জাতীয় সংসদ প্রভৃতি।
“শুদ্ধ বানান চর্চা” বাংলা শব্দ। তাই “শুদ্ধ বানান চর্চা” কথাটি ব্যাকরণ বিবেচনায় ‘শুদ্ধ বানানচর্চা” থেকে অধিক যুক্তিযুক্ত।
সিদ্ধান্ত : উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, শুদ্ধ বানানচর্চা’ ও ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ দুটোই শুদ্ধ। তবে বাংলা ভাষার কথা হিসেবে ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ অধিক যৌক্তিক, কার্যকর এবং অর্থবহ।

error: Content is protected !!