শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর/৩৭

১. জনাব Sahadat Hossenএর প্রশ্ন: “প্রমিত বাংলায় এই (ছবির) জীবটির নাম কী হবে?”
উত্তর: ফড়িং, উচ্চিংড়া, ঘাসফড়িং। গোত্র: অর্থোপটেরা(Orthoptera)।
(আপনাদের অন্য নাম বা আঞ্চলিক নাম জানা থাকলে মন্তব্য-জানালায় লিখতে পারেন।)
জনাব Afxana Iftesamএর প্রশ্ন: ঈদ না কি ইদ? যদি ইদ হয়,তবে এর কারণ কী?”
উত্তর: সংগততর বানান ইদ। কারণ এটি বিদেশি শব্দ। বিদেশি শব্দে সাধারণত ঈ-কার বিধেয় না।
৩. জনাব Gourav Banerji– “এর প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় কি দু ধরনের এ – কার আছে? যার একটার উচ্চারণ এ, আর একটার অ্যা?”
উত্তর: হ্যাঁ।
৪. জনাব MASH– এর প্রশ্ন: “সন্ধা হবে না কি সন্ধ্যা?””
উত্তর: সন্ধ্যা।
৫. কাদম্বিনী অর্থ কী?
উত্তর: সংস্কৃত কাদম্বিনী (কাদম্ব+ইন্‌+ঈ) অর্থ (বিশেষ্যে) মেঘরাশি, মেঘমালা, মেঘাপুঞ্জ।
৬. জনাব Ashraf Nadim-এর প্রশ্ন “কর্পূর” মানে কী?
উত্তর: ক্যাম্ফোরা বৃক্ষের নির্যাস থেকে তৈরি তিক্তস্বাদ ও তীব্রগন্ধ-বিশিষ্ট সাদা কেলাসিত উদ্‌বায়ী পদার্থ, camphor। এটি তৎসম শব্দ।
৭. জনাব মিছবাহ উদ্দিন নাঈম-এর পৃষ্ট বিষয়: “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা” এই প্রবাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেন।”
উত্তর: যাদের কাজ নেই তাদের মাথায় কুচিন্তা ভর করে থাকে।
(জনাব নাঈম, প্রশ্ন আদেশাত্মক না হয়ে অনুরোধাত্মক হলে প্রশ্নকারীর ইজ্জত বাড়ে ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।)

 

শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর/৩৮

জনাব Nowshin Samantha--এর পৃষ্ট বিষয়
“নিম্নোক্ত লেখাটি ড. মোহাম্মদ আমীন স্যারের একটি পোস্টের অংশ (হুবহু)। পোস্টে এক জায়গায় অক্ষুণ্ন লেখা হয়েছে, আরেক জায়গায় অক্ষুণ্ণ লেখা হয়েছে। অর্থাৎ একই বানানে প্রথমটিতে ণ+ন ব্যবহৃত হয়েছে এবং অন্যটিতে ণ+ণ ব্যবহৃত হয়েছে। সঠিক কোনটি?
যেসব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ব’ বর্ণটি, ব-এর অবিকল উচ্চারণ অক্ষুণ্ন রাখে না অর্থাৎ অনুচ্চারিত থাকে অথবা সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে দ্বিত্ব উচ্চারণ দেয় সে ‘ব’ ‘অন্তঃস্থ-ব’ থেকে আগত; যার উচ্চারণ ইংরেজি বর্ণ W-এর মতো। যেমন : হ্রস্ব, অশ্ব, বিশ্ব প্রভৃতি। যেখানে ‘যুক্ত-ব’ তার নিজস্ব উচ্চারণ অক্ষুণ্ণ রাখে সেটি ‘বর্গীয়-ব’।”
উত্তর: অক্ষুণ্ন বানানের ণ্ন= ণ্‌+ন। ণ্‌+ণ লেখা নিশ্চয় টেপাভুল।
২. জনাব Mohammad Riyad Islam এর প্রশ্ন বিজয় আর জয়ের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাই!
৩. জনাব Quader Mohammad-এর প্রশ্ন : “ধারণ এ ‘ণ’ হলেও ধরন এ ‘ন’ কেন?”
৪. জনাব শায়েস্তা খাঁন-এর প্রশ্ন: “আওয়ামী লীগ” শব্দ দুটি বিদেশি হলেও তাতে কেন ঈ’কার ব্যবহার করা হয় “

 

নাকানিচুবানি ৩৯

ড. মোহাম্মদ আমীন
নাকানিচুবানি কথার আভিধানিক অর্থ— অসহায়ভাবে অপমানিত হওয়া, লাঞ্ছিত হওয়া । ‘নাকানি’ ও ‘চুবানি’ শব্দ দুটোর সংযোগে নাকানিচুবানি শব্দের উদ্ভব। নাক পর্যন্ত যে পানি তার এককথায় প্রকাশ হলো: নাকপানি। অন্যদিকে চুবানি শব্দের অর্থ হচ্ছে— পানিতে ডোবানো ও ভাসানো। সুতরাং, ‘নাকানিচুবানি’ অর্থ— নাক পর্যন্ত পানিতে ডোবানো ও ভাসানো। নাক পর্যন্ত কাউকে পানিতে ডোবালে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। আবার ভাসালে সে নিশ্বাস নিতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে আবার নাক পর্যন্ত ডোবালে আবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এভাবে কাউকে বারবার পানিতে নাক পর্যন্ত ডোবানো ও ভাসানো হলে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কষ্টে তার অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। এটি খুব কষ্টকর অবস্থা। ব্যক্তিজীবনে মানুষ যখন কোনো কারণে এমন কষ্টকর অবস্থায় পড়ে সেটি প্রকাশের জন্য ‘নাকানিচুবানি’ বাগ্‌ভঙ্গি ব্যবহার করা হয়।
উৎস: বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন
সামর্থ্য ও সৌহার্দ নিমোনিক ৪০
অর্ঘ্য, বর্জ্য, দৈর্ঘ্য, মর্ত্য প্রভৃতি বানানে যদি য-ফলা সাহেব, র-ফলা বাবুর ভার বহন করার সামর্থ্য রাখে তাহলে সামর্থ্য বানানের থাকবে না কেন? সামর্থ্য যখন আছে তখন তার য-ফলা বহনের সামর্থ্যও আছে। তাই সমর্থ্য বানানে থ-য়ে য-ফলা দেবেন। তবে ধৈর্য, সৌন্দর্য, কার্য বানানের মতো সৌহার্দ বানানের দ বর্ণে য-ফলা দেবেন না। কারণ সৌহার্দ দয়ার সাগর। য-ফলা দিয়ে সৌহার্দকে ভারী করে দেবেন না। সহ্য ক্ষমতা নেই বলে সৌহার্দ বানানে সহ্য বানানের য-ফলা দিতে নেই।
 

error: Content is protected !!