শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

৯. শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর/১৪

আরবি শুদ্ধ, আরবী অপ্রমিত। আরবি লিখুন।
দুঃস্থদুস্থ দুটোই শুদ্ধ।যে-কোনোটি লিখতে পারেন।
নতুননূতন দুটোই শুদ্ধ।
নিঃশ্বাসনিশ্বাস দুটোই শুদ্ধ।
নিরীহ কিন্তু নীরব (মনে রাখুন নিরীহদের নীরব থাকতে হয়।
ব্যবসায়ব্যাবসা দুটোই শুদ্ধ।
পঙ্‌ক্তি শুদ্ধ, পংক্তি অশুদ্ধ।
পোস্ট শুদ্ধ, পোষ্ট লিখবেন না। বিদেশি শব্দের বানানে সাধারণত ষ হয় না।
ভালোবাসি লিখুন, ভালবাসি অপ্রমিত। ভালো অর্থ good, ভাল অর্থ কপাল, ভাগ্য।
মন্তব্য অর্থে মত ( এ বিষয়ে তোমার মত কী?) এবং তুলনা বুঝাতে মতো (তোমার মতো ভালো মেয়ে আর দেখিনি) লিখুন।
মাস্ক শুদ্ধ। এর বাংলা মুখোশ, মুখাবরণ। এই অর্থে মাক্স অশুদ্ধ
সরকারি শুদ্ধ, সরকারী অপ্রমিত (এটি ফারসি শব্দ, বিদেশি শব্দে ঈ-কার হয় না।)
জি (হ্যাঁ) শুদ্ধ, জ-এর নিচে ব দেবেন না। জ্বি, জ্বী দুটোই অশুদ্ধ।
চলবে—
ভুল থাকলে বলে দেবেন। কৃতজ্ঞ হব শ্রদ্ধায়।

 

১০. শুবাচির প্রশ্ন শুবাচির উত্তর/১

‘তবু’, ‘তবুও’ দুটিই কি সঠিক? (প্রশ্ন করেছেন: জনাব Masud Ahmad)
হ্যাঁ। ‘তবু’ আর ‘তবুও’ দুটো বানানই শুদ্ধ ও প্রমিত। দুটোই বাংলা শব্দ এবং বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রথমটির উচ্চারণ তোবু, দ্বিতীয়টির উচ্চারণ তোবুও। শব্দদুটোর অর্থ: তথাপি, তা সত্ত্বেও। সমার্থক হলেও উভয় শব্দের ব্যবহারের কিষ্ণিৎ পার্থক্য রয়েছে। কোনো বিষয়কে সাধারণ বক্তব্যের চেয়ে অধিক জোর বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য ‘তবু’ শব্দের পরিবর্তে ‘তবুও’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন: (১) বৃষ্টি আসুক, তবু যাব। (২) ঝড়বৃষ্টি, বাধাবিপত্তি যতই আসুক তবুও যাব।(৩) যত দিতে চাও, যাতনা দিয়ে যাও তবুও তোমায় ভালোবাসব। বাক্যসমূহে সাধারণ ‘তবু’ শব্দের চেয়ে ‘তবুও’ শব্দটি বক্তব্যের জোর, ইচ্ছার প্রাবল্য, সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা প্রভৃতিতে অতিরিক্ত জোর প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অনুরূপভাবে ‘তেমন’ ও তেমনই শব্দটির ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য। কোনো বিষয়কে ‘তেমন জোর দিয়ে প্রকাশের জন্য তেমনই শব্দটি ( ড. মোহাম্মদ আমীন)
তেমন তেমনই’,‘ তেমনি’ (প্রশ্ন করেছেন জনাব Masud Ahmad)
সংস্কৃত ‘তস্মিন’ থেকে উদ্ভূত ‘তেমন’ শব্দের অর্থ বিশেষণে— তদ্রুপ, সেই প্রকার। যেমন: আঘাত করলে তুমি যেমন ব্যথা পাও, আমিও তেমন ব্যথা পাই। ক্রিয়াবিশেষণে ‘তেমন’ শব্দের অর্থ— সেভাবে। যেমন: মেলা তেমন জমেনি। যেমন ডাল তেমন মুগুর।
বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা ‘তেমনই’ শব্দের অর্থ তদ্রুপই, ঠিক সেই রকমই। তুমি যেমন ব্যবহার করবে তেমনই ব্যবহার পাবে। ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে ‘তেমনই’ শব্দটির অর্থ হয় সঙ্গে সঙ্গে। বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা ‘তেমনি’ শব্দের অর্থ— তৎক্ষাণৎ, সঙ্গে সঙ্গে।
Abdur Rahim Sikder – এর প্রশ্ন: ‘কিভাবে’ আর ‘কীভাবে’ এর মধ্যে পার্থক্য কী?
‘কীভাবে’ শব্দের অর্থ কেমন করে। ‘কিভাবে’ বানানটি ভুল। ‘কেমন করে’ অর্থ প্রকাশে একমাত্র শুদ্ধ বানান হচ্ছে ‘কীভাবে’। কোনভাবে, কেন, কী কারণে, কার মধ্যে, কেমন করে, কী প্রকারের, কোন কাজ করা হচ্ছে, কোন উপায়ে, কেমন করে প্রভৃতি ব্যখ্যাভিত্তিক প্রশ্নজ্ঞাপক মূল বাক্যটির আগে ‘কী’ লিখতে হয়। যেমন: কীভাবে যাবে? কীজন্য এসেছ? কীরকম লোক তুমি? কীসে তোমার আগ্রহ? এত তাড়া কীসের? কীরূপ দেখতে সে? কী উপায়ে তোমাকে সাহায্য করতে পারি? ‘কিভাবে’ বানানটি ভুল। তাই লিখবেন ‘কীভাবে’ ‘কিভাবে’ লিখবেন না। তেমনি লিখবেন, কীজন্য, কীদৃশ্য, কীসে, কীসের, কীরূপ প্রভৃতি। এবার দেখা যাক: ‘কিভাবে’ শব্দটি ভুল কেন?
‘কিভাবে’ শব্দটি ভুল কেন? ‘কি’ প্রশ্নবোধক অব্যয়। যে সকল প্রশ্নের উত্তর ‘হাঁ’ বা ‘না’ শব্দের মাধ্যমেও কিংবা কেবল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও সন্তোষজনকভাবে দেওয়া যায় সে সকল প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কি’ লিখবেন। যেমন : আমি কি স্কুলে যাব?(Will I go to school?), আমি কি আসতে পারি স্যার? টাকা আছে কি? তুমি কি জানো? (Do you know?)। অর্থাৎ যে সকল প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ বা ‘না’ দিয়ে কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সন্তোষজনকভাবে দেওয়া সম্ভব নয় সে সকল প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কী’ লিখতে হয়। যেমন : আমি কী করব? (What will I do?), তুমি কী চাও? (What do you want?), কী করে এতদূর এলে? তোমার বাবা কী করেন? তুমি কী জানো? (What do you know?)।কীভাবে শব্দের মাধ্যমে জানতে চাওয়া প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ-না কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দেওয়া যায় না। তাই ‘কিভাবে’ বানানটি শুদ্ধ নয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘কিভাবে’ শব্দটি স্থান পায়নি। কারণ এই শব্দযুক্ত প্রশ্নসূচক বাক্যের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শব্দে কিংবা অঙ্গভঙ্গিতে দেওয়া যায় না।(ড. মোহাম্মদ আমীন)।

 

শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর/১১

১. শব্দটি কি লেবু হবে, না নেবু? কোনটি সঠিক শব্দ?
উত্তর: নেবু ও লেবু দুটোই সঠিক। লেবু -এর আঞ্চলিক রূপ নেবু। প্রমিত রূপ লেবু।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে নেবু শব্দটি পৃথক ভুক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছে। অনেক বিখ্যাত লেখকের উপন্যাসে নেবু পাওয়া যায়।
 
২. হজ>হজ্ব>হজ্জ কোন বানানটি ঠিক?
উত্তর: হজ। জ্জ বা জ্ব নিরর্থক। হজ আরবি উৎসের বাংলা শব্দ। তাই হজ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে একমাত্র প্রমিত বানান হজ।
 
৩. ভালোবাসা না কি ভালবাসা? প্রিয়ো নাকি প্রিয়?
উত্তর: ভালোবাসা এবং প্রিয়।ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানি- – -। প্রিয়সখা প্রিয়জন।
 
৪. ‘পরশ্রীকাতর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পরের সুখশান্তি বা সমৃদ্ধি দেখে কাতর হয় এমন। ঈর্ষাপরায়ণ।
 
৫. সংঘটিত নাকি সংগঠিত?
উত্তর: দুটোই শুদ্ধ। সংগঠিত (সুচারুরূপে গঠন করা হয়েছে এমন)। সংঘটিত ( ঘটেছে বা ঘটনো হয়েছে এমন)। সংগঠিত অর্থ নির্মিত; সংঘটিত অর্থ অনুষ্ঠিত।
 
৬. উচ্ছারন নাকি উচ্চারন.? দন্ত্য-ন নাকি মূর্ধ্যন্য-ণ
উত্তর: উচ্চারণ। এটি তৎসম শব্দ। ণত্ববিধিমতে, তৎসম শব্দে র-এর পর ন, ণ হয়ে যায়।
 
৭. রুগী/রোগী/রোগি কোনটা? সনাক্ত নাকি শনাক্ত?
উত্তর: রুগি কিন্তু রোগী; শনাক্ত। রোগী তৎসম, রুগি খাঁটি বাংলা।
 
৮. মৌন অর্থ নীরব,চুপচাপ। তাহলে মৌনতা অর্থ ও কি?
উত্তর: মৌনতা শব্দটির অর্থ আমার জানা নেই। মুনি+অ = মৌন। এটি বিশেষ্য। পুনরায় তা যোগ করার প্রয়োজন নেই। মৌন শব্দের অর্থ নীরবতা। তার মৃত্যুতে সবাই মৌন পালন করলেন। সৌন্দর্যতা, মৌনতা, দারিদ্র্যতা, দৈন্যতা প্রভৃতি ভুল প্রয়োগ।
 
৯. ভুল না ভূল? লেখালেখি না লেখালিখি?
উত্তর: ভুল (ভুল করেছিনু, ভুল ভেঙেছে, রবীন্দ্রনাথ) । আমি লেখালিখি করি।
 
১০. ঠিক ও সঠিক এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: দুটোই সমার্থক। প্রায় সমার্থক বলাই সমীচীন। কারণ একটি শব্দ কখনো আর একটি শব্দের পুরো সমার্থক হতে পারে না। তাহলে একটি শব্দ দিয়েও হতো। জল ও পানি সমার্থক হলেও দুটি ভিন্ন শব্দ। দুটি ভিন্ন সত্তা আচরণে যতই অভিন্ন হোক, তাদের অবয়ব ও অন্তর্নিহিত ভাবে সামান্য হলেও ভিন্ন থাকে।
১১. হিসেব নাকি হিশেব?
উত্তর: প্রমিত বানান হিসেব।
 
১২. করব হবে না কি করবো হবে? পড়ব না কি পড়বো?
উত্তর: করব এবং পড়ব। আমি ভয় করব না ভাই করব না- – -। বই পড়ব, জীবন গড়ব।
 
১৩. কোনটা সঠিক- বেশি নাকি বেশী, বাকি নাকি বাকী:
উত্তর: অধিক প্রকাশে বেশি ( বেশি করে খাও, বেশি কথা যারা বলে তাদের বাচাল বলা হয়)। বেশ ধারণ প্রকাশে বেশী ( ডাকাতবেশী, ছদ্মবেশী)
 
১৪. উপন্যাসিক না ঔপন্যাসিক কোনটা ঠিক?এরূপ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: ঔপন্যাসিক= উপন্যাস+ ইক। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে আদিস্বর বৃদ্ধি পায়। শব্দের প্রথমে উ/উ-কার থাকলে ঔ-কার হয়ে যায়।
 
১৫. অধস্তন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পদমর্যাদায় নিম্নে অবস্থিত। অধস্তনদের স্নেহ করা উচিত।
 
১৬. কোনো এবং কোন শব্দের মাঝে তফাৎ কী?
উত্তর: কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা তোমায় শোনায় শোনো রূপকথা নয় সে নয়- – —-। তুমি কোন কাননের ফুল কোন গগনের তারা (রবীন্দ্রনাথ)- — ।
তফাৎ>তফাত। তফাত বানানে ৎ দেবেন না।
১৭. বাকি না বাকী?
উত্তর: বাকি।
 
[সাধারণত শব্দার্থের উত্তর দেওয়া হয় না। পদার্থের উত্তর দেওয়া হয়। শব্দার্থের উত্তর চাইলে প্রামাণ্য বাক্য-সহ উপস্থাপন করা আবশ্যক। কারণ, একটি শব্দের অসংখ্য অর্থ হতে পারে। শব্দের অর্থ বাক্যের ওপর নির্ভর করে।]

error: Content is protected !!