শুবাচ অভিধান: মজদুর, স্বাস্থ্য সুস্বাস্থ্য, দাশ ও দাস

ড. মোহাম্মদ আমীন
মজদুর মাতৃষ্বশা শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী
মজদুর : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত ফারসি ‘মজদুর’ শব্দের অর্থ যে ব্যক্তি পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করে, শ্রমজীবী।
মতিমতী: বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘মতিমতী’ শব্দের অর্থ বুদ্ধিমতী।
মাতৃষ্বশা : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘মাতৃষ্বশা’ শব্দটির অর্থ মায়ের বোন, মাসি, খালা; মাতার ভগিনীস্থানীয়া নারী।
শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী’ শব্দের অর্থ শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম ধারণ করে আছেন যিনি, বিষ্ণু, নারায়ণ প্রভৃতি।
শান্তিস্বস্ত্যয়ন : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘শান্তিস্বস্ত্যয়ন’ শব্দের অর্থ রোগ উপদ্রবাদির অবসান কামনায় পূর্জা-অর্চনা

স্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্য
অনেকে মনে করেন ‘স্বাস্থ্য’ লেখাই যথেষ্ট এবং ‘সুস্বাস্থ্য’ অহেতুক বাহুল্য। এ দাবি আদৌ ঠিক নয়। ‘স্বাস্থ্য’ ও ‘সুস্বাস্থ্য’ শব্দের অর্থগত দ্যোতনা যথাক্রমে ‘পুরুষ’ ও ‘সুপুরুষ’ এর মতো। ‘পুরুষ’ ও ‘সুপুরুষ’ যেমন এক নয় তেমনি এক নয় ‘স্বাস্থ্য’ ও ‘সুস্বাস্থ্য’। ‘স্বাস্থ্য’ ও ‘সুস্বাস্থ্য’ শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং অর্থ দেখলে তা আরও পরিষ্কার হবে।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত স্বাস্থ্য (স্বস্থ+য) শব্দের অর্থ বাংলায় শারীরিক অবস্থা এবং সাধারণ অর্থ সুস্থতা, স্বস্তি প্রভৃতি। সুতরাং ‘সুস্বাস্থ্য (সু+স্বাস্থ্য)’ শব্দের বাংলা অর্থ ভালো শারীরিক অবস্থা, উত্তম শারীরিক অবস্থা প্রভৃতি। এবার শব্দদ্বয়ের প্রয়োগ দেখা যাক :
“কামাল সাহেবের স্বাস্থ্য কেমন?” এ বাক্যটির অর্থ হবে – কামাল সাহেবের শারীরিক অবস্থা কেমন? “কামাল সাহেব সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।’’ এই বাক্যের অর্থ হবে -কামাল সাহেব ভালো শরীরের অধিকারী।

দাশ দাস
বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত দাশ (√দাশ্‌+অ) শব্দের অর্থ : মৎস্যজীবী জাতিবিশেষ, পদবিশেষ। যারা ধীবর পেশায় যুক্ত ছিলেন তাদের নামের শেষে ‘দাশ’ লেখা হতো। বর্তমানে ওই সম্প্রদায়ের লোক যে পেশায় নিয়োজিত থাকুন না কেন, ঐতিহ্য বা হিন্দু সামাজিক প্রথা অনুযায়ী ‘দাশ’ লিখে থাকেন। যেমন : জীবনানন্দ দাশ।

সংস্কৃত ‘দাস (√দাস্‌+অ)’ শব্দের অর্থ পরিচারক, ক্রীতদাস, অনুগত ব্যক্তি এবং শূদ্র। হিন্দু জাতপ্রথায় শূদ্র বা নীচুবংশ হিসেবে চিহ্নিত বিশেষ সম্প্রদায়কে তাদের নামের শেষে ‘দাস’ শব্দটি ব্যবহার করতে হতো। গবেষকদের মতে, দাস পদবী এসেছে ভৃত্য থেকে। বর্তমানে শব্দটি ভৃত্য বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় না, বরং হিন্দুদের অন্যান্য পদবির মতো বংশ পরম্পরায় চলে আসা একটি আলংকরিক শব্দ মাত্র।
যেমন : হরিশংকর জলদাস।


All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

আফসোস নিয়ে আফসোস

লক্ষ বনাম লক্ষ্য : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

ব্যাঘ্র শব্দের অর্থ এবং পাণিনির মৃত্যু

যুক্তবর্ণ সরলীকরণ আন্দোলন : হাস্যকর অবতারণা

প্রায়শ ভুল হয় এমন কিছু শব্দের বানান/২

গীতাঞ্জলি

রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর

রবীন্দ্রনাথের রাজা

রবীন্দ্রনাথের চতুরঙ্গ

রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা

error: Content is protected !!